রব্বি ফালা-তাজ‘আলনী ফিল কাউমিজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ
তাহলে হে পরওয়ারদিগার! আমাকে এ জালেমদের অন্তর্ভুক্ত করো না। ৮৭ তাফহীমুল কুরআন
তবে হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।মুফতী তাকী উসমানী
তবে হে আমার রাব্ব! আপনি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেননা।মুজিবুর রহমান
হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত করবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত কর না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে আমার রব, তাহলে আমাকে যালিম সম্প্রদায়ভুক্ত করবেন না।’আল-বায়ান
তাহলে হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না’।তাইসিরুল
আমার প্রভু! তাহলে আমাকে তুমি অত্যাচারী জাতির সঙ্গে স্থাপন করো না।মাওলানা জহুরুল হক
৮৭
এর অর্থ এ নয় যে, নাউযুবিল্লাহ! নবী সাল্লাল্লাহু আইলাহি ওয়া সাল্লামের ওপরো সে আযাব আসার কোন আশঙ্কা ছিল অথবা তিনি দোয়া না চাইলে তাঁর ওপর এ আযাব এসে যেতো। বরং এ ধরনের বর্ণনাভংগী অবলম্বন করা হয়েছে কেবল এ ধারণা সৃষ্টি করার জন্য যে, আল্লাহর আযাব অবশ্যি ভয় করার মতো জিনিস। এ আযাব দাবী করে চেয়ে নেবার মতো জিনিস নয় এবং যদি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ ও ধৈর্য্যশীলতার কারণে তা নিয়ে আসতে বিলম্ব করে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে নাফরমানি ও শয়তানির কাজ সূরা আল আন’আম, ২৭ ও ২৮; আল আ’রাফ, ৫৩; ইবরাহীম ৪৪ ও ৪৫; আল মু’মিনূন, ১০৫ থেকে ১১৫; আশ শু’আরা, ১০২; আস সাজ্দাহ, ১২ থেকে ১৪; ফাতের, ৩৭; আয যুমার, ৫৮ ও ৫৯; আল মু’মিন, ১০ থেকে ১২ ও আশ্ শূরা, ৪৪ আয়াত এবং এ সঙ্গে টীকাগুলোও)।
৯৪. তবে, হে আমার রব! আপনি আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।(১)
(১) উদ্দেশ্য এই যে, কুরআনের অনেক আয়াতে মুশরিক ও কাফেরদের উপর যে আযাবের কথা উল্লেখিত হয়েছে, কেয়ামতে এই আযাব হওয়া তো অকাট্য ও নিশ্চিতই, দুনিয়াতে হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই আযাব দুনিয়াতে হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে হওয়ারও সম্ভাবনা আছে এবং তার যমানায় তার চোখের সামনে তাদের উপর কোন আযাব আসার সম্ভাবনাও আছে। দুনিয়াতে যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর কোন আযাব আসে, তখন মাঝে মাঝে সেই আযাবের প্রতিক্রিয়া শুধু যালেমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সৎলোকও এর কারণে পার্থিব কষ্টে পতিত হয়। তবে হয়ত এ কারণে আখেরাতে তাদের আযাবের ভার লাঘব হবে। তাছাড়া এই পার্থিব কষ্টের কারণে তারা সওয়াবও পাবে।
আল্লাহ বলেনঃ “এমন আযাবকে ভয় করো, যা এসে গেলে শুধু যালেমদের পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে না” (সূরা আল-আনফালঃ ২৫) বরং অন্যরাও এর কবলে পতিত হবে। তাই এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দো'আ শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, আপনি বলুনঃ হে আল্লাহ, যদি তাদের উপর আপনার আযাব আমার সামনে এবং আমার চোখের উপরই আসে, তবে আমাকে এই যালেমদের সাথে রাখবেন না। আমাকে তাদের বাইরে রাখবেন। (দেখুন, ফাতহুল কাদীর)
(৯৪) হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।’ (1)
(1) সুতরাং হাদিসে এসেছে যে, নাবী (সাঃ) এই বলে দুয়া করতেন, "হে আল্লাহ্! যখন তুমি কোন জাতিকে ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা কর তখন তার পূর্বেই তুমি আমাকে (পৃথিবী হতে) তোমার নিকট ফিতনামুক্ত অবস্থায় তুলে নিও।" (তিরমিজিঃ তাফসীর সুরা সা-দ, আহমাদ ৫/২৪৩)