فَأَخَذَتۡهُمُ ٱلصَّيۡحَةُ بِٱلۡحَقِّ فَجَعَلۡنَٰهُمۡ غُثَآءٗۚ فَبُعۡدٗا لِّلۡقَوۡمِ ٱلظَّـٰلِمِينَ

ফাআখাযাতহুমুসসাইহাতুবিলহাক্কিফাজা‘আলনা-হুম গুছাআন ফাবু‘দাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ

শেষ পর্যন্ত যথাযথ সত্য অনুযায়ী একটি মহা গোলযোগ তাদেরকে ধরে ফেললো এবং আমি তাদেরকে কাদা ৩৭ বানিয়ে নিক্ষেপ করলাম-দূর হয়ে যাও জালেম জাতি! তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং সত্যিই #%২১%# তাদেরকে এক মহানাদ আক্রান্ত করে এবং আমি তাদেরকে আবর্জনায় পরিণত করি। সুতরাং এরূপ জালেম সম্প্রদায়ের প্রতি অভিশাপ।মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর সত্য সত্যই এক বিকট শব্দ তাদেরকে আঘাত করল এবং আমি তাদেরকে তরঙ্গ তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে দিলাম; সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল যালিম সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান

অতঃপর সত্য সত্যই এক ভয়ংকর শব্দ তাদেরকে হতচকিত করল এবং আমি তাদেরকে বাত্যা-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে দিলাম। অতঃপর ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর সত্য সত্যই এক বিকট আওয়াজ এদেরকে আঘাত করল এবং আমি এদেরকে তরঙ্গ-তাড়িত আবর্জনাসদৃশ করে দিলাম। সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল জালিম সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যথার্থই তাদেরকে এক বিকট আওয়াজ পেয়ে বসল, তারপর আমি তাদেরকে খড়কুটায় পরিণত করলাম। সুতরাং যালিম কওমের জন্য ধ্বংস।আল-বায়ান

অতঃপর সত্যি সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শব্দ তাদেরকে আঘাত করল আর তাদেরকে ভাগাড়ে পরিণত করলাম, কাজেই ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়।তাইসিরুল

কাজেই এক মহাগর্জন তাদের পাকড়াও করল সঙ্গতভাবেই, আর আমরা তাদের বানিয়ে দিলাম আবর্জনা, তাই দূর হ’ল অত্যাচারী জাতি!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৭

মূলে টীকা নং-৩৭। غُثَاءَ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে হয় বন্যার তোড়ে ভেসে আসা ময়লা আবর্জনা, যা পরবর্তী পর্যায়ে কিনারায় আটকে পড়ে পচেযেতে থাকে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘সত্যিই’, অর্থাৎ উপরে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সত্য ছিল এবং সে অনুযায়ী সত্যিই এক মহানাদ তাদেরকে আঘাত করেছিল। অথবা এর অর্থ, ‘এক মহানাদ তাদেরকে আঘাত করেছিল ন্যায্যভাবে। তা তাদের উপর জুলুম ছিল না আদৌ। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৪১. তারপর এক বিরাট আওয়াজ সত্যন্যায়ের সাথে(১) তাদেরকে পাকড়াও করল, ফলে আমরা তাদেরকে তরঙ্গ-তাড়িত আবর্জনার মত(২) করে দিলাম। কাজেই যালেম সম্প্রদায়ের জন্য রইল ধ্বংস।

(১) অর্থাৎ তাদের উপর যে আযাব এসেছে সেটা যথার্থ ছিল। তাদের উপর কোন প্রকার যুলুম করা হয়নি। তাদের অপরাধের কারণেই সেটা এসেছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের উপর যুলুম করেন না। তারা কুফরি ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে এটার হকদার হয়েছিল। সম্ভবত: বিরাট আওয়াজের সাথে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝড়ো বাতাসও তাদের পেয়ে বসেছিল। (ইবন কাসীর)। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “এটা তার রবের নির্দেশে সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করে দেবে।” অতঃপর তাদের পরিণাম এ হল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না।” (সূরা আল-আহকাফ: ২৫)

(২) মূলে غثاء শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে হয় বন্যার তোড়ে ভেসে আসা ময়লা আবর্জনা, যা পরবর্তী পর্যায়ে কিনারায় আটকে পড়ে পচে যেতে থাকে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪১) অতঃপর সত্যসত্যই এক বিকট শব্দ(1) তাদেরকে পাকড়াও করল এবং আমি তাদেরকে তরঙ্গ-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করে দিলাম;(2) সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল যালেম সম্প্রদায়।

(1) এই বিকট শব্দের ব্যাপারে বলা হয় যে, এটি জিবরীল (আঃ)-এর শব্দ ছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি এমনিই একটি বিকট শব্দ ছিল, যার সঙ্গে ছিল প্রচন্ড ঝড়। এই দুয়ে মিলে তাদেরকে এক নিমেষে ধ্বংস করে ফেলল।

(2) غُثَاء হল সেই পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনা; যাতে গাছের ছাল-পাতা, শুকনো ডাল-পালা, খড়কুটো ইত্যাদি জিনিস থাকে। আর যখন পানির স্রোত কমে যায়, তখন এগুলো শুকনো অবস্থায় অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। ঠিক এই অবস্থাই হল এই সব অহংকারী মিথ্যাজ্ঞানকারিদের।