ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আলা-সালাওয়া-তিহিম ইউহা-ফিজূ ন।উচ্চারণ
এবং নিজেদের নামায গুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে, ৯ তাফহীমুল কুরআন
এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে মুফতী তাকী উসমানী
আর যারা নিজেদের সালাতে যত্নবান –মুজিবুর রহমান
এবং যারা তাদের নামাযসমূহের খবর রাখে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং যারা নিজেদের সালাতসমূহে যতèবান থাকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা নিজদের সালাতসমূহ হিফাযত করে।আল-বায়ান
আর যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান।তাইসিরুল
আর যারা নিজেরা তাদের নামায সন্বন্ধে সদা-যত্নবান।মাওলানা জহুরুল হক
৯
ওপরের খুশূ’র আলোচনায় নামায শব্দ এক বচনে বলা হয়েছিল আর এখানে বহুবচনে নামায গুলো বলা হয়েছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, সেখানে লক্ষ ছিল মূল নামায আর এখানে পৃথক পৃথকভাবে প্রতিটি ওয়াক্তের নামায সম্পর্কে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। নামাযগুলোর সংরক্ষণ-এর অর্থ হচ্ছেঃ সে নামাযের সময়, নামাযের নিয়ম-কানুন, আরকান ও আহকাম মোটকথা নামাযের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি জিনিসের প্রতি পুরোপুরি নজর রাখে। শরীর ও পোশাকপরিচ্ছদ পাক রাখে। ওযু ঠিক মতো করে। কখনো যেন বিনা অযুতে নামায না পড়া হয় এদিকে খেয়াল রাখে। সঠিক সময়ে নামায পড়ার চিন্তা করে। সময় পার করে দিয়ে নামায পড়ে না। নামাযের সমস্ত আরকান পুরোপুরি ঠাণ্ডা মাথায় পূর্ণ একাগ্রতা ও মানসিক প্রশান্তি সহকারে আদায় করে। একটি বোঝার মতো তাড়াতাড়ি নামিয়ে দিয়ে সরে পড়ে না। যা কিছু নামাযের মধ্যে পড়ে এমনভাবে পড়ে যাতে মনে হয় বান্দা তার প্রভু আল্লাহর কাছে কিছু নিবেদন করছে, এমনভাবে পড়ে না যাতে মনে হয় একটি গৎবাঁধা বাক্য আউড়ে শুধুমাত্র বাতাসে কিছু বক্তব্য ফুঁকে দেয়াই তার উদ্দেশ্য।
নামাযের রক্ষণাবেক্ষণ কথাটির অর্থ অতি ব্যাপক। যথাসময়ে নামায পড়া, নামাযের শর্ত, আদব ও অন্যান্য নিয়মাবলী রক্ষায় যত্নবান থাকা, সুন্দর ও সুচারুরূপে নামায আদায় করা, সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
৯. আর যারা নিজেদের সালাতে থাকে যত্নবান(১)
(১) পূর্ণ মুমিনের সপ্তম গুণ হচ্ছে, সালাতে যত্নবান হওয়া। উপরের খুশূর আলোচনায় সালাত শব্দ এক বচনে বলা হয়েছিল আর এখানে বহুবচনে “সালাতসমূহ” বলা হয়েছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, সেখানে লক্ষ্য ছিল মূল সালাত আর এখানে পৃথক পৃথকভাবে প্রতিটি ওয়াক্তের সালাত সম্পর্কে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। “সালাতগুলোর সংরক্ষণ” এর অর্থ হচ্ছেঃ সে সালাতের সময়, সালাতের নিয়ম-কানুন, আরকান ও আহকাম, প্রথম ওয়াক্ত, রুকু সিজদা, মোটকথা সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি জিনিসের প্রতি পুরোপুরি নজর রাখে। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর)
এ গুণগুলোর শুরু হয়েছিল সালাত দিয়ে আর শেষও হয়েছে সালাত দিয়ে। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, সালাত শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট ইবাদাত। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা দৃঢ়তা অবলম্বন কর, তবে তোমরা কখনও পুরোপুরি দৃঢ়পদ থাকতে পারবে না। জেনে রাখা যে, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হচ্ছে সালাত। আর মুমিনই কেবল ওযুর ব্যাপারে যত্নবান হয়।” (ইবন মাজহ: ২৭৭)
(৯) আর যারা নিজেদের নামাযে যত্নবান থাকে। (1)
(1) পরিশেষে আবার নামাযে যত্নবান হওয়া সফলতার জন্য জরুরী বলা হয়েছে। যাতে নামাযের গুরুত্ব ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় যে, আজকাল মুসলিমদের নিকট অন্যান্য নেক আমলের মত নামাযেরও কোন গুরুত্ব নেই। সুতরাং ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন!