وَجَعَلۡنَا ٱبۡنَ مَرۡيَمَ وَأُمَّهُۥٓ ءَايَةٗ وَءَاوَيۡنَٰهُمَآ إِلَىٰ رَبۡوَةٖ ذَاتِ قَرَارٖ وَمَعِينٖ

ওয়া জা‘আলনাবনা মারয়ামা ওয়া উম্মাহূ আ-য়াতাওঁ ওয়াআ- ওয়াইনা-হুমা ইলারবওয়াতিন যা-তি কার-রিওঁ ওয়া মা‘ঈন।উচ্চারণ

আর মারয়ামপুত্রও তার মাকে আমি একটি নিদর্শনে পরিণত করেছিলাম ৪৩ এবং তাদেরকে রেখেছিলাম একটি সুউচ্চ ভূমিতে, সে স্থানটি ছিল নিরাপদ এবং সেখানে স্রোতম্বিনী প্রবহমান ছিল। ৪৪ তাফহীমুল কুরআন

এবং আমি মারয়ামের পুত্র ও তার মাকে (অর্থাৎ হযরত ঈসা ও মারয়াম আলাইহিমাস সালামকে) বানিয়েছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে এমন এক উচ্চভূমিতে আশ্রয় দিয়েছিলাম, যা ছিল শান্তিপূর্ণ এবং যেখানে প্রবাহিত ছিল স্বচ্ছ পানি। #%২৪%#মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমি মারইয়াম তনয় ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন, তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবন বিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।মুজিবুর রহমান

এবং আমি মরিয়ম তনয় ও তাঁর মাতাকে এক নিদর্শন দান করেছিলাম। এবং তাদেরকে এক অবস্থানযোগ্য স্বচ্ছ পানি বিশিষ্ট টিলায় আশ্রয় দিয়েছিলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমি মারইয়াম-তনয় ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন, তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি মারইয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন বানালাম এবং তাদেরকে আবাসযোগ্য ও ঝর্নাবিশিষ্ট এক উঁচু ভূমিতে আশ্রয় দিলাম।আল-বায়ান

আমি মারইয়াম-পুত্র আর তার মাকে নিদর্শন করেছিলাম আর তাদেরকে স্বস্তি নিরাপত্তা ও ঝর্ণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।তাইসিরুল

আর আমরা মরিয়ম-পুত্র ও তাঁর মাতাকে করেছিলাম এক নিদর্শন, এবং তাঁদের উভয়কে আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম তৃণাচ্ছাদিত ও ঝরনা-রাজিতে ভরা এক পার্বত্য-উপত্যকায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৩

একথা বলা হয়নি যে, মারয়াম পুত্র একটি নিদর্শন ছিল এবং স্বয়ং মারয়াম একটি নিদর্শন ছিল। আবার একথাও বলা হয়নি যে, মারয়াম পুত্র ও তার মাকে দু’টি নিদর্শনে পরিণত করেছিলাম। বরং বলা হয়েছে, তাদের দু’জনকে মিলিয়ে একটি নিদর্শনে পরিণত করা হয়েছিল। এর অর্থ এছাড়া আর কি হতে পারে যে, পিতা ছাড়া ইবনে মারয়ামের জন্ম হওয়া এবং স্বামীর সাহচর্য ছাড়া মারয়ামের গর্ভধারণ করাই এমন একটি জিনিস যা তাদের দু’জনকে একটি নিদর্শনে পরিণত করে দেয়। যারা পিতা ছাড়া হযরত ঈসার জন্ম অস্বীকার করে তারা মাতা ও পুত্রের একটি নিদর্শন হবার কি ব্যাখ্যা দেবেন? (আরো বিস্তারিত জানার জন্য তাফহীমুল কুরআন, সূরা আলে ইমরান, ৪৪-৫৩, আন নিসা, ১৯০, ২১২, ২১৩, মারয়াম ১৫ থেকে ২২ এবং আল আম্বিয়া, ৮৯-৯০ টীকা দেখুন) এখানে দু’টি কথা আরো ব্যাখ্যা যোগ্য। এক, হযরত ঈসা ও তাঁর মাতার ব্যাপারটি মূর্খ লোকদের আর একটি দুর্বলতা চিহ্নিত করছে। ও পরে যে সকল নবীর কথা আলোচনা করা হয়েছে তাদের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারটি তো এ বলে অস্বীকার হয়েছে যে, তোমরা তো মানুষ আর মানুষ কি কখনো নবী হতে পারে? কিন্তু লোকেরা যখন হযরত ঈসার ও তাঁর মায়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো এবং তাদের ভক্ত হয়ে গেলো তখন তাদেরকেমানুষেরমর্যাদা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিল। দুই, যারা হযরত ঈসার অলৌকিক জন্ম এবং দোলনায় শায়িত অবস্থায় তাঁর ভাষণ শুনে তাঁর মুজিযা হবার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখে নেয়া সত্ত্বেও ঈমান আনতে অস্বীকার করেছিল এবং হযরত মারয়ামকে অপবাদ দিয়েছিল তাদেরকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল যা সমগ্র দুনিয়াবাসীর জন্য চিরকালীন শিক্ষণীয় হয়ে রয়েছে।

