۞وَلَوۡ رَحِمۡنَٰهُمۡ وَكَشَفۡنَا مَا بِهِم مِّن ضُرّٖ لَّلَجُّواْ فِي طُغۡيَٰنِهِمۡ يَعۡمَهُونَ

ওয়া লাও রহিমনা-হুম ওয়াকাশাফনা-মা-বিহিম মিন দুররিল লালাজজুফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন।উচ্চারণ

যদি আমি তাদের প্রতি করুণা করি এবং বর্তমানে তারা যে দুঃখ-কষ্টে ভুগছে তা দূর করে দেই, তাহলে তারা নিজেদের অবাধ্যতার স্রোতে একেবারেই ভেসে যাবে। ৭২ তাফহীমুল কুরআন

আমি যদি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তারা যে দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত আছে তা দূর করে দেই, তবুও তারা বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের অবাধ্যতায় গোঁ ধরে থাকে। #%৩৩%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদের উপর দয়া করলেও এবং তাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করলেও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরতে থাকবে।মুজিবুর রহমান

যদি আমি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তাদের কষ্ট দূর করে দেই, তবুও তারা তাদের অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে লেগে থাকবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি এদেরকে দয়া করলেও এবং এদের দুঃখ-দৈন্য দূর করলেও এরা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরিতে থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যদি আমি তাদের দয়া করতাম এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত করতাম, তবুও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত।আল-বায়ান

আমি তাদের প্রতি দয়া করলেও আর তাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করলেও তারা তাদের অবাধ্যতায় ঘুরপাক খেতে থাকবে।তাইসিরুল

আর আমরা যদি তাদের প্রতি দয়া করি ও দুঃখ-দৈন্যের যা কিছু তাদের রয়েছে তা দূর করে দিই তথাপি তারা তাদের বিভ্রান্তিতে লেগে থাকবে অন্ধ-চক্কর দিতে দিতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭২

দুর্ভিক্ষের কারণে আরববাসী যে কষ্ট ও বিপদের মধ্যে অবস্থান করছিল সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ দুর্ভিক্ষ সংক্রান্ত হাদীস উদ্ধৃত করতে গিয়ে কেউ কেউ দু’টি দুর্ভিক্ষকে এক সাথে মিশিয়ে ফেলেছন। এর ফলে একটি হিজরতের আগের না পরের ঘটনা তা বুঝা মানুষের পক্ষা কঠিন হয়ে যায়। আসল ঘটনা হচ্ছ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মক্কাবাসীরা দুবার দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়। একবার নবোয়াতের সূচনার কিছুদিন পর। দ্বিতীয়বার হিজরাতের কয়েক বছর পর যখন সামামাহ ইবনে উসাল ইয়ামামাহ থেকে মক্কার দিকে খাদ্য শস্য রফতানী করা বন্ধা করে দিয়েছিল। এখানে দ্বিতীয় দুর্ভিক্ষটির নয় প্রথমটির কথা বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, যখন কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত অস্বীকার করতেই থাকলো এবং কঠোরভাবে বাধা দিতে শুরু করলো তখন তিনি দোয়া করলেনঃ

-----

“হে আল্লাহ! এদের মোকাবিলায় ইউসুফের আট বছরের দুর্ভিক্ষের মতো সাত বছরব্যাপী দুর্ভিক্ষ দিয়ে আমাকে সাহায্য করো।”

ফলে এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেলো যে, মৃতের গোশ্‌ত খাওয়ার ঘটনাও ঘটলো। মক্কী সূরাগুলোতে বহু জায়গায় এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ দেখুন সূরা আল আন’আম, ৪২ থেকে ৪৪; আল আ’রাফ, ৯৪ থেকে ৯; ইউনুস ১১, ১২, ২১; আন নহল, ১১২, ১১৩ ও আদ্‌ দুখান, ১০ থেকে ১৬ আয়াত এবং এ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টীকাগুলোও।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মক্কার মুশরিকদেরকে ঝাকুনি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দু’-একবার দুর্ভিক্ষ ও অর্থসঙ্কটে ফেলেছিলেন। এ আয়াতের ইশারা সে দিকেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৫. আর যদি আমরা তাদেরকে দয়া করি এবং তাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করি তবুও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরতে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৫) আমি তাদের উপর দয়া করলেও এবং তাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করলেও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরতে থাকবে। (1)

(1) ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অন্তরে যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা ছিল এবং কুফরী ও শিরকের নর্দমার মধ্যে যেভাবে তারা হাবুডুবু খাচ্ছিল এখানে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।