وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِأَمَٰنَٰتِهِمۡ وَعَهۡدِهِمۡ رَٰعُونَ

ওয়াল্লা যীনা হুম লিআমা-না-তিহিম ওয়া‘আহদিহিম র-‘ঊন।উচ্চারণ

নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তাফহীমুল কুরআন

এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।মুফতী তাকী উসমানী

এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে –মুজিবুর রহমান

এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা নিজদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান।আল-বায়ান

আর যারা নিজেদের আমানাত ও ওয়াদা পূর্ণ করে।তাইসিরুল

আর যারা স্বয়ং তাদের আমানত সন্বন্ধে ও তাদের অংগীকার সন্বন্ধে সজাগ থাকে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

আমানত শব্দটি বিশ্ব-জাহানের প্রভু অথবা সমাজ কিংবা ব্যক্তি যে আমানত কাউকে সোপর্দ করেছেন তা সবগুলোর অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর এমন যাবতীয় চুক্তি প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত হয় যা মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে অথবা মানুষ ও মানুষের মধ্যে কিংবা জাতি ও জাতির মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। মু’মিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে কখনো আমানতের খেয়ানত করে না এবং কখনো নিজের চুক্তি ও অংগীকার ভঙ্গ করে না। নবী ﷺ প্রায়ই তার ভাষণে বলতেনঃ

لاَ إِيمَانَ لِمَنْ لاَ أَمَانَةَ لَهُ وَلاَ دِينَ لِمَنْ لاَ عَهْدَ لَهُ

যার মধ্যে আমানতদারীর গুন নেই তার মধ্যে ঈমান নেই এবং যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুন নেই তার মধ্যে দ্বীনদারী নেই। (বাইহাকী, ঈমানের শাখা-প্রশাখাসমূহ)

বুখারী ও মুসলিম একযোগে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ চারটি অভ্যাস যার মধ্যে পাওয়া যায় সে নিখাদ মুনাফিক এবং যার মধ্যে এর কোন একটি পাওয়া যায় সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে তা মুনাফিকীর একটি অভ্যাস হিসেবেই থাকে। সে চারটি অভ্যাস হচ্ছে, কোন আমানত তাকে সোপর্দ করা হলে সে তার খেয়ানত করে, কখনো কথা বললে মিথ্যা কথা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং যখনই কারোর সাথে ঝগড়া করে তখনই (নৈতিকতা ও সততার) সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘আমানত’ কথাটি অতি ব্যাপক। এর দ্বারা যেমন বান্দার প্রতি আরোপিত আল্লাহর আমানত বোঝানো হয়েছে, যথা ঈমান-আকীদা, ওহীর ইলম, সৃষ্টিগত যোগ্যতা ইত্যাদি, তেমনি মানুষের পারস্পরিক আমানতও, যথা গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ, প্রার্থিত রায় ও পরামর্শ, গোপন কথাবার্তা, অর্পিত পদমর্যাদা ও দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৮. আর যারা রক্ষা করে নিজেদের আমানত(১) ও প্রতিশ্রুতি(২),

(১) পূর্ণ মুমিনের পঞ্চম গুণ হচ্ছে, আমানত প্রত্যাৰ্পণ করাঃ আমানত শব্দের আভিধানিক অর্থে এমন প্রত্যেকটি বিষয় শামিল, যার দায়িত্ব কোন ব্যক্তি বহন করে এবং সে বিষয়ে কোন ব্যক্তির উপর আস্থা স্থাপন করা হয়। দ্বীনী বা দুনিয়াবী, কথা বা কাজ যাই হোক। (দেখুন, কুরতুবী) এর অসংখ্য প্রকার আছে বিধায় এ শব্দটিকে বহুবচনে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে যাবতীয় প্রকার এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। হুকুকুল্লাহ তথা আল্লাহর হক সম্পর্কিত হোক কিংবা হুকুকুল-এবাদ তথা বান্দার হক সম্পর্কিত হোক। (ফাতহুল কাদীর)

আল্লাহর হক সম্পর্কিত আমানত হচ্ছে শরীআত আরোপিত সকল ফরয ও ওয়াজিব পালন করা এবং যাবতীয় হারাম ও মাকরূহ বিষয়াদি থেকে আত্মরক্ষা করা বান্দার হক সম্পর্কিত আমানতের মধ্যে আর্থিক আমানতও যে অন্তর্ভুক্ত তা সুবিদিত; অর্থাৎ কেউ কারও কাছে টাকা-পয়সা গচ্ছিত রাখলে তা তার আমানত প্ৰত্যাৰ্পণ করা পর্যন্ত এর হেফাযত করা তার দায়িত্ব। এছাড়া কেউ কোন গোপন কথা কারও কাছে বললে তাও তাঁর আমানত। শরীআতসম্মত অনুমতি ব্যতিরেকে কারও গোপন তথ্য ফাঁস করা আমানতে খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে কখনো আমানতের খেয়ানত করেন এবং কখনো নিজের চুক্তি ও অংগীকার ভংগ করে না। রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম প্রায়ই তাঁর ভাষণে বলতেনঃ যার মধ্যে আমানতদারীর গুণ নেই তার মধ্যে ঈমান নেই এবং যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুণ নেই তার মধ্যে দ্বীনদারী নেই। (মুসনাদে আহমাদঃ ৩/১৩৫)

তাছাড়া অন্য হাদীসে রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, চারটি অভ্যাস যার মধ্যে পাওয়া যায় সে নিখাদ মুনাফিক এবং যার মধ্যে এর কোন একটি পাওয়া যাবে সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে তা মুনাফেকীর একটি অভ্যাস হিসেবেই থাকে। সে চারটি অভ্যাস হচ্ছে কোন আমানত তাকে সোপর্দ করলে করা হলে সে তার খেয়ানত করে, কখনো কথা বললে মিথ্যা কথা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং যখনই কারো সাথে ঝগড়া করে তখনই (নৈতিকতা ও সততার) সীমালংঘন করে। (বুখারী ৩৪, মুসলিম ৫৮)

(২) পূর্ণ মুমিনের ষষ্ঠ গুণ হচ্ছে, অঙ্গীকার পূর্ণ করা। আমানত সাধারণত যার উপর মানুষ কাউকে নিরাপদ মনে করে। আর অঙ্গীকার বলতে বুঝায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বা বান্দার পক্ষ থেকে যে সমস্ত অঙ্গীকার বা চুক্তি হয়। আমানত ও অঙ্গীকার একসাথে বলার কারণে দ্বীন-দুনিয়ার যা কিছু কারও উপর দায়িত্ব দেয়া হয় সবই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮) এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। (1)

(1) ‘আমানত রক্ষা করা’ বলতে অর্পিত কর্তব্য পালন করা, গুপ্ত কথা ও মালের আমানতের হিফাযত করা। আর ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা’ বলতে আল্লাহর সঙ্গে কৃত ও মানুষের সঙ্গে কৃত ওয়াদা, অঙ্গীকার ও চুক্তি পূরণ সবই শামিল।