ছুবহা-নাল্লাযীআছর-বিআ‘বদিহী লাইলাম মিনাল মাছজিদিল হার-মি ইলাল মাছজিদিল আকসাল্লাযী বা-রকনা- হাওলাহূলিনুরিয়াহূমিন আ-য়া-তিনা- ইন্নাহূ হুওয়াছছামী‘উল বাসীর।
সকল মহিমা তাঁর যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিবেলা ভ্রমণ করিয়েছিলেন পবিত্র মসজিদ থেকে দূরবর্তী মসজিদে -- যার পরিবেশ আমরা মঙ্গলময় করেছিলাম যেন আমরা তাঁকে দেখাতে পারি আমাদের কিছু নিদর্শন। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
ওয়া আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা ওয়া জা‘আলনা-হু হুদাল লিবানী ইছরঈলা আল্লাতাত্তাখিযূমিন দূনী ওয়াকীলা-।
আর আমরা মুসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম আর ইসরাইল বংশীয়দের জন্য আমরা একে পথনির্দেশক বানিয়েছিলাম এই বলে -- "আমাকে ছেড়ে দিয়ে কোনো কর্ণধার গ্রহণ করো না।
ওয়া কাদাইনা ইলা-বানী ইছরঈলা ফিল কিতা-বি লাতুফছিদুন্না ফিল আরদি মাররতাইনি ওয়া লাতা‘লুন্না ‘উলুওওয়ান কাবীর-।
আর আমরা ইসরাইল বংশীয়দের কাছে গ্রন্থের মধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছিলাম -- "তোমরা অবশ্য দুইবার পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, আর তোমরা নিশ্চয়ই ঘোর অহঙ্কারে অহঙ্কার করবে।"
ফাইযা-জাআ ওয়া‘দুঊলা-হুমা-বা‘আছনা -‘আলাইকুম ‘ইবা-দাল্লানাউলী বা’ছিন শাদীদিন ফাজা-ছূখিলা-লাদ দিয়া-রি ওয়া ক-না ওয়া‘দাম মাফ ‘ঊলা-।
অতঃপর যখন এই দুয়ের প্রথম ওয়াদার সময় এল তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম আমার অতিশয় শক্তিশালী বান্দাদের, তাই তারা ঘরে অন্দরমহলে ঢুকে ধ্বংসলীলা শুরু করল। আর এই ওয়াদা কার্যকর হয়েই ছিল।
ছু ম্মা রদাদনা-লাকুমুল কাররতা ‘আলাইহিম ওয়া আমদাদনা-কুম বিআমওয়া-লিওঁ ওয়া বানীনা ওয়া জা‘আলনা-কুম আকছার নাফীর-।
তারপর আমরা তাদের উপরে তোমাদের ফিরিয়ে দিলাম পালটা মোড, আর তোমাদের সাহায্য করলাম ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে, আর দলেবলে তোমাদের গরিষ্ট করলাম।
ইন আহছানতুম আহছানতুম লিআনফুছিকুম ওয়া ইন আছা’তুম ফালাহা- ফাইযাজাআ ওয়া‘দুল আ-খিরতি লিইয়াছূঊ উজূহাকুম ওয়ালিইয়াদখুলুল মাছজিদা কামা-দাখালূহু আওওয়ালা মাররতিওঁ ওয়া লিইউতাব্বিরূমা-‘আলাও তাতবীর-।
তোমরা যদি সৎকাজ কর তবে তোমাদের নিজেদের জন্যেই সৎকাজ করছো, আর যদি তোমরা মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যে। সুতরাং যখন পরবর্তী ওয়াদার সময় এল তখন যেন তারা তোমাদের মুখমন্ডল কালিমাচ্ছন্ন করতে পারে, আর যেন তারা মসজিদে ঢুকতে পারে যেমন ওরা প্রথমবার এতে ঢুকেছিল, আর যেন তারা পূর্ণ বিধ্বংসে ধ্বংস করতে পারে যা-কিছু তারা দখল করে।
‘আছা-রব্বুকুম আই ইঁয়ারহামাকুম ওয়া ইন ‘উততুম ‘উদ না- ওয়া জা‘আলনাজাহান্নামা লিলক-ফিরীনা হাসীর-।
হতে পারে যে তোমাদের প্রভু তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, কিন্তু যদি তোমরা ফেরো তবে আমরাও ফিরব। আর আমরা অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামকে কয়েদখানা বানিয়েছি।
ইন্না হা-যাল কুরআ-না ইয়াহদী লিল্লাতী হিয়া আকওয়ামুওয়াইউবাশশিরুল মু’মিনীনাল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাসসা-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরন কাবীর-।
নিঃসন্দেহ এই কুরআন পথ দেখায় সেইদিকে যা সঠিক, আর মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে তাদের সুসংবাদ দেয় যে তাদের জন্য রয়েছে মহান পারিশ্রমিক।
ওয়া জা‘আলনাল্লাইলা ওয়ান্নাহা-রআ-ইয়াতাইনি ফামা হাওনাআ-য়াতাল্লাইলি ওয়া জা‘আলনাআ-য়াতান্নাহা-রি মুবসিরতাল লিতাবতাগূফাদলাম মির রব্বিকুম ওয়ালিতা‘লামূ‘আদাদাছ ছিনীনা ওয়াল হিছা-বা ওয়া কুল্লা শাইয়িন ফাসসালনা-হু তাফসীলা-।
আর আমরা রাতকে এবং দিনকে বানিয়েছি দুটি নিদর্শন, কাজেই রাতের নিদর্শনকে আমরা মুছে ফেলি, আর দিনের নিদর্শনকে বানাই সুদৃশ্য যেন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে করুণাভান্ডার অণ্বেষণ করতে পার, আর যেন তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পার। আর সব-কিছুই আমরা বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।
