أَمۡ تَسۡـَٔلُهُمۡ خَرۡجٗا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيۡرٞۖ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلرَّـٰزِقِينَ

আম তাছআলুহুম খারজান ফাখার-জুরব্বিকা খাইরুওঁ ওয়া হুওয়া খাইরুর র-ঝিকীন।উচ্চারণ

তুমি কি তাদের কাছে কিছু চাচ্ছো? তোমার জন্য তোমার রব যা দিয়েছেন, সেটাই ভালো এবং তিনি সবচেয়ে ভালো রিযিকদাতা। ৭০ তাফহীমুল কুরআন

নাকি (তাদের অস্বীকৃতির কারণ এই যে,) তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? কিন্তু (এটাও তো গলদ। কেননা) তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত প্রতিদানই (তোমার পক্ষে) উৎকৃষ্ট। তিনি শ্রেষ্ঠতম রিযিকদাতা। #%৩২%#মুফতী তাকী উসমানী

অথবা তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তোমার রবের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা।মুজিবুর রহমান

না আপনি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চান? আপনার পালনকর্তার প্রতিদান উত্তম এবং তিনিই রিযিকদাতা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অথবা তুমি কি এদের নিকট কোন প্রতিদান চাও ? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নাকি তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তবে তোমার রবের প্রতিদান সর্বোত্তম। আর তিনিই সর্বোত্তম রিয্কদাতা।আল-বায়ান

অথবা তুমি কি তাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই সর্বোত্তম, আর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযকদাতা।তাইসিরুল

অথবা তুমি কি তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান চাইছ। বস্তুতঃ তোমার প্রভুর প্রতিদানই সর্বোত্তম, আর রিযেক-দাতাদের মধ্যে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭০

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের পক্ষে আর একটি প্রমাণ। অর্থাৎ নিজের এ কাজে আপনি পুরোপুরি নিস্বার্থ। কোন ব্যক্তি সততার সাথে এ দোষারোপ করতে পারেনা যে, নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য আপনার সামনে রয়েছে তাই আপনি এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে আপনার ভালোই উন্নতি হচ্ছিল। এখন দারিদ্রও অর্থসংকটের সম্মুখীন হলেন। জাতির মধ্যে আপনাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হতো। লোকেরা মাথায় করে রাখতো। এখন গালাগালি ও মার খাচ্ছেন বরং প্রাণ নাশের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। নিজের পরিবার –পরিজন নিয়ে নিশ্চিন্তে সুখে জীবন যাপন করছিলেন। এখন এমন একটি কঠিন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যে পড়ে গেছেন যার ফলে এক মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না। এর ওপর আরো সমস্যা হলো এমন বিষয় নিয়ে সামনে এসেছেন যারফলে সারা দেশের লোক শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি নিজের জ্ঞাতি ভাইরা আপনাকে হত্যা করার জন্য পাগলপারা হয়ে উঠেছে। কে বলতে পারে, এটা একজন স্বার্থবাদী লোকের কাজ? স্বার্থবাদী লোক তোনিজের জাতি ও গোত্রপ্রীতির ঝান্ডা উঁচিয়ে নিজের যোগ্যতা ও যোগসাজশের মাধ্যমে নেতৃত্ব লাভ করার প্রচেষ্টা চালাতেন। তিনি কখনো এমন কোন বিষয় নিয়ে আবির্ভূত হতেন না যা কেবলমাত্র সমগ্র জাতীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থপ্রীতির বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জই নয় বরং আরবের মুশরিকদের মধ্যে তার গোত্রের সরদারী যে জিনিসের বদৌলতে প্রতিষ্ঠিত আছে তার শিকড়ও কেটে দেয়। এটি এমন একটি যুক্তি যা কুরআনে শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরই নয় বরং সাধারণভাবে সকল নবীর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে বারবার পেশ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, আল আন’আম ৯০, ইউনুস ৭২, হুদ ২৯ ও ৫১, ইউসুফ ১০৪, আল ফুরকান ৫৭, আশ শু’আরা ১০৯, ১২৭, ১৪৫, ১৬৫ ও ১৮০, সাবা ৪৭, ইয়াসীন ২১, সাদ ৮৬, আশশূরা ২৩ ও আন-নাজম ৪০ আয়াত এবং এই সঙ্গে টীকাগুলোও দেখুন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা মক্কার মুশরিকদের তিরস্কার করা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে তো তারা জ্ঞাত, তারা জানে তাঁর জ্ঞান-বুদ্ধিতে কোন ত্রুটি নেই, সেদিক থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, বলিষ্ঠ ও অসাধারণ। তিনি যে বিষয়ের দিকে ডাকছেন তাও সত্য সরল ও সুস্পষ্ট। আবার এ দাওয়াতের কারণে তিনি তাদের কাছে কোন বিনিময়েরও প্রত্যাশা করেন না এবং তা প্রত্যাশা করার কোন প্রশ্নও আসে না, যেহেতু আল্লাহ তাআলা দোজাহানের যে নি‘আমত তাকে দান করেছেন তা মানুষের পক্ষ হতে কল্পনীয় সকল বিনিময় অপেক্ষা অতুলনীয়ভাবে শ্রেয়। তা সত্ত্বেও তারা কী কারণে ঈমান না এনে কেবল শত্রুতাই করে যাচ্ছে? -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৭২. নাকি আপনি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চান?(১) আপনার রব-এর প্রতিদানই তো শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

(১) এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। অর্থাৎ নিজের এ কাজে আপনি পুরোপুরি নিঃস্বাৰ্থ। কোন ব্যক্তি সততার সাথে এ দোষারোপ করতে পারে না যে, নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য আপনার সামনে রয়েছে তাই আপনি এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি এমন একটি যুক্তি যা কুরআনে শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরই নয় বরং সাধারণভাবে সকল নবীর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে বারবার পেশ করা হয়েছে। (যেমনঃ সূরা আল আনআমঃ ৯০; সূরা ইউনুসঃ ৭২; সূরা হূদঃ ২৯ ও ৫১; সূরা ইউসুফঃ ১০৪; সূরা আল ফুরকানঃ ৫৭; সূরা আশ শু'আরাঃ ১০৯, ১২৭, ১৪৫, ১৮০; সাবাঃ ৪৭; সূরা ইয়াসিনঃ ২১; সূরা সা’দঃ ৮৬; সূরা আশ-শূরাঃ ২৩ ও সূরা আন নাজমঃ ৪০)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭২) অথবা তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রুযীদাতা।