مُسۡتَكۡبِرِينَ بِهِۦ سَٰمِرٗا تَهۡجُرُونَ

মুছতাকবিরীনা বিহী ছা-মিরন তাহজুরূন।উচ্চারণ

অহংকারের সাথে তা অগ্রাহ্য করতে, নিজেদের আড্ডায় বসে তার সম্পর্কে গল্প দিতে ৬৩ ও আজেবাজে কথা বলতে। তাফহীমুল কুরআন

অত্যন্ত অহমিকার সাথে এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) রাতের বেলা বেহুদা গল্প-গুজব করতে। #%২৯%#মুফতী তাকী উসমানী

দম্ভ ভরে, এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প গুজব করতে।মুজিবুর রহমান

অহংকার করে এ বিষয়ে অর্থহীন গল্প-গুজব করে যেতে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

দম্ভভরে, এই বিষয়ে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে করতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এর উপর অহঙ্কারবশে, রাত জেগে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে।আল-বায়ান

অহংকারবশতঃ (কুরআন) সম্পর্কে অর্থহীন কথা বলতে যেমন কেউ রাতে গল্প বলে।তাইসিরুল

অহংকারের সাথে, এ ব্যাপারে সারারাত আবোল-তাবোল গল্পগুজব করতে করতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৩

মূলে-----শব্দ ব্যবহা করা হয়েছে।-----মানে রাতের বেলা কর্থাবর্তা বলা গপ্প করা, কথকতা করা ও গল্প-কাহিনী শুনানো। গ্রামীন ও মফ স্বল শহুরে জীবনে সাধারণত এ রাত্রিকালের গপ্‌সপ্‌ হয় বৈঠক খানা ও দহলিজে বসে। মক্কাবাসীদের রীতিও এটাই ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

بِهٖ সর্বনাম দ্বারা কুরআন মাজীদকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ অহমিকা বশে তারা কুরআনের প্রতি তো ঈমান আনতই না, উল্টো রাতের বেলা পবিত্র কাবার চত্বরে বসে কুরআন সম্পর্কে বাজে কথাবার্তায় মেতে উঠত। কেউ বলত এটা জাদু, কেউ বলত কবিতা এবং আরও কত কি। অথবা ’بِهٖ‘ দ্বারা পবিত্র কাবাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র কাবার পড়শী ও তার সেবায়েত এই অহংকারে তারা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। سَامِرًا تَهْجُرُوْنَ -এর আরেক অর্থ হতে পারে এক গল্পকারকে ত্যাগ করছ’, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিস থেকে এমন অবজ্ঞাভরে উঠে যেত, যেন কোন গল্পকারকে ত্যাগ করছে। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৭. দম্ভভরে এবিষয়ে অর্থহীন গল্প-গুজবে(১) রাত মাতিয়ে(২) তোমরা খারাপ কথা বলতে।

(১) আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে। প্রথম অর্থ তারা যখন ঈমান না এনে পিছনে ফিরে যায়, তখন তারা সেটা করে থাকে অহংকারবশত। তারা হক পন্থীদেরকে ঘৃণা ও হেয় মনে করে নিজেদেরকে বড় মনে করে এটি করে থাকে। এমতাবস্থায় আয়াতের পরবর্তী অংশ به এর অর্থ নির্ণয়ে তিনটি মত রয়েছে। এক. به এর সর্বনাম পবিত্র মক্কার হারামের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। তবে হারাম’ শব্দটি পূর্বে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তার সাথে কুরাইশদের গভীর সম্পর্ক এবং একে নিয়ে তাদের গর্ব সুবিদিত ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শব্দটি উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। অর্থ এই যে, মক্কার কুরাইশদের আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে মুখ ঘুরিয়ে সরে যাওয়া এবং না মানার কারণ হারামে বসে খারাপ কথা বলে রাত কাটায়। দুই. অথবা এখানে به বলে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে।

অর্থাৎ কুরাইশদের আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে মুখ ঘুরিয়ে সরে যাওয়া এবং না মানার কারণ তারা এ কুরআন নিয়ে খারাপ কথা বলে রাত কাটায়। কখনও এটাকে বলে জাদু, কখনও বলে কবিতা, কখনও গণকের কথা, ইত্যাদি বাতিল কথা। তিন. অথবা به শব্দ দ্বারা এখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরাইশদের আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে মুখ ঘুরিয়ে সরে যাওয়া এবং না মানার কারণ তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে খারাপ ও কটু কথা বলে রাত কাটায়। কখনও তাকে কবি, আবার কখনও গণক, কখনও জাদুকর, কখনও মিথ্যাবাদী অথবা পাগল, ইত্যাদি বাতিল ও অসার কথাসমূহ বলে থাকে। অথচ তিনি আল্লাহর রাসূল। যাকে আল্লাহ তাদের উপর বিজয় দিয়েছেন আর তাদেরকে সেখান থেকে অপমানিত ও হেয় করে বের করে দিয়েছেন। (ইবন কাসীর)

