وَٱتۡلُ مَآ أُوحِيَ إِلَيۡكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَۖ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَن تَجِدَ مِن دُونِهِۦ مُلۡتَحَدٗا

ওয়াতলুমাঊহিয়া ইলাইকা মিন কিতা-বি রব্বিকা লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহী ওয়া লান তাজিদা মিন দূ নিহী মুলতাহাদা-।উচ্চারণ

হে নবী! ২৬ তোমার রবের কিতাবের মধ্য থেকে যা কিছু তোমার ওপর অহী করা হয়েছে তা (হুবহু) শুনিয়ে দাও। তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, (আর যদি তুমি কারো স্বার্থে তার মধ্যে পরিবর্তন করো তাহলে) তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে পালাবার জন্য কোন আশ্রয়স্থল পাবে না। ২৭ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তোমার কাছে তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যে ওহী পাঠানো হয়েছে, তা পড়ে শোনাও। এমন কেউ নেই যে তাঁর বাণী পরিবর্তন করতে পারে এবং তুমি তাঁকে ছাড়া অন্য কোনও আশ্রয়স্থল পাবে না কখনই। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী

তুমি তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট তোমার রবের কিতাব আবৃত্তি কর; তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেহ নেই; তুমি কখনই তাঁকে ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয় পাবেনা।মুজিবুর রহমান

আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট তোমার প্রতিপালকের কিতাব হতে পাঠ করে শোনাও। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউই নেই। তুমি কখনই তাঁকে ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয় পাবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমার রবের কিতাব থেকে তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তুমি তা তিলাওয়াত কর। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল তুমি পাবে না।আল-বায়ান

আর তুমি তোমার কাছে ওয়াহীকৃত তোমার প্রতিপালকের কিতাব থেকে পাঠ করে শুনাও, তাঁর কথা পরিবর্তন করে দেবে এমন কেউ নেই, আর তাঁকে ছাড়া তুমি কক্ষনো অন্য কাউকে আশ্রয়স্থল হিসেবে পাবে না।তাইসিরুল

আর পাঠ করো তোমার প্রভুর কিতাবের থেকে যা তোমাদের কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে। এমন কেউ নেই যে তাঁর বাণী বদল করতে পারে, আর তাঁকে বাদ দিয়ে তুমি পাবে না কোনো আশ্রয়স্থল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬

আসহাবে কাহফের কাহিনী শেষ হবার পর এবার এখান থেকে দ্বিতীয় বিষয়বস্তুর আলোচনা শুরু হচ্ছে। এ আলোচনায় মক্কায় মুসলমানরা যে অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন সে সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে।

২৭

এর মানে এ নয় যে, নাউযুবিল্লাহ! সে সময় নবী ﷺ মক্কার কাফেরদের স্বার্থে কুরআনে কিছু পরিবর্তন করার এবং কুরাইশ সরদারদের সাথে কিছু কমবেশীর ভিত্তিতে আপোস করে নেবার কথা চিন্তা করছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে এ কাজ করতে নিষেধ করছিলেন। বরং মক্কার কারফেরদেরকে উদ্দেশ্য করে এর মধ্যে বক্তব্য রাখা হয়েছে, যদিও বাহ্যত সম্বোধন করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কাফেরদেরকে একথা বলা যে, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর কালামের মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছু কমবেশী করার অধিকার রাখেন না। তাঁর কাজ শুধু এতটুকু, আল্লাহ যা কিছু নাযিল করেছেন তাকে কোন কিছু কমবেশী না করে হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। তুমি যদি মেনে নিতে চাও তাহলে বিশ্ব-জাহানের প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দ্বীন পেশ করা হয়েছে তাকে পুরোপুরি হুবহু মেনে নাও। আ যদি না মানতে চাও তাহলে সেটা তোমার খুশী তুমি মেনে নিয়ো না। কিন্তু কোন অবস্থায় এ আশা করো না যে, তোমাকে রাজী করার জন্য তোমার খেয়াল-খুশী মতো এ দ্বীনের মধ্যে কোন আংশিক পর্যায়ের হলেও কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হবে। কাফেরদেরক পক্ষ থেকে বার বার এ মর্মে যে দাবী করা হচ্ছিল যে, আমরা তোমার কথা পুরোপুরি মেনে নেবো এমন জিদ ধরে বসে আছো কেন? আমাদে পৈতৃক দ্বীনের আকীদা-বিশ্বাস ও রীতি-রেওয়াজের সুবিধা দেবার কথাটাও একটু বিবেচনা করো। তুমি আমাদেরটা কিছু মেনে নাও এবং আমরা তোমারটা কিছু মেনে নিই। এর ভিত্তিতে সমঝোতা হতে পারে এবং এভাবে গোত্রীয় সম্প্রীতি ও ঐক্য অটুট থাকতে পারে। এটি হচ্ছে কাফেরদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই দাবীর জওয়াব। কুরআনে একাধিক জায়গায় তাদের এ দাবী উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর এ জওয়াবই দেয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সূরা ইউনূসের ১৫ আয়াতটি দেখুন। বলা হয়েছেঃ

আরবী------------------------------------

“যখন আমার আয়াত তাদেরকে পরিষ্কার শুনিয়ে দেয়া হয় তখন যারা কখনো আমার সামনে হাযির হবার আকাঙ্ক্ষা রাখে না তারা বলে, এছাড়া অন্য কোন কুরআন নিয়ে এসো অথবা এর মধ্যে কিছু কাটছাঁট করো।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দাবী করত, আপনি আমাদের ইচ্ছা ও বিশ্বাস অনুযায়ী এ কুরআনকে পরিবর্তন করে দিন। তা করলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনতে প্রস্তুত আছি। পূর্বে সূরা ইউনুসে (১০ : ১৫) তাদের এ দাবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত তাদেরকে শোনানোর লক্ষ্যেই আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্ভাষণ করে এ আয়াতের বক্তব্য পেশ করেছেন। এতে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার কালামে রদবদল করার কোন এখতিয়ার কারও নেই। কেউ যদি এমনটা করে, তবে আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সে কোনও আশ্রয়স্থল পাবে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭. আর আপনি আপনার প্রতি ওহী করা আপনার রব-এর কিতাব থেকে পড়ে শুনান। তাঁর বাক্যসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই। আর আপনি কখনই তাকে ছাড়া অন্য কোন আশ্রয় পাবেন না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৭) তুমি তোমার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট তোমার প্রতিপালকের কিতাব আবৃত্তি কর; (1) তার বাক্য পরিবর্তন করার কেউই নেই। আর তুমি কখনই তিনি ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয়স্থল পাবে না। (2)

(1) যদিও এই নির্দেশ এই দিক দিয়ে সাধারণ যে, যে জিনিসেরই অহী তোমার প্রতি করা হয়, তা তেলাঅত কর এবং লোকদেরকে তা শিক্ষা দাও, তবুও গুহা অধিবাসীদের ঘটনার শেষে এই নির্দেশের অর্থ এও হতে পারে যে, তাদের ব্যাপারে লোকেরা যা ইচ্ছা তাই বলুক, কিন্তু মহান আল্লাহ স্বীয় গ্রন্থে তাদের ব্যাপারে যা এবং যতটা বলেছেন, সেটাই হচ্ছে সঠিক। সুতরাং তাই মানুষদেরকে পড়ে শুনিয়ে দাও এবং এর অধিক বর্ণিত অন্যান্য কথা-বার্তার প্রতি আদৌ ভ্রূক্ষেপ করো না।

(2) অর্থাৎ, যদি এর (অহীর) প্রচার না কর এবং এ থেকে বিমুখতা অবলম্বন কর অথবা তার (অহীর) বাক্যাবলীতে কোন হেরফের করার প্রচেষ্টা কর, তবে আল্লাহর হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সম্বোধন রসূল (সাঃ)-কে করা হলেও এর প্রকৃত লক্ষ্য হল উম্মত।