ওয়াছতাফঝিঝ মানিছতাতা‘তা মিনহুম বিসাওতিকা ওয়া আজলিব ‘আলাইহিম বিখাইলিকা ওয়া রজিলিকা ওয়া শা-রিকহুম ফিল আমওয়া-লি ওয়াল আওলা-দি ওয়া‘ইদহুম ওয়ামাইয়া‘ইদুহুমুশশাইতা-নুইল্লা-গুরূর-।উচ্চারণ
তুমি যাকে যাকে পারো তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে পদস্খলিত করো, ৭৬ তাদের ওপর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ চালাও, ৭৭ ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে তাদের সাথে শরীক হয়ে যাও ৭৮ এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতির জালে আটকে ফেলো, ৭৯ ---আর শয়তানের প্রতিশ্রুতি ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়, তাফহীমুল কুরআন
তাদের মধ্যে যার উপর তোমার ক্ষমতা চলে নিজ ডাক দ্বারা বিভ্রান্ত কর, #%৪২%# তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদের উপর চড়াও হও, #%৪৩%# তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও #%৪৪%# এবং তাদেরকে যত পার প্রতিশ্রুতি দাও। বস্তুত শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।মুফতী তাকী উসমানী
তোর আহবানে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস সত্যচূত কর, তোর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর এবং তাদের ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা, এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। শাইতান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনা মাত্র।মুজিবুর রহমান
তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তোমার আহ্বানে এদের মধ্যে যাকে পার পদস্খলিত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দিয়ে এদেরকে আক্রমণ কর এবং এদের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও ও এদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। শয়তান এদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনা মাত্র। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর, তাদের উপর ঝাপিয়ে পড় তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে ওয়াদা দাও’। আর শয়তান প্রতারণা ছাড়া তাদেরকে কোন ওয়াদাই দেয় না।আল-বায়ান
তাদের মধ্যে তুমি যাকে পার উস্কে দাও তোমার কথা দিয়ে, তোমার অশ্বারোহী আর পদাতিক বাহিনী দিয়ে তুমি আক্রমণ চালাও, আর তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদিতে ভাগ বসিয়ে দাও (যথেচ্ছভাবে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয় করার পরামর্শ দিয়ে আর সন্তান কামনা ও প্রতিপালনে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনের উপদেশ দিয়ে) আর তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও।’ শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তাতো ছলনা ছাড়া আর কিছুই নয়।তাইসিরুল
"আর তাদের যাকে পার তোমার আহ্বানে প্রতারিত কর, আর তাদের উপরে হামলা চালাও তোমার ঘোড়সওয়ারদের দ্বারা, আর তোমার পদাতিক বাহিনীর দ্বারা, আর তাদের অংশী হও ধনসম্পত্তিতে এবং সন্তানসন্ততিতে, আর তাদের ওয়াদা করো।" আর শয়তান তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় না প্রতারণা করা ছাড়া।মাওলানা জহুরুল হক
৭৬
মূলে “ইস্তিস্যায” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে হালকা করা। অর্থাৎ দুর্বল বা হালকা পেয়ে কাউকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া বা তার পা পিছলিয়ে দেয়া।
৭৭
এ বাক্যাংশে শয়তানকে এমন একটি ডাকাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে যে তার অশ্বারোহী ও পদাতিক ডাকাত বাহিনী নিয়ে একটি জনপদ আক্রমণ করে এবং তাদেরকে হুকুম দিতে থাকে, এদিকে লুটপাট করো ওদিকে সাঁড়াসী আক্রমণ চালাও এবং সেদিকে ধ্বংস করো। শয়তানের অশ্বারোহী ও পদাতিক বলতে এমনসব অসংখ্য জিন ও মানুষকে বুঝানো হয়েছে, যারা বিভিন্ন আকৃতিতে ও বিভিন্নভাবে ইবলীসের মানব বিধ্বংসী অভিযানে সহযোগিতা করছে।
