وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤۡمِنُوٓاْ إِذۡ جَآءَهُمُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّهُمۡ إِلَّآ أَن تَأۡتِيَهُمۡ سُنَّةُ ٱلۡأَوَّلِينَ أَوۡ يَأۡتِيَهُمُ ٱلۡعَذَابُ قُبُلٗا

ওয়ামা-মানা‘আন্না-ছা আইঁ ইউ’মিনূ ইয জাআহুমুল হুদা-ওয়াইয়াছতাগফিরূরব্বাহুম ইল্লাআন তা’তিয়াহুম ছুন্নাতুল আওওয়ালীনা আও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বুকুবুলা-।উচ্চারণ

তাদের সামনে যখন পথনির্দেশ এসেছে তখন কোন্‌ জিনিসটি তাদেরকে তা মেনে নিতে এবং নিজেদের রবের সামনে ক্ষমা চাইতে বাধা দিয়েছে? এ জিনিসটি ছাড়া আর কিছুই তাদেরকে বাধা দেয়নি যে, তারা প্রতীক্ষা করেছে তাদের সাথে তাই ঘটুক যা পূর্ববর্তী জাতিদের সাথে ঘটে গেছে অথবা তারা আযাবকে সামনে আসতে দেখে নিক। ৫২ তাফহীমুল কুরআন

মানুষের কাছে যখন হিদায়াত এসে গেছে, তখন ঈমান আনয়ন ও নিজেদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা হতে তাদেরকে এ ছাড়া (অর্থাৎ, এই দাবী ছাড়া) অন্য কিছুই বিরত রাখছে না যে, তাদের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তীদের অনুরূপ ঘটনা ঘটুক অথবা আযাব তাদের একেবারে সামনে এসে যাক। #%৩৬%#মুফতী তাকী উসমানী

হিদায়াত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন এবং তাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের পূর্ব-পুরুষদের অনুরূপ আযাব অথবা কখনই বা তারা তা প্রত্যক্ষ করবে।মুজিবুর রহমান

হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন এদের নিকট পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা হতে বিরত রাখে কেবল এটা যে, তাদের নিকট পূর্ববর্তীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক বা আসুক তাদের নিকট সরাসরি আযাব।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ঈমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আযাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।আল-বায়ান

তাদের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন ঈমান আনতে আর তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইতে মানুষকে এ ছাড়া আর অন্য কিছুই বাধা দেয় না যে, (তারা অপেক্ষায় থাকে যে) অতীতের জাতিগুলোর সঙ্গে যা করা হয়েছে, কখন তাদের সঙ্গেও তাই করা হবে অথবা কখন ‘আযাবকে তারা সরাসরি সামনে দেখতে পাবে।তাইসিরুল

আর এমন কিছু মানুষকে বাধা দেয় না বিশ্বাস স্থাপন করতে যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে এবং তাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও, এ ভিন্ন যে তাদের কাছেও আসুক পূর্ববর্তীদের ঘটনাবলী, অথবা আগেভাগেই তাদের উপরে শাস্তিটা যেন এসে পড়ে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫২

অর্থাৎ যুক্তি প্রমাণের সাহায্যে সত্যকে সুস্পষ্ট করে তোলার ব্যাপারে কুরআন কোন ফাঁক রাখেনি। মন ও মস্তিষ্ককে আবেদন করার জন্য যতগুলো প্রভাবশালী পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভবপর ছিল সর্বোত্তম পদ্ধতিতে তা এখানে অবলম্বিত হয়েছে। এখন সত্যকে মেনে নেবার পথে তাদের কি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? শুধুমাত্র এটিই যে তারা আযাবের অপেক্ষা করছে। পিটুনি খাওয়া ছাড়া তারা সোজা হতে চায় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, তাদের সামনে সব রকম দলীল-প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন নিজেদের কুফরের পক্ষে তাদের হাতে এছাড়া আর কোন প্রমাণ অবশিষ্ট নেই যে, তারা নবীর কাছে দাবী করবে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে যেমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে, আমরা ভুল পথে থাকলে আমাদের উপরও সে রকম শাস্তি নিয়ে এসো। সুতরাং তারা এ দাবীই করেছিল। আল্লাহ তাআলা সামনে এর উত্তর দিয়েছেন যে, নিজ এখতিয়ারে শাস্তি অবতীর্ণ করা নবীর কাজ নয়। নবীর কাজ কেবল মানুষকে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা। আর আল্লাহ তাআলার নীতি হল, অবাধ্যদেরকে চটজলদি শাস্তি না দেওয়া; বরং তিনি নিজ দয়ায় তাদেরকে অবকাশ দেন, যাতে সেই অবকাশের ভেতর যাদের ঈমান আনার তারা ঈমান আনতে পারে। হ্যাঁ, অবাধ্যদেরকে শাস্তি দানের জন্য তিনি একটা সময় ঠিকই স্থির করে রেখেছেন। সেই সময় যখন আসবে, তখন আর তাদের শাস্তি টলানো যাবে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৫. আর যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা ও তাদের রব-এর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত রাখে শুধু এ যে, তাদের কাছে পূৰ্ববতীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাদের কাছে সরাসরি আযাব।(১)

(১) আয়াতে ব্যবহৃত قُبُلًا শব্দের অর্থ, সামনা সামনি বা চাক্ষুষ। (ইবন কাসীর) কাফেররা সবসময় নিজের চোখে আযাব দেখতে চাইত। কুরআনের অন্যত্র এসেছে, “তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।” (সূরা আশ-শু'আরা: ১৮৭) অনুরূপ বলা হয়েছে, “উত্তরে তাঁর সম্প্রদায় শুধু এটাই বলল, আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনয়ন কর—তুমি যদি সত্যবাদী হও।” (সূরা আল আনকাবূত: ২৯) “স্মরণ করুন, তারা বলেছিল, “হে আল্লাহ! এগুলো যদি আপনার কাছ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন কিংবা আমাদেরকে মর্মম্ভদ শাস্তি দিন৷” (সূরা আল-আনফাল: ৩২) “তারা বলে, ওহে যার প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ। ‘তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের কাছে ফিরিশতাদেরকে উপস্থিত করছ না কেন?” (সূরা আল-হিজর: ৬, ৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৫) যখন মানুষের কাছে পথ-নির্দেশ আসে, তখন এই প্রতীক্ষাই তাদেরকে বিশ্বাস স্থাপন হতে ও তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা হতে বিরত রাখে যে, তাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা তাদের নিকট উপস্থিত হবে(1) অথবা উপস্থিত হবে (সরাসরি) বিবিধ শাস্তি। (2)

(1) অর্থাৎ, মিথ্যা ভাবার কারণে এদের উপরও ঐরূপ আযাব আসবে, যেমন পূর্বের লোকদের উপর এসেছে।

(2) অর্থাৎ, মক্কাবাসী ঈমান আনার জন্য এই দু’টি জিনিসের মধ্যে কোন একটির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু জ্ঞান-অন্ধদের জানা নেই যে, এর পর ঈমানের কোনই মূল্য নেই অথবা এর পর ঈমান আনার কোন সুযোগই নেই।