ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَىٰ عَبۡدِهِ ٱلۡكِتَٰبَ وَلَمۡ يَجۡعَل لَّهُۥ عِوَجَاۜ

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযীআনঝালা ‘আলা-‘আবদিহিল কিতা-বা ওয়ালাম ইয়াজ‘আল্লাহূ ‘ইওয়াজা-।

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি তাঁর বান্দার কাছে এই কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনি এতে কোনো কুটিলতা রাখেন নি,

قَيِّمٗا لِّيُنذِرَ بَأۡسٗا شَدِيدٗا مِّن لَّدُنۡهُ وَيُبَشِّرَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ أَجۡرًا حَسَنٗا

কাইয়িমাল লিইউনযির বা’ছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরল মু’মিনীনাল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাসসা-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরন হাছানা-।

সুপ্রতিষ্ঠিত, যেন তাঁর তরফ থেকে আসা কঠোর দুর্যোগ সন্বন্ধে এটি সতর্ক করতে পারে এবং সুসংবাদ দিতে পারে মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে থাকে, -- যে তাদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম প্রতিদান,

مَّـٰكِثِينَ فِيهِ أَبَدٗا

মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-।

সেখানে তারা থাকবে চিরকাল,

وَيُنذِرَ ٱلَّذِينَ قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗا

ওয়া ইউনযিরল্লাযীনা ক-লুত্তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদা-।

আর যেন এটি সাবধান করতে পারে তাদের যারা বলে যে আল্লাহ্ একটি সন্তান গ্রহণ করেছেন।

مَّا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٖ وَلَا لِأٓبَآئِهِمۡۚ كَبُرَتۡ كَلِمَةٗ تَخۡرُجُ مِنۡ أَفۡوَٰهِهِمۡۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبٗا

মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিওঁ ওয়ালা-লিআ-বাইহিম কাবুরত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া-হিহিম ইয়ঁইয়াকূলূনা ইল্লা-কাযিবা-।

তাদের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই আর তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। এ এক সাংঘাতিক কথা যা তাদের মুখ থেকে নির্গত হয়। তারা যা বলে তা মিথ্যা বৈ তো নয়।

فَلَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا

ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফছাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম ইল্লাম ইউ’মিনূ বিহা-যাল হাদীছিআছাফা-।

কাজেই হয়ত বা তাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে তোমার নিজেকে তুমি দুঃখে কাতর করে তুলবে যেহেতু তারা এই নতুন বাণীতে বিশ্বাস করছে না।

إِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَى ٱلۡأَرۡضِ زِينَةٗ لَّهَا لِنَبۡلُوَهُمۡ أَيُّهُمۡ أَحۡسَنُ عَمَلٗا

ইন্না-জা‘আলনা-মা-‘আলাল আরদি ঝীনাতাল্লাহা- লিনাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহছানু ‘আমালা-।

নিঃসন্দেহ পৃথিবীর উপরে যা-কিছু আছে আমরা সেগুলোকে ওর অলংকাররূপে স্থাপন করেছি যেন আমরা তাদের যাচাই করতে পারি তাদের কারা কাজে সর্বোত্তম।

وَإِنَّا لَجَٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا

ওয়া ইন্না-লাজা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-সা‘ঈদান জুরুঝা-।

আর নিঃসন্দেহ তার উপরে যা-কিছু আছে আমরা তাকে করব তৃণলতাহীন মাটির গুড়োঁ।

أَمۡ حَسِبۡتَ أَنَّ أَصۡحَٰبَ ٱلۡكَهۡفِ وَٱلرَّقِيمِ كَانُواْ مِنۡ ءَايَٰتِنَا عَجَبًا

আম হাছিবতা আন্না আসহা-বাল কাহফি ওয়ার রকীমি ক-নূমিন আ-য়া-তিনা‘আজাবা-।

অথবা, তুমি কি মনে কর যে গুহার বাসিন্দারা ও লিখিত-ফলক আমাদের নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর?

إِذۡ أَوَى ٱلۡفِتۡيَةُ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ فَقَالُواْ رَبَّنَآ ءَاتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحۡمَةٗ وَهَيِّئۡ لَنَا مِنۡ أَمۡرِنَا رَشَدٗا

ইয আওয়াল ফিতইয়াতুইলাল কাহফি ফাক-লূরব্বানাআ-তিনা-মিল্লাদুনকা রহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা-রশাদা-।

দেখো, কিছু যুবক গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বললে -- "আমাদের প্রভু! তোমার কাছ থেকে আমাদের অনুগ্রহ প্রদান করো, আর আমাদের কাজকর্মে সঠিক রাস্তা বাতলে দাও।"

فَضَرَبۡنَا عَلَىٰٓ ءَاذَانِهِمۡ فِي ٱلۡكَهۡفِ سِنِينَ عَدَدٗا

ফাদারবনা-‘আলাআ-যা-নিহিম ফিল কাহফি ছিনীনা ‘আদাদা-।

সেজন্য গুহার মধ্যে কয়েক বছরের জন্য আমরা তাদের কানে চাপা দিলাম,

ثُمَّ بَعَثۡنَٰهُمۡ لِنَعۡلَمَ أَيُّ ٱلۡحِزۡبَيۡنِ أَحۡصَىٰ لِمَا لَبِثُوٓاْ أَمَدٗا

ছু ম্মা বা‘আছনা-হুম লিনা‘লামা আইয়ুল হিঝবাইনি আহসা-লিমা-লাবিছূদ্মআমাদা-।

তারপর আমরা তাদের তোলে আনলাম যেন আমরা জানতে পারি দুই দলের কারা ভাল ক’রে গণতে পারে কত সময় তারা অবস্থান করেছিল।

نَّحۡنُ نَقُصُّ عَلَيۡكَ نَبَأَهُم بِٱلۡحَقِّۚ إِنَّهُمۡ فِتۡيَةٌ ءَامَنُواْ بِرَبِّهِمۡ وَزِدۡنَٰهُمۡ هُدٗى

নাহনুনাকুসসু‘আলাইকা নাবাআহুম বিলহাক্কি ইন্নাহুম ফিতইয়াতুন আ-মানূ বিরব্বিহিম ওয়াঝিদনা-হুম হুদা-।

আমরা তোমার কাছে তাদের কাহিনী বর্ণনা করছি সঠিকভাবে -- নিঃসন্দেহ এরা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছিল, আর আমরা তাদের সৎপথে চলার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

وَرَبَطۡنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ إِذۡ قَامُواْ فَقَالُواْ رَبُّنَا رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ لَن نَّدۡعُوَاْ مِن دُونِهِۦٓ إِلَٰهٗاۖ لَّقَدۡ قُلۡنَآ إِذٗا شَطَطًا

ওয়া রবাতনা-‘আলা-কুলূবিহিম ইয ক-মূফাক-লূরব্বুনা-রব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিলান নাদ‘উওয়া মিন দূনিহীইলা-হাল লাকাদ কুলনাইযান শাতাতা-।

আর আমরা তাদের হৃদয়ে শক্তিবর্ধন করেছিলাম যখন তারা দাঁড়িয়েছিল ও বলেছিল -- "আমাদের প্রভু হচ্ছেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, আমরা কখনই তাঁকে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্যকে ডাকব না, কেননা সেক্ষেত্রে আমরা আলবৎ বলে থাকব এক ডাহা মিথ্যা।

هَـٰٓؤُلَآءِ قَوۡمُنَا ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗۖ لَّوۡلَا يَأۡتُونَ عَلَيۡهِم بِسُلۡطَٰنِۭ بَيِّنٖۖ فَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبٗا

হাউলাই কাওমুনাত্তাখাযূমিন দূ নিহীআ-লিহাতাল লাওলা-ইয়া’তূনা ‘আলাইহিম বিছুলতা-নিম বাইয়িনিন ফামান আজলামুমিম্মানিফতার-‘আলাল্লা-হি কাযিবা-।

আমাদেরই এই স্বজাতিরা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করেছে। এরা কেন তাদের সন্বন্ধে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে না? তা’হলে কে বেশি অন্যায়কারী তার চাইতে যে আল্লাহ্ সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে?

وَإِذِ ٱعۡتَزَلۡتُمُوهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ فَأۡوُۥٓاْ إِلَى ٱلۡكَهۡفِ يَنشُرۡ لَكُمۡ رَبُّكُم مِّن رَّحۡمَتِهِۦ وَيُهَيِّئۡ لَكُم مِّنۡ أَمۡرِكُم مِّرۡفَقٗا

ওয়া ইযি‘তাঝালতুমূহুম ওয়ামা-ইয়া‘বুদূনা ইল্লাল্লা-হা ফা’ঊইলাল কাহফি ইয়ানশুরুলাকুম রব্বুকুম মির রহমাতিহী ওয়া ইউহাইয়ি’ লাকুম মিন আমরিকুম মিরফাক-।

আর স্মরণ করো! তোমরা তাদের থেকে এবং আল্লাহ্ ছাড়া যাদের তারা উপাসনা করত সে-সব থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, তখন তোমরা গুহার দিকে আশ্রয় নিলে। তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তাঁর করুণা বিস্তার করলেন, এবং তোমাদের জন্য তৈরি করলেন তেমাদের কাজকর্ম থেকে লাভজনক পরিস্থিতি।

۞وَتَرَى ٱلشَّمۡسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَٰوَرُ عَن كَهۡفِهِمۡ ذَاتَ ٱلۡيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقۡرِضُهُمۡ ذَاتَ ٱلشِّمَالِ وَهُمۡ فِي فَجۡوَةٖ مِّنۡهُۚ ذَٰلِكَ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِۗ مَن يَهۡدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلۡمُهۡتَدِۖ وَمَن يُضۡلِلۡ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ وَلِيّٗا مُّرۡشِدٗا

ওয়া তারশশামছা ইযা-তালা‘আততাঝা-ওয়ারু ‘আন কাহফিহিম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া ইযা-গারবাত তাকরিদুহুম যা-তাশশিমা-লি ওয়া হুম ফী ফাজওয়াতিম মিনহু যালিকা মিন আ-য়া-তিল্লা-হি মাইঁ ইয়াহদিল্লা-হু ফাহুওয়াল মুহতাদি ওয়া মাই ইউদলিল ফালান তাজিদা লাহূত্তয়ালিইইয়াম মুরশিদা-।

আর সূর্য যখন উদয় হত তখন তুমি দেখতে পেতে তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে আছে, আর যখন অস্ত যেত তখন বাম পাশ দিয়ে তাদের অতিক্রম করছে, আর তারা এর এক বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে রয়েছিল। এটি ছিল আল্লাহ্‌র নিদর্শনগুলোর অন্যতম। যাকে আল্লাহ্ সৎপথে চালান সেই তবে সৎপথে চালিত, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্যে তুমি তবে কোনো পথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না।

وَتَحۡسَبُهُمۡ أَيۡقَاظٗا وَهُمۡ رُقُودٞۚ وَنُقَلِّبُهُمۡ ذَاتَ ٱلۡيَمِينِ وَذَاتَ ٱلشِّمَالِۖ وَكَلۡبُهُم بَٰسِطٞ ذِرَاعَيۡهِ بِٱلۡوَصِيدِۚ لَوِ ٱطَّلَعۡتَ عَلَيۡهِمۡ لَوَلَّيۡتَ مِنۡهُمۡ فِرَارٗا وَلَمُلِئۡتَ مِنۡهُمۡ رُعۡبٗا

ওয়া তাহছাবুহুম আইক-জাওঁ ওয়া হুম রুকূদুওঁ ওয়া নুকালিলবুহুম যা-তাল ইয়ামীনি ওয়া যা-তাশশিমা-লি ওয়াকালবুহুম বা-ছিতু ন যির-‘আইহি বিল ওয়াসীদি লাবিততালা‘তা ‘আলাইহিম লাওয়াল্লাইতা মিনহুম ফির-রওঁ ওয়ালামুলি’তা মিনহুম রু‘বা-।

আর তুমি তাদের মনে করতে জাগ্রত যদিও তারা ছিল ঘুমন্ত, আর আমরা তাদের পাশ ফিরিয়ে দিতাম ডান দিকে ও বাঁ দিকে, আর তাদের কুকুরটি থাবা মেলে রয়েছিল প্রবেশপথে। তুমি যদি তাদের হঠাৎ দেখতে তবে তাদের থেকে পিছন ফিরতে পলায়নপর হয়ে, আর তুমি নিশ্চয়ই তাদের কারণে ভয়ে বিহল হতে।

وَكَذَٰلِكَ بَعَثۡنَٰهُمۡ لِيَتَسَآءَلُواْ بَيۡنَهُمۡۚ قَالَ قَآئِلٞ مِّنۡهُمۡ كَمۡ لَبِثۡتُمۡۖ قَالُواْ لَبِثۡنَا يَوۡمًا أَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٖۚ قَالُواْ رَبُّكُمۡ أَعۡلَمُ بِمَا لَبِثۡتُمۡ فَٱبۡعَثُوٓاْ أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمۡ هَٰذِهِۦٓ إِلَى ٱلۡمَدِينَةِ فَلۡيَنظُرۡ أَيُّهَآ أَزۡكَىٰ طَعَامٗا فَلۡيَأۡتِكُم بِرِزۡقٖ مِّنۡهُ وَلۡيَتَلَطَّفۡ وَلَا يُشۡعِرَنَّ بِكُمۡ أَحَدًا

ওয়া কাযা-লিকা বা‘আছনা-হুম লিইয়াতাছাআলূবাইনাহুম ক-লা কাইলুম মিনহুম কাম লাবিছতুম ক-লূলাবিছনা-ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কালূরব্বুকুম আ‘লামুবিমা-লাবিছতুম ফাব‘আছূআহাদাকুম বিওয়ারিকিকুম হাযিহীইলাল মাদীনাতি ফালইয়ানজু র আইয়ুহাআঝক-তা‘আ-মান ফালইয়া’তিকুম বিরিঝকিম মিনহু ওয়াল ইয়াতালাততাফ ওয়ালা-ইউশ‘ইরন্না বিকুম আহাদা-।

আর এইভাবে আমরা তাদের জাগিয়ে তোলেছিলাম যেন তারা তাদের নিজেদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তাদের মধ্যের একজন বক্তা বললে -- "কতকাল তোমরা অবস্থান করেছিলে?" তারা বললে, "আমরা অবস্থান করেছিলাম একদিন বা একদিনের কিছু অংশ।" তারা বললে -- "তোমাদের প্রভু ভাল জানেন কতক্ষণ তোমরা অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে এই রেপ্যমুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাও, সে তখন দেখুক কোনটা কোনটা ভাল খাবার, আর তা থেকে যেন তোমাদের খাবার নিয়ে আসে। আর সে যেন বিচক্ষণতার সাথে চলে এবং তোমাদের সন্বন্ধে কাউকেও কিছু জানতে না দেয়।

إِنَّهُمۡ إِن يَظۡهَرُواْ عَلَيۡكُمۡ يَرۡجُمُوكُمۡ أَوۡ يُعِيدُوكُمۡ فِي مِلَّتِهِمۡ وَلَن تُفۡلِحُوٓاْ إِذًا أَبَدٗا

ইন্নাহুম ইয়ঁ ইয়াজহারূ‘আলাইকুম ইয়ারজুমূকুম আও ইউ‘ঈদূকুম ফী মিল্লাতিহিম ওয়ালান তুফলিহূইযান আবাদা-।

নিঃসন্দেহ তাদের ক্ষেত্রে -- তারা যদি তোমাদের সন্বন্ধে জানতে পারে তবে তোমাদের পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে অথবা তাদের ধর্মে তোমাদের ফিরিয়ে নেবে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনো সফলকাম হবে না।

وَكَذَٰلِكَ أَعۡثَرۡنَا عَلَيۡهِمۡ لِيَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞ وَأَنَّ ٱلسَّاعَةَ لَا رَيۡبَ فِيهَآ إِذۡ يَتَنَٰزَعُونَ بَيۡنَهُمۡ أَمۡرَهُمۡۖ فَقَالُواْ ٱبۡنُواْ عَلَيۡهِم بُنۡيَٰنٗاۖ رَّبُّهُمۡ أَعۡلَمُ بِهِمۡۚ قَالَ ٱلَّذِينَ غَلَبُواْ عَلَىٰٓ أَمۡرِهِمۡ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيۡهِم مَّسۡجِدٗا

ওয়া কাযা-লিকা আ‘ছারনা-‘আলাইহিম লিইয়া‘লামূআন্না-ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়া আন্নাছছা-‘আতা লা-রইবা ফীহা- ইয ইয়াতানা -ঝা‘ঊনা বাইনাহুম আমরহুম ফাকালুবনূ‘আলাইহিম বুনইয়া-নার রব্বুহুম আ‘লামুবিহিম ক-লাল্লাযীনা গালাবূ ‘আলাআমরিহিম লানাত্তাখিযান্না ‘আলাইহিম মাছজিদা-।

আর এইভাবে আমরা জানিয়ে দিলাম ওদের সন্বন্ধে যেন তারা জানতে পারে যে আল্লাহ্‌র ওয়াদাই সত্য, আর ঘড়ি-ঘন্টা সন্বন্ধে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের কর্তব্য সন্বন্ধে বিতর্ক করছিল তখন তারা বললে -- "তাদের উপরে একটি সৌধ নির্মাণ কর"। তাদের প্রভু তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য সন্বন্ধে যারা প্রভাব বিস্তার করল তারা বলল -- "আমরা সুনিশ্চিত তাদের উপরে একটি মসজিদ বানাব"।

سَيَقُولُونَ ثَلَٰثَةٞ رَّابِعُهُمۡ كَلۡبُهُمۡ وَيَقُولُونَ خَمۡسَةٞ سَادِسُهُمۡ كَلۡبُهُمۡ رَجۡمَۢا بِٱلۡغَيۡبِۖ وَيَقُولُونَ سَبۡعَةٞ وَثَامِنُهُمۡ كَلۡبُهُمۡۚ قُل رَّبِّيٓ أَعۡلَمُ بِعِدَّتِهِم مَّا يَعۡلَمُهُمۡ إِلَّا قَلِيلٞۗ فَلَا تُمَارِ فِيهِمۡ إِلَّا مِرَآءٗ ظَٰهِرٗا وَلَا تَسۡتَفۡتِ فِيهِم مِّنۡهُمۡ أَحَدٗا

ছাইয়াকূলূনা ছালা-ছাতুর র-বি‘উহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকূলূনা খামছাতুন ছা-দিছুহুম কালবুহুম রজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকূলূনা ছাব‘আতুওঁ ওয়া ছা-মিনুহুম কালবুহুম কুর রববীআ‘লামুবি‘ইদ্দাতিহিম মা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লা-কালীলুন ফালা-তুমারি ফীহিম ইল্লা-মিরআন জা-হিরওঁ ওয়ালা-তাছতাফতি ফীহিম মিনহুম আহাদা-।

তারা অচিরেই বলবে -- "তিনজন, তাদের চতুর্থজন ছিল তাদের কুকুর", আর তারা বলবে -- "পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠজন ছিল তাদের কুকুর", -- অজানা সন্বন্ধে আন্দাজ করা মাত্র, আর তারা বলে -- "সাতজন, তাদের অষ্টমজন তাদের কুকুর। " তুমি বলো -- "আমার প্রভু ভাল জানেন সংখ্যা, অল্প কয়েকজন ছাড়া অন্যে তাদের চেনে না।" সুতরাং তাদের সন্বন্ধে বিতর্ক করো না সাধারণ আলোচনা ছাড়া, আর তাদের সন্বন্ধে ওদের কোনো একজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করো না।

وَلَا تَقُولَنَّ لِشَاْيۡءٍ إِنِّي فَاعِلٞ ذَٰلِكَ غَدًا

ওয়ালা-তাকূলান্না লিশাইয়িন ইন্নী ফা-‘ইলুন যা-লিকা গাদা-।

আর কোনো ব্যাপারে কখনই বলো না -- "আমি এটি নিশ্চয়ই কালকে করে ফেলব --

إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُۚ وَٱذۡكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلۡ عَسَىٰٓ أَن يَهۡدِيَنِ رَبِّي لِأَقۡرَبَ مِنۡ هَٰذَا رَشَدٗا

ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু ওয়াযকুর রব্বাকা ইযা-নাছীতা ওয়াকুল ‘আছাআইঁ ইয়াহদিয়ানি রববী লিআকরবা মিন হা-যা-রশাদা-।

যদি না আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন"। আর তোমার প্রভুকে স্মরণ করো যখনই ভুলে যাও, আর বলো -- "হয়ত বা আমার প্রভু আমাকে এর চেয়েও নিকটতর রাস্তায় পরিচালিত করবেন।

وَلَبِثُواْ فِي كَهۡفِهِمۡ ثَلَٰثَ مِاْئَةٖ سِنِينَ وَٱزۡدَادُواْ تِسۡعٗا

ওয়া লাবিছূফী কাহফিহিম ছালা-ছা মিআতিন ছিনীনা ওয়াঝদা-দূতিছ‘আ-।

আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিন শত বছর, আর কেউ যোগ করে নয়।

قُلِ ٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِمَا لَبِثُواْۖ لَهُۥ غَيۡبُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ أَبۡصِرۡ بِهِۦ وَأَسۡمِعۡۚ مَا لَهُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَلِيّٖ وَلَا يُشۡرِكُ فِي حُكۡمِهِۦٓ أَحَدٗا

কুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-লাবিছূ লাহূগাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আবসির বিহী ওয়া আছমি‘ মা-লাহুম মিন দূ নিহী মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ইউশরিকুফী হুকমিহীআহাদা-।

বলো -- "আল্লাহ্ ভাল জানেন কত কাল তারা অবস্থান করেছিল। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত সব তাঁরই। কত তীক্ষ তাঁর দৃষ্টি ও কত সজাগ কান! তাঁকে বাদ দিয়ে তাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই, আর তিনি কোনো একজনকেও তাঁর কর্তৃত্বের অংশী করেন না।"

وَٱتۡلُ مَآ أُوحِيَ إِلَيۡكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَۖ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَن تَجِدَ مِن دُونِهِۦ مُلۡتَحَدٗا

ওয়াতলুমাঊহিয়া ইলাইকা মিন কিতা-বি রব্বিকা লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহী ওয়া লান তাজিদা মিন দূ নিহী মুলতাহাদা-।

আর পাঠ করো তোমার প্রভুর কিতাবের থেকে যা তোমাদের কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে। এমন কেউ নেই যে তাঁর বাণী বদল করতে পারে, আর তাঁকে বাদ দিয়ে তুমি পাবে না কোনো আশ্রয়স্থল।

وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَا تُطِعۡ مَنۡ أَغۡفَلۡنَا قَلۡبَهُۥ عَن ذِكۡرِنَا وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ وَكَانَ أَمۡرُهُۥ فُرُطٗا

ওয়াসবির নাফছাকা মা‘আল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা রব্বাহুম বিলগাদা-তি ওয়াল ‘আশিইয়ি ইউরীদূ না ওয়াজহাহূওয়ালা-তা‘দুআইনা-কা ‘আনহুম তুরীদুঝীনাতাল হায়াতিদদুনইয়া- ওয়ালা তুতি‘ মান আগফালনা-কালবাহূ‘আন যিকরিনা-ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ওয়া ক-না আমরুহূফুরুতা-।

আর যারা সকালে ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুকে তাঁর প্রসন্নতা কামনা ক’রে আহ্বান করে তাদের সঙ্গে তুমি নিজেও অধ্যবসায় অবলন্বন করো, আর তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না এই দুনিয়ার জীবনের শোভা- সৌন্দর্য কামনা ক’রে । আর যার হৃদয়কে আমাদের নামকীর্তন থেকে আমরা বেখেয়াল করেছি আর যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে আর যার কার্যকলাপ সীমালংঘন করে গেছে তুমি তার অনুসরণ করো না।

وَقُلِ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلظَّـٰلِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمۡ سُرَادِقُهَاۚ وَإِن يَسۡتَغِيثُواْ يُغَاثُواْ بِمَآءٖ كَٱلۡمُهۡلِ يَشۡوِي ٱلۡوُجُوهَۚ بِئۡسَ ٱلشَّرَابُ وَسَآءَتۡ مُرۡتَفَقًا

ওয়া কুল্লি হাক্কুমির রব্বিকুম ফামান শাআ ফালইউ’মিওঁ ওয়ামান শাআ ফালইয়াকফুর ইন্নাআ‘তাদনা-লিজ্জা-লিমীনা না-রন আহা-তা বিহিম ছুরদিকুহা- ওয়াইয়ঁইয়াছতাগীছূইউগা-ছূবিমাইন কালমুহলি ইয়াশবিল উজূহা বি’ছাশ শার-বু ওয়া ছাআত মুরতাফাক-।

তুমি বলো -- "তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে সত্য, সেজন্য যে ইচ্ছা করে সে যেন বিশ্বাস করে, আর যে চায় সে অবিশ্বাসই করুক।" নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীদের জন্য আমরা তৈরি করেছি আগুন, এর বেড়া তাদের ঘেরাও করে রাখবে। আর তারা যদি পানীয় চায় তবে তাদের পানীয় দেয়া হবে গলিত সীসার মতো জল যা তাদের মুখমন্ডল পুড়িয়ে দেবে। এ এক নিকৃষ্ট পানীয়! আর মন্দ সেই বিশ্রামস্থল!

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجۡرَ مَنۡ أَحۡسَنَ عَمَلًا

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া‘আমিলুসসা-লিহা-তি ইন্না-লা-নুদী‘উ আজর মান আহছানা ‘আমালা-।

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে -- আমরা নিশ্চয়ই যারা ভাল কাজ করে তাদের কর্মফল ব্যর্থ করি না।

أُوْلَـٰٓئِكَ لَهُمۡ جَنَّـٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهِمُ ٱلۡأَنۡهَٰرُ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَيَلۡبَسُونَ ثِيَابًا خُضۡرٗا مِّن سُندُسٖ وَإِسۡتَبۡرَقٖ مُّتَّكِـِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِۚ نِعۡمَ ٱلثَّوَابُ وَحَسُنَتۡ مُرۡتَفَقٗا

উলাইকা লাহুমজান্না-তু‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহিমুল আনহা-রু ইউহাল্লাওনা ফীহামিন আছা-বির মিন যাহাবিওঁ ওয়া ইয়ালবাছূনা ছিয়াবান খুদরম মিন ছুনদুছিওঁ ওয়া ইছতাবরকিম মুত্তাকিঈনা ফিহা-‘আলাল আরইকি নি‘মাছছাওয়া-বু ওয়া হাছুনাত মুরতাফাক-।

এরাই -- এদের জন্য রয়েছে নন্দন কানন সমূহ, যাদের নিচ দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তাদের সেখানে অলংকৃত করানো হবে সোনার কাঁকন দিয়ে, আর তাদের পরানো হবে মিহি রেশমের ও পুরু জরির সবুজ পোশাকে, সেখানে সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে। কি উত্তম পুরস্কার, আর কত সুন্দর বিশ্রামস্থল!

۞وَٱضۡرِبۡ لَهُم مَّثَلٗا رَّجُلَيۡنِ جَعَلۡنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيۡنِ مِنۡ أَعۡنَٰبٖ وَحَفَفۡنَٰهُمَا بِنَخۡلٖ وَجَعَلۡنَا بَيۡنَهُمَا زَرۡعٗا

ওয়াদরিব লাহুম মাছালার রজুলাইনি জা‘আলনা-লিআহাদিহিমা-জান্নাতাইনি মিন আ‘নাবিওঁ ওয়া হাফাফনা-হুমা বিনাখলিওঁ ওয়াজা‘আলনা-বাইনাহুমা-ঝার‘আ-।

আর তাদের জন্য একটি রূপক ছুড়োঁ দুজন লোকের -- তাদের একজনের জন্য আমরা বানিয়েছি আঙুরলতার দুটি বাগান, আর এ দুটিকে ঘিরে দিয়েছিলাম খেজুরগাছ দিয়ে, আর সে-সবের মাঝে মাঝে বানিয়েছিলাম শস্যক্ষেত্র।

كِلۡتَا ٱلۡجَنَّتَيۡنِ ءَاتَتۡ أُكُلَهَا وَلَمۡ تَظۡلِم مِّنۡهُ شَيۡـٔٗاۚ وَفَجَّرۡنَا خِلَٰلَهُمَا نَهَرٗا

কিলতাল জান্নাতাইনি আ-তাত উকুলাহা-ওয়ালাম তাজলিম মিনহু শাইআওঁ ওয়া ফাজ্জারনাখিলা-লাহুমা-নাহার-।

বাগান দুটির প্রত্যেকটাই প্রদান করত তার ফলমূল, আর এতে এ কোনো ত্রুটি করত না, আর এ দুইয়ের মধ্যদেশে বইয়েছিলাম জলপ্রবাহ,

وَكَانَ لَهُۥ ثَمَرٞ فَقَالَ لِصَٰحِبِهِۦ وَهُوَ يُحَاوِرُهُۥٓ أَنَا۠ أَكۡثَرُ مِنكَ مَالٗا وَأَعَزُّ نَفَرٗا

ওয়া ক-না লাহূছামারুন , ফাক-লা লিসা-হিবিহী ওয়াহুওয়া ইউহা-বিরুহূআনা আকছারু মিনকা মা-লাওঁ ওয়া আ‘আঝঝুনাফার-।

আর ফলটি ছিল তার। তাই সে তার সঙ্গীকে বললে এবং যে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলছিল -- "আমি ধনসম্পদে তোমার চাইতে প্রাচুর্যময় এবং জনবলেও শক্তিশালী।"

وَدَخَلَ جَنَّتَهُۥ وَهُوَ ظَالِمٞ لِّنَفۡسِهِۦ قَالَ مَآ أَظُنُّ أَن تَبِيدَ هَٰذِهِۦٓ أَبَدٗا

ওয়া দাখালা জান্নাতাহূওয়াহুওয়া জা-লিমুল লিনাফছিহী ক-লা মাআজুন্নুআন তাবীদা হা-যিহীআবাদা-।

আর সে তার বাগানে ঢুকল অথচ সে তার নিজের প্রতি অন্যায় করছিল। সে বললে -- "আমি মনে করি না যে এসব কখনো নিঃশেষ হয়ে যাবে,

وَمَآ أَظُنُّ ٱلسَّاعَةَ قَآئِمَةٗ وَلَئِن رُّدِدتُّ إِلَىٰ رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيۡرٗا مِّنۡهَا مُنقَلَبٗا

ওয়ামাআজুন্নুছছা-‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুদিততুইলা-রববী লাআজিদান্না খাইরম মিনহা-মুনকালাবা-।

আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা বলবৎ হবে, আর যদিবা আমার প্রভুর কাছে আমাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় তবে আমি তো নিশ্চয়ই এর চেয়েও ভাল প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।

قَالَ لَهُۥ صَاحِبُهُۥ وَهُوَ يُحَاوِرُهُۥٓ أَكَفَرۡتَ بِٱلَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٖ ثُمَّ مِن نُّطۡفَةٖ ثُمَّ سَوَّىٰكَ رَجُلٗا

ক-লা লাহূসা-হিবুহূওয়া হুওয়া ইউহা-বিরুহআকাফারতা বিল্লাযী খালাকাকা মিন তুর-বিন ছু ম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা ছাওওয়া-কা রজুলা-।

তার সঙ্গী তাকে বললে যখন সে তার সঙ্গে বাক্যালাপ করছিল -- "তুমি কি তাঁকে অবিশ্বাস কর যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপর তিনি তোমাকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন একজন মানুষে?

لَّـٰكِنَّا۠ هُوَ ٱللَّهُ رَبِّي وَلَآ أُشۡرِكُ بِرَبِّيٓ أَحَدٗا

লা-কিন্না হুওয়াল্লা-হু রববী ওয়ালাউশরিকুবিরববীআহাদা-।

"কিন্তু আমার বেলা, তিনি আল্লাহ্‌, আমার প্রভু, আর আমি কোনো একজনকেও আমার প্রভুর সাথে শরিক করি না।

وَلَوۡلَآ إِذۡ دَخَلۡتَ جَنَّتَكَ قُلۡتَ مَا شَآءَ ٱللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّهِۚ إِن تَرَنِ أَنَا۠ أَقَلَّ مِنكَ مَالٗا وَوَلَدٗا

ওয়ালাওলাইযদাখালতা জান্নাতাকা কুলতা মা-শাআল্লা-হু লা-কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহি ইন তারনি আনা আকাল্লা মিনকা মা-লাওঁ ওয়া ওয়ালাদা-।

"আর তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করতে তখন কেন বল না -- 'মা-শা-আল্লাহ্‌, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো শক্তি নেই’? যদিও তুমি আমাকে দেখো ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততিতে আমি তোমার চাইতে কম, --

فَعَسَىٰ رَبِّيٓ أَن يُؤۡتِيَنِ خَيۡرٗا مِّن جَنَّتِكَ وَيُرۡسِلَ عَلَيۡهَا حُسۡبَانٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فَتُصۡبِحَ صَعِيدٗا زَلَقًا

ফা‘আছা-রববীআই ইউ’তিয়ানি খাইরম মিন জান্নাতিকা ওয়া ইউরছিলা ‘আলাইহা-হুছবানাম মিনাছছামাই ফাতুসবিহা সা‘ঈদান ঝালাক-।

"তবু হতে পারে আমার প্রভু আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে ভাল কিছু দান করবেন, আর এর উপরে তিনি পাঠাবেন আকাশ থেকে এক হিসেব-নিকেশ, ফলে অচিরেই এটি হয়ে যাবে ধুলোমাটির প্রান্তর, গাছপালাহীন।

أَوۡ يُصۡبِحَ مَآؤُهَا غَوۡرٗا فَلَن تَسۡتَطِيعَ لَهُۥ طَلَبٗا

আও ইউসবিহা মাউহা-গাওরন ফালান তাছতাতী‘আ লাহূতালাবা-।

অথবা অচিরেই এর পানি তলিয়ে যাবে ভূগর্ভে, তখন তুমি তা খুঁজে পেতে সমর্থ হবে না।

وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِۦ فَأَصۡبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيۡهِ عَلَىٰ مَآ أَنفَقَ فِيهَا وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَيَقُولُ يَٰلَيۡتَنِي لَمۡ أُشۡرِكۡ بِرَبِّيٓ أَحَدٗا

ওয়া উহীতাবিছামারিহী ফাআছবাহা ইউকালিলবুকাফফাইহি ‘আলা-মাআনফাকা ফীহা-ওয়াহিয়া খা-বিয়াতুন ‘আলা-‘উরূশিহা-ওয়া ইয়াকূ লুইয়া-লাইতানী লাম উশরিক বিরববীআহাদা-।

আর তার ফলফসলকে ঘেরাও করল, তারপর অচিরেই সে হাত মোচড়াতে লাগল যা সে তার উপরে খরচ করেছিল সেজন্য, আর এটি ভেঙ্গে পড়েছিল তার মাচার উপরে, আর সে বলেছিল -- "হায় আমার আফসোস! আমি যদি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও অংশী না করতাম!"

وَلَمۡ تَكُن لَّهُۥ فِئَةٞ يَنصُرُونَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَمَا كَانَ مُنتَصِرًا

ওয়ালাম তাকুল লাহূফিয়াতুইঁ ইয়ানসুরূনাহূমিন দূনিল্লা-হি ওয়ামা-ক-না মুনতাসির-।

আর আল্লাহ্‌কে ছেড়ে দিয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য কোনো ফৌজ তার জন্য ছিল না, আর সে নিজেও সাহায্য করতে সমর্থ ছিল না।

هُنَالِكَ ٱلۡوَلَٰيَةُ لِلَّهِ ٱلۡحَقِّۚ هُوَ خَيۡرٞ ثَوَابٗا وَخَيۡرٌ عُقۡبٗا

হুনা-লিকাল ওয়ালা-ইয়াতুলিল্লা-হিল হাক্কি হুওয়া খাইরুন ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন ‘উকবা-।

এই তো! অভিভাবকত্ব আল্লাহ্‌রই, যিনি সত্য। তিনিই পুরস্কারদানে শ্রেষ্ঠ আর পরিণাম নির্ধারণেও শ্রেষ্ঠ।

وَٱضۡرِبۡ لَهُم مَّثَلَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا كَمَآءٍ أَنزَلۡنَٰهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَٱخۡتَلَطَ بِهِۦ نَبَاتُ ٱلۡأَرۡضِ فَأَصۡبَحَ هَشِيمٗا تَذۡرُوهُ ٱلرِّيَٰحُۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ مُّقۡتَدِرًا

ওয়াদরিব লাহুম মাছালাল হায়া-তিদদুনইয়া-কামাইন আনঝালনা-হু মিনাছ ছামাই ফাখতালাতা বিহী নাবা-তুল আরদিফাআসবাহা হাশীমান তাযরূহুর রিয়া-হু ওয়া কানাল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িম মুকতাদির-।

আর তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা ছুঁড়ো -- এ পানির ন্যায় যা আমরা বর্ষণ করি আকাশ থেকে, তাতে পৃথিবীর গাছপালা ঘন-সন্নিবিষ্ট হয়, তারপর পরক্ষণেই তা হয়ে যায় শুকনো, বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপরেই সর্বশক্তিমান।

ٱلۡمَالُ وَٱلۡبَنُونَ زِينَةُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَٱلۡبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّـٰلِحَٰتُ خَيۡرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابٗا وَخَيۡرٌ أَمَلٗا

আলমা-লুওয়াল বানূনা ঝীনাতুল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াল বা-কিয়া-তুসসা-লিহাতুখাইরুন ‘ইনদা রব্বিকা ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন আমালা-।

ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভাসৌন্দর্য, কিন্তু স্থায়ী শুভকর্ম তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির জন্যে বেশী ভাল এবং আশা পূরণের জন্যেও অধিকতর শ্রেয়।

وَيَوۡمَ نُسَيِّرُ ٱلۡجِبَالَ وَتَرَى ٱلۡأَرۡضَ بَارِزَةٗ وَحَشَرۡنَٰهُمۡ فَلَمۡ نُغَادِرۡ مِنۡهُمۡ أَحَدٗا

ওয়া ইয়াওমা নুছাইয়িরুল জিবা-লা ওয়া তারল আরদা বা-রিঝাতাওঁ ওয়া হাশারনা-হুম ফালাম নুগা-দির মিনহুম আহাদা-।

আর সেই দিনে আমরা পাহাড়গুলো হটিয়ে দেব, আর তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি খোলা ময়দান, আর আমরা তাদের একত্রিত করব, তখন তাদের মধ্যের কোনো একজনকেও আমরা ফেলে রাখব না --

وَعُرِضُواْ عَلَىٰ رَبِّكَ صَفّٗا لَّقَدۡ جِئۡتُمُونَا كَمَا خَلَقۡنَٰكُمۡ أَوَّلَ مَرَّةِۭۚ بَلۡ زَعَمۡتُمۡ أَلَّن نَّجۡعَلَ لَكُم مَّوۡعِدٗا

ওয়া ‘উরিদূ ‘আলা-রব্বিকা সাফফাল লাকাদ জি’তুমূনা-কামা-খালাকনা-কুম আওওয়ালা মাররতিম বাল ঝা‘আমতুম আল্লান নাজ‘আলা লাকুম মাও‘ইদা-।

আর তোমার প্রভুর সামনে তাদের হাজির করা হবে সারিবদ্ধভাবে। "এখন তো আমরা তোমাদের নিয়ে এসেছি যেমন আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম প্রথমবারে, অথচ তোমরা মনে করতে যে তোমাদের জন্য আমরা কোনো ওয়াদার স্থানকাল কখনো ধার্য করব না।"

وَوُضِعَ ٱلۡكِتَٰبُ فَتَرَى ٱلۡمُجۡرِمِينَ مُشۡفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَٰوَيۡلَتَنَا مَالِ هَٰذَا ٱلۡكِتَٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةٗ وَلَا كَبِيرَةً إِلَّآ أَحۡصَىٰهَاۚ وَوَجَدُواْ مَا عَمِلُواْ حَاضِرٗاۗ وَلَا يَظۡلِمُ رَبُّكَ أَحَدٗا

ওয়া উদি‘আল কিতা-বুফাতারল মুজরিমীনা মুশফিকীনা মিম্মা-ফীহি ওয়া ইকূলূনা ইয়াওয়াইলাতানা-মা-লি হা-যাল কিতা-বি লা-ইউগা-দিরু সাগীরতাওঁ ওয়ালা-কাবীরতান ইল্লাআহসা-হা- ওয়া ওয়াজাদূমা-‘আমিলূহা-দির- ওয়ালা-ইয়াজলিমু রব্বুকা আহাদা-।

আর বইখানা ধরা হবে, তখন তুমি দেখবে -- ওতে যা আছে সেজন্য অপরাধীরা আতংকগ্রস্ত, আর তারা বলবে -- "হায় আমাদের দুর্ভোগ! এ কেমনতর গ্রন্থ! এ ছোটখাটো বাদ দেয় নি আর বড়গুলো তো নয়ই, বরং সমস্ত কিছু নথিভুক্ত করেছে!" আর তারা যা করেছে তা হাজির পাবে। আর তোমার প্রভু কোনো একজনের প্রতিও অন্যায় করেন না।

وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَـٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ كَانَ مِنَ ٱلۡجِنِّ فَفَسَقَ عَنۡ أَمۡرِ رَبِّهِۦٓۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُۥ وَذُرِّيَّتَهُۥٓ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِي وَهُمۡ لَكُمۡ عَدُوُّۢۚ بِئۡسَ لِلظَّـٰلِمِينَ بَدَلٗا

ওয়া ইযকুলনা-লিল মালাইকাতিছ জু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লাইবলীছা কানা মিনাল জিন্নি ফাফাছাকা ‘আন আমরি রব্বিহী আফাতাত্তাখিযূনাহূওয়া যুররিইইয়াতাহূআওলিয়াআ মিন দূ নী ওয়া হুম লাকুম ‘আদুওউম বি’ছা লিজ্জালিমীনা বাদালা-।

আর স্মরণ করো! আমরা ফিরিশ্‌তাদের বললাম -- "আদমের প্রতি সিজদা করো", তখন তারা সিজদা করল, ইবলিস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের মধ্যেকার, কাজেই সে তার প্রভুর আদেশের অবাধ্যাচরণ করেছিল। তবে কি তোমরা আমাকে ছেড়ে দিয়ে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তো তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় কত নিকৃষ্ট!

