وَأَمَّا ٱلۡجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَٰمَيۡنِ يَتِيمَيۡنِ فِي ٱلۡمَدِينَةِ وَكَانَ تَحۡتَهُۥ كَنزٞ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَٰلِحٗا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبۡلُغَآ أَشُدَّهُمَا وَيَسۡتَخۡرِجَا كَنزَهُمَا رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ وَمَا فَعَلۡتُهُۥ عَنۡ أَمۡرِيۚ ذَٰلِكَ تَأۡوِيلُ مَا لَمۡ تَسۡطِع عَّلَيۡهِ صَبۡرٗا

ওয়া আম্মাল জিদা-রু ফাক-না লিগুলা-মাইনি ইয়াতীমাইনি ফিল মাদীনাতি ওয়া ক-না তাহতাহূকানঝুল্লাহুমা-ওয়া ক-না আবূহুমা-সা-লিহান ফাআর-দা রব্বুকা আইঁ ইয়াবলুগাআশুদ্দা হুমা-ওয়া ইয়াছতাখরিজা-কানঝাহুমা- রহমাতাম মির রব্বিকা ওয়ামা-ফা‘আলতুহূ‘আন আমরী যা-লিকা তা’বীলুমা-লাম তাছতি‘ ‘আলাইহি সাবর-।উচ্চারণ

এবার থাকে সেই দেয়ালের ব্যাপারটি। সেটি হচ্ছে এ শহরে অবস্থানকারী দু’টি এতীম বালকের। এ দেয়ালের নীচে তাদের জন্য সম্পদ লুকানো আছে এবং তাদের পিতা ছিলেন একজন সৎলোক। তাই তোমার রব চাইলেন এ কিশোর দু’টি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাক এবং তারা নিজেদের গুপ্তধন বের করে নিক। তোমার রবের দয়ার কারণে এটা করা হয়েছে। নিজ ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে আমি এটা করিনি। তুমি যেসব ব্যাপারে সবর করতে পারোনি এ হচ্ছে তার ব্যাখ্যা।” ৬০ তাফহীমুল কুরআন

বাকি থাকল প্রাচীরটি। তো এটি ছিল এই শহরে বসবাসকারী দুই ইয়াতীমের। এর নিচে তাদের গুপ্তধন ছিল এবং তাদের পিতা ছিল একজন সৎলোক। সুতরাং আপনার প্রতিপালক চাইলেন ছেলে দু’টো প্রাপ্তবয়সে উপনীত হোক এবং নিজেদের গুপ্তধন বের করে নিক। এসব আপনার প্রতিপালকের রহমতেই ঘটেছে। আমি কোন কাজই মনগড়াভাবে করিনি। আপনি যেসব ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি, এই হল তার ব্যাখ্যা। #%৪৬%#মুফতী তাকী উসমানী

আর ঐ প্রাচীরটি - ওটা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, এর নিম্নদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ণ। সুতরাং তোমার রাব্ব দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা তোমার রবের দেয়া তাদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক; আমি নিজ হতে কিছু করিনি; তুমি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হয়েছিলে এটাই তার ব্যাখ্যা।মুজিবুর রহমান

প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আর ঐ প্রাচীরটি, এটা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, এটার নিম্নদেশে আছে এদের গুপ্তধন এবং এদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, এরা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং এরা এদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক। আমি নিজ হতে কিছু করি নাই; আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হয়েছিলেন, এটাই তার ব্যাখ্যা।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর প্রাচীরটির বিষয় হল, তা ছিল শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি। এ হলো সে বিষয়ের ব্যাখ্যা, যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি।আল-বায়ান

আর ঐ দেয়ালটির বিষয় হল- তা ছিল ঐ শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের। তার নীচে ছিল তাদের জন্য রক্ষিত ধন, তাদের পিতা ছিল এক সৎ ব্যক্তি। তাই তোমার প্রতিপালক চাইলেন তারা দু’জন যৌবনে উপনীত হোক আর তাদের গচ্ছিত ধন বের করে নিক- যা হল তোমার প্রতিপালকের রহমত বিশেষ। এ সব আমি নিজের পক্ষ থেকে করিনি। এ হল সে বিষয়ের ব্যাখ্যা যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি।’তাইসিরুল

আর দেয়াল সন্বন্ধে -- এ ছিল শহরের দুইজন এতিম বালকের, আর তার তলায় ছিল তাদের উভয়ের ধনভান্ডার, আর তাদের পিতা ছিল সজ্জন। কাজেই তোমার প্রভু চেয়েছিলেন যে তারা যেন তাদের সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয় এবং তাদের ধনভান্ডার বের করে আনে তোমার প্রভুর তরফ থেকে করুণা হিসেবে, আর আমি এটি করি নি আমার নিজের ইচ্ছায়। এই হচ্ছে তার তাৎপর্য যে সন্বন্ধে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পার নি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬০

এ কাহিনীটির মধ্যে একটি বিরাট জটিলতা আছে। এটি দূর করা প্রয়োজন হযরত খিযির যে তিনটি কাজ করেছিলেন তার মধ্যে তৃতীয় কাজটির সাথে শরীয়াতের বিরোধ নেই কিন্তু প্রথম কাজ দু’টি নিঃসন্দেহে মাবন জাতির সূচনালগ্ন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আল্লাহ যতগুলো শরীয়াত নাযিল করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠিত বিধানের বিরোধী। কারো মালিকানধীন কোন জিনিস নষ্ট করার এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার অনুমতি কোন শরীয়াত কোন মানুষকে দেয়নি। এমন কি যদি কোন ব্যক্তি ইলহামের মাধ্যমে জানতে পারে যে, সামনের দিকে এ জালেম একটি নৌকা ছিনিয়ে নেবে এবং অমুক বালকটি বড় হয়ে খোদাদ্রোহী ও কাফের হয়ে যাবে তবুও আল্লাহ প্রেরিত শরীয়াতগুলোর মধ্য থেকে কোন শরীয়াতের দৃষ্টিতেই তার জন্য তত্বজ্ঞানের ভিত্তিতে নৌকা ছেঁদা করে দেয়া এবং একটি নিরপরাধ বালককে হত্যা করা জায়েয নয়। এর জবাবে একথা বলা যে, হযরত খিযির এ কাজ দু’টি আল্লাহর হুকুমে করেছিলেন। আসলে এতে এই জটিলতা একটুও দূর হয় না। প্রশ্ন এ নয় যে, হযরত খিযির কার হুকুমে এ কাজ করেছিলেন। এগুলো যে আল্লাহর হুকুমে করা হয়েছিল তা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। কারণ হযরত খিযির নিজেই বলছেন, তাঁর এ কাজগুলো তাঁর নিজের ক্ষমতা ইখতিয়ারভূক্ত নয় বরং এগুলো হচ্ছে আল্লাহর দয়া ও করুণা। আর হযরত খিযিরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তত্বজ্ঞান দেয়া হয়েছিল বলে প্রকাশ করে আল্লাহ নিজেই এর সত্যতার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই আল্লাহর হুকুমে যে এ কাজ করা হয়েছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এখানে যে আসল প্রশ্ন দেখা দেয় সেটি হচ্ছে এই যে, আল্লাহর এ বিধান কোন্ ধরনের ছিল? একথা সুস্পষ্ট, এগুলো শরীয়াতের বিধান ছিল না। কারণ কুরআন ও পূর্ববতী আসমানী কিতাবসমূহ থেকে আল্লাহর শরীয়াতের যেসব মূলনীতি প্রমাণিত হয়েছে তার কোথাও কোন ব্যক্তিকে এ সুযোগ দেয়া হয়নি যে, সে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া ছাড়াই কাউকে হত্যা করতে পারবে। তাই নিশ্চিতভাবে এ কথা মেনে নিতে হবে যে, এ বিধানগুলো প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহর এমন সব সৃষ্টিগত বিধানের সাথে সামঞ্জস্যশীল যেগুলোর আওতাধীনে দুনিয়ার প্রতি মুহূর্তে কাউকে রোগগ্রস্ত করা হয়, কাউকে রোগমুক্ত করা হয়, কাউকে মৃত্যু দান করা হয়, কাউকে জীবন দান করা হয়, কাউকে ধ্বংস করা হয় এবং কারোর প্রতি করুণাধারা বর্ষণ করা হয়। এখন যদি এগুলো সৃষ্টিগত বিধান হয়ে থাকে তাহলে এগুলোর দায়িত্ব একমাত্র ফেরেশতাগণের ওপরেই সোপর্দ হতে পারে। তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে শরীয়াতগত বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন ওঠে না। কারণ তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা-ইখতিয়ার ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর হুকুম তামিল করে থাকে।

