আম ইয়াকূলূনা বিহী জিন্নাতুম বাল জাআহুম বিলহাক্কিওয়া আকছারুহুম লিলহাক্কি ক-রিহূন।উচ্চারণ
অথবা তারাকি একথা বলে যে, সে উন্মাদ? ৬৭ না, বরং সে সত্য নিয়ে এসেছে এবং সত্যই তাদের অধিকাংশের কাছে অপছন্দনীয়। তাফহীমুল কুরআন
নাকি তারা বলে, সে (অর্থাৎ রাসূল) উন্মাদগ্রস্ত? না, বরং (প্রকৃত ব্যাপার হল) সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ সত্য পছন্দ করে না। #%৩১%#মুফতী তাকী উসমানী
অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? বস্তুতঃ সে তাদের নিকট সত্য এনেছে এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে।মুজিবুর রহমান
না তারা বলে যে, তিনি পাগল ? বরং তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অথবা এরা কি বলে যে, সে উন্মাদনাগ্রস্ত, বস্তুত সে এদের নিকট সত্য এনেছে এবং এদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নাকি তারা বলছে যে, তার মধ্যে কোন পাগলামী রয়েছে? না, বরং সে তাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিল। আর তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দকারী।আল-বায়ান
অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? না, প্রকৃতপক্ষে সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে।তাইসিরুল
অথবা তারা কি বলে যে তাঁকে জিন-ভূতে ধরেছে? বস্তুতঃ তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছেন, কিন্ত তাদের অধিকাংশই সত্য-সন্বন্ধে উদাসীন।মাওলানা জহুরুল হক
৬৭
অর্থাৎ তাদের অস্বীকার করার কারণ কি এই যে, তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাগল মনে করে? মোটেই না, এটাও আসলে কোন কারণই নয়।
কারণ মুখে তারা যাই বলুক না কেন মনে মনে তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা স্বীকৃতি দিয়ে চলছে। তাছাড়া একজন পাগল ও সুস্থ-সচেতন ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্য এমন কোন অস্পষ্ট বিষয় নয় যে, উভয়কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন। একজন হঠকারী ও নির্লজ্জ ব্যক্তি ছাড়া কে এ বানী শোনার পর একথা বলতে পারে যে, এটা একজন পাগলের প্রলাপ এবং এ ব্যক্তির জীবনধারা দেখার পর এ অভিমত ব্যক্ত করতে পারে যে, এটা একজন বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদের জীবন? বড়ই অদ্ভুত সেই পাগলামি (অথবা পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদদের প্রলাপ অনুযায়ী মৃগীওগীর সংজ্ঞাহীনতা) যার মধ্যে মানুষের মুখ দিয়ে কুরআনের মতো অলৌকিক সৌন্দর্যময় বাণী বের হয়ে আসে এবং যার মাধ্যমে মানুষকে একটা আন্দোলনের এমন সফল পথনির্দেশনা দেয় যার ফলে কেবলমাত্র নিজের দেশেরই নয়, সারা দুনিয়ার ভাগ্য পরিবর্তিত হয়ে যায়।
মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন অস্বীকার করত? তিনি কি অভিনব কোন বিষয় নিয়ে এসেছিলেন, যা পূর্ববর্তী নবীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা? তাঁর মহান আখলাক-চরিত্র কি তাদের অজ্ঞাত ছিল? নাকি তারা সত্যি সত্যি মনে করত তিনি (নাউযুবিল্লাহ) একজন উন্মাদ? না, এর কোনওটিই তাদের অস্বীকৃতির কারণ নয়। বরং প্রকৃত কারণ ছিল অন্য। তিনি যে সত্যের বাণী নিয়ে এসেছিলেন তা তাদের ইচ্ছা-অভিরুচির বিপরীত ছিল। তা গ্রহণ করলে ইন্দ্রিয়পরবশ হয়ে চলা যেত না। তাই তাঁকে অস্বীকার করার জন্য একেকবার একেক বাহানা দেখাত।
৭০. নাকি তারা বলে যে, তিনি উন্মাদনাগ্রস্ত?(১) না, তিনি তাদের কাছে সত্য এনেছেন, আর তাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দকারী।(২)