۞مَّآ أَشۡهَدتُّهُمۡ خَلۡقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَا خَلۡقَ أَنفُسِهِمۡ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ ٱلۡمُضِلِّينَ عَضُدٗا

মাআশহাততুহুম খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-খালকা আনফুছিহিম ওয়ামা-কুনতুমুত্তাখিযাল মুদিল্লীনা ‘আদুদা-।

মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি ওদের সাক্ষি দিতে ডাকি নি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টিকালেও নয়, আর বিপথে চালনাকারীদের আমি সহায়করূপে গ্রহণ করি না।

وَيَوۡمَ يَقُولُ نَادُواْ شُرَكَآءِيَ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُمۡ فَدَعَوۡهُمۡ فَلَمۡ يَسۡتَجِيبُواْ لَهُمۡ وَجَعَلۡنَا بَيۡنَهُم مَّوۡبِقٗا

ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূ লুনা-দূশুরকাইয়াল্লাযীনা ঝা‘আমতুম ফাদা‘আওহুম ফালাম ইয়াছতাজীবূলাহুম ওয়া জা‘আলনা-বাইনাহুম মাওবিক-।

আর সেদিন তিনি বলবেন -- "ডাকো আমার সঙ্গিসাথীদের যাদের তোমরা ভাবতে।" সুতরাং তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের প্রতি সাড়া দেবে না, আর আমরা তাদের মধ্যখানে স্থাপন করব এক ব্যবধান।

وَرَءَا ٱلۡمُجۡرِمُونَ ٱلنَّارَ فَظَنُّوٓاْ أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمۡ يَجِدُواْ عَنۡهَا مَصۡرِفٗا

ওয়া রআল মুজরিমূনান্না-র ফাজাননূআন্নাহুম মুওয়া-কি‘ঊহা-ওয়ালাম ইয়াজিদূ‘আনহা- মাসরিফা-।

আর অপরাধীরা আগুন দেখতে পাবে, আর তারা বুঝবে যে তারা নিশ্চয়ই এতে পতিত হচ্ছে, আর তা থেকে তারা কোনো পরিত্রাণ পাবে না।

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٖۚ وَكَانَ ٱلۡإِنسَٰنُ أَكۡثَرَ شَيۡءٖ جَدَلٗا

ওয়া লাকাদ সাররফনা-ফী হা-যাল কুরআ-নি লিন্না-ছি মিন কুল্লি মাছালিওঁ ওয়া কানাল ইনছা-নুআকছার শাইয়িন জাদালা-।

আর আমরা আলবৎ এই কুরআনে লোকেদের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিতর্কপ্রিয়।

وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤۡمِنُوٓاْ إِذۡ جَآءَهُمُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّهُمۡ إِلَّآ أَن تَأۡتِيَهُمۡ سُنَّةُ ٱلۡأَوَّلِينَ أَوۡ يَأۡتِيَهُمُ ٱلۡعَذَابُ قُبُلٗا

ওয়ামা-মানা‘আন্না-ছা আইঁ ইউ’মিনূ ইয জাআহুমুল হুদা-ওয়াইয়াছতাগফিরূরব্বাহুম ইল্লাআন তা’তিয়াহুম ছুন্নাতুল আওওয়ালীনা আও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বুকুবুলা-।

আর এমন কিছু মানুষকে বাধা দেয় না বিশ্বাস স্থাপন করতে যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে এবং তাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও, এ ভিন্ন যে তাদের কাছেও আসুক পূর্ববর্তীদের ঘটনাবলী, অথবা আগেভাগেই তাদের উপরে শাস্তিটা যেন এসে পড়ে।

وَمَا نُرۡسِلُ ٱلۡمُرۡسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَۚ وَيُجَٰدِلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِٱلۡبَٰطِلِ لِيُدۡحِضُواْ بِهِ ٱلۡحَقَّۖ وَٱتَّخَذُوٓاْ ءَايَٰتِي وَمَآ أُنذِرُواْ هُزُوٗا

ওয়ামা-নুরছিলুল মুরছালীনা ইল্লা-মুবাশশিরীনা ওয়া মুনযিরীনা ওয়া ইউজা-দিলুল্লাযীনা কাফারূবিলবা-তিলি লিইউদহিদূ বিহিল হাক্কা ওয়াত্তাখাযূআ-য়া-তী ওয়ামাউনযিরূ হুঝুওয়া-।

আর আমরা রসূলগণকে পাঠাই না সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে ভিন্ন, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা মিথ্যার সাহায্যে বিতর্ক করে যেন তার দ্বারা তারা সত্যকে ব্যর্থ করতে পারে, আর আমার বাণীসমূহ ও যা দিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে সে-সবকে তারা বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করে থাকে।

وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦ فَأَعۡرَضَ عَنۡهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتۡ يَدَاهُۚ إِنَّا جَعَلۡنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ أَكِنَّةً أَن يَفۡقَهُوهُ وَفِيٓ ءَاذَانِهِمۡ وَقۡرٗاۖ وَإِن تَدۡعُهُمۡ إِلَى ٱلۡهُدَىٰ فَلَن يَهۡتَدُوٓاْ إِذًا أَبَدٗا

ওয়া মান আজলামুমিম্মান যুক্কির বিআ-য়া-তি রব্বিহী ফাআ‘রদা‘আনহা-ওয়া নাছিয়া মা-কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ইন্না-জা‘আলনা-‘আলা-কুলূবিহিম আকিন্নাতান আইঁ ইয়াফকাহূহু ওয়া ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরওঁ ওয়া ইন তাদ‘উহুম ইলাল হুদা-ফালাইঁ ইয়াহতাদূ ইযান আবাদা-।

আর কে বেশী অন্যায়কারী তার চাইতে যাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তার প্রভুর বাণীসমূহ, কিন্তু সে তা থেকে ফিরে যায় আর ভুলে যায় তার হাত দুখানা কী আগবাড়িয়েছিল? নিঃসন্দেহ আমরা তাদের হৃদয়ের উপরে আবরণ স্থাপন ক রেছি পাছে তারা এটি বুঝতে পারে, আর তাদের কানের ভেতরে বধিরতা। আর তুমি যদি তাদের সৎপথের প্রতি আহান করো তারা সেক্ষেত্রে কখনো সৎপথের দিকে চলবে না।

وَرَبُّكَ ٱلۡغَفُورُ ذُو ٱلرَّحۡمَةِۖ لَوۡ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُواْ لَعَجَّلَ لَهُمُ ٱلۡعَذَابَۚ بَل لَّهُم مَّوۡعِدٞ لَّن يَجِدُواْ مِن دُونِهِۦ مَوۡئِلٗا

ওয়া রব্বুকাল গাফূরু যুর রহমাতি লাও ইউআ-খিযুহুম বিমা-কাছাবূলা‘আজ্জালা লাহুমুল ‘আযা-বা বাল্লাহুম মাও‘ইদুল লাইঁ ইয়াজিদূমিন দূ নিহী মাওইলা-।

আর তোমরা প্রভু পরিত্রাণকারী, করুণার আধার। তারা যা অর্জন করেছে সেজন্য তিনি যদি তাদের পাকড়াও করতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই তাদের জন্য শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন। কিন্তু তাদের জন্য একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে যার তেকে তারা কোনো পরিত্রাণ খুঁজে পাবে না।

وَتِلۡكَ ٱلۡقُرَىٰٓ أَهۡلَكۡنَٰهُمۡ لَمَّا ظَلَمُواْ وَجَعَلۡنَا لِمَهۡلِكِهِم مَّوۡعِدٗا

ওয়া তিলকাল কুর আহলাকনা-হুম লাম্মা-জালামূওয়া জা‘আলনা- লিমাহলিকিহিম মাও‘ইদা-।

আর ঐ সব জনপদ -- আমরা ওদের ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা অন্যায়াচরণ করেছিল, আর ওদের ধ্বংসের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় স্থির করেছিলাম।

وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبۡرَحُ حَتَّىٰٓ أَبۡلُغَ مَجۡمَعَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ أَوۡ أَمۡضِيَ حُقُبٗا

ওয়া ইযক-লা মূছা-লিফাতা-হুলাআবরহুহাত্তাআবলুগা মাজমা‘আল বাহরইনি আও আমদিয়া হুকুবা-।

আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর ভৃত্যকে বললেন -- "আমি থামব না যে পর্যন্ত না আমি দুই নদীর সঙ্গমস্থলে পৌঁছি, নতুবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।"

فَلَمَّا بَلَغَا مَجۡمَعَ بَيۡنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَٱتَّخَذَ سَبِيلَهُۥ فِي ٱلۡبَحۡرِ سَرَبٗا

ফালাম্মা-বালাগা-মাজমা‘আ বাইনিহিমা-নাছিয়া-হুতাহুমা-ফাত্তাখাযা ছাবীলাহূফিল বাহরি ছারবা-।

এরপর যখন উভয়ে এ দুইয়ের সঙ্গমস্থলে পৌঁছলেন, তাঁরা তাঁদের মাছের কথা ভুলে গেলেন, কাজেই ফাঁক পেয়ে এটি নদীতে তার পথ ধরল।

فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَىٰهُ ءَاتِنَا غَدَآءَنَا لَقَدۡ لَقِينَا مِن سَفَرِنَا هَٰذَا نَصَبٗا

ফালাম্মা- জা-ওয়াঝা-ক-লা লিফাতা-হুআ-তিনা- গাদাআনা-লাকাদ লাকীনা মিন ছাফারিনা-হা-যা-নাসাবা-।

তাঁরা যখন এগিয়ে গেলেন তখন তিনি তাঁর ভৃত্যকে বললেন, "আমাদের সকালের খাবার আমাদের জন্য নিয়ে এস, আমাদের এই সফর থেকে আমরা আলবৎ পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।"

قَالَ أَرَءَيۡتَ إِذۡ أَوَيۡنَآ إِلَى ٱلصَّخۡرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ ٱلۡحُوتَ وَمَآ أَنسَىٰنِيهُ إِلَّا ٱلشَّيۡطَٰنُ أَنۡ أَذۡكُرَهُۥۚ وَٱتَّخَذَ سَبِيلَهُۥ فِي ٱلۡبَحۡرِ عَجَبٗا

ক-লা আরআইতা ইয আওয়াইনা ইলাসসাখরতি ফাইন্নী নাছীতুল হূতা ওয়ামা আনছা-নীহু ইল্লাশশাইতা-নুআন আযকুরহূ ওয়াত্তাখাযা ছাবীলাহূফিল বাহরি ‘আজাবা-।

সে বললে -- "আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন পাথরের উপরে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম, আর এটি শয়তান ছাড়া আর কেউ নয় যে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল ওর কথা উল্লেখ করতে? আর সেটি নদীতে তার পথ ধরেছিল, আশ্চর্য ব্যাপার!"

قَالَ ذَٰلِكَ مَا كُنَّا نَبۡغِۚ فَٱرۡتَدَّا عَلَىٰٓ ءَاثَارِهِمَا قَصَصٗا

ক-লা যা-লিকা মা-কুন্না-নাবগি ফারতাদ্দা-‘আলাআ-ছা-রিহিমা-কাসাসা-।

তিনি বললেন -- "এটিই আমরা চেয়েছিলাম।" সুতরাং তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন।

فَوَجَدَا عَبۡدٗا مِّنۡ عِبَادِنَآ ءَاتَيۡنَٰهُ رَحۡمَةٗ مِّنۡ عِندِنَا وَعَلَّمۡنَٰهُ مِن لَّدُنَّا عِلۡمٗا

ফাওয়াজাদা- ‘আবদাম মিন ইবা-দিনা আ-তাইনা-হুরহমাতাম মিন ‘ইনদিনা ওয়া ‘আল্লামনা-হু মিল্লাদুন্না-‘ইল মা-।

তারপর তাঁরা আমাদের বান্দাদের মধ্যের একজন বান্দাকে পেলেন যাকে আমরা আমাদের তরফ থেকে করুণা দান করেছিলাম এবং যাঁকে আমাদের তরফ থেকে জ্ঞান শিখিয়েছিলাম।

قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلۡ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدٗا

ক-লা লাহূমূছা-হাল আত্তাবি‘উকা ‘আলাআন তু‘আলিলমানি মিম্মা-‘উলিলমতা রুশদা-।

মূসা তাঁকে বললেন -- "আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই শর্তে যে সঠিক পথের সম্পর্কে যা আপনাকে শেখানো হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শেখাবেন?"

قَالَ إِنَّكَ لَن تَسۡتَطِيعَ مَعِيَ صَبۡرٗا

ক-লা ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবর-।

তিনি বললেন -- "তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ ক’রে থাকতে কখনো সক্ষম হবে না।

وَكَيۡفَ تَصۡبِرُ عَلَىٰ مَا لَمۡ تُحِطۡ بِهِۦ خُبۡرٗا

ওয়া কাইফা তাসবিরু ‘আলা-মা-লাম তুহিতবিহী খুবর-।

আর তুমি কেমন করে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে সেই বিষয়ে যে-সন্বন্ধে তোমার কোনো খোঁজখবর থাকে না?

قَالَ سَتَجِدُنِيٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ صَابِرٗا وَلَآ أَعۡصِي لَكَ أَمۡرٗا

ক-লা ছাতাজিদুনীইন শাআল্লা-হু সা-বিরওঁ ওয়ালাআ‘সী লাকা আমর-।

তিনি বললেন -- "ইন্ শা আল্লাহ্ আপনি আমাকে এখনি ধৈর্যশীল পবেন, এবং আমি কোনো বিষয়ে আপনাকে অমান্য করব না।"

قَالَ فَإِنِ ٱتَّبَعۡتَنِي فَلَا تَسۡـَٔلۡنِي عَن شَيۡءٍ حَتَّىٰٓ أُحۡدِثَ لَكَ مِنۡهُ ذِكۡرٗا

ক-লা ফাইনিত তাবা‘তানী ফালা-তাছআলনী ‘আন শাইয়িন হাত্তাউহদিছালাকামিনহু যিকর-।

তিনি বললেন -- "বেশ, তুমি যদি আমার অনুসরণ করতে চাও তা’হলে তুমি আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবে না যে পর্যন্ত না আমি সে বিষয়ে মন্তব্য তোমার কাছে প্রকাশ করি।"

فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَا رَكِبَا فِي ٱلسَّفِينَةِ خَرَقَهَاۖ قَالَ أَخَرَقۡتَهَا لِتُغۡرِقَ أَهۡلَهَا لَقَدۡ جِئۡتَ شَيۡـًٔا إِمۡرٗا

ফানতালাক-হাত্তাইযা-রকিবা-ফিছছাফীনাতি খারকাহা- ক-লা আখারকতাহা-লিতুগরিকা আহলাহা- লাকাদ জি’তা শাইআন ইমর-।

এর পর তাঁরা দুজন যাত্রা করলেন, পরে যখন তাঁরা একটি নৌকায় চড়লেন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। তিনি বললেন, "আপনি কি এতে ছিদ্র করলেন এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেবার জন্যে? আপনি তো এক অদ্ভুত কাজ করলেন?"

قَالَ أَلَمۡ أَقُلۡ إِنَّكَ لَن تَسۡتَطِيعَ مَعِيَ صَبۡرٗا

ক-লা আলাম আকুল ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবর-।

তিনি বললেন -- "আমি কি বলি নি যে তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবে না?"

قَالَ لَا تُؤَاخِذۡنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرۡهِقۡنِي مِنۡ أَمۡرِي عُسۡرٗا

ক-লা লা-তুআখিযনী বিমা -নাছীতুওয়ালা-তুরহিকনী মিন আমরী ‘উছর-।

তিনি বললেন -- "আমার অপরাধ নেবেন না যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম সেজন্য, আর আমার ব্যাপারে আপনি আমার প্রতি কঠোর হবেন না।"

فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَا لَقِيَا غُلَٰمٗا فَقَتَلَهُۥ قَالَ أَقَتَلۡتَ نَفۡسٗا زَكِيَّةَۢ بِغَيۡرِ نَفۡسٖ لَّقَدۡ جِئۡتَ شَيۡـٔٗا نُّكۡرٗا

ফানতালাক-হাত্তাইযা-লাকিয়া-গুলা-মান ফাকাতালাহূক-লা আকাতালতা নাফছান ঝাকিইইয়াতাম বিগাইরি নাফছিল লাকাদ জি’তা শাইআন নুকর-।

এরপর তাঁরা দুজনে চলতে লাগলেন, পরে যখন তাঁরা একটি বালকের সাক্ষাৎ পেলেন তিনি তাকে মেরে ফেললেন। তিনি বললেন -- "আপনি কি একজন নির্দোষ লোককে হত্যা করলেন অন্য লোককে ছাড়াই? আপনি তো এক ভয়ানক কাজ করে ফেললেন?"

۞قَالَ أَلَمۡ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسۡتَطِيعَ مَعِيَ صَبۡرٗا

ক- লা আলাম আকুল্লাকা ইন্নাকা লান তাছতাতী‘আ মা‘ইয়া সাবর-।

তিনি বললেন -- "আমি কি তোমাকে বলি নি যে তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবে না?"

قَالَ إِن سَأَلۡتُكَ عَن شَيۡءِۭ بَعۡدَهَا فَلَا تُصَٰحِبۡنِيۖ قَدۡ بَلَغۡتَ مِن لَّدُنِّي عُذۡرٗا

ক-লা ইন ছাআলতুকা ‘আন শাইয়িম বা‘দাহা-ফালা-তুসা-হিবনী কাদ বালাগতা মিল্লাদুন্নী ‘উযর-।

তিনি বললেন -- "আমি যদি এর পরে কোনো ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে নেবেন না, আপনি অবশ্যই আমার সন্বন্ধে এক ওজর-আপত্তি পেয়ে যাবেন।"

فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَيَآ أَهۡلَ قَرۡيَةٍ ٱسۡتَطۡعَمَآ أَهۡلَهَا فَأَبَوۡاْ أَن يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارٗا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ فَأَقَامَهُۥۖ قَالَ لَوۡ شِئۡتَ لَتَّخَذۡتَ عَلَيۡهِ أَجۡرٗا

ফানতালাক-হাত্তাইযাআতাইয়াআহলা কারইয়াতিনিছতাত‘আমা আহলাহা-ফাআবাওঁআইঁ ইউদাইয়িফূহুমা-ফাওয়াজাদা-ফীহা-জিদা-রইঁ ইউরীদুআইঁ ইয়ানকাদ্দা ফাআক-মাহূ ক-লা লাও শি’তা লাত্তাখাযতা ‘আলাইহি আজর-।

তারপর তাঁরা দুজন চলতে লাগলেন যে পর্যন্ত না তাঁরা এসে পৌঁছলেন এক শহরের অধিবাসীদের কাছে, তাঁরা এর লোকদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা এ দুজনের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। তারপর তাঁরা তাতে পেয়ে গেলেন একটি দেয়াল যা পড়ে যাবার উপক্রম করছিল, কাজেই তিনি তা খাড়া করে দিলেন। তিনি বললেন -- "আপনি যদি চাইতেন তবে এর জন্যে অবশ্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।"

قَالَ هَٰذَا فِرَاقُ بَيۡنِي وَبَيۡنِكَۚ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأۡوِيلِ مَا لَمۡ تَسۡتَطِع عَّلَيۡهِ صَبۡرًا

ক-লা হা-যা-ফির-কুবাইনী ওয়া বাইনিকা ছাউনাব্বিউকা বিতা’বিলি মালাম তাছতাতি‘ ‘আলাইহি সাব র-।

তিনি বললেন -- "এইবার আমার মধ্যে ও তোমার মধ্যে ছাড়াছাড়ি। আমি এখন জানিয়ে দিচ্ছি তাৎপর্য যে সন্বন্ধে তুমি ধৈর্য ধরতে পারছিলে না।

