ছাইয়াকূলূনা লিল্লা-হি কুল ফাআন্না-তুছহারূন।উচ্চারণ
তারা নিশ্চয়ই বলবে, এ বিষয়টি তো আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। বলো, তাহলে তোমরা বিভ্রান্ত হচ্ছো কোথায় থেকে? ৮২ তাফহীমুল কুরআন
তারা অবশ্যই বলবে, (সমস্ত কর্তৃত্ব) আল্লাহর। বল, তবে কোথা হতে তোমরা যাদুগ্রস্ত হচ্ছ? #%৩৬%#মুফতী তাকী উসমানী
তারা বলবেঃ আল্লাহর! বলঃ তবুও তোমরা কেমন করে বিভ্রান্ত হচ্ছ?মুজিবুর রহমান
এখন তারা বলবেঃ আল্লাহর। বলুনঃ তাহলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা বলবে, ‘আল্লাহ্ র ’। বল, ‘তবুও তোমরা কেমন করে মোহগ্রস্ত হতেছ ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা বলবে, ‘আল্লাহ।’ বল, ‘তবুও কীভাবে তোমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ?’আল-বায়ান
তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ?তাইসিরুল
তারা সঙ্গে সঙ্গে বলবে -- "আল্লাহ্র।" তুমি বল -- "তবে কেমন ক’রে তোমাদের সম্মোহন করা হচ্ছে?"মাওলানা জহুরুল হক
৮২
মূলে আছে দু’টি শব্দ-----------এর শাব্দিক অনুবাদ হচ্ছে, “কোথায় থেকে তোমরা যাদুকৃক হচ্ছো? ” যাদু ও তেলেসমাতের স্বরূপ এভাবে বর্ণনা করা যায় যে, একটি জিনিসকে তার আসল অর্থ, তাৎপর্য ও সঠিক চেহারার বিপরীতে এনে দাঁড় করিয়ে দেয় এবং দর্শকের মনে এরূপ ভুল ধারণা সৃষ্টি করে যে, যাদুকর কৃত্রিমভাবে যা পেশ করছে তা-ই হচ্ছে ঐ জিনিসের আসল স্বরূপ। কাজেই আয়াতে যে প্রশ্ন করা হয়েছে তার অর্থ হচ্ছে, কে তোমাদের ওপর এমন যাদু করে দিয়েছে যার ফলে এসব কথা জানা সত্ত্বেও প্রকৃত সত্য তোমরা বুঝতে পারছো না? কার যাদু তোমাদেরকে এমন উদভ্রান্ত করে দিয়েছে, যার ফলে যে মালিক নয় তাকে তোমরা মালিক বা তার শরীক হিসেবে দেখছো এবং যারা কোনো কর্তৃত্বের অধিকারী নয় তাদেরকে তোমরা আসল কর্তৃত্বের অধিকারীর মতো বরং তাঁর চাইতেও বেশী বন্দেগীর হকদার মনে করছো? কে তোমাদের চোখে আবরণ দিয়েছে, যার ফলে যে আল্লাহ সম্পর্কে তোমরা একথা স্বীকার করো যে, তাঁর হাত থেকে তোমাদেরকে তাঁর জিনিসগুলো কিভাবে ব্যবহার করেছো সেকথা কখনো জিজ্ঞেস করবেন না এবং যিনি সারা বিশ্ব-জগতের একচ্ছত্র অধিপতি তিনি কখনো তোমাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না যে, তাঁর রাজত্বের মধ্যে তোমরা নিজেদের রাজত্ব চালাবার অথবা অন্যদের রাজত্ব মেনে নেবার অধিকার কোথায় থেকে লাভ করলে? কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে যাদুর অভিযোগ এনেছিল এ বিষয়টি যদি সামনে থাকে তাহলে প্রশ্নের ধরণ আরো বেশী অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে প্রশ্নের ধরণ আরো বেশী অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে প্রশ্নের এ শব্দাবলীর মধ্যে এ বিষয়বস্তুটিও ফুটে উঠেছে যে, নিবোর্ধের দল! যিনি তোমাদেরকে আসল সত্যটি (তোমাদের স্বীকৃতি অনুযায়ী যার আসল সত্য হওয়া উচিত) বলেন, তিনি তো তোমাদের চোখে যাদুকর আর যারা রাতদিন তোমাদেরকে সত্য বিরোধী কথা বলে বেড়ায় এমনকি যারা তোমাদেরকে সুস্পষ্ট বুদ্ধি ও যুক্তি বিরোধী, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ বিরোধী, তোমাদের নিজেদের স্বীকৃত সত্য বিরোধী প্রকাশ্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাসী করে দিয়েছ তারাই যে আসল যাদুকর তাদের সম্পর্কে তোমাদের মনে কখনো এ সন্দেহ জাগে না।
আয়াতে তাদের বিভ্রান্তিকে যাদুগ্রস্ততার সাথে তুলনা করা হয়েছে। যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি সঠিক বিষয় বুঝতে পারে না, তাই উল্টাপাল্টা কথা বলে, তারাও তেমনি মহাবিশ্বে আল্লাহ তাআলার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও আধিপত্য এবং তার জ্ঞান ও শক্তির অসীমত্ব জানা থাকা সত্ত্বেও এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছে না যে, এমন সর্বশক্তিমানের পক্ষে মানুষকে তাদের মাটিতে মিশে যাওয়ার পরও পুনরুজ্জীবিত করা কিছু কঠিন কাজ নয়। উল্টো মন্তব্য করছে যে, এসব পুরাকালের উপকথা। -অনুবাদক
৮৯. অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ। বলুন, তাহলে কোথা থেকে তোমরা জাদুগ্ৰস্থ হচ্ছে?
