وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ

ওয়াল্লাযীনা হুম লিঝঝাক-তি ফা-‘ইলূন।উচ্চারণ

যাকাতের পথে সক্রিয় থাকে, তাফহীমুল কুরআন

যারা যাকাত সম্পাদানকারী মুফতী তাকী উসমানী

যারা যাকাত প্রদানে সক্রিয় –মুজিবুর রহমান

যারা যাকাত দান করে থাকেমাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা যাকাতদানে সক্রিয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়।আল-বায়ান

যারা যাকাত দানে সক্রিয়।তাইসিরুল

আর যারা স্বয়ং যাকাতদানে করিতকর্মা,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

“যাকাত দেয়া” ও “যাকাতের পথে সক্রিয় থাকার’ মধ্যে অর্থের দিক দিয়ে বিরাট ফারাক আছে। একে উপেক্ষা করে উভয়কে একই অর্থবোধক মনে করা ঠিক নয়। এটা নিশ্চয় গভীর তাৎপর্যবহ যে, এখানে মু’মিনদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়েيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ এর সর্বজন পরিচিত বর্ণনাভঙ্গি পরিহার করে لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ এর অপ্রচলিত বর্ণনা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। আরবী ভাষায় যাকাত শব্দের দু’টি অর্থ হয়। একটি হচ্ছে “পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা তথা পরিশুদ্ধি” এবং দ্বিতীয়টি “বিকাশ সাধন”-কোন জিনিসের উন্নতি সাধনে যেসব জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় সেগুলো দূর করা এবং তার মৌলিক উপাদান ও প্রাণবস্তুকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করা। এ দু’টি অর্থ মিলে যাকাতের পূর্ণ ধারণাটি সৃষ্টি হয়। তারপর এ শব্দটি ইসলামী পরিভাষায় পরিণত হলে এর দু’টি অর্থ প্রকাশ হয়। এক, এমন ধন-সম্পদ যা পরিশুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বের করা হয়। দুই, পরিশুদ্ধ করার মূল কাজটি। যদি يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ বলা হয় তাহলে এর অর্থ হবে, তারা পরিশুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নিজেদের সম্পদের একটি অংশ দেয় বা আদায় করে। এভাবে শুধুমাত্র সম্পদ দেবার মধ্যেই ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ বলা হয় তাহলে এর অর্থ হবে, তারা পরিশুদ্ধ করার কাজ করে এবং এ অবস্থায় ব্যাপারটি শুধুমাত্র আর্থিক যাকাত আদায় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং আত্মার পরিশুদ্ধি চরিত্রের পরিশুদ্ধি, জীবনের পরিশুদ্ধি, অর্থের পরিশুদ্ধি ইত্যাদি প্রত্যেকটি দিকের পরিশুদ্ধি পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়বে। আর এছাড়াও এর অর্থ কেবলমাত্র নিজেরই জীবনের পরিশুদ্ধি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং নিজের চারপাশের জীবনের পরিশুদ্ধি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়বে। কাজেই অন্য কথায় এ আয়াতের অনুবাদ হবে তারা পরিশুদ্ধির কার্য সম্পাদনকারী লোক।” অর্থাৎ তারা নিজেদেরকেও পরিশুদ্ধ করে এবং অন্যদেরকেও পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করে। তারা নিজেদের মধ্যে মৌল মানবিক উপাদানের বিকাশ সাধন করে এবং বাইরের জীবনেও তার উন্নতির প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এ বিষয়বস্তুটি কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানেও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন সূরা আ’লায় বলা হয়েছেঃ

قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى - وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى

“সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে এবং নিজের রবের নাম স্মরণ করে নামায পড়েছে।”

সূরা শামসে বলা হয়েছেঃ

قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا - وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا

“সফলকাম হলো সে ব্যক্তি যে আত্মশুদ্ধি করেছে এবং ব্যর্থ হল সে ব্যক্তি যে তাকে দলিত করেছে।”

কিন্তু এ দু’টির তুলনায় সংশ্লিষ্ট আয়াতটি ব্যাপক অর্থের অধিকারী। কারণ এ দু’টি আয়াত শুধুমাত্র আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দেয় এবং আলোচ্য আয়াতটি স্বয়ং শুদ্ধি কর্মের গুরুত্ব বর্ণনা করে আর এ কর্মটির মধ্যে নিজের সত্তা ও সমাজ জীবন উভয়েরই পরিশুদ্ধি শামিল রয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘যাকাত’-এর আভিধানিক অর্থ পাক-পবিত্র করা। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর ফরয করেছেন যে, তারা যেন তাদের সম্পদের একটা অংশ গরীবদের দান করে। এটা ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। পরিভাষায় একে যাকাত বলে। এই আর্থিক ইবাদতকে যাকাত বলার কারণ এর ফলে ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায় এবং পরিশুদ্ধ হয় তার অন্তরও। এস্থলে যাকাত দ্বারা যেমন আর্থিক প্রদেয়কে বোঝানো হতে পারে তেমনি বোঝানো হতে পারে ‘তাযকিয়া’-ও। তাযকিয়া মানে নিজেকে মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা। কুরআন মাজীদ এস্থলে ‘যাকাত আদায়কারী’ না বলে যে ‘যাকাত সম্পাদনকারী’ বলেছে, এ কারণে অনেক মুফাসসির দ্বিতীয় অর্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪. এবং যারা যাকাতে সক্রিয়(১),

(১) পূর্ণ মুমিনের এটি তৃতীয় গুণঃ তারা যাকাতে সদা তৎপর। এটি যাকাত দেয়ার অর্থই প্রকাশ করে। (কুরতুবী) এখানে যাকাত দ্বারা আর্থিক যাকাতও হতে পারে আবার আতিক পবিত্রতাও উদ্দেশ্য হতে পারে। (ইবন কাসীর) এ বিষয়বস্তুটি কুরআন মজীদের অন্যান্য স্থানেও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন সূরা আল-আলায় বলা হয়েছেঃ “সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি যে পবিত্রতা অবলম্বন করেছে এবং নিজের রবের নাম স্মরণ করে সালাত আদায় করেছে।” সূরা আশ-শামসে বলা হয়েছেঃ “সফলকাম হলো সে ব্যক্তি যে আত্মশুদ্ধি করেছে এবং ব্যর্থ হলো সে ব্যক্তি যে তাকে দলিত করেছে।”

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪) যারা যাকাত দানে সক্রিয় । (1)

(1) زَكاة এর অর্থ কারো কারো নিকটে ফরয যাকাত (যার বিস্তারিত বর্ণনা অর্থাৎ, তার নিসাব, হকদার প্রভৃতির বিশদ বিবরণ মদীনায় দেওয়া হয়েছে। পরন্তু) তার আদেশ মক্কাতেই দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ এমন কাজকর্ম ও আচরণ অবলম্বন করা, যাতে আত্মার পবিত্রতা ও চরিত্রের সংশোধন সাধন হয়।