আর মানুষের ব্যাপারে বলা যায়, সে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন সৃষ্টিগত হুকুম প্রবর্তনের মাধ্যমে পরিণত হোক বা ইলহামের সাহায্যে এ ধরনের কোন অদৃশ্য জ্ঞান ও হুকুম লাভ করে তা কার্যকর করুক, সর্বাবস্থায় যে কাজটি সে সম্পন্ন করেছে সেটি যদি শরীয়াতের কোন বিধানের পরিপন্থী হয় তাহলে তার গুনাহগার হওয়া থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। কারণ মানব সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষ শরীয়াতের বিধান মেনে চলতে বাধ্য। কোন মানুষ ইলহামের মাধ্যমে শরীয়াতের কোন বিধানের বিরুদ্ধাচরণের হুকুম লাভ করেছে এবং অদৃশ্য জ্ঞানের মাধ্যমে এ বিরুদ্ধচারণকে কল্যাণকর বলা হয়েছে বলেই শরীয়াতের বিধানের মধ্য থেকে কোন বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করা তার জন্য বৈধ হয়ে গেছে, শরীয়াতের মূলনীতির মধ্যে কোথাও এ ধরনের কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

এটি এমন একটি কথা যার ওপর কেবলমাত্র শরীয়াতের আলেমগণই যে একমত তাই নয় বরং প্রধান সুফীগণও একযোগে একথা বলেন। আল্লামা আলুসী বিস্তারিতভাবে আবদুল ওয়াহ্হাব শি’রানী, মুহীউদ্দিন ইবনে আরাবী, মুজাদ্দিদে আলফিসানি, শায়খ আবদুল কাদের জীলানী, জুনায়েদ বাগদাদী, সাররী সাক্তী, আবুল হাসান আন্নুরী, আবু সাঈদ আলখাররায্, আবুল আব্বাস আহমদ আদ্দাইনাওয়ারী ও ইমাম গাযযালীর ন্যায় খ্যাতনামা বুযর্গগণের উক্তি উদ্ধৃত করে একথা প্রমাণ করেছেন যে, তাসাউফপন্থীদের মতেও কুরআন ও হাদীসের সুস্পষ্ট বিধান বিরোধী ইলহামকে কার্যকর করা যার প্রতি ইলহাম হয় তার জন্যও বৈধ নয়।

এখন কি আমরা মেনে নেবো যে, এ সাধারণ নিয়ম থেকে মাত্র একজন মানুষকে পৃথক করা হয়েছে এবং তিনি হচ্ছেন হযরত খিযির? অথবা আমরা মনে করবো, খিযির কোন মানুষ ছিলেন না বরং তিনি আল্লাহর এমনসব বান্দার দলভুক্ত ছিলেন যারা আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীনে (আল্লাহর শরীয়াতের আওতাধীনে নয়) কাজ করেন?