ওয়া কুল্লা ইনছা-নিন আলঝামনা-হু তাইরহূফী ‘উনুকিহী ওয়ানুখরিজুলাহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি কিতা-বাইঁ ইয়ালক-হু মানশূর-।
আর প্রত্যেকটি মানুষ -- আমরা তার পাখি তার গলায় বেঁধে দিয়েছি। আর কিয়ামতের দিনে আমরা তার জন্য বের করে দেব একটি খাতা যা সে দেখতে পাবে সম্পূর্ণ খোলা।
মানিহতাদা-ফাইন্নামা-ইয়াহতাদী লিনাফছিহী ওয়ামান দাল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদিল্লু ‘আলাইহা ওয়ালা-তাঝিরু ওয়া-ঝিরতুওঁবিঝর উখর- ওয়ামা-কুন্নামু‘আযযি বীনা হাত্তা-নাব‘আছা রছূলা-।
যে কেউ সঠিক পথে চলে সে তো তবে নিজের জন্যেই সঠিক পথ ধরে, আর যে বিপথে যায় সে তো তবে নিজের বিরুদ্ধেই বিপথে চলে। আর একজন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আর আমরা শাস্তিদাতা নই যে পর্যন্ত না আমরা কোনো রসূল পাঠিয়েছি।
ওয়া ইযাআরদনাআননুহলিকা কারইয়াতান আমারনা-মুতরফীহা-ফাফাছাকূ ফীহাফাহাককা ‘আলাইহাল কাওলুফাদাম্মার না-হা-তাদমীর-।
আর যখন আমরা মনস্থ করি যে কোনো জনপদকে আমরা ধ্বংস করব তখন আমরা ওর সমৃদ্ধিশালী লোকদের কাছে নির্দেশ পাঠাই, কিন্তু তারা সেখানে গুন্ডামি করে, কাজেই আজ্ঞা তার উপরে ন্যায়সংগত হয়ে যায়। সুতরাং আমরা তাকে ধ্বংস করি পূর্ণ বিধ্বংসে।
ওয়া কাম আহলাকনা-মিনাল কুরূনি মিম বা‘দি নূহিওঁ ওয়া কাফা-বিরব্বিকা বিযুনূবি ‘ইবা-দিহী খাবীরম বাসীর-।
আর নূহ্-এর পরে কত জনপদকে আমরা ধ্বংস করেছি! আর তোমার প্রভুই তাঁর বান্দাদের পাপাচার সন্বন্ধে খবরদার, দর্শকরূপে যথেষ্ট।
মান ক-না ইউরীদুল ‘আ-জিলাতা ‘আজ্জালনা-লাহূফীহা-মা-নাশাউ লিমান নুরীদুছুম্মা জা‘আলনা-লাহূজাহান্নামা ইয়াসলা-হা-মাযমূমাম মাদহূর-।
যে কেউ কামনা করে বর্তমানকাল, আমরা তার জন্য সে-ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা করি তাই ত্বরান্বিত করি -- যার জন্য আমরা মনস্ত করি, তারপর তার জন্যে আমরা ধার্য করি জাহান্নাম, তাতে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত বিতাড়িত হয়ে।
ওয়া মান আর-দাল আ-খিরতা ওয়া ছা‘আ- লাহা- ছা‘ইয়াহা- ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফাউলাইকা ক-না ছা‘ইউহুম মাশকূর-।
আর যে কেউ পরকাল কামনা করে, আর তার জন্যে চেষ্টা করে যথাযথ প্রচেষ্টায় এবং সে মুমিন হয়, তাহলে এরাই -- এদের প্রচেষ্টা হবে স্বীকৃত।
কুল্লান নুমিদ্দুহাউলাই ওয়া হাউলাই মিন ‘আতাই রব্বিকা ওয়ামা-ক-না ‘আতাউ রব্বিকা মাহজূর-।
প্রত্যেককেই আমরা দিই, এদের এবং ওদের, তোমার প্রভুর দানসামগ্রী থেকে। আর তোমার প্রভুর দানসামগ্রী সীমাবদ্ধ নয়।
উনজু র কাইফা ফাদ্দালনা-বা‘দাহুম ‘আলা-বা‘দিওঁ ওয়ালাল আ-খিরতুআকবারু দারজা-তিওঁ ওয়া আকবারু তাফদীলা-।
দেখ কেমন ক’রে আমরা তাদের কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি অন্যের উপরে। আর পরকাল নিশ্চয়ই মর্যাদার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মহিমার দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।
ওয়া কাদা-রব্বুকা আল্লা-তা‘বুদূ ইল্লাইয়্যা-হু ওয়াবিলওয়া-লিদাইনি ইহছা-নান ইম্মা-ইয়াবলুগান্না ‘ইনদাকাল কিবার আহাদুহুমাআও কিলা-হুমা-ফালা-তাকুল লাহুমা উফফিওঁ ওয়ালা-তানহারহুমা-ওয়া কুল লাহুমা-কাওলান কারীমা-।
আর তোমার প্রভু বিধান করেছেন -- তাঁকে ছাড়া তোমরা অন্যের উপাসনা করো না, আর পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। যদি তোমাদের সামনে তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছোয় তবুও তাদের প্রতি "আঃ" বলো না, আর তাদের তিরস্কার করো না, বরং তাদের প্রতি বলবে বিনয়নম্র কথা।
ওয়াখফিদলাহুমা-জানা-হাযযুলিল মিনার রহমাতি ওয়াকু র রব্বির হামহুমা-কামারব্বাইয়া-নী সাগীর-।
আর তাদের উভয়ের প্রতি আনত করো করুণার সাথে আনুগত্যের ডানা দুখানা, আর বলো -- "আমার প্রভু! তাঁদের উভয়ের প্রতি করুণা করো যেমন তাঁরা ছোটবেলায় আমাকে প্রতিপালন ক’রে বড় করেছন।"
রব্বুকুম আ‘লামুবিমা ফী নুফূছিকুম ইন তাকূনূসা-লিহীনা ফাইন্নাহূক-না লিল আওওয়া-বীনা গাফূর-।