(৮৯) তারা বলবে, ‘আল্লাহর।’ বল, ‘তবুও তোমরা কেমন করে বিভ্রান্ত হচ্ছ?’ (1)
(1) অর্থাৎ, তাহলে তোমাদের জ্ঞানের কি হয়েছে যে, এই স্বীকারোক্তি ও অবগতির পরও অন্যকে আল্লাহর উপাসনায় অংশীদার করছ? কুরআনের এই স্পষ্ট উক্তি হতে পরিষ্কার জানা যায় যে, মক্কার মুশরিকরা মহান আল্লাহ প্রতিপালক, স্রষ্টা, মালিক ও রুযীদাতা হওয়ার কথা (অর্থাৎ তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহর কথা) অস্বীকার করত না; বরং এ সব কথাই তারা বিশ্বাস করত। তারা শুধু ‘তাওহীদুল উলূহিয়্যায়’ (আল্লাহর একত্ববাদ)-কে অস্বীকার করত। অর্থাৎ, ইবাদত ও উপাসনা কেবলমাত্র এক আল্লাহর করত না; বরং তাঁর সঙ্গে অন্যকেও অংশীদার বানাত। এই জন্য নয় যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে বা তাঁর পরিচালনায় অন্য কেউ অংশীদার আছে; বরং কেবলমাত্র এই বিভ্রান্তির শিকার হয়ে যে, এঁরাও আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন। তাঁদেরকেও আল্লাহ কিছু এখতিয়ার দিয়ে রেখেছেন। তাই তাঁদের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাই। বর্তমান যুগের কবরপূজারী বিদআতীরাও ঠিক এই বিভ্রান্তির শিকার। যার কারণে সমাধিস্থ মৃত ব্যক্তিদেরকে সাহায্য, সমৃদ্ধি ও সন্তান লাভের আশায় আহবান করে, তাদের নামে নযর মানে, নিয়ায পেশ করে এবং তাদেরকে আল্লাহর (উক্ত) ইবাদতসমূহে শরীক করে নেয়! অথচ মহান আল্লাহ এ কথা কোথাও বলেননি যে, আমি কোন পরলোকগত বুযুর্গ, অলী বা নবীকে কোন এখতিয়ার বা শক্তি দিয়ে রেখেছি। অতএব তোমরা তাদের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ কর। অথবা তাদেরকে সাহায্যের জন্য আহবান জানাও। অথবা তাদের নামে নযর-নিয়ায, মানত কর। এই কারণেই আল্লাহ পরবর্তীতে বলেছেন, আমি তাদের নিকট সত্য পৌঁছিয়ে দিয়েছি। অর্থাৎ তিনি এ কথা সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আর এরা যদি আল্লাহর ইবাদতে অন্যকে শরীক করছে, তাহলে এই জন্য নয় যে, তাদের নিকট এ ব্যাপারে কোন দলীল আছে। কক্ষনো না; বরং এ কাজ তারা কেবল একে অন্যের দেখাদেখি এবং পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করে তাদেরকে তাঁর সঙ্গে শরীক করছে। বরং বাস্তবে এরা সম্পূর্ণ মিথ্যুক। যেহেতু না তাঁর কোন সন্তান আছে, আর না কোন শরীক। যদি তা হতো, তাহলে প্রত্যেক শরীক নিজের ভাগের সৃষ্টির সুব্যবস্থা নিজের ইচ্ছামত করে নিত এবং প্রত্যেক শরীক অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করত। আর যখন এরূপ কোন কিছু নয় ও পৃথিবীর ব্যবস্থাপনায় কোন প্রকারের টানাপড়েন নেই, তাহলে এ কথা ধ্রুব সত্য যে, আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত কথা হতে পাক-পবিত্র এবং বহু ঊর্ধ্বে, যা মুশরিকরা তাঁর সম্পর্কে বলে থাকে।