ওয়া লাইন আতা‘তুম বাশারম মিছলাকুম ইন্নাকুম ইযাল লাখা-ছিরূন।উচ্চারণ
এখন যদি তোমরা নিজেদেরই মতো একজন মানু্ষের আনুগত্য করো তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৩৬ তাফহীমুল কুরআন
তোমরা যদি তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য করে বস, তবে তোমরা নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মুফতী তাকী উসমানী
যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মুজিবুর রহমান
যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।আল-বায়ান
তোমরা যদি তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তাইসিরুল
"আর তোমরা যদি তোমাদের ন্যায় একজন মানুষেরই আজ্ঞা-পালন কর তাহলে তো তোমরা সেই মুহূর্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৬
কেউকেউ ভুল বুঝেছেন যে, তারা নিজেদের মধ্যে এসব কথা বলাবলি করতো। না, বরং সাধারণ লোকদেরেক সম্বোধন করে তারা একথা বলতো। জাতির সরদাররা যখনআশঙ্কা করলো, জনগণ নবীর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব এবংহৃদয়গ্রাহী কথায় প্রভাবিত হয়ে যাবে এবং তাদের প্রভাবিত হয় যাবার পর আমাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব আর কাদের ওপর চলবে তখন তারা নিজেদের বক্তৃতার মাধ্যমে এসব কথা জনগনের সামনে তুলে ধরে তাদেরেক বিভ্রান্ত করতে থাকলো। ওপরে নূহের জাতির আলোচনায় যে কথা বলা হয়েছিল। এটি তারই দ্বিতীয় একটি দিক। তারা বলতো, আল্লাহর পক্ষ থেকে এসব নবুওয়াত টবুয়ত কিছুই দেয়া হয়নি এটা হচ্ছে আসলে ক্ষমতা লিপ্সা, এরই মোহে অন্ধ হয়ে এ ব্যক্তি এসব আবোল তাবোল বলছে। তারা বলেঃ ভাইসব! একটু ভেবে দেখো, এ ব্যক্তি কোন্ ব্যাপারেতোমাদের থেকে আলাদা? তোমাদের শরীর যেমন রক্ত-মাংসের তারও তাই। তোমাদের ও তার মধ্যে কোন ফারাক নেই। তাহলে কেন সে বড় হবে এবং তোমরা তার ফরমানের আনুগত্য করবে? তাদের এসব ভাষণের মধ্য যেন একথা নির্বিবাদে স্বীকৃত ছিল যে, তারা যে তাদের নেতা এ নেতৃত্ব তো তাদের লাভ করারই কথা, তাদের শরীরের রক্ত মাংস ও তাদের পানাহারের ধরণধারণের প্রতি দৃষ্টি দেবার প্রশ্নই দেখা দেয় না, তাদের নেতৃত্ব আলোচ্য বিষয় নয়। কারণ এটা তোআপনা-আপনিই প্রতিষ্ঠিত এবং সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। আসলে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে এ নতুন নেতৃত্ব, যা এখন প্রতিষ্ঠা লাভের পথে। এভাবে তাদের কথাগুলো নূহের জাতির নেতাদের কথা থেকে কিছু বেশী ভিন্নতর ছিল না। তাদের মতে কোন নতুন আগমনকারীর মধ্যে যে “ক্ষমতা লিপ্সা” অনুভূত হয় অথবা তার মধ্যে এ লিপ্সা থাকার যে সন্দেহ পোষন করার যেতে পারে সেটিই হচ্ছে নিন্দনীয় ও অপবাদযোগ্য। আর নিজেদর ব্যাপারে তারা মনে করতো যে, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা তাদের প্রকৃতিগত অধিকার, এ অধিকারের ক্ষেত্রে তারা সীমা ছাড়িয়ে গেলেও তা কোন ক্রমেই নিন্দনীয় ও আপত্তিকর হবার কথা নয়।
৩৪. যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্ৰস্ত হবে(১);
(১) মানুষ নবী হতে পারে না এবং নবী মানুষ হতে পারে না, এ চিন্তাটি সর্বকালের পথভ্রষ্ট লোকদের একটি সম্মিলিত ভ্ৰান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। কুরআন বারবার এ জাহেলী ধারণাটির উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ করেছে এবং পুরোপুরি জোর দিয়ে একথা বর্ণনা করেছে যে, সকল নবীই মানুষ ছিলেন এবং মানুষদের জন্য মানুষেরই নবী হওয়া উচিত। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ সূরা আল-আরাফ: ৬৩–৬৯; সূরা ইউনুস: ২; সূরা হূদ: ২৭–৩১; সূরা ইউসুফ: ১০৯; সূরা আর রা'দ: ৩৮; সূরা ইবরাহীম: ১০–১১; সূরা আন-নামল: ৪৩; সূরা আল-ইসরা: ৯৪–৯৫; সূরা আল-আম্বিয়া: ৩–৮; সূরা আল-মুমিনুন: ৩৩–৩৪ ও ৪৭; সূরা আল ফুরকান: ৭–২০; সূরা আশ শুআরা: ১৫৪–১৮৪; সূরা ইয়াসীন, ১৫ ও সূরা ফুসসিলাত: ৬ আয়াত)।
(৩৪) যদি তোমরা তোমাদেরই মত এক জন মানুষের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (1)
(1) তা ক্ষতির কথাই বটে যে, নিজেদেরই মত একজন মানুষকে রসূল মেনে নিয়ে তোমরা তার মর্যাদা ও বড়ত্বকে মেনে নেবে। অথচ একজন মানুষ অপর মানুষ হতে উত্তম কি করে হতে পারে? এই সেই ভ্রান্তি; যা আল্লাহর রসূলকে মানুষ হিসাবে অস্বীকারকারীদের মাথায় ঢুকে আছে। অথচ আল্লাহ যে মানুষকে রিসালাতের (রসূল হওয়ার) জন্য নির্বাচন করেন, তিনি রিসালাত ও অহীর কারণে অন্য সমস্ত সাধারণ মানুষ অপেক্ষা সম্মানিত, উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হন।