৪৪

বিভিন্ন জন এ থেকেবিভিন্ন স্থানের কথা মনে করেছেন। কেউ বলেন, এ স্থানটি ছিল দামেশ্‌ক। কেউ বলেন, আর্‌রম্‌লাহ। কেউ বলেন, বাইতুল মাক্‌দিস আবার কেউ বলেন মিসর। খৃষ্টীয় বর্ণনা অনুযায়ী হযরত মার্‌য়াম ঈসার জন্মের পর তাঁরহেফাজতের জন্য দু’বার স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রথমবার বাদশাহ হিরোডিয়াসের আমলে তিনি তাকে মিসরে নিয়ে যান এবং বাদশাহর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই থাকেন। তারপর আয্‌খিলাউসের শাসনামলে তাঁকে গালীলের নাসেরাহ শহরে আশ্রয় নিতে হয়। (মথি ২: ১৩ থেকে ২৩) এখন কুরআন কোন্‌ স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করছে তা নিশ্চয়তা সহকারে বলা কঠিন। আভিধানিক অর্থে “রাবওয়াহ” এমন সুউচ্চ ভূমিকে বলা হয় যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু। অন্যদিক “যা-তি কারার” ذَاتِ قَرَارٍ মানে হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী পাওয়া যায় এবং অবস্থানকারী সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করতে পারে। আর “মাঈন” مَعِينٍ মানে হচ্ছে বহমান পানি বা নির্ঝারিণী।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক নিদর্শন স্বরূপ বিনা পিতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মস্থান ছিল বেথেলহাম। বেথেলহামের রাজা তাঁর ও তাঁর মায়ের শত্রু হয়ে গিয়েছিল। তাই তাদের আত্মগোপনের জন্য এমন একটা জায়গা দরকার ছিল, যা রাজার নজরদারির বাইরে। কুরআন মাজীদ বলছে, আমি তাদেরকে এমন এক উচ্চস্থানে আশ্রয় দিলাম, যা ছিল তাদের জন্য নিরাপদ এবং সেখানে তাঁদের প্রয়োজন সমাধার জন্য ছিল ঝরনার পানি।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫০. আর আমরা মারইয়াম-পুত্র ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন এবং তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক অবস্থানযোগ্য ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।(১)

(১) আভিধানিক অর্থে “রাবওয়াহ” এমন সুউচ্চ ভূমিকে বলা হয় যা সমতল এবং আশপাশের এলাকা থেকে উঁচু। অন্যদিকে “যা-তি কারার” মানে হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া যায় এবং অবস্থানকারী সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করতে পারে। আর “মাঈন” মানে হচ্ছে বহমান পানি বা নির্ঝরিণী। (ইবন কাসীর)। এখানে কুরআন কোন স্থানটির প্রতি ইংগিত করছে তা নিশ্চয়তা সহকারে বলা কঠিন। বিভিন্নজন এ থেকে বিভিন্ন স্থানের কথা মনে করেছেন। কেউ বলেন, এ স্থানটি ছিল দামেশক। কেউ বলেন, রামলাহ। কেউ বলেন, বাইতুল মাকদিস আবার কেউ বলেন, ফিলিস্তিন। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫০) এবং আমি মারয়্যাম তনয় (ঈসা) ও তার জননীকে করেছিলাম এক নিদর্শন,(1) তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণবিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।(2)

(1) কারণ ঈসা (আঃ) এর জন্ম হয়েছিল বিনা পিতায় যা আল্লাহর ক্ষমতার এক নিদর্শন। যেমন আদম (আঃ) কে পিতা মাতা ছাড়া, হাওয়া (আঃ) কে নারী ছাড়া আদম হতে এবং অন্য সকল মানুষকে পিতা মাতার মাধ্যমে সৃষ্টি করাও আল্লাহর নিদর্শন।

(2) رَبوَة (উচ্চ ভূমি) বলতে বায়তুল মুকাদ্দাস, আর مَعِين (প্রস্রবণ) বলতে সেই ঝরনাকে বুঝানো হয়েছে যা (এক মতানুসারে) মহান আল্লাহ ঈসা (আঃ)-এর জন্মের সময় মারয়্যামের পদতলে অলৌকিকভাবে প্রবাহিত করছিলেন। যেমন, সূরা মারয়্যামে এ কথা বর্ণিত হয়েছে।