তোমাদের প্রভু ভাল জানেন তোমাদের অন্তরে যা-কিছু আছে। তোমরা যদি সৎকর্মপরায়ণ হও তবে নিঃসন্দেহ তিনি মুখাপেক্ষীদের প্রতি পরিত্রাণকারী।
ওয়া ইম্মা-তু‘রিদান্না ‘আনহুমুবতিগাআ রহমাতিম মির রব্বিকা তারজূহা-ফাকুল লাহুম কাওলাম মাইছূর-।
আর তুমি যদি তাদের থেকে বিমুখ হও অথচ তোমার প্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ লাভ করতে চাও যা তুমি প্রত্যাশা কর, তাহলে তাদের সঙ্গে সদয় সুরে কথা বলো।
ওয়ালা- তাজ‘আল ইয়াদাকা মাগলূলাতান ইলা- ‘উনুকিকা ওয়ালা- তাবছুতহা- কুল্লাল বাছতিফাতাক‘উদা মালূমাম মাহছূর-।
আর তোমার হাত তোমার গলার সঙ্গে আটকে রেখো না, আর তা প্রসারিত করো না পুরো সম্প্রসারণে, পাছে তুমি বসে থাক নিন্দিত সর্বস্বান্ত হয়ে।
ইন্না রব্বাকা ইয়াবছুতুর রিঝকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ইন্নাহূক-না বি‘ইবা-দিহী খাবীরম বাসীর-।
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু রিযেক বাড়িয়ে দেন যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন আর মেপেজোখে দেন। নিঃসন্দেহ তিনি তাঁর বান্দাদের চির ওয়াকিফহাল, সর্বদ্রষ্টা।
ওয়ালা-তাকতুলূআওলা-দাকুম খাশইয়াতা ইমলা-কিন নাহনুনারঝুকুহুম ওয়া ইয়্যাকুম ইন্না কাতলাহুম ক-না খিতআন কাবীর-।
আর তোমাদের সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না দারিদ্রের ভয়ে। আমরাই তাদের রিযেক দিই আর তোমাদেরও। নিঃসন্দেহ তাদের মেরে ফেলা এক মহাপাপ।
ওয়ালা-তাকতুলুন্নাফছাল্লাতী হাররমাল্লা-হু ইল্লা-বিল হাক্কি ওয়া মান কুতিলা মাজলূমান ফাকাদ জা‘আলনা-লিওয়ালিইয়িহী ছুলতা-নান ফালা-ইউছরিফ ফিল কাতলি ইন্নাহূক-না মানসূর-।
আর কোনো সত্ত্বাকে যথাযথ কারণ ব্যতীত হত্যা করো না যাকে আল্লাহ্ নিষেধ করেছেন। আর যে কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হয় ইতিমধ্যে আমরা তো তার অভিভাবককে অধিকার দিয়েছি, কাজেই হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। সে নিশ্চয়ই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
ওয়ালা-তাকরবূমা-লাল ইয়াতীমি ইল্লা-বিল্লাতী হিয়া আহছানুহাত্তা-ইয়াবলুগা আশুদ্দাহূ ওয়া আওফূবিল‘আহদি ইন্নাল ‘আহদা ক-না মাছউলা।
আর এতীমের সম্পত্তির কাছে যেও না যা শ্রেষ্ঠতম সেই উদ্দেশ্য ব্যতীত, যে পর্যন্ত না সে তার সাবালকত্বে পৌঁছে। আর প্রতিশ্রুতি পালন করো, নিঃসন্দেহ প্রতিশ্রুতি সন্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে।
ওয়া আওফুল কাইলা ইযা-কিলতুম ওয়াঝিনূবিলকিছতা-ছিল মুছতাকীমি যা-লিকা খাইরুওঁ ওয়া আহছানুতা’বীলা-।
আর পুরো মাপ দিয়ো যখন তোমরা মাপজোখ কর, আর ওজন করো সঠিক পাল্লায়। এটিই উত্তম আর পরিণামে শ্রেষ্ঠ।
ওয়ালা-তাকফুমা-লাইছা লাকা বিহী ‘ইলমুন ইন্নাছ ছাম‘আ ওয়াল বাসার ওয়াল ফুআ-দা কুল্লুউলাইকা ক-না ‘আনহু মাছঊলা-।
আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহ শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ -- এ দের প্রত্যেকটিকে তাদের সন্বন্ধে সওয়াল করা হবে।
ওয়া লা-তামশি ফিল আরদিমারহান ইন্নাকা লান তাখরিকাল আরদা ওয়া লান তাবলুগাল জিবা-লা তূলা-।
আর দুনিয়াতে গর্বভরে চলাফেরা করো না, নিঃসন্দেহ তুমি তো কখনো পৃথিবীটাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করতে পারবে না আর উচ্চতায় পাহাড়ের নাগালও পেতে পারবে না।
যা-লিকা মিম্মাআওহাইলাইকা রব্বুকা মিনাল হিকমাতি ওয়ালা-তাজ‘আল মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খার ফাতুলক-ফী জাহান্নামা মালূমাম মাদহূর-।
এগুলো হচ্ছে তোমার প্রভু জ্ঞানের বিষয়ে তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ করেছেন তার মধ্যে থেকে। সুতরাং আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য উপাস্য দাঁড় করো না, পাছে তুমি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়ে যাও নিন্দিত পরিত্যক্ত অবস্থায়।
আফাআসফা-কুম রব্বুকুম বিলবানীনা ওয়াত্তাখাযা মিনাল মালাইকাতি ইনা-ছান ইন্নাকুম লাতাকূলূনা কাওলান ‘আজীমা-।
তবে কি তোমাদের প্রভু তোমাদেরে ভূষিত করেছেন পুত্রসন্তানদের দিয়ে, এবং তিনি নিয়েছেন ফিরিশ্তাদের থেকে কন্যাসব? নিঃসন্দেহ তোমরা তো বলছ এক ভয়ানক কথা!
