ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিওঁ ওয়া ইন কুন্না-লামুবতালীন।উচ্চারণ
এ কাহিনীতে বিরাট নিদর্শনাবলী রয়েছে, ৩২ আর পরীক্ষা তো আমি করেই থাকি। ৩৩ তাফহীমুল কুরআন
নিশ্চয়ই এতে আছে বহু নিদর্শন। আর আমি তো তোমাদেরকে পরীক্ষা করারই ছিলাম।মুফতী তাকী উসমানী
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে; আমিতো তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।মুজিবুর রহমান
এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে এবং আমি পরীক্ষাকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। আর আমি তো এদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় এর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর নিশ্চয় আমি পরীক্ষাকারী ছিলাম।আল-বায়ান
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে (মানুষের বুঝার জন্য), আমি (মানুষকে) পরীক্ষা করি।তাইসিরুল
নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শন রয়েছে, আর আমরা তো শৃঙ্খলাবদ্ধ করছিলাম।মাওলানা জহুরুল হক
৩২
অর্থাৎ এর মধ্যে রয়েছে গ্রহণেযাগ্য শিক্ষা। এ শিক্ষা হচ্ছেঃ তাওহীদের দাওয়াত দানকারী নবীগন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং শির্কপন্থী কাফেররা ছিল মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর আজ মক্কায় সে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা এক সময় ছিল হযরত নূহ ও তার জাতির মধ্যে। এর পরিণামও তার চেয়ে কিছু ভিন্ন হবার নয়। আল্লাহর ফায়সালায় যতই বিলম্ব হোক না কেন একদিন অবশ্যই তা হয়েই যায় এবং অনিবার্যভাবে তা হয় সত্যপন্থীদের পক্ষে এবং মিথ্যাপন্থীদের বিপক্ষে।
৩৩
এর অন্য একটি অনুবাদ এও হতে পারে, “পরীক্ষা তো আমি করতেই চেয়েছিলাম” অথবা “পরীক্ষা তো আমাকে করতেই হবে”। তিনটি অবস্থায়ই এ সত্যটি অবগত করানোই উদ্দেশ্য যে, আল্লাহ কোন জাতিকেই নিজের রাজ্যে নিজের অসংখ্যা জিনিসের ওপর কর্তৃত্ব দান করে এমনিই তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না। বরং তাকে পরীক্ষা করেন এবং নিজের কর্তৃত্ব ক্ষমতাকে সে কিভাবে ব্যবহার করছে তা দেখতে থাকেন। নূহের জাতির সাথে যা কিছু ঘটেছে এ নিয়ম অনুযায়ীই ঘটেছে এবং অন্য কোন জাতিই আল্লাহর এত প্রিয় নয় যে, লুণ্ঠিত দ্রব্যের ভাণ্ডার থেকে নিজের ইচ্ছে মতো নেবার জন্য তাকে অবাধ স্বাধীনতা দিবেন। এ ব্যাপারে অবশ্যই সবার সাথে একই ব্যবহার করা হয়।
৩০. এতে অবশ্যই রয়েছে বহু নিদর্শন(১) আর আমরা তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।(২)
(১) অর্থাৎ ঈমানদারদেরকে নাজাত দেয়া এবং কাফেরদেরকে ধ্বংস করার মধ্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন যেগুলো থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরী। এ শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাওহীদের দাওয়াতদানকারী নবীগণ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং শির্কপন্থী কাফেররা ছিল মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং নবী-রাসূলরা সত্যবাদী। তারা যা আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে এসেছে তা হক। আর তিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম। সবকিছু তার জ্ঞানে রয়েছে। (ইবন কাসীর)
আর রাসূলের যুগে মক্কায় সে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যা এক সময় ছিল নূহ ও তার জাতির মধ্যে। এর পরিণামও তার চেয়ে কিছু ভিন্ন হবার নয়। আল্লাহর ফায়সালা যতই বিলম্ব হোক না কেন একদিন অবশ্যই তা হয়েই যায় এবং অনিবাৰ্যভাবে তা হয় সত্যপন্থীদের পক্ষে এবং মিথ্যাপন্থীদের বিপক্ষে।
(২) উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ রাসূলদেরকে পাঠিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে মানুষের জন্য অথবা ফেরেশতাদের জন্য প্রকাশ করতে চাইলেন যে, কে আনুগত্য করে আর কে অবাধ্য হয়। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৩০) এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে; (1) আমি তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। (2)
(1) নূহ (আঃ)-এর এই ঘটনায় মু’মিনদের পরিত্রাণ ও কাফেরদের ধ্বংসের মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। আর তা এই যে, আম্বিয়াগণ যা কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে আসেন, তাতে তাঁরা সত্য। আর এটাও যে আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। হক ও বাতিলের সংঘর্ষের ব্যাপারে তিনি পূর্ণ অবগত থাকেন এবং যথাসময়ে তিনি তার প্রতিকার করেন। অতঃপর বাতিলপন্থীদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, তাঁর কবল হতে তাদের বাঁচার কোন পথ থাকে না।
(2) আর আমি নবী-রসূলগণ দ্বারা এভাবেই যুগে যুগে মানুষের পরীক্ষা নিয়েছি।