وَإِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ وَأَنَا۠ رَبُّكُمۡ فَٱتَّقُونِ

ওয়া ইন্না হা-যিহীউম্মাতুকুম উম্মাতাওঁ ওয়াহিদাতাওঁ ওয়া আনা-রব্বুকুম ফাত্তাকূন।উচ্চারণ

আর তোমাদের এ উম্মত হচ্ছে একই উম্মত এবং আমি তোমাদের রব, কাজেই আমাকেই তোমরা ভয় করো। ৪৭ তাফহীমুল কুরআন

বস্তুত এটাই তোমাদের দীন, (সকলের জন্য) একই দীন! আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং আমাকে ভয় কর।মুফতী তাকী উসমানী

এবং তোমাদের এই যে জাতি এটাতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রাব্ব; অতএব আমাকে ভয় কর।মুজিবুর রহমান

আপনাদের এই উম্মত সব তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘এবং তোমাদের এই যে জাতি এটা তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক; অতএব আমাকে ভয় কর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের এই দীন তো একই দীন। আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।আল-বায়ান

তোমাদের এসব উম্মাত তো একই উম্মাত, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাকেই ভয় কর।তাইসিরুল

আর -- "নিঃসন্দেহ তোমাদের এই সম্প্রদায় একই সম্প্রদায়, আর আমিই তোমাদের প্রভু, অতএব আমাকেই তোম রা ভক্তিশ্রদ্ধা করো।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৭

“তোমাদেরউম্মত একই উম্মত” – অর্থাৎ তোমরা একই দলের লোক। “উম্মত” শব্দটি এমন ব্যক্তি সমষ্টির জন্য বলা হয় যারা কোন সম্মিলিত মৌলিক বিষয়ের জন্য একতাবদ্ধ হয়। নবীগণ যেহেতু স্থান-কালেরর বিভিন্নত সত্ত্বেও একই বিশ্বাস, একই জীবন বিধান ও একই দাওয়াতের ওপর একতাবদ্ধ ছিলেন, তাই বলা হয়েছে, তাঁদের সবাই একই উম্মত। পরবর্তী বাক্য নিজেই সে মৌলিক বিষয়ের কথা বলে দিচ্ছে যার ওপর সকল নবী একতাবদ্ধ ও একমত ছিলেন। (অতিরিক্ত ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আল বাকারাহ, ১৩০ থেকে ১৩৩; আলে ইমরান, ১৯, ২০, ৩৩, ৩৪, ৬৪ ও ৭৯ থেকে ৮৫; আন নিসা, ১৫০ থেকে ১৫২; আল আ’রাফ, ৫৯, ৬৫, ৭৩, ৮৫; ইউসুফ, ৩৭ থেকে ৪০; মার্‌য়াম, ৪৯ থেকে ৫৯ এবং আল আম্বিয়া, ৭১ থেকে ৯৩ আয়াত।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫২. আর আপনাদের এ উম্মত তো একই উম্মত(১) এবং আমিই আপনাদের রব; অতএব আমারই তাকওয়া অবলম্বন করুন।(২)

(১) “তোমাদের উম্মত একই উম্মত”। অর্থাৎ তোমরা একই দলের লোক। أمة শব্দটি যদিও সম্প্রদায় ও কোন বিশেষ নবীর জাতির অর্থে প্রচলিত ও সুবিদিত, তবুও কোন কোন সময় তরীকা ও দ্বীনের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন (إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ) “আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে একটি দ্বীনে (তরীকা বা জীবনপদ্ধতিতে) পেয়েছি”। (সূরা আয-যুখরুফঃ ২২) তাই ‘উম্মত’ শব্দটি এখানে এমন ব্যক্তি সমষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে যারা কোন সম্মিলিত মৌলিক বিষয়ে একতাবদ্ধ।

নবীগণ যেহেতু স্থান-কালের বিভিন্নতা সত্বেও একই বিশ্বাস ও একই দাওয়াতের উপর একতাবদ্ধ ছিলেন, তাই বলা হয়েছে, তাদের সবাই একই উম্মত। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) পরবর্তী বাক্য নিজেই সে মৌলিক বিষয়ের কথা বলে দিচ্ছে যার উপর সকল নবী একতাবদ্ধ ও একমত ছিলেন। আর তা হলো, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। যার অপর নাম ইসলাম। নবীরা সবাই ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছেন। তাদের দ্বীনও ছিল ইসলাম। তাদের অনুসারীরাও ছিল মুসলিম। এ হিসেবে সমস্ত নবী-রাসূল ও তাদের সত্যিকারের উম্মতগণ একই উম্মত হিসেবে গণ্য। তারা সবাই মুসলিম উম্মত।

(২) আয়াতের মূল বক্তব্য হচ্ছে, নূহ আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে ঈসা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সকল নবী যখন এ তাওহীদ ও আখেরাত বিশ্বাসের শিক্ষা দিয়ে এসেছেন তখন অনিবাৰ্যভাবে এ থেকে প্রমাণ হয়, এ ইসলামই মানুষের জন্য আল্লাহর মনোনীত দ্বীন। সুতরাং একমাত্র তারই তাকওয়া অবলম্বন করা উচিত। তাঁকেই রব মানা এবং তাঁরই কেবল ইবাদাত করাই এর দাবী। এমন কোন কাজ করো না যা তোমাদের উপর আমার আযাবকে অবশ্যম্ভাবী করে দিবে। যেমন আমার সাথে শির্ক করা, অথবা আমার নির্দেশের বিরোধিতা, আমার নিষেধের বিপরীত কাজ করা। (ফাতহুল কাদীর) এ আয়াত অন্য আয়াতের মত যেখানে বলা হয়েছে, আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।” (সূরা আল-জিন: ১৮) (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫২) নিশ্চয় তোমাদের এই জাতি একই জাতি(1) এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।

(1) أمَّة (জাতি) বলতে দ্বীনকে বুঝানো হয়েছে। আর জাতি বা দ্বীন এক হওয়ার অর্থ সমস্ত নবীগণ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার আহবান করে গেছেন। কিন্তু মানুষ তাওহীদ (এক আল্লাহর ইবাদত করার) পথ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন দল, জাতি ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দল নিজ নিজ বিশ্বাস ও কর্ম নিয়ে আনন্দিত; যদিও সে সত্য হতে অনেক দূরে অবস্থান করছে।