তুছাব্বিহুলাহুছছামা-ওয়া-তুছ ছাব ‘উ ওয়াল আর দুওয়া মান ফীহিন্না ওয়া ইম মিন শাইয়িন ইল্লা-ইউছাব্বিহুবিহামদিহী ওয়ালা-কিল লা-তাফকাহূনা তাছবীহাহুম ইন্নাহূ ক-না হালীমান গাফূর-।
সাত আসমান ও জমিন এবং তাদের মধ্যে যারা রয়েছে তারা তাঁর মহিমা ঘোষণা করে। আর এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসার সাথে মহিমা ঘোষণা করে না, কিন্তু তোমরা তাদের মহিমাকীর্তন অনুধাবন করতে পার না। নিঃসন্দেহ তিনি হচ্ছেন অতি অমায়িক, পরিত্রাণকারী।
ওয়া ইযা-কার’তাল কুরআ-না জা‘আলনা-বাইনাকা ওয়া বাইনাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরতি হিজা-বাম মাছতূর-।
আর যখন তুমি কুরআন পাঠ কর তখন তোমার মধ্যে ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে আমরা স্থাপন করি এক অদৃশ্য পর্দা।
ওয়া জা‘আলনা ‘আলা-কুলূবিহিম আকিন্নাতান আইঁ ইয়াফকাহূহু ওয়া ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরওঁ ওয়া ইযা-যাকারতা রব্বাকা ফিল কুরআ-নি ওয়াহদাহূওয়াল্লাও ‘আলা আদবা-রিহিম নুফূর-।
আর আমরা তাদের হৃদয়ের উপরে এক আবরণ দিয়ে দিয়েছি পাছে তারা এটি উপলব্ধি করতে পারে, আর তাদের কানে বধিরতা। আর যখন তুমি কুরআনে তোমার প্রভুব -- তাঁর একত্বের উল্লেখ কর তখন তারা তাদের পিঠ ঘুরিয়ে ফিরে যায় বিতৃষ্ণায়।
নাহনুআ‘লামুবিমা-ইয়াছতামি‘ঊনা বিহী ইয ইয়াছতামি‘ঊনা ইলাইকা ওয়া ইযহুম নাজওয়াইযইয়াকূলুজ্জা-লিমূনা ইন তাত্তাবি‘উনা ইল্লা-রজুলাম মাছহূর-।
আমরা ভাল জানি যখন তারা এটি শুনতে যায় তখন তারা তোমার প্রতি শোনে, আর যখন তারা সলাপরামর্শ করে, দেখো! অন্যায়কারীরা বলে -- "তোমরা তো শুধু এক জাদুগ্রস্ত লোককে অনুসরণ করছ।"
আও খালকাম মিম্মা-ইয়াকবুরু ফী সূদূ রিকুম ফাছাইয়াকূলূনা মাইঁ ইউ‘ঈদুনা- কুল্লিলাযী ফাতারকুম আওওয়ালা মাররতিন ফাছাইউনগিদূনা ইলাইকা রুঊছাহুম ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হুওয়া কুল ‘আছাআইঁ ইয়াকূনা কারীবা-।
অথবা আর কোনো সৃষ্টবস্তু যা তোমাদের ধারণায় আরো শক্ত!" তখন তারা বলবে -- "কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে?" বলো -- "যিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছিলেন।" তখন তারা তোমার দিকে তাদের মাথা নাড়বে ও বলবে -- "এ কখন হবে!" তুমি বলো -- "হতে পারে এ নিকটবর্তী।
ইয়াওমা ইয়াদ‘ঊকুম ফাতাছতাজীবূনা বিহামদিহী ওয়া তাজুননূনা ইল্লাবিছতুম ইল্লাকালীলা-।
যেদিন তিনি তোমাদের ডাকবেন তখন অচিরেই তোমরা সাড়া দেবে তাঁর প্রশংসার সাথে, আর তোমরা ভাববে যে তোমরা তো অবস্থান করছিলে শুধু অল্পক্ষণ।
ওয়া কুল লি‘ইবা-দী ইয়াকূলুল্লাতী হিয়া আহছানু ইন্নাশশাইতা-না ইয়ানঝাগু বাইনাহুম ইন্নাশশাইতা-না ক-না লিলইনছা-নি ‘আদুওওয়াম মুবীনা-।
আর আমার বান্দাদের বল যে তারা যেন কথা বলে যা সর্বোৎকৃষ্ট। নিঃসন্দেহ শয়তান তাদের মধ্যে বিরোধের উসকানি দেয়। শয়তান মানুষের জন্য নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু।
রব্বুকুম আ‘লামুবিকুম ইয়ঁইয়াশা’ ইয়ারহামকুম আও ইয়ঁইয়াশা’ ইউ‘আযযি বকুম ওয়ামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম ওয়াকীলা-।
তোমাদের প্রভু তোমাদের ভালভাবে জানেন। তিনি যদি ইচ্ছে করেন তবে তিনি তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, অথবা তিনি যদি চান তো তোমাদের শাস্তি দেবেন। আর তোমাকে আমরা পাঠাই নি তাদের উপরে কর্ণধাররূপে।
ওয়া রব্বুকা আ‘লামুবিমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ালাকাদ ফাদ্দালনাবা‘দান্নাবিইয়ীনা ‘আলা-বা‘দিওঁ ওয়া আ-তাইনা-দা-ঊদা ঝাবূর-।
আর তোমার প্রভু ভাল জানেন তাদের যারা আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে। আর আমরা নিশ্চয় কোনো-কোনো নবীকে প্রাধান্য দিয়েছি অন্যদের উপরে, আর দাউদকে আমরা দিয়েছিলাম যবূর।
কুলিদ‘উল্লাযীনা ঝা‘আমতুম মিন দূনিহী ফালা- ইয়ামলিকূনা কাশফাদদুররি ‘আনকুম ওয়ালা-তাহবীলা-।
বলো -- "তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের প্রতি ঝোঁকো তাদের ডাকো, কিন্তু তারা তোমাদের থেকে বিপদ-আপদ দূর করার কোনো ক্ষমতা রাখে না, আর তা বদলাবারও না।"
উলাইকাল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা ইয়াবতাগূনা ইলা-রব্বিহিমুল ওয়াছীলাতা আইয়ুহুম আকরবু ওয়া ইয়ারজূনা রহমাতাহূও ইয়াখা-ফূনা ‘আযা-বাহূ ইন্না আযা-বা রব্বিকা ক-না মাহযূর-।
ঐ সব যাদের তারা ডাকে তারা তাদের প্রভুর কাছে অছিলা খোঁজে -- তাদের মধ্যের কে হবে নিকটতম, আর তারা তাঁর করুণার প্রত্যাশা করে ও তাঁর শাস্তির ভয় করে। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর শাস্তিকে এড়িয়ে চলতে হবে।
ওয়া ইম্মিন কারইয়াতিন ইল্লা-নাহনুমুহলিকূহা-কাবলা ইয়াওমিল কিয়া-মাতি আও মু‘আযযি বূহা-‘আযা-বান শাদীদান ক-না যা-লিকা ফিল কিতা-বি মাছতূর-।
আর এমন কোনো জনপদ নেই যাকে না আমরা কিয়ামতের দিনের আগে বিধ্বংস করব, অথবা কঠোর শাস্তিতে তাদের শাস্তি দেব। এটি গ্রন্থের মধ্যে লিপিবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ওয়ামা মানা‘আনাআননুরছিলা বিলআ-য়া-তি ইল্লাআন কাযযাবা বিহাল আওওয়ালূনা ওয়া আ-তাইনা-ছামূদান না-কাতা মুবসিরতান ফাজালামূবিহা- ওয়ামা- নুরছিলুবিল আয়া-তি ইল্লা- তাখবীফা-।
আর আমাদের নিদর্শনসমূহ পাঠাতে কিছুই আমাদের বাধা দেয় না এ ভিন্ন যে প্রাচীনকালীনরা সে-সব প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর আমরা ছামূদ জাতিকে দিয়েছিলাম উষ্টী -- এক স্পষ্ট নিদর্শনরূপে, কিন্তু তারা ওর প্রতি অন্যায় করেছিল। বস্তুতঃ আমরা নিদর্শনসমূহ পাঠাই না হুশিয়াঁর করার জন্যে ছাড়া।
ওয়া ইযকুলনা-লাকা ইন্না রব্বাকা আহা-তা বিন্না-ছি ওয়ামা-জা‘আলনার রু’ইয়াল্লাতীআরইনা-কা ইল্লা-ফিতনাতাললিন্না-ছি ওয়াশশাজারতাল মাল‘ঊনাতা ফিল কুরআ-নি ওয়ানুখাওবিফুহুম ফামা-ইয়াঝীদুহুম ইল্লা-তুগইয়া-নান কাবীর-।
আর স্মরণ করো! আমরা তোমাকে বলেছিলাম -- "নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু মানুষকে ঘেরাও করে আছেন। আর তো মাকে যা দেখিয়েছিলাম সেই দৈবদর্শন আমরা মানুষের জন্যে একটি পরীক্ষার জন্য ছাড়া বানাই নি, আর কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষও। আর আমরা তাদের হুশিয়াঁর করছি, কিন্তু এটি তাদের তীব্র অবাধ্যতা ছাড়া আর কিছুই বাড়ায় না।
ওয়া ইযকুলনা-লিলমালাইকাতিছ জু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লাইবলীছা কালা আআছজু দুলিমান খালাকতা তীনা-।
আর আমরা যখন ফিরিশ্তাদের বললাম -- "আদমকে সিজদা করো", তখন তারা সিজদা করল, ইবলিস ব্যতীত। সে বললে -- "আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে তুমি কাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছ?"
ক-লা আরআইতাকা হা-যাল্লাযী কাররমতা ‘আলাইইয়া লাইন আখখারতানি ইলাইয়াওমিল কিয়া-মাতি লাআহতানিকান্না যুররিইইয়াতাহূইল্লা-কালীলা-।
সে বললে -- "দেখুন তো! এই বুঝি সে যাকে আপনি আমার উপরে মর্যাদা দিলেন? কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে আপনি অবকাশ দেন তবে আমি আলবৎ তার বংশধরদের সর্বনাশ করব অল্প কয়েকজন ছাড়া।"
ওয়াছতাফঝিঝ মানিছতাতা‘তা মিনহুম বিসাওতিকা ওয়া আজলিব ‘আলাইহিম বিখাইলিকা ওয়া রজিলিকা ওয়া শা-রিকহুম ফিল আমওয়া-লি ওয়াল আওলা-দি ওয়া‘ইদহুম ওয়ামাইয়া‘ইদুহুমুশশাইতা-নুইল্লা-গুরূর-।
"আর তাদের যাকে পার তোমার আহ্বানে প্রতারিত কর, আর তাদের উপরে হামলা চালাও তোমার ঘোড়সওয়ারদের দ্বারা, আর তোমার পদাতিক বাহিনীর দ্বারা, আর তাদের অংশী হও ধনসম্পত্তিতে এবং সন্তানসন্ততিতে, আর তাদের ওয়াদা করো।" আর শয়তান তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় না প্রতারণা করা ছাড়া।
রব্বুকুমুল্লাযী ইউঝজী লাকুমুল ফুলকা ফিল বাহরি লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ইন্নাহূকানা বিকুম রহীমা-।
তোমাদের প্রভু তিনিই যিনি তোমাদের জন্য সাগরে জাহাজ পরিচালিত করেন যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে অনুসন্ধান করতে পার। নিঃসন্দেহ তিনি তোমাদের জন্য সদা অফুরন্ত ফলদাতা।
ওয়া ইযা-মাছছাকুমুদদুররু ফিল বাহরি দাল্লা মান তাদ‘ঊনা ইল্লাইয়্যা-হু ফালাম্মানাজ্জা-কুম ইলাল বাররি আ‘রদতুম ওয়া ক-নাল ইনছা-নুকাফূর-।
আর যখন সমুদ্রের মধ্যে বিপদ তোমাদের স্পর্শ করে তখন যাদের তোমরা ডাকো তারা চলে যায় কেবলমাত্র তিনি ছাড়া, কিন্তু তিনি যখন তোমাদের উদ্ধার ক’রে তীরে নিয়ে আসেন তখন তোমরা ফিরে যাও। আর মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ।
আফাআমিনতুম আইঁ ইয়াখছিফা বিকুমজা-নিবাল বাররি আও ইউরছিলা ‘আলাইকুমহা-সিবান ছু ম্মা লা-তাজিদূলাকুম ওয়াকীলা-।
তবে কি তোমরা নিশ্চিত বোধ কর যে তিনি কোনো জমির কিনারায় তোমাদের নিশ্চিহ করবেন না অথবা তোমাদের উপরে কোনো কঙ্করময় ঝড় বর্ষণ করবেন না? তখন তোমরা তোমাদের জন্য কোনো কর্ণধার পাবে না।
আম আমিনতুম আইঁ ইউ‘ঈদাকুম ফীহি তা-রতান উখর-ফাইউরছিলা ‘আলাইকুমকাসিফাম মিনার রীহি ফাইউগরিকাকুম বিমা-কাফারতুম ছু ম্মা লা-তাজিদূলাকুম ‘আলাইনা বিহী তাবী‘আ-।
অথবা তোমরা কি নিশ্চিত বোধ কর যে তোমাদের এই দশায় আর একবার নিয়ে যাবেন না, তখন তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠাবেন এক প্রচন্ড ঝড় এবং তোমাদের ডুবিয়ে দেবেন যেহেতু তোমরা অবিশ্বাস করেছিলে? তখন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জন্য এই ব্যাপারে কোনো প্রতিকারকারী পাবে না?
ওয়ালাকাদ কাররমনা-বানীআ-দামা ওয়া হামালনা-হুম ফিল বাররি ওয়াল বাহরি ওয়া রঝাকনা হুম মিনাততাইয়িবা-তি ওয়া ফাদ্দালনা-হুম ‘আলা কাছীরিম মিম্মান খালাকনাতাফদীলা-।
আর আমরা অবশ্য আদমসন্তানদের মর্যাদাদান করেছি, আর আমরা তাদের বহন করি স্থলে ও জলে, এবং তাদের রিযেক দান করেছি উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়ে, আর আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপরে আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্বের সাথে।
ইয়াওমা নাদ‘ঊ কুল্লা উনা-ছিম বিইমা-মিহিম ফামান উতিয়া কিতা-বাহূবিইয়ামীনিহী ফাউলাইকা ইয়াকরঊনা কিতা-বাহুম ওয়ালা-ইউজলামূনা ফাতীলা-।
সেইদিন আমরা প্রত্যেক জনসমাজকে আহ্বান করব তাদের ইমাম সহ। সুতরাং যাকে তার কিতাব তার ডান হাতে দেয়া হবে তারা তবে তাদের কিতাব পড়বে, আর তাদের প্রতি খেজুর-বিচির-পাতলা-পরত পরিমাণেও অন্যায় করা হবে না।
ওয়া ইন ক-দূলাইয়াফতিনূনাকা ‘আনিল্লাযীআওহাইনাইলাইকা লিতাফতারিয়া ‘আলাইনা-গাইরহূ ওয়া ইযাল্লাত্তাখযূকা খালীলা-।
আর অবশ্যই তারা মতলব করেছিল তোমার কাছে আমরা যা প্রত্যাদেশ দিয়েছি তা থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে, যেন তুমি আমাদের বিরুদ্ধে তার পরিবর্তে অন্য কিছু জাল কর, আর তখন তারা তোমাকে নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে অন্তরঙ্গ বান্ধবরূপে।
ইযাল্লাআযাকনা-কা দি‘ফাল হায়া-তি ওয়া দি‘ফাল মামা-তি ছু ম্মা লা-তাজিদুলাকা ‘আলাইনা-নাসীর-।
সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম ইহজীবনে এবং দ্বিগুণ মৃত্যুকালে, তখন আমাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
ওয়া ইন ক-দূলাইয়াছতাফিঝঝূনাকা মিনাল আরদি লিইউখরিজূকা মিনহা- ওয়া ইযাল্লা ইয়ালবাছূনা খিলা-ফাকা ইল্লা-কালীলা-।
আর তারা নিশ্চয় চেয়েছিল যে দেশ থেকে তোমাকে তারা উৎখাত করবে যাতে তারা তোমাকে সেখানে থেকে বহিস্কার করতে পারে। আর সেক্ষেত্রে তোমার পরে তারা টিকে থাকত না অল্পকাল ছাড়া।
ছুন্নাতা মান কাদ আরছালনা-কাবলাকা মিররুছুলিনা-ওয়ালা-তাজিদুলিছুন্নাতিনা-তাহবীলা।
এটিই রীতি তোমার আগে আমাদের রসূলদের মধ্যের যাদের আমরা পাঠিয়েছিলাম তাঁদের সন্বন্ধে, আর আমাদের রীতির কোনো পরিবর্তন তুমি পাবে না।
আকিমিসসালা-তা লিদুলূকিশশামছি ইলা-গাছাকিল্লাইলি ওয়া কুরআ-নাল ফাজরি ইন্না কুরআ-নাল ফাজরি ক-না মাশহূদা-।
নামায কায়েম করো সূর্যের হেলে পড়া থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত, আর ফজরের কুরআন পাঠ। নিঃসন্দেহ ফজরের কুরআন- পাঠ পরিলক্ষিত হয়।
ওয়া মিনাল্লাইলি ফাতাহাজ্জাদ বিহী নাফিলাতাল্লাকা ‘আছাআইঁ ইয়াব‘আছাকা রব্বুকা মাক-মাম মাহমূদা-।
আর রাতের মধ্যে থেকে এর দ্বারা জাগরণে কাটাও -- তোমার জন্য এক অতিরিক্ত, হতে পারে তোমার প্রভু তোমাকে উন্নত করবেন এক সুপ্রশংসিত অবস্থায়।
ওয়া কুররব্বি আদখিলনী মুদ খালা সিদকিওঁ ওয়া আখরিজনী মুখরজা সিদকিওঁ ওয়াজ‘আলনী মিল্লাদুনকা ছুলতা-নান নাসীর-।
আর তুমি বলো -- "আমার প্রভু! আমাকে প্রবেশ করতে দাও মঙ্গলজনক প্রবেশকরণে, এবং আমাকে বের করে আনো মঙ্গলময় নির্গমনে, আর তোমার কাছ থেকে আমাকে দাও একটি সহায়ক কর্তৃত্ব।"
ওয়া নুনাঝঝিলুমিনাল কুরআ-নি মা হুওয়া শিফাউওঁ ওয়া রহমাতুল লিলমু’মিনীনা ওয়ালা- ইয়াঝীদুজ্জা-লিমীনা ইল্লা-খাছা-র-।
আর আমরা কুরআনের মধ্যে অবতীর্ণ করেছি যা হচ্ছে বিশ্বাসীদের জন্য উপশম এবং করুণা, আর এটি অন্যায়কারীদের ক্ষতিসাধন ছাড়া আর কিছু বাড়ায় না।
ওয়া ইযাআন‘আমনা-‘আলাল ইনছা-নি আ‘রদা-ওয়া নাআ-বিজা-নিবিহী ওয়া ইযা-মাছছাহুশ শাররু ক-না ইয়াঊছা-।
আর যখন আমরা মানুষের প্রতি করুণা বর্ষণ করি সে ঘুরে দাঁড়ায় ও অহংকার দেখায়, আর যখন মন্দ তাকে স্পর্শ করে সে হতাশ হয়ে যায়।
ওয়া ইয়াছআলূনাকা ‘আনির রূহি কুলির রূহুমিন আমরি রববী ওয়ামাঊতীতুম মিনাল ‘ইল মি ইল্লা-কালীলা-।
আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে রূহ সম্পর্কে। বলো -- "রূহ আমার প্রভুর নির্দেশাধীন, আর তোমাদের তো জ্ঞানভান্ডারের সৎসামান্য বৈ দেওয়া হয় নি।"
ওয়া লাইন শি’না-লানাযহাবান্না বিল্লায ীআওহাইনাইলাইকা ছু ম্মা লা-তাজিদুলাকা বিহী ‘আলাইনা-ওয়াকীলা-।
আর আমরা যদি চাইতাম তবে তোমার কাছে যা প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছি তা আমরা আলবৎ প্রত্যাহার করতাম, তখন এ বিষয়ে তুমি আমাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যনির্বাহক পেতে না, --
কুল লাইনিজ তামা‘আতিল ইনছুওয়াল জিন্নু‘আলাআইঁ ইয়া’তূবিমিছলি হা-যাল কুরআনি লা-ইয়া’তূনা বিমিছলিহী ওয়া লাও কা -না বা‘দুহুম লিবা‘দিন জাহীর-।
বলো -- "যদি মানুষ ও জিন সম্মিলিত হতো এই কুরআনের সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে, তারা এর মতো কিছুই আনতে পারত না, যদিও-বা তাদের কেউ-কেউ অন্যদের পৃষ্ঠপোষক হতো।"
ওয়া লাকাদ সাররফনা-লিন্না-ছি ফী হা-যাল কুরআ-নি মিন কুল্লি মাছালিন, ফাআবা আকছারুন্না-ছি ইল্লা-কুফূর-।
আর আমরা অবশ্যই লোকেদের জন্য এই কুরআনে সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সব-কিছুতেই অসম্মত।
আও তুছকিতাছছামাআ কামা-ঝা‘আমতা ‘আলাইনা-কিছাফান আও তা’তিয়া বিল্লা-হি ওয়াল মালাইকাতি কাবীলা-।
"অথবা তুমি আকাশকে আমাদের উপরে নামাবে খন্ড-বিখন্ড ক’রে যেমন তুমি ভাব, নতুবা তুমি আল্লাহ্কে ও ফিরিশ্তাগণকে সামনা-সামনি নিয়ে আসবে,
আও ইয়াকূনা লাকা বাইতুম মিন ঝুখরুফিন আও তারক-ফিছছামাই ওয়ালান নু’মিনা লিরুকিইইকা হাত্তা-তুনাঝঝিলা ‘আলাইনা-কিতা-বান নাকরউহূ কুল ছুবহা-না রববী হাল কুনতুইল্লা-বাশারর রছূলা-।
নয়ত তোমার জন্য হোক একটি সোনার তৈরি ঘর, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে। আর আমরা কখনো তোমার ঊর্ধ্বারোহণে বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য এক কিতাব নামিয়ে আনো -- যা আমরা পড়তে পারি।" বলো, -- "সকল মহিমা আমার প্রভুর! আমি কি একজন মানুষ -- একজন রসূল ছাড়া অন্য কিছু?
ওয়ামা- মানা‘আন্না-ছা আইঁ ইউ’মিনূ ইয জাআহুমুল হুদা ইল্লাআন ক-লূ আবা‘আছাল্লা-হু বাশারর রছূলা-।
আর লোকগুলোকে বিশ্বাস স্থাপন করতে অন্য কিছু বাধা দেয় না যখন তাদের কাছে হেদায়ত আসে এই ভিন্ন যে তারা বলে -- "আল্লাহ্ কি একজন মানুষকেই রসূল ক’রে দাঁড় করিয়েছেন?"
কুল্লাও ক-না ফিল আরদি মালাইকাতুইঁ ইয়ামশূনা মুতমাইন্নীনা লানাঝঝালনা‘আলাইহিম মিনাছছামাই মালাকার রছূলা-।
তুমি বলো -- "যদি পৃথিবীতে ফিরিশ্তারা চলাফেরা করত নিশ্চিন্তভাবে, তবে আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাছে আকাশ থেকে একজন ফিরিশ্তাকেই পাঠাতাম রসূলরূপে।"
কুল কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম বাইনী ওয়া বাইনাকুম ইন্নাহূক-না বি‘ইবা-দিহী খাবীরম বাসীর-।
বলো -- "আল্লাহই আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। নিঃসন্দেহ তিনি তাঁর বান্দাদের সন্বন্ধে চির- ওয়াকিফহাল, সর্বদ্রষ্টা।"
ওয়া মাইঁ ইয়াহদিল্লা -হু ফাহুওয়াল মুহতাদি ওয়ামাইঁ ইউদলিলফালান তাজিদালাহুম আওলিয়াআ মিন দূ নিহী ওয়ানাহশুরুহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আলা-ওজূহিহিম ‘উমইয়াওঁ ওয়া বুকমাওঁ ওয়া সুম্মাম মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু কুল্লামা-খাবাত ঝিদনা-হুম ছা‘ঈর-।
আর যাকে আল্লাহ্ পথ দেখান সে তবে পথপ্রাপ্ত, আর যাকে তিনি বিপথে চলতে দেন তাদের জন্য তুমি পাবে না তাঁর ব্যতিরেকে কোনো অভিভাবক। আর কিয়ামতের দিনে আমরা তাদের সমবেত করব তাদের মুখের উপরে -- অন্ধ, আর বোবা এবং বধির। তাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম। যখনই তা ঝিমিয়ে আসবে আমরা তাদের জন্য শিখা বাড়িয়ে দেব!
যা-লিকা জাঝাউহুম বিআন্নাহুম কাফারূবিআ-য়া-তিনা- ওয়াক-লূ আইযা- কুন্না‘ইজা-মাওঁ ওয়া রুফা-তান আইন্না-লামাব‘ঊছূনা খালকান জাদীদা-।
এই হচ্ছে তাদের প্রতিদান কেননা তারা আমাদের নিদের্শাবলী অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল -- "কী! আমরা যখন হাড়-ও ধুলোকণা হয়ে যাব তখন কি আমরা সত্যই পুনরুত্থিত হব নতুন সৃষ্টিরূপে?"
আওয়া লাম ইয়ারও আন্নাল্লা-হাল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ক-দিরুন ‘আলাআইঁ ইয়াখলুকা মিছলাহুম ওয়া জা‘আলা লাহুম আজালাল লা-রইবা ফীহি ফাআবাজ্জা-লিমূনা ইল্লা-কুফূর-।
তারা কি দেখছে না যে আল্লাহ্, যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য স্থির করেছেন একটি নির্ধারিত কাল -- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্যায়কারীরা প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর সবটাতেই অসম্মত থাকে।
কুল্লাও আনতুম তামলিকূনা খাঝাইনা রহমাতি রববীইযাল্লাআমছাকতুম খাশইয়াতাল ইনফা-কি ওয়া ক-নাল ইনছা-নুকাতূর-।
বলো -- "যদি তোমরা আমার প্রভুর করুণা-ভান্ডারের উপরে কর্তৃত্ব করতে তাহলে তোমরা নিশ্চয়ই তা ধরে রাখতে খরচ করার ভয়ে।" আর মানুষ বড় কৃপণ।
ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছা-তিছ‘আ আ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিন ফাছআল বানী ইছরঈলা ইয জাআহুম ফাক-লা লাহূফির‘আউনুইন্নী লাআজুন্নুকা ইয়া-মূছামাছহূর-।
আর আমরা আলবৎ মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম, সুতরাং ইসরাইলের বংশধরদের জিজ্ঞেস করে দেখ -- যখন তিনি তাদের কাছে এসেছিলেন, -- ফিরআউন তখন তাঁকে বলেছিল -- "আমি অবশ্য তোমাকে, হে মূসা! মনে করি জাদুগ্রস্ত।"
ক-লা লাকাদ ‘আলিমতা মাআনঝালা হাউলাই ইল্লা-রব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিবাসাইর ওয়া ইন্নী লাআজুন্নুকা ইয়া-ফির‘আওনুমাছবূর-।
তিনি বললেন -- "তুমি নিশ্চয়ই জান যে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভুর ব্যতিরেকে অন্য কেউ এইসব নিদর্শন পাঠান নি, আর আমি তো তোমাকেই, হে ফিরআউন! মনে করি বিনাশপ্রাপ্ত।"
ওয়া কুলনা-মিম বা‘দিহী লিবানীইছরঈলাছকুনুল আরদাফাইযা-জাআ ওয়া‘দুল আ-খিরতী জি’না-বিকুম লাফীফা-।
আর এ পরে আমরা ইসরাইলের বংশধরদের বলেছিলাম -- "তোমরা এ দেশে বসবাস কর, তারপর যখন ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি এসে পড়বে আমরা তখন তোমাদের জড় করব দুমড়ে ফেলে।"
ওয়া বিলহাক্কিআনঝালনা-হু ওয়া বিলহাক্কিনাঝালা ওয়ামাআরছালনা-কা ইল্লামুবাশশিরওঁ ওয়া নাযীর-।
আর সত্যের সঙ্গে আমরা এটি অবতারণ করেছি, আর সত্যের সঙ্গে এটি এসেছে। আর তোমাকে আমরা পাঠাই নি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে ভিন্ন।
ওয়া কুরআ-নান ফারকনা-হুলিতাকরআহূ ‘আলান্না-ছি ‘আলা- মুকছিওঁ ওয়া নাঝঝালনা-হু তানঝীলা-।
আর এ কুরআন -- আমরা এটিকে ভাগভাগ করেছি যেন তুমি তা লোকদের কাছে ক্রমে ক্রমে পড়তে পার, আর আমরা এটি অবতারণ করেছি অবতারণে।
কুল আ-মিনূবিহীআও লা-তু’মিনূ ইন্নাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা মিন কাবলিহীইযাইউতলা-‘আলাইহিম ইয়াখিররূনা লিল আযক-নি ছুজ্জাদা-(ছিজদাহ-৪)।
বলো -- "তোমরা এতে বিশ্বাস কর অথবা বিশ্বাস নাই কর। নিঃসন্দেহ যাদের এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল -- যখন তা দের কাছে এটি পাঠ করা হয় তখন চিবুকের উপরে তারা লুটিয়ে পড়ে সিজদা-রত হয়ে।"
কুলিদ‘উল্লা-হা আবিদ ‘উর রহমা-না আইঁ ইয়াম্মা-তাদ‘ঊ ফালাহুল আছমাঊল হুছনা-ওয়ালা-তাজহার বিসালা-তিকা ওয়ালা-তুখা-ফিত বিহা-ওয়াবতাগি বাইনা যালিকা ছাবীলা-।
বলো -- "তোমরা 'আল্লাহ্’ বলে ডাকো অথবা 'রহমান’ বলে ডাকো। বস্তুতঃ যে নামেই তোমরা ডাক, তাঁরই কিন্তু সকল সুন্দর সুন্দর নাম।" আর তোমরা নামাযে আওয়াজ চড়া করো না এবং এতে নিঃশব্ধও হয়ো না, বরং এই উভয়ের মধ্যে পথ অনুসরণ করো।
ওয়া কুল্লি হামদুলিল্লা-হিল্লাযী লাম ইয়াত্তাখিযওয়ালাদাওঁ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূশারীকুন ফিল মুলকি ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূওয়ালিইয়ুম মিনাযযুলিল ওয়া কাব্বিরহু তাকবীর-।
আর তুমি বলো -- "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, আর যাঁর জন্য এই সাম্রাজ্যে কোনো শরিক নেই, এবং যাঁর কোনো মনিব নেই দুর্দশা থেকে, সুতরাং তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো সসম্ভ্রমে।"