ছু ম্মা খালাকনান নুতফাতা ‘আলাকাতান ফাখালাকনাল ‘আলাকাতা মুদগাতান ফাখালাকনাল মুদগাতা ‘ইজা-মান ফাকাছাওনাল ‘ইজা-মা লাহমান ছু ম্মা আনশা’না-হু খালকান আ-খার ফাতাবা-রকাল্লা-হু আহছানুল খা-লিকীন।
তারপর আমরা শুক্রকীটটিকে বানাই একটি রক্তপিন্ড, তারপর রক্তপিন্ডকে আমরা বানাই একটি মাংসের তাল, তারপর মাংসের তালে আমরা সৃষ্টি করি হাড়গোড়, তারপর হাড়গোড়কে আমরা ঢেকে দিই মাংসপেশী দিয়ে, তারপরে আমরা তাকে পরিণত করি অন্য এক সৃষ্টিতে। সেইজন্য আল্লাহ্রই অপার মহিমা, কত শ্রেষ্ঠ এই স্রষ্টা!
ওয়া আনঝালনা-মিনাছ ছামাই মাআম বিকাদারিন ফাআছকান্না-হু ফিল আরদি ওয়া ইন্না-‘আলা-যাহা-বিম বিহী লাক-দিরূন।
আর আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি পানি একটি পরিমাপ মতো, তারপর আমরা তাকে মাটিতে সংরক্ষিত করি, আর নিঃসন্দেহ আমরা তা সরিয়ে নিতেও সক্ষম।
ফাআনশা’না-লাকুম বিহী জান্না-তিম মিন নাখীলিওঁ ওয়া ‘আনা-ব । লাকুম ফীহা-ফাওয়াকিহু কাছী রতুওঁ ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।
তারপর তার দ্বারা আমরা তোমাদের জন্য সৃষ্টি করি খেজুরের ও আঙুরের বাগানসমূহ। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে প্রচুর ফলফসল, আর তা থেকে তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো।
ওয়া ইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরতান নুছকীকুম মিম্মা-ফী বুতূনিহা-ওয়া লাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ কাছীরতুওঁ ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।
আর নিঃসন্দেহ গবাদি-পশুতে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। আমরা তোমাদের পান করতে দিই তাদের পেটের মধ্যে যা আছে তা থেকে, আর তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর উপকারিতা, আর তাদের থেকে তোমরা খাও,
ওয়া লাকাদ আরছালনা-নূহান ইলা-কাওমিহী ফাক-লা ইয়া-কাওমি‘বুদল্লা-হা মালাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা-তাত্তাকূন।
আর আমরা অবশ্যই নূহকে তাঁর স্বজাতিক কাছে পাঠিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, "হে আমার স্বজাতি! তোমরা আল্লাহ্র উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য নেই। তোমরা কি তবুও ভক্তি-শ্রদ্ধা করবে না?"
ফাক-লাল মালাউল্লাযীনা কাফারূমিন কাওমিহী মা-হা-যাইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ইউরীদুআইঁ ইয়াতাফাদ্দালা ‘আলাইকুম ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাআনঝালা মালাইকাতাম মা-ছামি‘না-বিহা-যা-ফীআ-বাইনাল আওওয়ালীন।
তখন তাঁর স্বজাতির মধ্যে যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের প্রধানরা বললে -- "সে তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়, সে তোমাদের উপরে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ যদি চাইতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্তাদের পাঠাতে পারতেন। আমরা তো পূর্ববর্তীকালের আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যে এমনটা শুনি নি।
ফাআওহাইনা ইলাইহি আনিসনা‘ইল ফুলকা বিআ‘ইউনিনা-ওয়া ওয়াহয়িনা-ফাইযাজাআ আমরুনা-ওয়া ফা-রততাননূরূ ফাছলুক ফীহা-মিন কুলিন ঝাওজাইনিছনাইনি ওয়া আহ লাকা ইল্লা-মান ছাবাকা ‘আলাইহিল কাওলুমিনহুম ওয়ালা-তুখা-তিবনী ফিল্লাযীনা জালামূ ইন্নাহুম মুগরকূন।
কাজেকাজেই আমরা তাঁর কাছে প্রত্যাদেশ পাঠালাম এই বলে -- "আমাদের চোখের সামনে এবং আমাদের প্রত্যাদেশ মোতাবেক জাহাজটি তৈরি কর, তারপর আমাদের নির্দেশ যখন আসবে ও পানি উথলে উঠবে তখন তাতে উঠিয়ে নাও হরেক রকমের জোড়ায়- জোড়ায়, দুটি ক’রে, আর তোমার পরিবার পরিজনকে, -- তাদের মধ্যের যার বিরুদ্ধে বক্তব্য ঘোষিত হয়েছে তাকে ব্যতীত আর যারা অন্যায়াচরণ করেছে তাদের সন্বন্ধে তুমি আমার কাছে বলাবলি করো না। তারা তো নিমজ্জিত হবেই।
ফাইযাছ তাওয়াইতা আনতা ওয়া মাম মা‘আকা ‘আলাল ফুলকি ফাকুল্লি হামদুলিল্লা-হি ল্লাযী নাজ্জা-না-মিনাল কাওমিজ্জা-লিমীন।
"আর যখন তুমি জাহাজে আরোহণ করবে, তুমি ও যারা তোমার সাথে রয়েছে তারা তখন বলো -- 'সকল প্রশংসা আল্লাহ্র যিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন অত্যাচারী জাতির থেকে।’
ফাআরছালনা-ফীহিম রছূলাম মিনহুম আনি‘ বুদুল্লা-হা মা-লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা-তাত্তাকূন।
তখন আমরা তাদের মধ্যে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই মধ্যে থেকে একজন রসূল এই বলে -- "আল্লাহ্র উপাসনা করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য নেই। তোমরা কি তবে ভক্তি-শ্রদ্ধা করবে না?"
ওয়া ক-লাল মালাউ মিন কাওমিহিল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিলিকাইল আখিরতি ওয়া আতরফনা-হুম ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া- মা হা-যাইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ইয়া’কুলু মিম্মা-তা’কুলূনা মিনহু ওয়া ইয়াশরবুমিম্মা-তাশরবূন।
আর তাঁর স্বজাতির মধ্যের প্রধানরা যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল ও পরকালের মুলাকাতকে অস্বীকার করেছিল এবং এই দুনিয়ার জীবনে আমরা যাদের ভোগ-সার দিয়েছিলাম তারা বললে -- "এ তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়, তোমরা যা থেকে খাও সেও তা থেকেই খায় এবং তোমরা যা পান কর সেও তা থেকেই পান করে।
ছু ম্মা আর ছাল না-রুছুলানা-তাতর- ‘কুল্লামা-জাআ উম্মাতার রছূলুহা-কাযযাবূহু ফাআতবা‘না-বা‘দাহুম বা‘দাওঁ ওয়া জা‘আলনা-হুম আহা-দীছা ফাবু‘দাল লিকাওমিল লা-ইউ’মিনূন।
তারপর আমরা একের পর এক আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম। যখনই কোনো সম্প্রদায়ের কাছে তার রসূল এসেছিলেন, তাঁকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই আমরা তাদের একদলকে অন্য দলের পশ্চাদ্ধাবন করিয়েছিলাম, আর তাদের বানিয়েছিলাম কাহিনী। সুতরাং দূর হ’ তেমন জাতি যারা ঈমান আনে না!
ওয়া জা‘আলনাবনা মারয়ামা ওয়া উম্মাহূ আ-য়াতাওঁ ওয়াআ- ওয়াইনা-হুমা ইলারবওয়াতিন যা-তি কার-রিওঁ ওয়া মা‘ঈন।
আর আমরা মরিয়ম-পুত্র ও তাঁর মাতাকে করেছিলাম এক নিদর্শন, এবং তাঁদের উভয়কে আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম তৃণাচ্ছাদিত ও ঝরনা-রাজিতে ভরা এক পার্বত্য-উপত্যকায়।
ইয়াআইয়ুহার রুছুলুকুলূমিনাততাইয়িবা-তি ওয়া‘মালূসা-লিহান ইন্নী বিমাতা‘মালূনা ‘আলীম।
হে প্রিয় রসূলগণ! পবিত্র বস্তু থেকে তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো আর ভাল কাজ করো। তোমরা যা করছ সে সন্বন্ধে আমি নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞাতা।
ওয়ালা-নুকালিলফুনাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-ওয়া লাদাইনা-কিতা-বুইঁ ইয়ানতিকুবিলহাক্কি ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।
আর আমরা কোনো সত্ত্বাকে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত কষ্ট দিই না, আর আমাদের কাছে আছে একটি গ্রন্থ যা হক কথা বলে দেয়, আর তাদের অন্যায় করা হয় না।
বাল কুলূবুহুম ফী গামরতিম মিন হা-যা-ওয়া লাহুম ‘আমা-লুমমিনদূনি যা-লিকা হুম লাহা-‘আ-মিলূন।
কিন্ত তাদের হৃদয় এ ব্যাপারে তালগোল পাকানো অবস্থায় রয়েছে, আর এ ছাড়াও তাদের জন্য রয়েছে অন্যান্য কীর্তিকলাপ যে- সবে তারা করিতকর্মা।
আম ইয়াকূলূনা বিহী জিন্নাতুম বাল জাআহুম বিলহাক্কিওয়া আকছারুহুম লিলহাক্কি ক-রিহূন।
অথবা তারা কি বলে যে তাঁকে জিন-ভূতে ধরেছে? বস্তুতঃ তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছেন, কিন্ত তাদের অধিকাংশই সত্য-সন্বন্ধে উদাসীন।
ওয়ালা বিততাবা‘আল হাক্কুআহওয়াআহুম লাফাছাদাতিছ ছামা-ওয়া-তুওয়াল আরদ ওয়া মান ফীহিন্না বাল আতাইনা-হুম বিযিকরিহিম ফাহুম ‘আন যিকরিহিম মু‘রিদূ ন।
আর যদি সত্য তাদের কামনার অনুসরণ করত তবে মহাকাশ-মন্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। পক্ষান্তরে আমরা তাদের কাছে তাদের স্মরণীয় বার্তা নিয়ে এসেছি, কিন্ত তারা তাদের স্মারক-গ্রন্থ থেকে বিমুখ থাকে।