(১) অর্থাৎ তাদের অস্বীকার করার কারণ কি এই যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাগল মনে করে? মোটেই না, এটাও আসলে কোন কারণই নয়। মুখে তারা যাই বলুক না কেন মনে মনে তারা তার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার স্বীকৃতি দিয়ে চলছে। বরং আল্লাহ হক নিয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। আর তিনি হক নিয়ে এসেছেন। তিনি যে বাণী বহন করে এনেছেন কোন পাগল বা রোগীর মুখ দিয়ে তা বের হতে পারে না। সুতরাং তাদের এ দাবীও অসার। (সা'দী)
(২) ঈমান না আনার পেছনে যে সমস্ত সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে ৬৩, ৬৭–৭০ ও পরবর্তী ৭২ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা তার অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে ঈমান আনার পক্ষে যুক্তিস্বরূপও অনেকগুলো কারণ বর্ণনা করেছেন। ঈমান না আনার পক্ষে তাদের যে সমস্ত কারণ থাকতে পারে তা বর্ণনা করে তার প্রত্যেকটি খণ্ডন করেছেন। ঈমান না আনার কারণসমূহ উল্লেখ করে প্রথমেই বলেছেন, ১. তাদের মন ও অন্তর এ ব্যাপারে অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন। ২. হারাম শরীফের তত্ত্বাবধান তথা ইবাদত-বন্দেগীর গর্ব ও অহংকার। ৩. ভিত্তিহীন গল্প-গুজবে মেতে থাকা। ৪, খারাপ গালি-গালাজ ও রাত্রি জাগরণ করে সময় নষ্ট করা। ৫. কুরআন নিয়ে চিন্তাগবেষণা না করা। ৬. কুরআনে যা এসেছে তা পূর্ববর্তীদের কাছে যা নাযিল হয়েছে তার থেকে ভিন্নতর হওয়ার দাবী করা। ৭. নবীকে বুঝতে চেষ্টা না করা। ৮. নবীকে মোহগ্ৰস্থ বা পাগল বলে দাবী করা। ৯. কুরআন ও রাসূলের আহবান তাদের প্রবৃত্তির বিপরীত হওয়া। ১০. কুরআন থেকে বিমুখতা।
কাফেরদের এসব যুক্তি উল্লেখ করে তা পুরোপুরি খণ্ডন করা হয়েছে। এর বিপরীতে ঈমান আনার পক্ষে যে সমস্ত যুক্তি দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ১. কুরআন গবেষণা করা। ২. আল্লাহর নেয়ামতকে কবুল করা। ৩. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে জানা। তাঁর পূর্ণ সত্যবাদিতা ও আমানতদারী সম্পর্কে অবহিত হওয়া। ৪. দাওয়াতের উপর বিনিময় না চাওয়া। ৫. তিনি তাদের উপকারার্থে যাবতীয় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ৬. তিনি সঠিক সরল পথের দিকে আহবান জানাচ্ছেন। যে পথ চলা অত্যন্ত সহজ। যে পথে চললে মনজিলে মাকসূদে পৌছা যায়। তারপরও তারা আপনার অনুসরণ না করে কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? আপনার অনুসরণ না করার পিছনে তাদের কোন যুক্তি নেই। তাদের হাতে শুধু পথভ্রষ্টতাই রয়েছে। আর এভাবে যারাই হক থেকে দূরে থাকে তারা সবকিছু বক্রভাবেই দেখে। আল্লাহ বলেন, “তারপর তারা যদি আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবেন তারা তো শুধু নিজেদের খেয়াল-খুশীরই অনুসরণ করে। আল্লাহর পথনির্দেশ অগ্রাহ্য করে যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে বেশী বিভ্রান্ত আর কে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।” (সূরা আল-কাসাস: ৫০) (দেখুন: সা'দী)
(৭০) অথবা তারা কি বলে যে, সে পাগল?(1) বস্তুতঃ সে তাদের নিকট সত্য এনেছে। আর তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে।(2)
(1) এটিও তিরস্কার ও ধমক স্বরূপ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই পয়গম্বর এমন একটি কুরআন তাদের সামনে পেশ করলেন যার অনুরূপ (একটি সূরা) রচনা করতেও পৃথিবীর মানুষ অপারগ। অনুরূপ তাঁর শিক্ষাও মনুষ্য জাতির জন্য করুণা ও শান্তিস্বরূপ। এমন কুরআন ও এমন শিক্ষা কি এমন এক ব্যক্তি পেশ করতে পারে, যে পাগল ও উন্মাদ?
(2) অর্থাৎ, তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও অহংকার করার আসল কারণ সত্যকে অপছন্দ করা, যা দীর্ঘ দিন অসত্যকে পোষণ করার ফলে তাদের হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছে।