وَإِنَّا لَجَٰعِلُونَ مَا عَلَيۡهَا صَعِيدٗا جُرُزًا

ওয়া ইন্না-লাজা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-সা‘ঈদান জুরুঝা-।উচ্চারণ

সবশেষে এসবকে আমি একটি বৃক্ষ-লতাহীন ময়দানে পরিণত করবো। তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয়ই আমি ভূপৃষ্ঠে যা-কিছু আছে, একদিন তা সমতল প্রান্তরে পরিণত করব। মুফতী তাকী উসমানী

ওর উপর যা কিছু আছে তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য মৃত্তিকায় পরিণত করব।মুজিবুর রহমান

এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এর ওপর যা কিছু আছে তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত করব।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।আল-বায়ান

আমি অবশ্যই তার উপর যা আছে তা বৃক্ষলতাহীন শুকনো ধূলা মাটিতে পরিণত করব।তাইসিরুল

আর নিঃসন্দেহ তার উপরে যা-কিছু আছে আমরা তাকে করব তৃণলতাহীন মাটির গুড়োঁ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

প্রথম আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছিল। আর এ দু’টি আয়াতে কাফেরদেরকে উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি সান্তনা বাক্য শুনিয়ে দেবার পর এখন তাঁর অস্বীকারকারীদেরকে সরাসরি সম্বোধন না করেই একথা শুনানো হচ্ছে যে, পৃথিবী পৃষ্ঠে তোমরা এই যেসব সাজ-সরঞ্জাম দেখছো এবং যার মন ভুলানো চাকচিক্যে তোমরা মুগ্ধ হয়েছো, এতো নিছক একটি সাময়িক সৌন্দর্য, নিছক তোমাদের পরীক্ষার জন্য এর সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। এসব কিছু আমি তোমাদের আয়েশ-আরামের জন্য সরবরাহ করেছি, তোমরা এ ভুল ধারণা করে বসেছো। তাই জীবনের মজা লুটে নেয়া ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যের প্রতি তোমরা কোন ভ্রুক্ষেপই করছো না। এজন্য কি তোমরা কোন উপদেশদাতার কথায় কান দিচ্ছো না। কিন্তু আসলে তো এগুলো আয়েশ-আরামের জিনিস নয় বরং পরীক্ষার উপকরণ। এগুলোর মাঝখানে তোমাদের বসিয়ে দিয়ে দেখা হচ্ছে, তোমাদের মধ্যে কে তার নিজের আসল স্বরূপ ভুলে গিয়ে দুনিয়ার এসব মন মাতানো সামগ্রীর মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে এবং কে তার আসল মর্যাদার (আল্লাহর বন্দেগী) কথা মনে রেখে সঠিক নীতি অবলম্বন করছে। যেদিন এ পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে সেদিনই ভোগের এসব সরঞ্জাম খতম করে দেয়া হবে এবং তখন এ পৃথিবী একটি লতাগুল্মহীন ধূ ধূ প্রান্তর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, যেসব বস্তুর কারণে ভূ-পৃষ্ঠকে শোভাময় ও মনোরম দেখা যায়, একদিন তা সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘর-বাড়ি, ইমারত, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষরাজি কিছুই থাকবে না। পৃথিবীকে এক সমতল প্রান্তরে পরিণত করা হবে। তখন এ সত্য পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, দুনিয়ার বাহ্যিক সৌন্দর্য বড়ই ক্ষণস্থায়ী। এটাই সেই সময়, যখন আপনার সাথে জেদ ও শত্রুতামূলক আচরণকারীরা নিজেদের অশুভ পরিণামে উপনীত হবে। সুতরাং দুনিয়ায় তাদেরকে যে ঢিল দেওয়া হচ্ছে তার মানে দুষ্কর্ম সত্ত্বেও তাদেরকে স্বাধীন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমন নয়। সুতরাং তাদের আচরণে আপনি অতটা ব্যথিত হবেন না এবং তাদের কঠিন পরিণতির জন্যও চিন্তিত হবেন না। আপনার কাজ তাবলীগ ও প্রচারকার্য চালানো। আপনি তাতেই মশগুল থাকুন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮. আর তার উপর যা কিছু আছে তা অবশ্যই আমরা উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত করব।(১)

(১) অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠে তোমরা এই যেসব সাজ সরঞ্জাম দেখছো এবং যার মন ভুলানো চাকচিক্যে তোমরা মুগ্ধ হয়েছ, এতো নিছক একটি সাময়িক সৌন্দর্য, নিছক তোমাদের পরীক্ষার জন্য এর সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। এসব কিছু আমি তোমাদের আয়েশ আরামের জন্য সরবরাহ করেছি, তোমরা এ ভুল ধারণা করে বসেছে। এগুলো আয়েশ আরামের জিনিস নয়, বরং পরীক্ষার উপকরণ। যেদিন এ পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে সেদিনই ভোগের এসব সরঞ্জাম খতম করে দেয়া হবে এবং তখন এ পৃথিবী একটি লতাগুল্মহীন ধূ ধূ প্রান্তর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। (দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮) ওর উপর যা কিছু আছে তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত করব।(1)

(1) صَعِيْدًا পরিষ্কার ময়দান। جُرُزٌ একেবারে সমতল, যাতে কোন গাছ-পালা থাকে না। অর্থাৎ, এমন এক দিন আসবে, যেদিন এ দুনিয়া তার যাবতীয় সৌন্দর্য ও চাকচিক্য সহ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ভূ-পৃষ্ঠ একটি গাছ-পালাহীন সমতল ময়দানে পরিণত হবে। অতঃপর আমি নেককার ও বদকারদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেব।