فَتَقَطَّعُوٓاْ أَمۡرَهُم بَيۡنَهُمۡ زُبُرٗاۖ كُلُّ حِزۡبِۭ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُونَ

ফাতাকাততা‘ঊআমরহুম বাইনাহুম ঝুবুরন কুল্লুহিঝবিম বিমা-লাদাইহিম ফারিহূন।উচ্চারণ

কিন্তু পরে লোকেরা নিজেদের দ্বীনকে পরস্পরের মধ্যে টুকরো করে নিয়েছে। প্রত্যেক দলের কাছে যা কিছু আছে তার মধ্যেই নিমগ্ন হয়ে গেছে। ৪৮ তাফহীমুল কুরআন

কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে (বিবাদ-বিসম্বাদে লিপ্ত হয়ে) তাদের দীনকে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলল। প্রতিটি দল নিজেদের ভাবনা মতে যে পন্থা অবলম্বন করেছে তা নিয়েই উৎফুল্ল। #%২৫%#মুফতী তাকী উসমানী

কিন্তু মানুষ নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট।মুজিবুর রহমান

অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর লোকেরা তাদের মাঝে তাদের দীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল।আল-বায়ান

কিন্তু মানুষ তাদের কর্তব্য কর্মকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে আনন্দিত।তাইসিরুল

কিন্ত তারা নিজেদের মধ্যে তাদের অনুশাসন টুকরো-টুকরো ক’রে কেটে ফেলল। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যেসব রয়েছে তাতেই সন্তষ্ট।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৮

এটা নিছক ঘটনার বর্ণনা নয় বরং সূরার শুরু থেকে যে যুক্তিধারা চলে আসছে তার একটি পর্যায়। যুক্তির সারসংক্ষেপ হচ্ছে, নূহ আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে ঈসা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সকল নবী যখন এ তাওহীদ ও আখেরাত বিশ্বাসের শিক্ষা দিয়ে এসেছেন তখন অনিবার্যভাবে এ থেকে প্রমাণ হয়, এ ইসলামই মানব জাতির আসল দ্বীন বা ধর্ম। অন্যান্য যেসব ধর্মের অস্তিত্ব আজ দুনিয়ার বুকে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো এ দ্বীনেরই বিকৃত রূপ। এর কোন কোন নির্ভুল অংশের চেহারা বিকৃত করে এবং তার মধ্যে অনেক মনগড়া কথা বাড়িয়ে দিয়ে সেগুলো তৈরী করা হয়েছে। এখন যারা এসব ধর্মের উক্ত-অনুরক্ত তারাই ভ্রষ্টতার মধ্যে অবস্থান করছে। অন্যদিকে যারা এগুলো ত্যাগ করে আসল দ্বীনের দিকে আহবান জানাচ্ছে তারা মোটেই বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার মধ্যে অবস্থান করছে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মৌলিকভাবে সমস্ত নবীর দীন ছিল একই। তারা একই ‘আকীদা-বিশ্বাসের প্রতি মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন, হালাল খাদ্য গ্রহণ ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সৎকর্ম অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল কেবল শাখাগত বিষয়ে অর্থাৎ প্রত্যেকের শরীআত ছিল আলাদা। মৌলিক বিষয়ে যে পার্থক্য, তা মানুষেরই সৃষ্টি। তারাই পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে আলাদা-আলাদা আকীদা-বিশ্বাস তৈরি করে নিয়েছে আর এভাবে বিভিন্ন দল তৈরি হয়ে কেউ হয়েছে ইয়াহুদী, কেউ খ্রিস্টান, কেউ মাজূসী কিংবা বৌদ্ধ, পৌত্তলিক ইত্যাদি। সকলে যদি যথাযথভাবে নবীগনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলত, তবে বিশ্বব্যাপী দীন বলতে কেবল ইসলামই থাকত এবং সকলেই হত মুসলিম। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. অতঃপর লোকেরা তাদের নিজেদের মধ্যে তাদের এ বিষয় তথা দ্বীনকে বহুধা বিভক্ত করেছে।(১) প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।

(১)  زبر শব্দটি زبور এর বহুবচন। এর এক অর্থ কিতাব। এই অর্থের দিক দিয়ে আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ তা'আলা সব নবী ও তাদের উম্মতকে মূলনীতি ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একই দ্বীন ও তরীকা অনুযায়ী চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু উম্মতগণ তা মানেনি। তারা পরস্পর বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিভিন্ন কিতাবের অনুসারী হয়েছে। যে কিতাবগুলো তারা নিজেরা রচনা করেছে। তারা কিছু ভ্ৰষ্ট চিন্তাধারার অনুসরণ করেছে, যেগুলো তারা নিজেরা ঠিক করে নিয়েছে। (কুরতুবী) অথবা তারা কিতাবকে টুকরো টুকরো করে নিয়েছে। তাদের কেউ তাওরাতের অনুসরণ করেছে, কেউ যাবুরের কেউ ইঞ্জীলের। তারপর তারা সবগুলোকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিকৃতি সাধন করেছে। (তাবারী; কুরতুবী) অথবা আয়াতের অর্থ, তাদের কোন দল যদি কোন কিতাবের উপর ঈমান আনে তো অন্যান্য কিতাবের উপর কুফরি করে। (কুরতুবী)

আবার زبر শব্দটি কোন কোন সময় زبرة এরও বহুবচন হয়। এর অর্থ খণ্ড ও উপদল। যেমন অন্য আয়াতে এ অর্থে এসেছ, “তোমরা আমার কাছে লৌহপিণ্ডসমূহ নিয়ে আস” (সূরা আল-কাহাফ: ৯৬) এখানে এই অর্থই সুস্পষ্ট। আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, তারা মূলত: একই দ্বীনের অনুসারী হওয়া সত্বেও পরবর্তীতে বিশ্বাস ও মূলনীতিতে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সাদী) এ আয়াতের অর্থে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সাবধান! তোমাদের পূর্বেকার কিতাবীরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে। আর এ উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি জাহান্নামে যাবে, আর একটি জান্নাতে। আর সেটি হচ্ছে, আল-জামা’আহ। (আবু দাউদ: ৪৫৯৭) অন্য বর্ণনায় এসেছে, সাহাবায়ে কিরাম বললেন, সে দলটি কারা হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যার উপর আমি ও আমার সাহাবীরা থাকবে। (তিরমিযী: ২৬৪১)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দ্বীনকে বহু ভাগে বিভক্ত করেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে, তা নিয়েই আনন্দিত।