ইন্নাল মুবাযযি রীনা ক-নূইখওয়া-নাশশাইয়া-তীনি ওয়া ক-নাশ শাইতা-নু লিরব্বিহী কাফূর-।উচ্চারণ
(৪) বাজে খরচ করো না। যারা বাজে খরচ করে তারা শয়তানের ভাই আর শয়তান তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন
জেনে রেখ, যারা অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ উড়ায়, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ।মুফতী তাকী উসমানী
নিশ্চয়ই যারা অপব্যয় করে তারা শাইতানের ভাই এবং শাইতান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।মুজিবুর রহমান
নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা অপব্যয় করে তারা তো শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।আল-বায়ান
অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই আর শয়তান তো তার প্রতিপালকের প্রতি না-শোকর।তাইসিরুল
নিঃসন্দেহ অপব্যয়ীরা হচ্ছে শয়তানগোষ্ঠীর ভাই-বিরাদর। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ।মাওলানা জহুরুল হক
২৭. নিশ্চয় যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রাবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ।(১)
১. ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কৃপনতাও করে না, আর তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী।” (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭) ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অপচয় হচ্ছে, অন্যায় পথে ব্যয় করা। মুজাহিদ বলেন, যদি কোন লোক তার সমস্ত সম্পত্তি হক পথে ব্যয় করে তারপরও সেটা অপচয় হবে না। আর যদি অন্যায়ভাবে এক মুদ পরিমাণও ব্যয় করে তবুও সেটা অপচয় হবে। কাতাদাহ বলেন, অপচয় হচ্ছে আল্লাহর অবাধ্যতা, অন্যায় ও ফাসাদ-সৃষ্টিতে ব্যয় করা। (ইবন কাসীর)
(২৭) নিশ্চয় যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (1)
(1) تَبْذِيْرٌ এর মূল ধাতু হল بِذْرٌ (বীজ)। যেমন যমীনে বীজ ফেলার সময় এটা লক্ষ্য করা হয় না যে, তা যথাস্থানে পড়ছে, না যেখানে সেখানে পড়ে যাচ্ছে। বরং চাষী বীজ ফেলেই চলে যায়। تَبْذِيْرٌ (অপব্যয়ে)ও এটাই হয়। মানুষ তার মাল বীজ ফেলার মত ছড়াতে থাকে এবং ব্যয় করার ব্যাপারে শরীয়তের সীমা অতিক্রম করে। কেউ কেউ বলেছেন, تَبْذِيْر হল, অবৈধ কার্যকলাপে ব্যয় করা, যদিও তা সামান্য হয়। আমাদের জানা মতে উভয় অবস্থাই تَبْذِيْر (অপব্যয়)এর পর্যায়ভুক্ত। আর এটা এত বড় জঘন্য কাজ যে, এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শয়তানের সাথে রয়েছে পূর্ণ সাদৃশ্য। অথচ শয়তানের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকা মানুষের জন্য ওয়াজেব; যদি তা (শয়তানের) কোন একটি অভ্যাসেও হয়। এ ছাড়া শয়তানকে كَفُوْرٌ (অতিশয় অকৃতজ্ঞ) বলে তার মত না হতে আরো তাকীদ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যদি তুমি শয়তানের সাদৃশ্য গ্রহণ কর, তাহলে (তুমি তার ভাই হবে এবং) তুমিও তার মত كَفُوْرٌ (অকৃতজ্ঞ) বিবেচিত হয়ে যাবে। (ফাতহুল কাদীর)