আও খালকাম মিম্মা-ইয়াকবুরু ফী সূদূ রিকুম ফাছাইয়াকূলূনা মাইঁ ইউ‘ঈদুনা- কুল্লিলাযী ফাতারকুম আওওয়ালা মাররতিন ফাছাইউনগিদূনা ইলাইকা রুঊছাহুম ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হুওয়া কুল ‘আছাআইঁ ইয়াকূনা কারীবা-।উচ্চারণ
অথবা তার চেয়েও বেশী কঠিন কোন জিনিস, যার অবস্থান তোমাদের ধারণায় জীবনীশক্তি লাভ করার বহুদূরে (তবুও তোমাদের ওঠানো হবেই)।” তারা নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করবে, “কে আমাদের আবার জীবনের দিকে ফিরিয়ে আনবে?” জবাবে বলো, “তিনিই, যিনি প্রথমবার তোমাদের পয়দা করেন।” তারা মাথা নেড়ে নেড়ে জিজ্ঞেস করবে, ৫৫ “আচ্ছা, তাহলে এটা কবে হবে?” তুমি বলে দাও, অবাক হবার কিছুই নেই, সে সময়টা হয়তো নিকটেই এসে গেছে। তাফহীমুল কুরআন
অথবা এমন কোন সৃষ্টি হয়ে যাও, যে সম্পর্কে তোমাদের মনের ভাবনা হল যে, তা (জীবিত করা) আরও কঠিন। (তবুও তোমাদেরকে ঠিকই জীবিত করা হবে)। অতঃপর তারা বলবে, কে আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করবে? বলে দিও, তিনিই জীবিত করবেন, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। #%৩২%# তারপর তারা তোমাদের সামনে মাথা নেড়ে-নেড়ে বলবে, এরূপ কখন হবে? #%৩৩%# বলে দিও, সম্ভবত সে সময়টি কাছেই এসে গেছে।মুফতী তাকী উসমানী
অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন। তারা বলবেঃ কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করবে? বলঃ তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়াবে এবং বলবেঃ ওটা কবে হবে? বলঃ হবে সম্ভবতঃ শীঘ্রই –মুজিবুর রহমান
অথবা এমন কোন বস্তু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন; তথাপি তারা বলবেঃ আমাদের কে পুর্নবার কে সৃষ্টি করবে। বলুনঃ যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃজন করেছেন। অতঃপর তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবেঃ এটা কবে হবে? বলুনঃ হবে, সম্ভবতঃ শ্রীঘ্রই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন’; তারা বলবে, ‘কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করবে ?’ বল, ‘তিনিই, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ এরপর এরা তোমার সামনে মাথা নাড়িবে ও বলবে, ‘তা কবে ?’ বল, ‘হবে সম্ভবত শীঘ্রই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অথবা এমন কোন সৃষ্টি, যা তোমাদের অন্তরে বড় মনে হয়।’ তবুও তারা বলবে, ‘কে আমাদের পুনরায় (সৃষ্টি) করবে?’ বল, ‘যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, ‘কবে এটা?’ বল, ‘আশা করা যায় যে, তা নিকটেই হবে।’আল-বায়ান
অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় (জীবিত হওয়া) খুবই কঠিন (তবুও তোমাদেরকে উঠানো হবে)।’ তারা বলবে, ‘কে আছে এমন যে আমাদেরকে পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনবে?’ বল, ‘তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ তখন তারা (ঠাট্টার ছলে) তোমার সামনে মাথা নাড়বে আর বলবে, ‘সেটা কখন ঘটবে?’ বল, ‘হতে পারে সেটা শীঘ্রই ঘটবে।’তাইসিরুল
অথবা আর কোনো সৃষ্টবস্তু যা তোমাদের ধারণায় আরো শক্ত!" তখন তারা বলবে -- "কে আমাদের ফিরিয়ে আনবে?" বলো -- "যিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছিলেন।" তখন তারা তোমার দিকে তাদের মাথা নাড়বে ও বলবে -- "এ কখন হবে!" তুমি বলো -- "হতে পারে এ নিকটবর্তী।মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
“ইন্গাদ” মানে হচ্ছে, ওপর থেকে নিচের দিকে এবং নিচে থেকে ওপরের দিকে মাথা নাড়া। এভাবে মাথা নেড়ে বিস্ময় প্রকাশ বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়।
ইশারা করা হচ্ছে, কোন জিনিসকে প্রথমবার নাস্তি থেকে অস্তিতে আনাই বেশি কঠিন হয়ে থাকে। একবার সৃষ্টি করার পর পুনরায় সৃষ্টি অতটা কঠিন হয় না। যেই আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টির মত কঠিনতর কাজটিও নিজ কুদরতে অনায়াসে সম্পন্ন করতে পেরেছেন, তিনি যে আবারও সৃষ্টি করতে পারবেন এটা মানতে সমস্যা কোথায়?
