ওয়া ইয়াওমা নুছাইয়িরুল জিবা-লা ওয়া তারল আরদা বা-রিঝাতাওঁ ওয়া হাশারনা-হুম ফালাম নুগা-দির মিনহুম আহাদা-।উচ্চারণ
সেই দিনের কথা চিন্তা করা দরকার যেদিন আমি পাহাড়গুলোকে চালিত করবো ৪২ এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে সম্পূর্ণ অনাবৃত ৪৩ আর আমি সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে এমনভাবে ঘিরে এনে একত্র করবো যে, (পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মধ্য থেকে) একজনও বাকি থাকবে না। ৪৪ তাফহীমুল কুরআন
এবং (সেই দিনকেও স্মরণ রাখ) যে দিন আমি পর্বতসমূহ সঞ্চালিত করব #%৩০%# এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে উন্মুক্ত পড়ে আছে #%৩১%# এবং আমি তাদের সকলকে একত্র করব, তাদের কাউকে ছাড়ব না।মুফতী তাকী উসমানী
আর যেদিন আমি পাহাড়কে চলমান করব এবং তুমি যমীনকে দেখতে পাবে দৃশ্যমান, আর আমি তাদেরকে একত্র করব। অতঃপর তাদের কাউকেই ছাড়ব না।মুজিবুর রহমান
যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যেদিন আমি পর্বতমালাকে করব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে উন্মুক্ত প্রান্তর, সেদিন তাদের সকলকে আমি একত্র করব এবং এদের কাউকেও অব্যাহতি দিব না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর; সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কেহকেও অব্যাহতি দিব না।আল-বায়ান
(সেদিনের কথা চিন্তা কর) যেদিন আমি পর্বতমালাকে চালিত করব, আর পৃথিবীকে দেখতে পাবে উন্মুক্ত প্রান্তর আর তাদের সববাইকে আমি একত্রিত করব, কাউকেও বাদ দেব না।তাইসিরুল
আর সেই দিনে আমরা পাহাড়গুলো হটিয়ে দেব, আর তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি খোলা ময়দান, আর আমরা তাদের একত্রিত করব, তখন তাদের মধ্যের কোনো একজনকেও আমরা ফেলে রাখব না --মাওলানা জহুরুল হক
৪২
অর্থাৎ যখন যমীনের বাঁধন আলগা হয়ে যাবে এবং পাহাড় ঠিক এমনভাবে চলতে শুরু করবে যেমন আকাশে মেঘেরা ছুটে চলে। কুরআনের অন্য এক জায়গায় এ অবস্থাটিকে এভাবে বলা হয়েছেঃ
আরবী--------------------
“তুমি পাহাড়গুলো দেখো এবং মনে করো এগুলো অত্যন্ত জমাটবদ্ধ হয়ে আছে কিন্তু এগুলো চলবে ঠিক যেমন মেঘেরা চলে।” (আন্ নামলঃ ৮৮)
৪৩
অর্থাৎ এর ওপর কোন শ্যামলতা, বৃক্ষ-তরুলতা এবং ঘরবাড়ি থাকবে না। সারাটা পৃথিবী হয়ে যাবে একটা ধূ ধূ প্রান্তর। এ সূরার সূচনায় এ কথাটিই বলা হয়েছিল এভাবে যে, “এ পৃথিবী পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সেসবই আমি লোকদের পরীক্ষার জন্য একটি সাময়িক সাজসজ্জা হিসেবে তৈরী করেছি। এক সময় আসবে যখন এটি সম্পূর্ণ একটি পানি ও বৃক্ষ লতাহীন মরুপ্রান্তের পরিণত হবে।”
৪৪
অর্থাৎ আদম থেকে নিয়ে কিয়ামতের পূর্বে শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত যেসব মানুষ জন্ম নেবে, তারা মায়ের পেট থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে দুনিয়ার বুকে একবার মাত্র নিঃশ্বাস নিলেও, তাদের প্রত্যেককে সে সময় পুনরবার পয়দা করা হবে এবং সবাইকে একই সঙ্গে জমা করে দেয়া হবে।
এর দ্বারা যেমন বোঝানো হয়েছে, ভূগর্ভে যা-কিছু গুপ্ত আছে সব সামনে এসে যাবে। সূরা ইনশিকাকে (৮৪ : ৪)-এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তেমনি একথাও বোঝানো হয়েছে যে, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর যতদূর দৃষ্টি যায় সারাটা পৃথিবী সমতল দেখা যাবে। কোথাও উচু-নিচু থাকবে না, যেমনটা সূরা তোয়াহার ইরশাদ হয়েছে (২০ : ১০, ১০৭)।
৪৭. আর স্মরণ করুন, যেদিন আমরা পর্বতমালাকে করব সঞ্চালিত(১) এবং আপনি যমীনকে দেখবেন উন্মুক্ত প্রান্তর(২), আর আমরা তাদের সকলকে একত্র করব; তারপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।
(১) অর্থাৎ যখন যমীনের বাঁধন আলগা হয়ে যাবে এবং পাহাড় ঠিক এমনভাবে চলতে শুরু করবে। যেমন আকাশে মেঘেরা ছুটে চলে। কুরআনের অন্য এক জায়গায় এ অবস্থাটিকে এভাবে বলা হয়েছেঃ “আর আপনি পাহাড়গুলো দেখছেন এবং মনে করছেন এগুলো অত্যন্ত জমাটবদ্ধ হয়ে আছে কিন্তু এগুলো চলবে ঠিক যেমন মেঘেরা চলে।” (সূরা আন-নামলঃ ৮৮) আরো বলা হয়েছেঃ “যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে প্রবলভাবে এবং পর্বত চলবে দ্রুত; (সূরা আত-তূর: ৯–১০) আরো এসেছেঃ “আর পর্বতসমূহ হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।” (সূরা আল-কারি'আ: ৫)
(২) অর্থাৎ এর উপর কোন শ্যামলতা, বৃক্ষ তরুলতা এবং ঘরবাড়ি থাকবে না। সারাটা পৃথিবী হয়ে যাবে একটা ধুধু প্রান্তর। এ সূরার সূচনায় এ কথাটিই বলা হয়েছিল এভাবে যে, “এ পৃথিবী পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সেসবই আমি লোকদের পরীক্ষার জন্য একটি সাময়িক সাজসজ্জা হিসেবে তৈরী করেছি। এক সময় আসবে যখন এটি সম্পূর্ণ একটি পানি ও বৃক্ষ লতাহীন মরুপ্রান্তরে পরিণত হবে।”
(৪৭) (স্মরণ কর,) যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত(1) এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর; সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেও অব্যাহতি দেব না। (2)
(1) এখানে কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং তার বড় বড় ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। পর্বতকে সঞ্চালিত করার অর্থ, পাহাড় তার স্থান থেকে সরে যাবে এবং তা ধূনিত পশমের মত উড়তে থাকবে। وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِ ‘‘এবং পাহাড়গুলো ধূনিত রঙিন পশমের মত হয়ে যাবে।’’ (সূরা ক্বারেআহ ৫ আয়াত) আরো দেখুন, সূরা তূরের ৯-১০, সূরা নাম্লের ৮৮ এবং সূরা ত্বহা র ১০৫-১০৭নং আয়াতগুলো। যমীন থেকে এই শক্তিশালী পাহাড়গুলো যখন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তখন ঘর-বাড়ী, গাছপালা এবং এই ধরনের অন্যান্য জিনিসগুলো কিভাবে সব সব অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে? এই জন্যই পরে বলা হয়েছে, ‘‘তুমি যমীনকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর।’’
(2) অর্থাৎ, পূর্বের ও পরের, ছোট ও বড় এবং কাফের ও মু’মিন সকলকেই একত্রিত করব। কেউ যমীনের তলায় পড়ে থাকবে না এবং কবর থেকে বেরিয়ে কোথাও লুকাতে পারবে না।