প্রথম অবস্থাটি আমরা মেনে নিতাম যদি কুরআন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতো যে, হযরত মূসাকে যে ‘বান্দা’র কাছে অনুশীলন লাভের জন্য পাঠানো হয়েছিল তিনি মানুষ ছিলেন। কিন্তু কুরআন তার মানুষ হবার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য রাখেনি বরং কেবলমাত্র (আরবী---------) (আমার বান্দাদের একজন) বলে ছেড়ে দিয়েছে। আর একথা সুস্পষ্ট, এ বাক্যাংশ থেকে ঐ বান্দার মানব সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়া অপরিহার্য হয় না। কুরআন মজীদে বিভিন্ন জায়গায় ফেরেশতাদের জন্যও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যেমন দেখুন সূরা আম্বিয়া ২৬ আয়াত এবং সূরা যুখরুফ ১৯ আয়াত। তাছাড়া কোন সহী হাদীসেও নবী ﷺ থেকে এমন কোন বক্তব্য উদ্ধৃত হয়নি যাতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হযরত খিযিরকে মানব সম্প্রদায়ের একজন সদস্য গণ্য করা হয়েছে। এ অধ্যায়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসটি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কা’ব থেকে এবং তিনি রসূলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট পৌঁছেছে। সেখানে হযরত খিযিরের জন্য শুধুমাত্র (আরবী----------) (রুজুল) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটি যদিও মানব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পুরুষদের জন্য ব্যবহার করা হয় তবু শুধুমাত্র মানুষের জন্য ব্যবহার করা হয় না। কাজেই কুরআনে এ শব্দটি জিনদের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন সূরা জিনে বলা হয়েছেঃ (আরবী-----------------------------) তাছাড়া এ কথা সুস্পষ্ট যে, জিন বা ফেরেশতা অথবা অন্য কোন অদৃশ্য অস্তিত্ব যখন মানুষের সামনে আসবে তখন মানুষের আকৃতি ধরেই আসবে এবং এ অবস্থায় তাকে মানুষই বলা হবে। হযরত মারয়ামের সামনে যখন ফেরেশতা এসেছিল তখন কুরআন এ ঘটনাটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেঃ (আরবী---------------------------------) কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তি যে “সেখানে তিনি একজন পুরুষকে পেলেন” হযরত খিযিরের মানুষ হবার ব্যাপারটি সুস্পষ্ট করছে না। এরপর এ জটিলতা দূর করার জন্য আমাদের কাছে হযরত খিযিরকে মানুষ নয় ফেরেশতা হিসেবে মেনে নেয়া ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন পথই থাকে না। অথবা তাঁকে আল্লাহর এমন কোন সৃষ্টি মনে করতে হবে যিনি শরীয়াতের বিধানের আওতাধীন নন বরং আল্লাহর ইচ্ছা পুরনের কাজে নিযুক্ত একজন কর্মী। প্রথম যুগের আলেমগণের কেউ কেউও এমত প্রকাশ করেছেন এবং ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীর গ্রন্থে মাওয়ারদীর বরাত দিয়ে তা উদ্ধৃত করেছেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে দিয়ে হযরত খাজির আলাইহিস সালামের সাথে সাক্ষাত করানো এবং এসব ঘটনা তাকে প্রত্যক্ষ করানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বাস্তব সত্যের সাথে তাকে পরিচিত করানো। সে সত্যকে পরিষ্কার করে দেওয়ার লক্ষ্যেই কুরআন মাজীদ তাদের সাক্ষাতকারের ঘটনাটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে।অন্যের মালিকানায় তার অনুমতি ছাড়া কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। বিশেষত অন্যের মালিকানাধীন বস্তুর কোনরূপ ক্ষতিসাধন করার অনুমতি ইসলাম কাউকে দেয়নি। এমনকি সে ক্ষতি যদি মালিকের উপকার করার অভিপ্রায়েও হয়ে থাকে। কিন্তু কুরআন মাজীদ হযরত খাজির আলাইহিস সালামের যে ঘটনা বর্ণনা করেছে, আমরা তাতে অন্য রকম দৃশ্য দেখতে পাই। তিনি মালিকদের অনুমতি ছাড়াই নৌকার তক্তা খুলে ফেলেন। এমনিভাবে কোন নিরপরাধ লোককে হত্যা করা শরীয়তে একটি গুরুতর পাপ। বিশেষত কোন শিশুকে হত্যা করা তো যুদ্ধাবস্থায়ও জায়েয নয়। এমনকি যদি জানা থাকে সে শিশু বড় হয়ে দেশ ও দশের পক্ষে মুসিবতের কারণ হবে, তবুও এখনই তাকে হত্যা করা কোনক্রমেই বৈধ নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও হযরত খাজির আলাইহিস সালাম একটি শিশুকে হত্যা করে ফেলেন। তাঁর এ কাজ দু’টি যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয ছিল না, তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালামের পক্ষে চুপ থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি সঙ্গে-সঙ্গেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে হযরত খাজির আলাইহিস সালাম এহেন শরীয়ত বিরোধী কাজ কিভাবে করলেন? এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য প্রথমে একটা বিষয় বুঝে নেওয়া জরুরি। বিশ্ব-জগতে যত ঘটনা ঘটে, আপাতদৃষ্টিতে আমাদের কাছে তা ভালো মনে হোক বা মন্দ, প্রকৃতপক্ষে তার সম্পর্ক এক অলক্ষ্য জগতের সাথে; এমন এক জগতের সাথে যা আমাদের চোখের আড়ালে। পরিভাষায় তাকে ‘তাকবীনী জগত’ বলে। সে জগত সরাসরি আল্লাহ তাআলার হিকমত এবং সৃজন ও বিনাশ সংক্রান্ত বিধানাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোন ব্যক্তি কতকাল জীবিত থাকবে, কখন তার মৃত্যু হবে, কতকাল সুস্থ থাকবে, কখন রোগাক্রান্ত হবে, তার পেশা কী হবে এবং তার মাধ্যমে সে কী পরিমাণ উপার্জন করবে, এবংবিধ যাবতীয় বিষয় সম্পাদন করার জন্য তিনি বিশেষ কর্মীবাহিনী নিযুক্ত করে রেখেছেন, যারা আমাদের অলক্ষ্যে থেকে আল্লাহ তাআলার এ জাতীয় হুকুম বাস্তবায়িত করেন। উদাহরণত, আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মৃত্যুর ফিরিশতা তার ‘রূহ কবয’ (প্রাণ সংহার)-এর জন্য পৌঁছে যায়। সে যখন আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনার্থে কারও মৃত্যু ঘটায়, তখন সে কোন অপরাধ করে না; বরং আল্লাহ তাআলার হুকুম তামিল করে মাত্র। কোন মানুষের কিন্তু অপর কোন মানুষের প্রাণনাশ করার অধিকার নেই, কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেই ফিরিশতাকে এ কাজের জন্য নিযুক্ত করেছেন, তার পক্ষে এটা কোন অপরাধ নয়। বরং সম্পূর্ণ ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ, যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন করছে। আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুম কার্যকর করার জন্য সাধারণত ফিরিশতাদেরকেই নিযুক্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু তিনি চাইলে যে-কারও উপর এ ভার অর্পণ করতে পারেন। হযরত খাজির আলাইহিস সালাম যদিও মানুষ ছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে ফিরিশতাদের মত তাকবীনী জগতের ‘বার্তাবাহক’ বানিয়েছিলেন। তিনি যা-কিছু করেছিলেন আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুমের অধীনে করেছিলেন সুতরাং মৃত্যুর ফিরিশতা সম্পর্কে যেমন প্রশ্ন তোলা যায় না সে একজন নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাল কেন কিংবা বলা যায় না যে, এ কাজ করে সে একটা অপরাধ করেছে, যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য আদিষ্ট ছিল, তেমনিভাবে হযরত খাজির আলাইহিস সালামের প্রতিও তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে কোন আপত্তি তোলা যাবে না। কেননা তিনিও নৌকাটিতে খুঁত সৃষ্টি করা ও শিশুটিকে হত্যা করার কাজে আল্লাহ তাআলার তাকবীনী হুকুমের দ্বারা আদিষ্ট ছিলেন। ফলে তাঁর সে কাজ কোন অপরাধ ছিল না। কিন্তু আমাদের ব্যাপার ভিন্ন। আমরা দুনিয়ায় শরয়ী বিধানাবলীর অধীন। আমাদেরকে তাকবীনী জগতের কোন জ্ঞানও দেওয়া হয়নি এবং সেই জগত সম্পর্কিত কোন দায়িত্বও আমাদের উপর অর্পিত হয়নি। আমরা দৃশ্যমান জগতে বাস করি, জাগ্রত জীবনে বিচরণ করি। চাক্ষুষ যা দেখতে পাই তাকে কেন্দ্র করেই আমাদের আবর্তন। তাই আমাদেরকে যেসব বিধান দেওয়া হয়েছে, তা দৃশ্যজগত ও চাক্ষুষ কার্যাবলীর সাথেই সম্পৃক্ত। তাকে ‘শরয়ী হুকুম’ বা শরীয়ত বলে। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এই চাক্ষুষ ও জাগ্রত জগতের নবী ছিলেন। তাকে এক শরীয়ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি তার অধীন ছিলেন। তাই তাঁর পক্ষে না হযরত খাজির আলাইহিস সালামের কর্মকাণ্ড দেখে চুপ থাকা সম্ভব হয়েছে, আর না তিনি পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে সফর অব্যাহত রাখতে পেরেছেন। পর পর ব্যতিক্রমধর্মী তিনটি ঘটনা দেখে তিনি বুঝে ফেলেছেন হযরত খাজির আলাইহিস সালামের কর্মক্ষেত্র তাঁর নিজের কর্মক্ষেত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাঁর পক্ষে তাঁর সঙ্গে চলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর সঙ্গে আর থাকা সম্ভব না হলেও, এ ঘটনার মাধ্যমে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে খোলা চোখে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশ্বজগতে যা-কিছু ঘটছে তার পেছনে আল্লাহ তাআলার অপার হিকমত সক্রিয় রয়েছে। কোন ঘটনার রহস্য ও তাৎপর্য যদি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে তার ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার ফায়সালা সম্পর্কে কোন আপত্তি তোলার সুযোগ আমাদের নেই। কেননা বিষয়টা যেহেতু তাকবীনী জগতের, তাই এর রহস্য উন্মোচনও সে জগতেই হতে পারে, কিন্তু সে জগত তো আমাদের চোখের আড়ালে। দৈনন্দিন জীবনে এমন বহু ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে যা আমাদের অন্তর ব্যথিত করে। অনেক সময় নিরীহ-নিরপরাধ লোককে নিগৃহীত হতে দেখে আমাদের অন্তরে নানা সংশয় দেখা দেয়, যা নিরসনের কোন দাওয়াই আমাদের হাতে ছিল না। আল্লাহ তাআলা হযরত খাজির আলাইহিস সালামের মাধ্যমে তাকবীনী জগতের রঙ্গমঞ্চ থেকে খানিকটা পর্দা সরিয়ে এক ঝলক তার দৃশ্য দেখিয়ে দিলেন এবং এভাবে মুমিনের অন্তরে যাতে এরূপ সংশয় সৃষ্টি হতে না পারে তার ব্যবস্থা করে দিলেন। স্মরণ রাখতে হবে তাকবীনী জগত এক অদৃশ্য জগত এবং তার কর্মীগণ আমাদের চোখের আড়াল। হযরত খাজির আলাইহিস সালামও অদৃশ্যই ছিলেন। তাকবীনী জগতের খানিকটা দৃশ্য দেখানোর লক্ষ্যে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে ওহীর মাধ্যমে তাঁর সন্ধান দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু ওহীর দরজা বন্ধ, তাই এখন কারও পক্ষে নিশ্চিতভাবে তাকবীনী জগতের কোন কর্মীর সন্ধান ও সাক্ষাত লাভ সম্ভব নয়। এমনিভাবে দৃশ্যমান জগতের কোন ব্যক্তির পক্ষে এ দাবী করারও অবকাশ নেই যে, সে তাকবীনী জগতের একজন দায়িত্বশীল এবং সেই জগতের বিভিন্ন ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত আছে। কাজেই হযরত খাজির আলাইহিস সালামের ঘটনাকে ভিত্তি করে যারা শরীয়তের বিধি-বিধানকে স্থগিত করা বা তার বিপরীত কাজকে বৈধ সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে, নিঃসন্দেহে তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত এবং তারা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘৃণ্য তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। কোন কোন নামধারী দরবেশ তাসাওউফের নাম দিয়ে বলে থাকে, ‘শরীয়তের বিধান কেবল স্থূলদর্শী লোকদের জন্য, আমরা তা থেকে ব্যতিক্রম’। নিঃসন্দেহে এটা চরম পথভ্রষ্টতা। এখন শরীয়তের বিধান সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কারও কাছে এমন কোন দলীল নেই, যার বলে সে শরীয়তের বিধান থেকে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮২. আর ঐ প্রাচীরটি— সেটা ছিল নগরবাসী দুই ইয়াতিম কিশোরের এবং এর নীচে আছে তাদের গুপ্তধন(১) আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ(২)। কাজেই আপনার রব তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছে করলেন যে, তারা বয়ঃপ্ৰাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক। আর আমি নিজ থেকে কিছু করিনি; আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হয়েছিলেন, এটাই তার ব্যাখ্যা।(৩)

(১) এখানে আল্লাহ্ তা'আলা সে প্রাচীরের নীচে খনি আছে বলেছেন। এর অতিরিক্ত কোন তাফসীর করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও সহীহ কোন তাফসীর বর্ণিত হয়নি। তাই এ ব্যাপারে সঠিক কোন মতামত দেয়া যায় না। তবে কাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে গচ্ছিত খনি বলতে সম্পদ বোঝানো হয়েছে। আর আয়াতের ভাষ্য থেকেও এ অর্থই বেশী সুস্পষ্ট। (দেখুন, তাবারী)।

(২) এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, খাদির ‘আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে ইয়াতীম বালকদের জন্য রক্ষিত গুপ্তধনের হেফাযত এজন্য করানো হয় যে, তাদের পিতা একজন সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন। তাই আল্লাহ তা’আলা তার সন্তান-সন্ততির উপকারার্থে এ ব্যবস্থা করেন। (ইবন কাসীর)

(৩) খাদির ‘আলাইহিস সালাম জীবিত আছেন, না ওফাত হয়ে গেছেঃ এ বিষয়ের সাথে কুরআনে বর্ণিত ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। তাই কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টতঃ এ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এ ব্যাপারে সর্বকালেই আলেমদের বিভিন্নরূপ মতামত পরিদৃষ্ট হয়েছে। যাদের মতে তিনি জীবিত আছেন, তাদের প্রমাণ হচ্ছে একটি বর্ণনা। যাতে বলা হয়েছেঃ ‘যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাত হয়ে যায়, তখন সাদা-কালো দাড়িওয়ালা জনৈক ব্যক্তি আগমন করে এবং ভীড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে কান্নাকাটি করতে থাকে। এই আগন্তুক সাহাবায়ে কেরামের দিকে মুখ করে বলতে থাকেঃ আল্লাহর দরবারেই প্রত্যেক বিপদ থেকে সবর আছে, প্রত্যেক বিলুপ্ত বিষয়ের প্রতিদান আছে এবং তিনি প্রত্যেক ধ্বংসশীল বস্তুর স্থলাভিষিক্ত। তাই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন কর এবং তাঁর কাছেই আগ্রহ প্রকাশ কর। কেননা, যে ব্যক্তি বিপদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়, সে-ই প্রকৃত বঞ্চিত। আগন্তুক উপরোক্ত বাক্য বলে বিদায় হয়ে গেলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেনঃ ইনি খাদির আলাইহিস সালাম। (মুস্তাদরাকঃ ৩/৫৯, ৬০) তবে বর্ণনাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।

পক্ষান্তরে যারা খাদির ‘আলাইহিস সালাম-এর জীবদ্দশা অস্বীকার করে, তাদের বড় প্রমাণ হচ্ছে-

এক) আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “আমরা আপনার আগেও কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি”। (সূরা আল-আম্বিয়ঃ ৩৪) সুতরাং খাদির আলাইহিস সালামও অনন্ত জীবন লাভ করতে পারেন না। তিনি নিশ্চয়ই অন্যান্য মানুষের মত মারা গেছেন।