أَمَّا ٱلسَّفِينَةُ فَكَانَتۡ لِمَسَٰكِينَ يَعۡمَلُونَ فِي ٱلۡبَحۡرِ فَأَرَدتُّ أَنۡ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَآءَهُم مَّلِكٞ يَأۡخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصۡبٗا

আম্মাছ ছাফীনাতুফাক-নাত লিমাছা-কীনা ইয়া‘মালূনা ফিল বাহরি ফাআরততুআন আ‘ঈবাহা-ওয়া ক-না ওয়ারআহুম মালিকুইঁ ইয়া‘খুযুকুল্লা ছাফীনাতিন গাসবা-।

"নৌকো সন্বন্ধে -- এ ছিল কয়েকজন গরীব লোকের যারা নদীতে কাজ করত, আর আমি এটিকে খুতঁময় করতে চেয়েছিলাম, কেননা তাদের পেছনে ছিল এক রাজা যে প্রত্যেক নৌকো জোর ক’রে নিয়ে নিচ্ছিল।

وَأَمَّا ٱلۡغُلَٰمُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤۡمِنَيۡنِ فَخَشِينَآ أَن يُرۡهِقَهُمَا طُغۡيَٰنٗا وَكُفۡرٗا

ওয়া আম্মাল গুলা-মুফাক-না আবাওয়া-হুমু’মিনাইনি ফাখাশীনাআইঁ ইউরহিকাহুমাতুগইয়া-নাওঁ ওয়া কুফর-।

"আর বালকটি সন্বন্ধে -- এর পিতামাতা ছিল মুমিন, আর আমরা আশংকা করছিলাম যে সে বিদ্রোহাচরণ ও অবিশ্বাস পোষণের ফলে তাদের ব্যতিব্যস্ত করবে,

فَأَرَدۡنَآ أَن يُبۡدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيۡرٗا مِّنۡهُ زَكَوٰةٗ وَأَقۡرَبَ رُحۡمٗا

ফাআরদনাআইঁ ইউবদিলাহুমা- রব্বুহুমা- খাইরম মিনহু ঝাক-তাওঁ ওয়া আকারবা রুহমা-।

"কাজেই আমরা চেয়েছিলাম তাদের প্রভু যেন তাদের জন্য বদলে দেন পবিত্রতায় এর চেয়ে ভাল এবং ভক্তি-ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।

وَأَمَّا ٱلۡجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَٰمَيۡنِ يَتِيمَيۡنِ فِي ٱلۡمَدِينَةِ وَكَانَ تَحۡتَهُۥ كَنزٞ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَٰلِحٗا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبۡلُغَآ أَشُدَّهُمَا وَيَسۡتَخۡرِجَا كَنزَهُمَا رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ وَمَا فَعَلۡتُهُۥ عَنۡ أَمۡرِيۚ ذَٰلِكَ تَأۡوِيلُ مَا لَمۡ تَسۡطِع عَّلَيۡهِ صَبۡرٗا

ওয়া আম্মাল জিদা-রু ফাক-না লিগুলা-মাইনি ইয়াতীমাইনি ফিল মাদীনাতি ওয়া ক-না তাহতাহূকানঝুল্লাহুমা-ওয়া ক-না আবূহুমা-সা-লিহান ফাআর-দা রব্বুকা আইঁ ইয়াবলুগাআশুদ্দা হুমা-ওয়া ইয়াছতাখরিজা-কানঝাহুমা- রহমাতাম মির রব্বিকা ওয়ামা-ফা‘আলতুহূ‘আন আমরী যা-লিকা তা’বীলুমা-লাম তাছতি‘ ‘আলাইহি সাবর-।

আর দেয়াল সন্বন্ধে -- এ ছিল শহরের দুইজন এতিম বালকের, আর তার তলায় ছিল তাদের উভয়ের ধনভান্ডার, আর তাদের পিতা ছিল সজ্জন। কাজেই তোমার প্রভু চেয়েছিলেন যে তারা যেন তাদের সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয় এবং তাদের ধনভান্ডার বের করে আনে তোমার প্রভুর তরফ থেকে করুণা হিসেবে, আর আমি এটি করি নি আমার নিজের ইচ্ছায়। এই হচ্ছে তার তাৎপর্য যে সন্বন্ধে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পার নি।

وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَن ذِي ٱلۡقَرۡنَيۡنِۖ قُلۡ سَأَتۡلُواْ عَلَيۡكُم مِّنۡهُ ذِكۡرًا

ওয়া ইয়াছআলূনাকা আন যিল কারনাইনি কুল ছাআতলূ‘আলাইকুম মিনহু যিকর-।

আর তারা তোমাকে যুল্‌ক্কারনাইন সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো -- "আমি এখনি তোমাদের কাছে তাঁর সন্বন্ধে কাহিনী বর্ণনা করব।"

إِنَّا مَكَّنَّا لَهُۥ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَءَاتَيۡنَٰهُ مِن كُلِّ شَيۡءٖ سَبَبٗا

ইন্না-মাক্কান্না-লাহূফিল আরদিওয়া আ-তাইনা-হু মিন কুল্লি শাইয়িন ছাবাবা-।

নিঃসন্দেহ আমরা তাঁকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং তাঁকে দিয়েছিলাম প্রত্যেক বিষয়ের অনুপ্রবেশ ক্ষমতা।

فَأَتۡبَعَ سَبَبًا

ফাআতবা‘আ ছাবাবা-।

কাজেই তিনি এক পথ অনুসরণ করলেন।

حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ مَغۡرِبَ ٱلشَّمۡسِ وَجَدَهَا تَغۡرُبُ فِي عَيۡنٍ حَمِئَةٖ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوۡمٗاۖ قُلۡنَا يَٰذَا ٱلۡقَرۡنَيۡنِ إِمَّآ أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّآ أَن تَتَّخِذَ فِيهِمۡ حُسۡنٗا

হাত্তাইযা-বালাগা মাগরিবাশ শামছি ওয়া জাদাহা-তাগরুবুফী ‘আইনিন হামিআতিওঁ ওয়া ওয়াজাদা ‘ইনদাহা-কাওমান কুলনা-ইয়া-যাল কারনাইনি ইম্মাআন তু‘আযযিবা ওয়া ইম্মাআন তাত্তাখিযা ফীহিম হুছনা-।

পরে যখন তিনি সূর্য অস্ত যাবার স্থানে পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন এক কালো জলাশয়ে অস্তগমন করছে, আর তার কাছে পেলেন এক অধিবাসী। আমরা বললাম -- "হে যুল্‌ক্কারনাইন, তুমি শাস্তি দিতে পার অথবা এদের সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।"

قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوۡفَ نُعَذِّبُهُۥ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِۦ فَيُعَذِّبُهُۥ عَذَابٗا نُّكۡرٗا

ক-লা আম্মা-মান জালামা ফাছাওফা নু‘আযযি বুহূ ছু ম্মা ইউরদ্দু ইলা-রব্বিহী ফাইউ‘আযযি বুহূ‘আযা-বান নুকর-।

তিনি বললেন -- "যে কেউ অন্যায় করবে আমরা অচিরেই তাকে শাস্তি দেব, তারপর তাকে ফিরিয়ে আনব তার প্রভুর কাছে, তখন তিনি তাকে শাস্তি দেবেন কঠোর শাস্তিতে।

وَأَمَّا مَنۡ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَلَهُۥ جَزَآءً ٱلۡحُسۡنَىٰۖ وَسَنَقُولُ لَهُۥ مِنۡ أَمۡرِنَا يُسۡرٗا

ওয়া আম্মা-মান আ-মানা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফালাহূজাঝাআনিল হুছনা-,ওয়া ছানাকূলুলাহূমিন আমরিনা-ইউছর-।

আর যে কেউ বিশ্বাস করবে ও সৎকাজ করবে, তার জন্যে তবে রয়েছে উত্তম প্রতিদান এবং তার প্রতি আমাদের আচার-আচরণে মোলায়েম কথা বলব।

ثُمَّ أَتۡبَعَ سَبَبًا

ছুম্মা আতবা‘আ ছাবাবা-।

তারপর তিনি এক পথ ধরলেন।

حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ مَطۡلِعَ ٱلشَّمۡسِ وَجَدَهَا تَطۡلُعُ عَلَىٰ قَوۡمٖ لَّمۡ نَجۡعَل لَّهُم مِّن دُونِهَا سِتۡرٗا

হাত্তাইযা-বালাগা মাতলি‘আশশামছি ওয়াজাদাহা-তাতলু‘উ ‘আলা-কাওমিল লাম নাজ‘আল লাহুম মিন দূনিহা-ছিতর-।

পরে যখন তিনি সূর্য উদয় হওয়ার যায়গায় পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন উদয় হচ্ছে এক অধিবাসীর উপরে যাদের জন্য আমরা এর থেকে কোনো আবরণ বানাই নি, --

كَذَٰلِكَۖ وَقَدۡ أَحَطۡنَا بِمَا لَدَيۡهِ خُبۡرٗا

কাযা-লিকা ওয়া কাদ আহাতনা-বিমা-লাদাইহি খুবর

এইভাবে। আর তাঁর ব্যাপারে সব খবর আমরা জানতাম।

ثُمَّ أَتۡبَعَ سَبَبًا

ছু ম্মা আতবা‘আ ছাবাবা-।

তারপর তিনি এক পথ ধরলেন।

حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ بَيۡنَ ٱلسَّدَّيۡنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوۡمٗا لَّا يَكَادُونَ يَفۡقَهُونَ قَوۡلٗا

হাত্তাইযা-বালাগা বাইনাছছাদ্দাইনি ওয়াজাদা মিন দূনিহিমা-কাওমাল লা-ইয়াক-দূনা ইয়াফকাহূনা কাওলা-।

পরে যখন তিনি দুই পর্বত-প্রাচীরের মধ্যে পৌঁছলেন তখন এ দুইটির মধ্যাঞ্চলে তিনি এক সম্প্রদায়কে পেলেন যারা কথা কিছুই বুঝতে পারত না।

قَالُواْ يَٰذَا ٱلۡقَرۡنَيۡنِ إِنَّ يَأۡجُوجَ وَمَأۡجُوجَ مُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَهَلۡ نَجۡعَلُ لَكَ خَرۡجًا عَلَىٰٓ أَن تَجۡعَلَ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَهُمۡ سَدّٗا

ক-লূইয়া-যাল কারনাইনি ইন্না ইয়া’জূজা ওয়া মা’জূজা মুফছিদূনা ফিল আরদি ফাহাল নাজ‘আলুলাকা খারজান ‘আলাআন তাজ‘আলা বাইনানা-ওয়া বাইনাহুম ছাদ্দা-।

তারা বললে -- "হে যুল্‌ক্কারনাইন, নিঃসন্দেহ ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, আমরা কি তবে আপনাকে কর দেব এই শর্তে যে আপনি আমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর বানিয়ে দেবেন?"

قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيۡرٞ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجۡعَلۡ بَيۡنَكُمۡ وَبَيۡنَهُمۡ رَدۡمًا

ক-লা মা-মাকান্নী ফীহি রববী খাইরুন ফাআ‘ঈনূনী বিকুওওয়াতিন আজ‘আল বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম রদমা-।

তিনি বললেন -- "আমার প্রভু যাতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা আরো উৎকৃষ্ট, সুতরাং তোমরা আমাকে কায়িক-শ্রম দিয়ে সাহায্য কর, আমি তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক মজবুত দেয়াল তৈরি করে দেব।

ءَاتُونِي زُبَرَ ٱلۡحَدِيدِۖ حَتَّىٰٓ إِذَا سَاوَىٰ بَيۡنَ ٱلصَّدَفَيۡنِ قَالَ ٱنفُخُواْۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَعَلَهُۥ نَارٗا قَالَ ءَاتُونِيٓ أُفۡرِغۡ عَلَيۡهِ قِطۡرٗا

আ-তূনী ঝুবারল হাদীদি হাত্তাইযা-ছা-ওয়া-বাইনাসসাদাফাইনি ক-লানফুখূ হাত্তাইযা-জা‘আলাহূনা-রন ক-লা আ-তূনীউফরিগ ‘আলাইহি কিতর-।

"আমাদের কাছে তোমরা লোহার টুকরোগুলো নিয়ে এস।" অতঃপর যখন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা তিনি পূর্ণ করলেন তখন বললেন -- "হাপরে দম দিতে থাক।" তারপর যখন তা আগুন বানিয়ে তুললো তখন তিনি বললেন -- "আমার কাছে গলিত তামা নিয়ে এস আমি এর উপরে ঢেলে দেব।

فَمَا ٱسۡطَٰعُوٓاْ أَن يَظۡهَرُوهُ وَمَا ٱسۡتَطَٰعُواْ لَهُۥ نَقۡبٗا

ফামাছতা‘ঊআইঁ ইয়াজহারূহু ওয়া মাছতাতা-‘ঊ লাহূনাকবা-।

সুতরাং তারা এটি ডিঙোতে সক্ষম হবে না, আর তারা এটি ভেদ করতেও পারবে না।

قَالَ هَٰذَا رَحۡمَةٞ مِّن رَّبِّيۖ فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ رَبِّي جَعَلَهُۥ دَكَّآءَۖ وَكَانَ وَعۡدُ رَبِّي حَقّٗا

ক-লা হা-যা-রহমাতুম মির রববী ফাইযা-জাআ ওয়া‘দুরববী জা‘আলাহূ দাক্কাআ ওয়া ক-না ওয়া‘দুরববী হাক্ক-।

তিনি বললেন -- "এ আমার প্রভুর তরফ থেকে অনুগ্রহ, কিন্তু যখন আমার প্রভুর ওয়াদা এসে যাবে তখন তিনি এটিকে টুকরো- টুকরো করে দেবেন, আর আমার প্রভুর ওয়াদা চিরসত্য।"

۞وَتَرَكۡنَا بَعۡضَهُمۡ يَوۡمَئِذٖ يَمُوجُ فِي بَعۡضٖۖ وَنُفِخَ فِي ٱلصُّورِ فَجَمَعۡنَٰهُمۡ جَمۡعٗا

ওয়া তারকনা- বা‘দাহুম ইয়াওমাইযিইঁ ইয়ামূজুফী বা‘দিওঁ ওয়া নুফিখা ফিসসূরি ফাজামা‘না-হুম জাম‘আ-।

আর সেই সময়ে আমরা তাদের এক দলকে অন্য দলের সাথে যুদ্ধাভিযানে ছেড়ে দেব, আর শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন আমরা তাদের জমায়েৎ করব এক সমাবেশে।

وَعَرَضۡنَا جَهَنَّمَ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡكَٰفِرِينَ عَرۡضًا

ওয়া ‘আরদনা-জাহান্নামা ইয়াওমাইযিল লিলক-ফিরীনা ‘আরদা-।

আর সেই সময়ে আমরা জাহান্নামকে বিছিয়ে দেব বিস্তীর্ণভাবে অবিশ্বাসীদের জন্য, --

ٱلَّذِينَ كَانَتۡ أَعۡيُنُهُمۡ فِي غِطَآءٍ عَن ذِكۡرِي وَكَانُواْ لَا يَسۡتَطِيعُونَ سَمۡعًا

আল্লাযীনা ক-নাত আ‘ইউনুহুম ফী গিতাইন ‘আন যিকরী ওয়া ক-নূলা-ইয়াছতাতী‘ঊনা ছাম‘আ-।

যাদের চোখ ছিল আমার স্মারক সন্বন্ধে পর্দার আড়ালে আর যারা শুনতেও ছিল অপারগ।

أَفَحَسِبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَن يَتَّخِذُواْ عِبَادِي مِن دُونِيٓ أَوۡلِيَآءَۚ إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا جَهَنَّمَ لِلۡكَٰفِرِينَ نُزُلٗا

আফাহাছিবাল্লাযীনা কাফারূআইঁ ইয়াত্তাখিযূ‘ইবা-দী মিন দূ নীআওলিয়াআ ইন্না আ‘তাদনা-জাহান্নামা লিলক-ফিরীনা নুঝুলা-।

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা কি ভাবে যে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার বান্দাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করতে পারে? নিঃসন্দেহ আমরা জাহান্নামকে তৈরী করেছি অবিশ্বাসীদের জন্য অভ্যর্থনাস্বরূপ!

قُلۡ هَلۡ نُنَبِّئُكُم بِٱلۡأَخۡسَرِينَ أَعۡمَٰلًا

কুল হাল নুনাব্বিউকুম বিলআখছারীনা আ‘মা-লা-।

বলো -- "আমরা কি তোমাদের জানিয়ে দেব কারা কর্মক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?"

ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعۡيُهُمۡ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَهُمۡ يَحۡسَبُونَ أَنَّهُمۡ يُحۡسِنُونَ صُنۡعًا

আল্লাযীনা দাল্লা ছা‘ইউহুম ফিল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াহুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহছিনূনা সুন‘আ-।

এরাই তো এই দুনিয়ার জীবনে তাদের প্রচেষ্টা পন্ড করছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা তো বেশ ভালো উৎপাদন করছে।

أُوْلَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمۡ وَلِقَآئِهِۦ فَحَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فَلَا نُقِيمُ لَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَزۡنٗا

উলাইকাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তি রব্বিহিম ওয়ালিকাইহী ফাহাবিতাত আ‘মালুহুম ফালা-নুকীমুলাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়াঝনা-।

এরাই তারা যারা অবিশ্বাস করে তাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে, ফলে তাদের ক্রিয়াকর্ম ব্যর্থ হয়ে যায়, সুতরাং তাদের জন্য আমরা কিয়ামতের দিনে কোনো দাঁড়িপাল্লা খাড়া করব না।

ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُمۡ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُواْ وَٱتَّخَذُوٓاْ ءَايَٰتِي وَرُسُلِي هُزُوًا

যা-লিকা জাঝাউহুম জাহান্নামুবিমা-কাফারূওয়াত্তাখাযূআ-য়া-তী ওয়ারুছুলী হুঝুওয়া-।

এটাই তো, -- তাদের প্রাপ্য হচ্ছে জাহান্নাম যেহেতু তারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল এবং আমার নির্দেশাবলী ও আমার রসূলগণকে তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল।

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ كَانَتۡ لَهُمۡ جَنَّـٰتُ ٱلۡفِرۡدَوۡسِ نُزُلًا

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ক-নাত লাহুম জান্না-তুল ফিরদাওছি নুঝুলা-।

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগান অভ্যর্থনার কারণে, --

خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يَبۡغُونَ عَنۡهَا حِوَلٗا

খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আনহা-হিওয়ালা-।

তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে, সেখান থেকে কোনো পরিবর্তন তারা চাইবে না।

قُل لَّوۡ كَانَ ٱلۡبَحۡرُ مِدَادٗا لِّكَلِمَٰتِ رَبِّي لَنَفِدَ ٱلۡبَحۡرُ قَبۡلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَٰتُ رَبِّي وَلَوۡ جِئۡنَا بِمِثۡلِهِۦ مَدَدٗا

কুল লাও ক-নাল বাহরু মিদা-দাল লিকালিমা-তি রববী লানাফিদাল বাহরু কাবলা আন তানফাদা কালিমা-তুরববী ওয়ালাও জি’না-বিমিছলিহী মাদাদা-।

বলো -- "সাগর যদি কালি হয়ে যেত আমার প্রভুর কলিমাহ্‌র জন্য তবে নিশ্চয়ই সাগর নিঃশেষ হয়ে যেত আমার প্রভুর কলিমাহ্ শেষ হওয়ার আগে", -- যদিও বা আমরা তার মতো আরেকটি আনতাম যোগ করতে।

قُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٞ مِّثۡلُكُمۡ يُوحَىٰٓ إِلَيَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ فَمَن كَانَ يَرۡجُواْ لِقَآءَ رَبِّهِۦ فَلۡيَعۡمَلۡ عَمَلٗا صَٰلِحٗا وَلَا يُشۡرِكۡ بِعِبَادَةِ رَبِّهِۦٓ أَحَدَۢا

কুল ইন্নামাআনা-বাশারুম মিছলুকুম ইউহাইলাইইয়া আন্নামাইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুন ফামান ক-না ইয়ারজূলিকাআ রব্বিহী ফালইয়া‘মাল ‘আমালান সালিহাওঁ ওয়ালা-ইউশরিক বি‘ইবা-দাতি রব্বিহীআহাদা-।

বলো -- "আমি নিঃসন্দেহ তোমাদেরই মতন একজন মানুষ, আমার কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে যে নিঃসন্দেহ তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, সেজন্য যে কেউ তার প্রভুর সঙ্গে মুলাকাতের কামনা করে সে তবে সৎকর্ম করুক এবং তার প্রভুর উপাসনায় অন্য কাউকেও শরীক না করুক।"