৫১. ‘অথবা এমন কোন সৃষ্টি যা তোমাদের অন্তরে খুবই বড় মনে হয়;(১) তবুও তারা বলবে, কে আমাদেরকে পুনরুখিত করবে? বলুন, তিনিই, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন(২) অতঃপর তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে(৩) ও বলবে, সেটা কবে?(৪) বলুন, সম্ভবত সেটা হবে শীঘ্রই,
১. মুজাহিদ বলেন, এখানে যা বড় মনে হয় বলে আসমান, যমীন ও পাহাড় বোঝানো হয়েছে। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেন, এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে, যা ইচ্ছে তা হয়ে যাও, কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করবেন। (ইবন কাসীর) ইবন আব্বাস, সায়ীদ ইবনে জুবাইর, আবু সালেহ, হাসান, কাতাদা এবং দাহহাক বলেন, তাদের উদ্দেশ্য মৃত্যু। কারণ বনী আদমের কাছে এর চেয়ে বড় বিষয় আর নেই। অর্থাৎ যদি তোমরা মৃতই হয়ে যাও তারপরও তিনি তোমাদেরকে মৃত্যু দিবেন। তারপর জীবিত করবেন। (ফাতহুল কাদীর)
২. অর্থাৎ যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তিনিই তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এ আয়াতে তাদের সন্দেহের দু'টি উত্তর দেয়া হয়েছে, এক. তোমাদেরকে প্রথম যিনি সৃষ্টি করেছেন সে মহান প্ৰভু সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কেমন হতে পারে? কিভাবে মনে করতে পারলে যে, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করতে পারবেন না? তোমরা তার শক্তি সামর্থ সম্পর্কে এতই অজ্ঞ রয়ে গেলে? দুই. তোমরা যদি পুনরায় সৃষ্টি করাকে অসম্ভব মনে করে থাক তবে অত্যান্ত বাজে ধারণা ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করছ। কারণ, তোমরা জান যে, প্রথমবার সৃষ্টি করা যত কঠিন দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা তার থেকেও সহজ কাজ। আল্লাহ্ তা'আলাই তোমাদেরকে প্রথম সৃষ্টি করেছেন তাঁর জন্য পুনরায় সৃষ্টি করা কোন ব্যাপারই নয়। এ ধরনের আলোচনা অন্য সূরায়ও উল্লেখ করা হয়েছে। (যেমন, সূরা আর রূমঃ ২৭)
৩. আরবীতে ব্যবহৃত “ইনগাদ” শব্দের মানে হচ্ছে, উপর থেকে নিচের দিকে এবং নিচ থেকে উপরের দিকে মাথা নাড়া। এভাবে মাথা নেড়ে বিস্ময় প্রকাশ বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ। করা হয়। (ইবন কাসীর)
৪. তারা দুটি কারণে একথাটি বলেছে, এক. তারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে এভাবে উপর-নীচ মাথা ঝাকাচ্ছিল। (ইবন কাসীর) দুই. তারা এ পুনরুত্থান কেন তাড়াতাড়ি হচ্ছেনা। সে প্রশ্ন তুলছে। কুরআনের অন্যান্য আয়াতেও তাদের এ ধরনের আচরণ উল্লেখ করা হয়েছে। (যেমন সূরা আল-মুলকঃ ২৫, আস-শূরাঃ ১৮)
(৫১) অথবা এমন কোন সৃষ্টি যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন।(1) তারা বলবে, ‘কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করবে?’ বল, ‘তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে(2) ও বলবে, ‘ওটা কবে?’ বল, ‘সম্ভবতঃ তা নিকটেই।(3)
(1) অর্থাৎ, তোমাদের জানা মতে এর থেকেও অধিক শক্ত জিনিস হয়ে যাও এবং তারপর জিজ্ঞাসা কর যে, কে জীবিত করবে?
(2) أَنْغَضَ يُنْغِضُ এর অর্থ হল, মাথা নাড়া। অর্থাৎ, বিদ্রূপ স্বরূপ মাথা নেড়ে তারা বলবে, পুনর্জীবন কখন হবে?
(3) নিকটেই বলতে যা সংঘটিত হবেই। যেহেতু كُلُّ مَا هُوَ آتٍ فَهُوَ قَرِيْبٌ ঘটবে এমন প্রত্যেকটি জিনিসই নিকটে। عَسى (সম্ভবতঃ) শব্দটিও কুরআনে নিশ্চিত ও অবশ্যম্ভাবীর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামত সংঘটন সুনিশ্চিত ও অবশ্যম্ভাবী।