রব্বুকুম আ‘লামুবিকুম ইয়ঁইয়াশা’ ইয়ারহামকুম আও ইয়ঁইয়াশা’ ইউ‘আযযি বকুম ওয়ামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম ওয়াকীলা-।উচ্চারণ
তোমাদের রব তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে বেশী জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দেন। ৬০ আর হে নবী! আমি তোমাকে লোকদের ওপর হাবিলদার করে পাঠাইনি। ৬১ তাফহীমুল কুরআন
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে ভালোভাবেই জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দেন। (হে নবী!) আমি তোমাকে তাদের কাজকর্মের যিম্মাদার বানিয়ে পাঠাইনি।মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদের রাব্ব তোমাদেরকে ভালভাবে জানেন; ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে শাস্তি দেন; আমি তোমাকে তাদের অভিভাবক করে পাঠাইনি।মুজিবুর রহমান
তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে ভালভাবে জানেন। ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে শাস্তি দেন ; আমি তোমাকে এদের অভিভাবক করে পাঠাই নাই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের রব তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। তিনি যদি চান তোমাদের প্রতি রহম করবেন অথবা যদি চান তবে তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন; আমি তোমাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে প্রেরণ করিনি।আল-বায়ান
তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে খুব ভাল ক’রেই জানেন। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন, আর ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন; আমি তোমাকে (হে নাবী!) তাদের কাজকর্মের জন্য দায়িত্বশীল করে পাঠাইনি।তাইসিরুল
তোমাদের প্রভু তোমাদের ভালভাবে জানেন। তিনি যদি ইচ্ছে করেন তবে তিনি তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, অথবা তিনি যদি চান তো তোমাদের শাস্তি দেবেন। আর তোমাকে আমরা পাঠাই নি তাদের উপরে কর্ণধাররূপে।মাওলানা জহুরুল হক
৬০
অর্থাৎ আমরা জান্নাতী এবং অমুক ব্যক্তি বা দল জাহান্নামী এ ধরনের দাবী কখনো ঈমানদারদের মুখে উচ্চারিত হওয়া উচিত নয়। এ বিষয়টির ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। তিনিই সকল মানুষের ভিতর-বাইর এবং বর্তমান-ভবিষ্যত জানেন। কার প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে এবং কাকে শাস্তি দিতে হবে--- এ ফায়সালা তিনিই করবেন। আল্লাহর কিতাবের দৃষ্টিতে কোন্ ধরনের মানুষ রহমত লাভের অধিকার রাখে এবং কোন্ ধরনের মানুষ শাস্তি লাভের অধিকারী নীতিগত দিক দিয়ে মানুষ অবশ্যি একথা বলার অধিকার রাখে। কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হবে এবং অমুককে মাফ করে দেয়া হবে, একথা বলার অধিকার কারোর নেই।
সম্ভবত এ উপদেশ বাণী এজন্য করা হয়েছে যে, কখনো কখনো কাফেরদের জুলুম ও বাড়াবাড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে মুসলমানদের মুখ থেকে এ ধরনের কথা বের হয়ে যেতো যে, তোমরা জাহান্নামে যাবে অথবা আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দেবেন।
৬১
অর্থাৎ নবীর কাজ হচ্ছে দাওয়াত দেয়া। লোকদের ভাগ্য নবীর হাতে দিয়ে দেয়া হয়নি যে, তিনি কারোর ভাগ্যে রহমত এবং কারোর ভাগ্যে শাস্তির ফায়সালা দিয়ে যেতে থাকবেন। এর অর্থ এ নয় যে, নবী ﷺ এ ধরনের কোন ভুল করেছিলেন এবং সে কারণে আল্লাহ তাঁকে এভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। বরং এর মাধ্যমে মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দেয়াই আসল উদ্দেশ্য। তাদেরকে বলা হচ্ছে, নবীই যখন এ মর্যাদার অধিকারী নন তখন তোমরা কিভাবে জান্নাত ও জাহান্নামের ঠিকেদার হয়ে গেলে?
৫৪. তোমাদের রব তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। ইচ্ছে করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন অথবা ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন;(১) আর আমরা আপনাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে পাঠায়নি।(২)
১. অর্থাৎ হেদায়াতের বিষয়টি কারও হাতে নেই। এ বিষয়টির ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। তিনিই সকল মানুষের ভিতর-বাহির এবং বর্তমান-ভবিষ্যত জানেন। কার প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে এবং তাকে তাঁর আনুগত্যের দিকে নিয়ে আসতে হবে এটা তিনিই ভাল জানেন। আর কে এ অনুগ্রহের হকদার নয় এটাও তিনি ভাল জানেন। (ইবন কাসীর)
২. অর্থাৎ তাদের উপর আপনাকে যবরদস্তিকারী হিসেবে পাঠাইনি যে আপনি তাদেরকে জোর করে ঈমানদার বানিয়ে ছাড়বেন। তাদের জন্য আপনাকে ‘বাশীর’ বা সুসংবাদপ্রদানকারী এবং ‘নাযীর’ হিসেবেই পাঠিয়েছি। তারপর যদি কেউ আপনার আনুগত্য করে তবে সে জান্নাতে যাবে আর যদি অবাধ্য হয় তবে জাহান্নামে যাবে। (ইবন কাসীর) এ অর্থে কুরআনের অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। (যেমন, সূরা আল-আনআমঃ ১০৭, আয-যুমারঃ ৪১, আস-শূরাঃ ৬, কাফঃ ৪৫)
(৫৪) তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে ভালোভাবে জানেন; ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন এবং ইচ্ছা করলে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন।(1) আর আমি তোমাকে তাদের উপর দায়িত্বশীল করে পাঠাইনি। (2)
(1) যদি সম্বোধন মুশরিকদেরকে করা হয়ে থাকে, তবে ‘দয়া করা’র অর্থ হবে, ইসলাম গ্রহণের তওফীক দান। আর শাস্তি বলতে, মৃত্যু শিরকের উপর হওয়া, যার কারণে মানুষ শাস্তিযোগ্য গণ্য হয়। আর যদি সম্বোধন মু’মিনদের করা হয়ে থাকে, তাহলে ‘দয়া করা’র অর্থ হবে, তিনি কাফেরদের থেকে তোমাদেরকে হিফাযত করবেন। আর শাস্তি দেওয়ার অর্থ হবে, কাফেরদেরকে মুসলিমদের উপর বিজয় ও আধিপত্য দান করা।
(2) যাতে তুমি তাদেরকে অবশ্যই কুফরীর পঙ্কিলতা থেকে বের করবে অথবা তাদের কুফরীর উপর অটল থাকার ফলে সে ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।