ওয়া ইন ক-দূলাইয়াফতিনূনাকা ‘আনিল্লাযীআওহাইনাইলাইকা লিতাফতারিয়া ‘আলাইনা-গাইরহূ ওয়া ইযাল্লাত্তাখযূকা খালীলা-।উচ্চারণ
হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আমি যে অহী পাঠিয়েছি তা থেকে তোমাকে ফিরিয়ে রাখার জন্য এ লোকেরা তোমাকে বিভ্রাটের মধ্যে ঠেলে দেবার প্রচেষ্টায় কসুর করেনি, যাতে তুমি আমার নামে নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা তৈরি করো। ৮৭ যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে তারা তোমাকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো। তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি, কাফেরগণ তোমাকে তা থেকে বিচ্যুত করার উপক্রম করছিল, যাতে তুমি এর পরিবর্তে অন্য কোন কথা রচনা করে আমার নামে পেশ কর। সেক্ষেত্রে তারা তোমাকে অবশ্যই নিজেদের পরম বন্ধু বানিয়ে নিত। #%৫০%#মুফতী তাকী উসমানী
আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি তা হতে তোমার পদস্খলন ঘটানোর জন্য তারা চূড়ান্ত চেষ্টা করেছে যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন কর। সফলকাম হলে তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করত।মুজিবুর রহমান
তারা তো আপনাকে হটিয়ে দিতে চাচ্ছিল যে বিষয় আমি আপনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যা প্রেরণ করেছি তা থেকে আপনার পদঙ্খলন ঘটানোর জন্যে তারা চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে, যাতে আপনি আমার প্রতি কিছু মিথ্যা সম্বন্ধযুক্ত করেন। এতে সফল হলে তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি তা হতে এরা পদস্খলন ঘটাইবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে এর বিপরীত মিথ্যা উদ্ভাবন কর; তবেই এরা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, আমি তোমাকে যে ওহী দিয়েছি, তা থেকে তারা তোমাকে প্রায় ফিতনায় ফেলে দিয়েছিল, যাতে তুমি আমার নামে এর বিপরীত মিথ্যা রটাতে পার এবং তখন তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।আল-বায়ান
আমি তোমার প্রতি যে ওয়াহী করেছি তাত্থেকে তোমাকে পদস্খলিত করার জন্য তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে তার (অর্থাৎ নাযিলকৃত ওয়াহীর) বিপরীতে মিথ্যা রচনা কর, তাহলে তারা তোমাকে অবশ্যই বন্ধু বানিয়ে নিত।তাইসিরুল
আর অবশ্যই তারা মতলব করেছিল তোমার কাছে আমরা যা প্রত্যাদেশ দিয়েছি তা থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে, যেন তুমি আমাদের বিরুদ্ধে তার পরিবর্তে অন্য কিছু জাল কর, আর তখন তারা তোমাকে নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে অন্তরঙ্গ বান্ধবরূপে।মাওলানা জহুরুল হক
৮৭
বিগত দশ বারো বছর থেকে নবী ﷺ মক্কায় যে অবস্থার সাথে যুঝছিলেন এখানে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি যে তাওহীদের দাওয়াত পেশ করছিলেন মক্কার কাফেররা তাকে স্তব্ধ করে দেবার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। তারা চাচ্ছিল তিনি তাদের শিরক ও জাহেলী রসম রেওয়াজের সাথে কিছু না কিছু সমঝোতা করে নেবেন। এ উদ্দেশ্যে তারা তাঁকে ফিতনার দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা করলো। তাঁকে ধোঁকা দিল, লোভ দেখালো, হুমকি দিল এবং মিথ্যা প্রচারণার তুফান ছুটালো। তারা তাঁর প্রতি জুলুম-নিপীড়ন চালালো ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করলো। তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করলো। একটি মানুষের সংকল্পকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবার জন্য যা কিছু করা যেতে পারে তা সবই তারা করে ফেললো।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর দাওয়াত থেকে ফেরানোর জন্য মুশরিকরা বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, যেমন তাঁর কাছে তাদের একটা প্রস্তাব ছিল, আপনি যদি আমাদের দেব-দেবীদের নিন্দা করা ছেড়ে দেন তবে আমরা আপনার মাবুদের ইবাদত করব, আরেক প্রস্তাব ছিল আপনি কুরআন থেকে প্রতিমাদের নিন্দামূলক অংশটুকু বদলে দিন, আরও বলেছিল, আপনি গরীব মুসলিমদের বাদ দিয়ে আমাদের জন্য যদি খাস মজলিস করেন, তবে আমরা তাতে যোগ দেব, এমনি আরও বিভিন্ন প্রস্তাব। আল্লাহ তাআলা বলছেন, হে নবী! আপনি আমার হেফাজত ও তত্ত্বাবধানে আছেন, নয়ত আপনি তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে আমার প্রেরিত ওহী থেকে সরেই যেতেন। এভাবে এ আয়াতে সত্যের উপর অবিচলিত রাখার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ মেহেরবানীর কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। এভাবে মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কুরআন ও দীনের হিফাজতের কাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিন্দুমাত্র শিথিলতা প্রদর্শন করেননি এবং ওহী ও সত্য থেকে একচুল বিচ্যুত হননি। আর আল্লাহ তাআলার হিফাজতের কারণে তাঁর দ্বারা তা হওয়া সম্ভবও ছিল না। ليفتنونك (অর্থ তারা আপনাকে ফিতনায় ফেলত)-এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য, ছলনা দিয়ে ওহীর হুকুম থেকে বিচ্যুত করা। -অনুবাদক
৭৩. আর আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি তা থেকে ওরা আপনাকে পদস্খলন ঘটাবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল, যাতে আপনি আমাদের উপর সেটার বিপরীত মিথ্যা রটাতে পারেন(১); আর নিঃসন্দেহে তখন তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করত।
১. কাফেররা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সমস্ত প্রস্তাব দিত। তন্মধ্যে এক বিশেষ প্রস্তাব ছিল যে, আপনি এ কুরআন বাদ দিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে আসুন যা আমাদের মনঃপুত হবে। কিন্তু একজন নবীর পক্ষে কিভাবে ওহী ব্যতিত অন্য কিছু আনা সম্ভব হতে পারে? তিনি যদি তা করেন তবে হয়ত তারা তাকে বন্ধু বানাবে কিন্তু আল্লাহ কি তাকে এভাবেই ছেড়ে দিবেন? অবশ্যই না। আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, “তিনি যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতেন, আমি অবশ্যই ডান হাতে ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী।” (সূরা আলহাক্কাহঃ ৪৪–৪৬)
সুতরাং, নবীর পক্ষে ওহী ব্যতীত কিছু বলা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন, “যখন আমার আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, “অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, বা এটাকে বদলাও৷” বলুন, “নিজ থেকে এটা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহাদিনের শাস্তির আশংকা করি।” (সূরা ইউনুসঃ ১৫) তাই একজন সত্য নবীর পক্ষে কক্ষনো নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
(৭৩) আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি, তা হতে তারা তোমার পদস্খলন প্রায় ঘটিয়েই ফেলেছিল, যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে ওর বিপরীত কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন কর; আর তা করলে, তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।