ওয়া লাও রহিমনা-হুম ওয়াকাশাফনা-মা-বিহিম মিন দুররিল লালাজজুফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন।
আর আমরা যদি তাদের প্রতি দয়া করি ও দুঃখ-দৈন্যের যা কিছু তাদের রয়েছে তা দূর করে দিই তথাপি তারা তাদের বিভ্রান্তিতে লেগে থাকবে অন্ধ-চক্কর দিতে দিতে।
লাকাদ উ‘ইদনা-নাহনুওয়া আ-বাউনা-হা-যা-মিন কাবলুইন হা-যাইল্লাআছাতীরুল আওওয়ালীন।
অবশ্যই এর আগে এটি আমাদের ওয়াদা করা হয়েছিল -- আমাদের কাছে ও আমাদের বাপদাদাদের কাছে। নিঃসন্দেহ এটি সেকালের উপকথা বৈ তো নয়।
কুল মাম বিইয়াদিহী মালাকূতুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া ইউজীরু ওয়ালা-ইউজা-রু ‘আলাইহি ইন কুনতুম তা‘লামূন।
বল -- "কে তিনি যাঁর হাতে সব-কিছুর কর্তৃত্ব রয়েছে, আর কে নিরাপত্তা প্রদান করেন অথচ তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করতে হয় না, যদি তোমরা জানো?"
মাততাখাযাল্লা-হু মিওঁ ওয়ালাদিওঁ ওয়ামা-ক-না মা‘আহূমিন ইলা-হিন ইযাল লাযাহাবা কুল্লুইলা-হিম বিমা-খালাকা ওয়া লা‘আলা-বা‘দুহুম ‘আলা-বা‘দিন ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।
আল্লাহ্ কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, আর তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যও নেই, যদি থাকত তবে প্রত্যেক উপাস্য আলবৎ নিয়ে যেত যা-কিছু সে সৃষ্টি করেছে, আর তাদের কেউ-কেউ অন্যদের উপরে প্রাধান্য বিস্তার করত। সকল মহিমা আল্লাহ্র, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি উর্ধ্বে, --
লা‘আললীআ‘মালুসা-লিহান ফীমা-তারকতুকাল্লা- ইন্নাহা-কালিমাতুন হুওয়া কাইলুহা- ওয়ামিওঁ ওয়ারইহিম বারঝাখুন ইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।
"যেন আমি সৎকর্ম করতে পারি সেইখানে যা আমি ছেড়ে এসেছি।" কখনোই না! এ তো শুধু একটি মুখের কথা যা সে বলছে। আর তার সামনে রয়েছে 'বরযখ’ সেইদিন পর্যন্ত যখন তাদের পুনরুত্থান করা হবে।
ইন্নাহূ ক-না ফারীকুম মিন ‘ইবা-দী ইয়াকূ লূনা রব্বানা আ-মান্না-ফাগফিরলানাওয়ারহামনা-ওয়াআনতা খাইরুর র-হিমীন।
"নিঃসন্দেহ আমার বান্দাদের মধ্যের একটি দল ছিল যারা বলত, 'আমার প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের পরিত্রাণ করো, যেহেতু তুমিই তো করুণাময়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ!’
ফাত্তাখাযতুমূহুম ছিখরিইইয়ান হাত্তাআনছাওকুম যিকরী ওয়া কুনতুম মিনহুম তাদহাকূন।
"কিন্ত তোমরা তাদের হাসি-ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করেছিলে যে পর্যন্ত না এ-সব তোমাদের ভুলিয়ে দিয়েছিল আমাকে স্মরণ করা, আর তোমরা তাদের নিয়ে উপহাস করে চলেছ।
ওয়া মাইঁ ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খার লা-বুরহা-না লাহূবিহী ফাইন্নামাহিছা-বুহূ‘ইনদা রব্বিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল ক-ফিরূন।
আর যে কেউ আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য উপাস্যকে ডাকে, -- যার জন্য তার কাছে কোনো সনদ নেই, -- তার হিসাবপত্র তবে নিশ্চয়ই তার প্রভুর কাছে রয়েছে। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসীদের সফলকাম করা হয় না।