আয়াতের দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, তারা যখন ঈমান না এনে পিছনে ফিরে যায়, তখন তারা কা'বা ঘর নিয়ে অহংকারে মত্ত থাকে। এ অহংকারেই তারা হক গ্ৰহণ করতে রাযী হয় না। কারণ, তারা কা'বার সাথে সম্পর্ক ও তত্ত্বাবধানপ্রসূত অহংকার ও গর্বে ফেটে পড়ার উপক্রম হয়। তারা মনে করে যে, যতকিছুই হোক তাদের ব্যাপারটা আলাদা। কারণ, তারা কা'বার অভিভাবক, অথচ তারা কা'বার অভিভাবক নয়। (ইবন কাসীর) ইবন আব্বাস বলেন, তারা সেখানে বসে রাত জেগে খোশগল্পে মেতে থাকত। মসজিদ ও কা'বাকে খোশ-গল্প ও আসার কথাবার্তার আসরে পরিণত করেছিল, ইবাদাতের মাধ্যমে আবাদ করেনি। (ইবন কাসীর)

(২) রাত্রিকালে কাহিনী বলার প্রথা আরব-আজমে প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত রয়েছে। এতে অনেক ক্ষতিকর দিক ছিল এবং বৃথা সময় নষ্ট হত। বর্তমান কালেও যারা সবচেয়ে ভয়ংকর ধরনের লোক তারা রাত জেগে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও দ্বীনের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই প্রথা মিটানোর প্রচেষ্টা চালান। তিনি এশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং এশার পর অনর্থক কিসসা-কাহিনী বলা নিষিদ্ধ করেন। (বুখারীঃ ৫৭৪)

এর পেছনে সম্ভবত অন্য এক রহস্য এটাও ছিল যে, এশার সালাতের সাথে সাথে মানুষের সেদিনের কাজকর্ম শেষ হয়ে যায়। এই সালাত সারাদিনের গোনাহসমূহের কাফফারাও হতে পারে। কাজেই এটাই তার দিনের সর্বশেষ কাজ হওয়া উত্তম। যদি এশার পর অনৰ্থক কিসসা-কাহিনীতে লিপ্ত হয়, তবে প্রথমতঃ এটা স্বয়ং অনর্থক ও অপছন্দনীয়; এছাড়া এই প্রসঙ্গে পরনিন্দা, মিথ্যা এবং আরও বহু রকমের গোনাহ সংঘটিত হয়। এর আরেকটি কুপরিণতি এই যে, বিলম্বে নিদ্রা গেলে প্রত্যুষে জাগ্রত হওয়া সম্ভবপর হয় না। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৭) দম্ভভরে(1) এই নিয়ে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে করতে। (2)

(1) بِه (এই) সর্বনামের সম্পর্ক অধিকাংশ মুফাসসিরগণের মতে البَيتُ العَتِيق (কা’বাগৃহ) বা হারাম শরীফের সঙ্গে। অর্থাৎ, কা’বার দায়িত্বশীল ও তার সেবক-রক্ষক হওয়ার ফলে ওদের যে গর্ব ছিল সেই গর্ব করেই তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। আবার কেউ কেউ (এই) সর্বনামের সম্পর্ক কুরআনের সাথে বলেছেন। এ অবস্থায় অর্থ হবে কুরআন শ্রবণ করে তাদের অন্তরে গর্ব ও অহংকার সৃষ্টি হত, যা কুরআনের প্রতি ঈমান আনতে বাধা সৃষ্টি করত।

(2) سَمَر এর অর্থ হল রাত্রে গল্প করা। এখানে এর অর্থ বিশেষভাবে এমন কথাবার্তা বলা, যা কুরআন কারীম ও রসূল করীম (সাঃ)-এর বিরোধী। এই বিরুদ্ধ কথাবার্তা ও সমালোচনার ফলে তারা হক কথা শুনতে ও তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করত। هجر এর অর্থঃ বর্জন করা। অর্থাৎ, তারা হক বর্জন করত। আবার কেউ কেউ এর অর্থ বলেছেন, অসার বাক্য ও অশ্লীল কথাবার্তা বলা। অর্থাৎ, রাত্রের কথাবার্তায় তারা কুরআনের ব্যাপারে অশ্লীল ও অসভ্য ধরনের বাজে কথাবার্তা বলত।

 (ফাতহুল কাদীর, আয়সারুত্ তাফাসীর)