আফালাম ইয়াদ্দাব্বারুল কাওলা আম জাআহুম মা-লাম ইয়া’তি আ-বাআ হুমুল আওওয়ালীন।উচ্চারণ
তারা কি কখনো এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা করেনি? ৬৪ অথবা সে এমন কথা নিয়ে এসেছে যা কখনো তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? ৬৫ তাফহীমুল কুরআন
তবে কি তারা এ বাণীর ভেতর চিন্তা করেনি নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?মুফতী তাকী উসমানী
তাহলে কি তারা এই বাণী অনুধাবন করেনা? অথচ তাদের নিকট কি এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ব-পুরুষদের নিকট আসেনি?মুজিবুর রহমান
অতএব তারা কি এই কালাম সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? না তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তবে কি এরা এই বাণী অনুধাবন করে না? বা এদের নিকট কি এমন কিছু এসেছে যা এদের পূর্বপুরুষদের নিকট আসে নাই ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা কি এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি?আল-বায়ান
তাহলে তারা কি (আল্লাহর) এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? কিংবা তাদের কাছে এমন কিছু (নতুন বস্তু) এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?তাইসিরুল
তবে কি তারা চিন্তা করে না এ বাণী সন্বন্ধে? অথবা তাদের কাছে কি এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী বাপদাদাদের কাছে আসে নি?মাওলানা জহুরুল হক
৬৪
অর্থাৎ তাদের এ মনোভাবের কারণ কি? তারা কি এ বাণী বোঝেইনি, তাই একে মানছে না? মোটেই না, কারণ এটা নয়। কুরআন কোন হে আয়ালি নয়। কোন দুর্বোধ্য ভাষায় কিতাবটি লেখা হয়নি। কিতাবটিতে এমন সব বিষয়বস্তুর সমাবেশ ঘটানো হয় নি যা মানুষের বোধগম্য নয়। তারা এর প্রত্যেকটি কথা ভালোভাবে বোঝে। এরপরো বিরোধিতা করছে। কারণ তারা একে মানতে চায় না। এমন নয় এ, তারা একে বুঝার চেষ্টাকরছে কিন্তু বুঝতে পারছে না তাই মানতে চায় না।
৬৫
অর্থাৎ তিনি কি এমন একটি অভিনব কথা পেশ করছেন যাতাদের কান কোনদিন শুনেনি এবং এটিই তাদের অস্বীকারের কারণ? মোটেই না, কারণ এটাও নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের আসা, কিতাবসহকারে আসা, তাওহীদের দাওয়াত দেয়া, আখেরাতের জবাবদিহির ভয় দেখানো এবং নৈতিকতার পরিচিত সৎবৃত্তিগুলো পেশ করা, এগুলোর মধ্য থেকে কোন একটিও এমন নয় যা ইতিহাসে আজ প্রথমবার দেখা দিয়েছে এবং ইতিপূর্বেআর কখনো এসব কথা শুনা যায় নি। তাদের আশপাশের দেশগুলো তারা জানে না এমন নয়। তাদের নিজেদের দেশেই ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সামালাম এসেছেন। হুদ, সালেহ ও শোআইব আলাইহিমুস সালামো এসেছেন। তাঁদের নাম আজও তাদের মুখে মুখে। তারা নিজেরাই তাঁদেরকে আল্লাহর প্রেরিত বলে মানে। তারা একথাও জানে যে, তাঁরা মুশরিক ছিলেন না বরং এক আল্লাহর বন্দেগীর শিক্ষা দিতেন। তাই প্রকৃতপক্ষে তাদের অস্বীকারের কারণ এই নয় যে, তারা এমন একটি পুরোপুরি আনকোরা নতুন কথা শুনছে যা ইতিপূর্বে কখনো শোনেনি। (আরো বেশী জানার জন্য দেখুন আল ফুর্কান, ৮৪; আস্ সাজ্দাহ, ৫ ও সাবা ৩৫ টীকা)।
৬৮. তবে কি তারা এ বাণীতে চিন্তা-গবেষণা করেনি?(১) নাকি এ জন্যে যে, তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?(২)
(১) অর্থাৎ তাদের এ মনোভাবের কারণ কি? তারা কি এ কুরআন বুঝে না? অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না?” (সূরা আন-নিসা: ৮২) তারা যদি এ কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করত, তবে তা তাদেরকে গোনাহের কাজ থেকে দূরে রাখত। কিন্তু তারা মুতাশাবাহ আয়াতসমূহের পিছনে পড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। (ইবন কাসীর)
(২) অর্থাৎ বরং তারা এজন্যেই বিরোধিতা করছে যে, তাদের কাছে এমন কিতাব এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে আসে নি। তাদের তো উচিত ছিল এ কুরআনকে নেয়ামত মনে করে শুকরিয়াস্বরূপ ঈমান আনা। তা না করে তারা উল্টো কাজই করে চলেছে। (ইবন কাসীর) অথবা আয়াতের অর্থ, নাকি তাদের কাছে এমন কোন নিরাপত্তার গ্যারান্টি এসে গেছে যা তাদের পূর্ববর্তী ইসমাঈল আলাইহিস সালামের কাছে আসে নি? (ফাতহুল কাদীর) অথবা আয়াতের অর্থ, আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের আসা, কিতাবাসহকারে আসা, তাওহীদের দাওয়াত দেয়া, আখেরাতের জবাবদিহির ভয় দেখানো, এগুলোর মধ্য থেকে কোন একটিও এমন নয়, যা ইতিহাসে আজ প্রথমবার দেখা দিয়েছে। তাদের আশপাশের দেশগুলোয় ইরাকে, সিরিয়ায় ও মিসরে নবীর পর নবী এসেছেন। তারা এসব কথাই বলেছেন। এগুলো তারা জানে না এমন নয়। তাদের নিজেদের দেশেই ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম এসেছেন। হূদ, সালেহ ও শোআইব আলাইহিমুস সালামও এসেছেন। তাদের নাম আজো তাদের মুখে মুখে। (দেখুনঃ ফাতহুল কাদীর)
(৬৮) তবে কি তারা এই বাণী অনুধাবন করে না?(1) অথবা তাদের নিকট কি এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট আসেনি?(2)
(1) ‘বাণী’ বলতে উদ্দেশ্য কুরআন। অর্থাৎ, এ বাণী নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করলে তাদের ঈমান আনার সৌভাগ্য লাভ হত।
(2) এখানে أَم হরফটি 'অথবা' 'কিংবা' 'বরং' এর অর্থে ব্যাবহার হয়েছে। অর্থাৎ, বরং ওদের নিকট এমন শরীয়ত এসেছে, যা থেকে তাদের পিতৃপুরুষরা জাহেলী যুগে বঞ্চিত ছিল। যার উপর তাদের আল্লাহর কৃতজ্ঞতা করা এবং ইসলাম গ্রহন করা উচিত ছিল।