ذُرِّيَّةَ مَنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوحٍۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَبۡدٗا شَكُورٗا

যুররিইইয়াতা মান হামালনা- মা‘আ নূহিন ইন্নাহূক-না ‘আবদান শাকূর-।উচ্চারণ

তোমরা তাদের আওলাদ যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় উঠিয়েছিলাম এবং নূহ একজন কৃতজ্ঞ বান্দা ছিল। তাফহীমুল কুরআন

হে ওই সকল লোকের বংশধরগণ! যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। সে ছিল খুবই শোকর গোজার বান্দা।মুফতী তাকী উসমানী

তোমরাইতো তাদের বংশধর যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, সে ছিল পরম কৃতজ্ঞ দাস।মুজিবুর রহমান

তোমরা তাদের সন্তান, যাদেরকে আমি নূহের সাথে সওয়ার করিয়েছিলাম। নিশ্চয় সে ছিল কৃতজ্ঞ বান্দা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘হে তাদের বংশধর! যাদেরকে আমি নূহের সঙ্গে আরোহণ করিয়েছিলাম ; সে তো ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তাদের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম, নিশ্চয় সে ছিল কৃতজ্ঞ বান্দা।আল-বায়ান

(তোমরা তো) তাদের সন্তান! যাদেরকে আমি নূহের সঙ্গে নৌকায় বহন করেয়েছিলাম, সে ছিল এক শুকরগুজার বান্দা।তাইসিরুল

তাদের বংশধর যাদের আমরা নূহ-এর সঙ্গে বহন করেছিলাম। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন একজন কৃতজ্ঞ বান্দা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ নূহ ও তাঁর সাথীদের বংশধর হবার কারণে একমাত্র আল্লাহকেই অভিভাবক করা তোমাদের জন্য শোভা পায়। কারণ তোমরা যার বংশধর তিনি আল্লাহকে নিজের অভিভাবক করার বদৌলতেই প্লাবনের ধ্বংসকারিতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত নূহ আলাইহিস সালামের নৌকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, যারা সেই নৌকায় সওয়ার হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে রক্ষা করেছিলেন। ফলে তারা বন্যায় ডোবেনি। এটা যেহেতু আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ অনুগ্রহ ছিল, তাই তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, সে অনুগ্রহের শোকর এটাই যে, তাদের বংশধরগণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মাবুদ বানাবে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. তাদের বংশধর!(১) যাদেরকে আমরা নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম(২); তিনি তো ছিলেন পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।(৩)

১. এ আয়াতাংশের কয়েকটি অনুবাদ হতে পারে। এক. মূসা ছিলেন তাদের বংশধর, যাদেরকে আমরা নূহের কিশতিতে আরোহন করিয়েছিলাম। (আন-নুকাত ওয়াল উয়ুন; ফাতহুল কাদীর) দুই. হে তাদের বংশধর, যাদেরকে আমরা নূহের সাথে কিশতিতে আরোহন করিয়েছিলাম। তোমাদেরকেই বিশেষ করে এ নির্দেশ দিচ্ছি। (বাগভী; ইবন কাসীর; আদওয়াউল বায়ান) তিন. তোমরা আমাকে ব্যতীত আর কাউকে কর্মবিধায়ক বানিওনা। কারণ তারা তোমাদেরই মত মানুষ। যাদেরকে আমরা নূহের কিশতিতে আরোহন করিয়েছিলাম।  (ফাতহুল কাদীর)

২. মুজাহিদ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ তারা হলো, নূহের সন্তানসমূহ ও তাদের স্ত্রীগণ এবং নূহ। তার স্ত্রী তাদের সাথে ছিল না। (তাবারী।)

৩. অর্থাৎ নূহ ও তাঁর সাথীদের বংশধর হবার কারণে একমাত্র আল্লাহকেই অভিভাবক করা তোমাদের জন্য শোভা পায়। কারণ তোমরা যার বংশধর তিনি আল্লাহকে নিজের অভিভাবক করার বদৌলতেই প্লাবনের ধ্বংসকারিতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। বিভিন্ন হাদীসেও নূহ আলাইহিস সালামকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। শাফাআতের বৃহৎ হাদীসে এসেছে যে, লোকজন হাশরের মাঠে নূহ আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলবে, হে নূহ! আপনি যমীনের অধিবাসীদের কাছে প্রথম রাসূল আর আল্লাহ। আপনাকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে ঘোষণা করেছে। (বুখারীঃ ৪৭১২)

নূহ আলাইহিস সালামকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে বলার পিছনে আরো একটি কারণ কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, নূহ আলাইহিস সালাম যখনই কোন কাপড় পরতেন বা কোন খাবার খেতেন তখনই আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। সে জন্য তাকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। (মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ২/৬৩০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩) তোমরাই তো তাদের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে (কিশতীতে) আরোহণ করিয়েছিলাম, নিশ্চয় সে ছিল পরম কৃতজ্ঞ দাস। (1)

(1) নূহ (আঃ)-এর প্লাবনের পর মানব বংশের উৎপত্তি তাঁর (নূহ (আঃ)) সেই ছেলেদের থেকে হয়েছে, যারা নূহ (আঃ) এর কিশতীতে সওয়ার ছিল এবং প্লাবন থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এই জন্য বানী-ইস্রাঈলকে সম্বোধন করে বলা হল যে, তোমাদের পিতা নূহ (আঃ) আল্লাহর বড়ই কৃতজ্ঞ বান্দা ছিলেন। অতএব তোমরাও তোমাদের পিতার ন্যায় কৃতজ্ঞতার পথ অবলম্বন কর এবং আমি মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে যে রসূল বানিয়ে প্রেরণ করেছি তাকে অস্বীকার করে সে নিয়ামতের কুফরী করো না।