৭৮
এ বাক্যাংশটি বড়ই অর্থপূর্ণ। এখানে শয়তান ও তার অনুসারীদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি পূর্ণাংগ ছবি আঁকা হয়েছে। যে ব্যক্তি অর্থ উপার্জন ও তা খরচ করার ব্যাপারে শয়তানের ইঙ্গিতে নড়াচড়া করে, তার সাথে যেন শয়তান বিনা অর্থ ব্যয়ে শরীক হয়ে গেছে। পরিশ্রমে তার কোন অংশ নেই, অপরাধ, পাপ ও দুষ্কর্মের অশুভ পরিণতিতে সে অংশীদার নয়, কিন্তু তার ইঙ্গিতে এ নির্বোদ এমনভাবে চলছে যেন তার ব্যবসায়ে সে সমান অংশীদার বরং বৃহত্তম অংশীদার। এভাবে সন্তান তো হয় মানুষের নিজের এবং তাকে লালন-পালন করার জন্য সে নিজের সব যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা ও সম্পদ ব্যয় করে কিন্তু শয়তানের ইঙ্গিতে এ সন্তানকে সে এমনভাবে গোমরাহী ও নৈতিক চরিত্রহীনতার শিক্ষা দেয় যেন মনে হয় সে একা এ সন্তানের বাপ নয় বরং তার পিতৃত্বে শয়তানেরও শরীকানা আছে।
৭৯
অর্থাৎ তাদেরকে মিথ্যা আশার কুহকে ভুলিয়ে রাখো এবং মিথ্যার আকাশ কুসুম রচনা করে তাদের চোখ ধাঁধিয়ে দাও।
‘ডাক দ্বারা বিভ্রান্ত করা’-এর অর্থ অন্তরে পাপকর্মের প্ররোচনা দেওয়া হয়, যেমন কোন কোন মুফাসসিরের মত। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এর দ্বারা গান-বাদ্যের শব্দ বোঝানো হয়েছে, যার আছরে মানুষ পাপকর্মে লিপ্ত হয়।
৬৪. আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো পদস্খলিত করা, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ করা এবং তাদের ধনে(১) ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও, আর তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান ছলনা ছাড়া তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতিই দেয় না।
১. ধন সম্পদে শরীক হওয়ার বহু পদ্ধতি রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, সুদ-ঘুষের মাধ্যমে লেনদেন করা। (আইসারুত তাফাসীর)
(৬৪) তোমার আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্যে যাকে পার সত্যচ্যুত কর, (1) তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর(2) এবং তাদের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও(3) ও তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও।(4) আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনা মাত্র। (5)
(1) ‘আওয়াজ’ বলতে প্রতারণামূলক আহবান অথবা গান-বাজনা ও রঙ-তামাশার আরো অন্যান্য শব্দ। যার মাধ্যমে শয়তান অধিকহারে লোকদেরকে ভ্রষ্ট করছে।
(2) এই বাহিনী বলতে, মানুষ ও জীনদের মধ্য থেকে সেই অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী যারা শয়তানের চেলা ও তার অনুসারী। এরাও শয়তানের মত মানুষকে ভ্রষ্ট করে। অথবা এর অর্থ, প্রত্যেক সম্ভাব্য উপায়-উপকরণ যা শয়তান ভ্রষ্ট করার কাজে ব্যবহার করে।
(3) ধন-মালে শয়তানের অংশ গ্রহণের অর্থ হল, অবৈধ পন্থায় মাল উপার্জন করা এবং হারাম পথে তা ব্যয় করা। অনুরূপ মূর্তির নামে পশু উৎসর্গ করা। যেমন, বুহায়রা, সায়েবাহ ইত্যাদি। সন্তান-সন্ততিতে শরীক হওয়ার অর্থ, ব্যভিচার করা, আব্দুল লাত, আব্দুল উয্যা প্রভৃতি নাম রাখা, অনৈসলামী আদব-কায়দায় তাদের লালন-পালন করা, যাতে তারা দুশ্চরিত্র হয়, অভাবের ভয়ে তাদেরকে হত্যা করা অথবা জীবন্ত প্রোথিত করা, সন্তানদেরকে অগ্নিপূজক, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান ইত্যাদি অমুসলিম (বা বেদ্বীন) বানানো এবং মাসনুন দু’আ না পড়েই স্ত্রী-সহবাস করা ইত্যাদি।
(4) প্রতিশ্রুতি দাও যে, জান্নাত ও জাহান্নাম বলে কিছু নেই। অথবা মৃত্যুর পর পুনর্জীবন নেই ইত্যাদি।
(5) غُرُوْرٌ (ছলনা) এর অর্থ হল, মন্দ কাজকে এমন চমৎকার শোভনীয় করে তুলে ধরা যে, দেখে তা ভাল মনে হয়।