‘আছা-রব্বুকুম আই ইঁয়ারহামাকুম ওয়া ইন ‘উততুম ‘উদ না- ওয়া জা‘আলনাজাহান্নামা লিলক-ফিরীনা হাসীর-।উচ্চারণ
এখন তোমাদের রব তোমাদের প্রতি করুণা করতে পারেন। কিন্তু যদি তোমরা আবার নিজেদের আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি করো তাহলে আমিও আবার আমার শাস্তির পুনরাবৃত্তি করবো। আর নিয়ামত অস্বীকারকারীদের জন্য আমি জাহান্নামকে কয়েদখানা বানিয়ে রেখেছি। ১০ তাফহীমুল কুরআন
যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু তোমরা যদি একই কাজের পুনরাবৃত্তি কর, তবে আমিও পুনরাবৃত্তি করব। আর আমি তো জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য কারাগার বানিয়েই রেখেছি।মুফতী তাকী উসমানী
সম্ভবতঃ তোমাদের রাব্ব তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের পূর্ব আচরণের পুনরাবৃত্তি কর তাহলে তিনিও তাঁর আচরণের পুনরাবৃত্তি করবেন; জাহান্নামকে আমি করেছি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য কারাগার।মুজিবুর রহমান
হয়ত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রূপ কর, আমিও পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্যে কয়েদখানা করেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের পূর্ব-আচরণের পুনরাবৃত্তি কর তবে আমিও পুনরাবৃত্তি করব। জাহান্নামকে আমি করেছি কাফিরদের জন্যে কারাগার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের উপর রহম করবেন। কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় কর, তাহলে আমিও পুনরায় করব। আর আমি জাহান্নামকে করেছি কাফিরদের জন্য কয়েদখানা।আল-বায়ান
(এরপরও) হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু যদি তোমরা (তোমাদের পূর্বকৃত পাপের) পুনরাবৃত্তি কর, তবে আমিও (পূর্বে দেয়া শাস্তির) পুনরাবৃত্তি করব। ঈমান প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য আমি জাহান্নামকে কারাগার বানিয়ে রেখেছি।তাইসিরুল
হতে পারে যে তোমাদের প্রভু তোমাদের প্রতি করুণা করবেন, কিন্তু যদি তোমরা ফেরো তবে আমরাও ফিরব। আর আমরা অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামকে কয়েদখানা বানিয়েছি।মাওলানা জহুরুল হক
১০
এ থেকে এ ধারণা করা ঠিক নয় যে, বনী ইসরাঈলদেরকে উদ্দেশ্য করে এ সমগ্র ভাষণটি দেয়া হয়েছে। সম্বোধন তো করা হয়েছে মক্কার কাফেরদেরকে। কিন্তু তাদেরকে সতর্ক করার জন্য এখানে বনী ইসরাঈলদের ইতিহাস থেকে কয়েকটি শিক্ষাপ্রদ সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করা হয়েছিল, তাই একটি প্রসঙ্গ কথা হিসেবে বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করে একথা বলা হয়েছে, যাতে এক বছর পরে মদীনায় সংস্কারমূলক কার্যাবলী প্রসঙ্গে যেসব ভাষণ দিতে হবে এটি তার ভূমিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।
অর্থাৎ তোমরা যদি ফের অন্যায়-অনাচার কর, আমিও পুনরায় তোমাদের শাস্তি দান করব। বস্তুত ইয়াহুদীদের চরিত্রই হল উপদ্রব করা, ফাসাদ করে বেড়ানো। তা থেকে তারা নিবৃত্ত হওয়ার নয়। তাই তো তারা আবারও ফাসাদ সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়। কাফের ও মুশরিকদের সাথে যোগ-সাজস করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আঁটে, ফলে তাদের উপর আযাব নেমে আসে। তাদেরকে পর্যায়ক্রমে আরব-উপদ্বীপ থেকে উৎখাত করা হয়। পুনরায় তারা ফিৎনায় লিপ্ত হলে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ আযাবরূপে তাদের বিরুদ্ধে হিটলালের আবির্ভাব হয়। আবারও তারা ইসরাঈল-রাষ্ট্রের মাধ্যমে ফাসাদে নেমেছে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে উপর্যুপরি উৎপাত চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস কোনও না কোনও পন্থায় তাদের উপর আবারও আল্লাহ তাআলার গযব নেমে আসবে এবং সবশেষে হযরত মাহদী ও ঈসা আলাইহিস সালামের হাতে তাদের সর্বপ্রধান উপদ্রবকারী দাজ্জালসহ তাদের গোটা জাতিকে খতম করে দেওয়া হবে। -অনুবাদক
৮. সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি কর তবে আমরাও পুনরাবৃত্তি করব।(১) আর জাহান্নামকে আমরা করেছি কাফিরদের জন্য কারাগার।
১. অর্থাৎ তোমরা পুনরায় নাফরমানীর দিকে প্রত্যাবর্তন করলে আমিও পুনরায় এমনি ধরনের শাস্তি ও আযাব চাপিয়ে দেব। বর্ণিত এ বিধিটি কেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এতে বনী-ইসরাঈলের সেসব লোককে সম্বোধন করা হয়েছে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে বিদ্যমান ছিল। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, প্রথমবার মুসা আলাইহিস সালাম-এর শরীআতের বিরুদ্ধাচরণের কারণে এবং দ্বিতীয়বার ঈসা আলাইহিস সালাম-এর শরীআতের বিরুদ্ধাচরণের কারণে যেভাবে তোমরা শাস্তি ও আযাবে পতিত হয়েছিলে, এখন তৃতীয় যুগ হচ্ছে শরীআতে মুহাম্মদীয় যুগ যা কেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর বিরুদ্ধাচরণ করলেও তোমাদেরকে পূর্বের পরিণতিই ভোগ করতে হবে। আসলে তাই হয়েছে। তারা শরীআতে-মুহাম্মদী ও ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে প্রবৃত্ত হলে মুসলিমদের হাতে নির্বাসিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে।
(৮) সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন; কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের পূর্ব আচরণের পুনরাবৃত্তি কর; তবে আমিও (আমার শাস্তির) পুনরাবৃত্তি করব।(1) আর জাহান্নামকে আমি করেছি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য কারাগার।(2)
(1) এখানে তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন করে নাও, তাহলে আল্লাহর রহমতের অধিকারী হবে। যার অর্থ হল, দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জন করবে। আর যদি পুনরায় আল্লাহর অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করে যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করায় লিপ্ত হও, তাহলে আমি আবারও তোমাদেরকে লাঞ্ছনা ও অবমাননাগ্রস্ত করব; যেমন ইতিপূর্বে দুইবার আমি তোমাদের সাথে এই ধরনের আচরণ করেছি। আর হলও তা-ই। এই ইয়াহুদীরা নিজেদের মন্দ আচরণ থেকে ফিরে আসেনি। তারা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতের ব্যাপারে সেই আচরণই প্রদর্শন করে, যে আচরণ প্রদর্শন করেছিল মূসা (আঃ) এবং ঈসা (আঃ)-এর নবুঅতের ব্যাপারে। যার ফলস্বরূপ তৃতীয়বার মুসলিমদের হাতে তাদেরকে অপদস্থ ও অপমানিত হতে হয় এবং অত্যধিক লাঞ্ছনার সাথে তাদেরকে মদীনা ও খায়বার থেকে নির্বাসিত হতে হয়।
(2) অর্থাৎ, দুনিয়ার এই লাঞ্ছনার পর জাহান্নামে আরো পৃথক শাস্তি রয়েছে, যা সেখানে তারা ভোগ করবে।