ওয়াল্লাযীনা ইউ’তূনা মাআ-তাওঁ ওয়া কুলূবুহুম ওয়াজিলাতুনআন্নাহুমইলা-লাব্বিহিম রজি‘উন।উচ্চারণ
এবং যাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যা কিছুই দেয় এমন অবস্থায় দেয় যে, তাফহীমুল কুরআন
এবং যারা যে-কোন কাজই করে, তা করার সময় তাদের অন্তর এই ভয়ে ভীত থাকে যে, তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে, #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী
আর যারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে।মুজিবুর রহমান
এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং যারা তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল।আল-বায়ান
যারা তাদের দানের বস্তু দান করে আর তাদের অন্তর ভীত শংকিত থাকে এ জন্যে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।তাইসিরুল
আর যারা প্রদান করে যা দেবার আছে, আর তাদের হৃদয় ভীত-কম্পিত যেহেতু তারা তাদের প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, --মাওলানা জহুরুল হক
অর্থাৎ, সৎকর্ম করছে বলে তাদের অন্তরে অহমিকা দেখা দেয় না; বরং তারা এই ভেবে ভীত-কম্পিত থাকে যে, তাদের কর্মে এমন কোন ত্রুটি রয়ে যায়নি তো, যা আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে!
৬০. আর যারা যা দেয়ার তা দেয়(১) ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, এজন্য যে তারা তাদের রব-এর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।(২)
(১) يؤتون শব্দটি إيتاء শব্দ থেকে উদ্ভুত। এর অর্থ দেয়া, খরচ করা ও দান-খয়রাত করা। তা যাকাতও হতে পারে, আবার নফল সাদকাহও হতে পারে। (ইবন কাসীর) এমনকি এর দ্বারা যাবতীয় নেক ও কল্যাণের কাজ যেমন সালাত, যাকাত, সাদাকাহ ও হজ্জ ইত্যাদি সবই উদ্দেশ্য হতে পারে। (সা’দী)
(২) অর্থাৎ তারা দুনিয়ায় আল্লাহর ব্যাপারে ভীতি শূন্য ও চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করে না। যা মনে আসে তাই করে না। বরং তাদের মন সবসময় তাঁর ভয়ে ভীত থাকে। তারা আরও ভয় করে যে, আমরা আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক দেয়ার পরও তা আমাদের থেকে কবুল করা হচ্ছে কি না? আয়েশা সিদীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াতের মর্ম জিজ্ঞেস করে বললাম যে, এই কাজ করে যারা ভীত কম্পিত হবে তারা কি মদ্যপান করে কিংবা চুরি করে?
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না হে সিদ্দীক তনয়! বরং এরা ঐ সমস্ত লোক যারা সাওম পালন করে, সালাত পড়ে। এতদসত্বেও তারা শঙ্কিত থাকে যে, সম্ভবতঃ আমাদের এই আমল আল্লাহর কাছে (আমাদের কোন ক্রটির কারণে) কবুল হবে না। এ ধরনের লোকই সৎকাজ দ্রুত সম্পাদন করে এবং তাতে অগ্রগামী থাকে (আহমদ ৬/২০৫, তিরমিযীঃ ৩১৭৫) হাসান রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ আমি এমন লোক দেখেছি। যারা সৎকাজ করে ততটুকুই ভীত হয় যতটুকু তোমরা মন্দ কাজ করেও ভীত হও না। (কুরতুবী) মুফাসসিরগণ তাদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন।
* তাদেরকে যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা তারা দেয়া সত্বেও ভয় পায় যে, তাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে তিনি প্রত্যেকের যাবতীয় গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন। তাই তাদের দান যথাযোগ্য পন্থায় হয়েছে কি না সে ভয়ে তারা ভীত।
* অথবা, তারা তাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবার কারণেই ভয় করছে, কারণ তাঁর কাছে কোন কাজই গোপন নেই। যে কোন ভাবেই তিনি ইচ্ছা করলে পাকড়াও করতে পারেন।
* তাছাড়া, আয়াতের অন্য কেরাআত হলোঃ أتوا তখন অর্থ হবে, তারা যা কাজ করার তা করে, তারপর তারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের রব-এর কাছে ফিরে যেতে হবে ফলে তিনি তাদের কাজের হিসাব নিবেন। আর যার হিসেব কড়াভাবে নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবাৰ্য। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(৬০) আর যারা তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করবার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে। (1)
(1) অর্থাৎ, আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, কিন্তু এ আশঙ্কাও করে যে, কোন ত্রুটির কারণে আমাদের আমল বা সাদকা যেন অগ্রাহ্য না হয়ে যায়। হাদীসে এসেছে, আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ভীত-কম্পিত কে? যে মদ্য পান করে, ব্যভিচার করে ও চুরি করে?’ নবী (সাঃ) বললেন, ‘‘না বরং তারা, যারা নামায আদায় করে, রোযা পালন করে, সাদকাহ করে; কিন্তু ভয় করে যে, এসব যেন অগ্রহণযোগ্য না হয়ে যায়।’’ (তিরমিযীঃ সূরা মুমিনের ব্যাখ্যা, আহমাদ ৬/১৬০, ১৯৫)