দুই) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের শেষ দিকে এক রাতে আমাদেরকে নিয়ে এশার সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি দাঁড়িয়ে যান এবং নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেনঃ “তোমরা কি আজকের রাতটি লক্ষ্য করছ? এই রাত থেকে একশ’ বছর পর আজ যারা পৃথিবীতে আছে, তাদের কেউ জীবিত থাকবে না।’ (মুসলিমঃ ২৫৩৭)

তিন) অনুরূপভাবে, খাদির আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমলে জীবিত থাকলে তার কাছে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করা তার জন্য অপরিহার্য ছিল। কেননা, হাদীসে বলা হয়েছে “মূসা জীবিত থাকলে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তারও গত্যন্তর ছিল না।” (মুসনাদে আহমাদঃ ৩/৩৩৮) (কারণ, আমার আগমনের ফলে তার দ্বীন রহিত হয়ে গেছে।)

চার) বদরের প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ “যদি আপনি এ ক্ষুদ্র দলটিকে ধ্বংস করেন তবে যমীনের বুকে আপনার ইবাদতকারী কেউ থাকবে না”। (মুসলিমঃ ১৭৬৩) এতে বোঝা যাচ্ছে যে, খাদির নামক কেউ জীবিত নেই।

এ সব দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে, খাদির ‘আলাইহিস সালাম জীবিত নেই। সুতরাং যারাই তার সাথে সাক্ষাতের দাবী করবে, তারাই মিথ্যার উপর রয়েছে। এটাও অসম্ভব নয় যে, শয়তান তাদেরকে খিদিরের রূপ ধরে বিভ্রান্ত করছে। কারণ, শয়তানের পক্ষে খিদিরের রূপ ধারণ করা অসম্ভব নয়। (বিস্তারিত দেখুন, ইবন কাসীর; ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু ফাতাওয়া ৪/৩৩৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮২) আর ঐ প্রাচীরটির (কথা এই যে,) ওটা ছিল নগরবাসী দুই এতীম বালকের, ওর নিম্নদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং তোমার প্রতিপালক দয়াপূর্বক ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক; আমি নিজের তরফ থেকে সেসব করিনি। (1) তুমি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হয়েছিলে, এটাই তার ব্যাখ্যা।’

(1) খাযির (আঃ)-কে যাঁরা নবী বলেন তাঁদের এটি দ্বিতীয় দলীল যা দ্বারা তাঁরা তাঁর নবী হওয়া প্রমাণ করেন । কারণ নবী ব্যতীত কারো নিকট এই শ্রেণীর অহী আসে না, যিনি কোন গায়বী ইশারায় এত বড় বড় কাজ করতে পারেন। আর না নবী ব্যতীত অন্য কারো গায়বী ইঙ্গিতে এ ধরনের কাজ মেনে নেওয়ার মত।

খাযির (আঃ)-এর নবুঅতের মত তাঁর জীবন বিষয়েও কিছু লোকের নিকট মত-পার্থক্য রয়েছে। যাঁরা মনে করেন খাযির (আঃ) এখনও জীবিত, তাঁরা বেশ কিছু লোকের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ প্রমাণ করেন। কিন্তু যেভাবে খাযিরের আজ পর্যন্ত জীবিত থাকার ব্যাপারে শরীয়তের কোন দলীল নেই, ঠিক সেইভাবে খাযিরের সঙ্গে ধ্যানমগ্ন, নিদ্রিত বা জাগ্রত অবস্থায় কারো সাক্ষাৎ লাভের কথাও মানার যোগ্য নয়। যখন তার শরীরের হুলিয়া (গঠনাকৃতি) সঠিক দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়, তখন তাঁকে কিভাবে চেনা সম্ভব? আর কি ভাবেই বা বিশ্বাস করা যায় যে, যাঁরা খাযিরের সাক্ষাৎ লাভের দাবী করেন তাঁরা সত্যি সত্যি মূসা (আঃ) এর সঙ্গী খাযির (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। যেহেতু এমনও হতে পারে যে, খাযিরের নামে তাঁদেরকে অন্য কেউ ধোঁকা দিয়েছে।