قُل لَّوۡ أَنتُمۡ تَمۡلِكُونَ خَزَآئِنَ رَحۡمَةِ رَبِّيٓ إِذٗا لَّأَمۡسَكۡتُمۡ خَشۡيَةَ ٱلۡإِنفَاقِۚ وَكَانَ ٱلۡإِنسَٰنُ قَتُورٗا

কুল্লাও আনতুম তামলিকূনা খাঝাইনা রহমাতি রববীইযাল্লাআমছাকতুম খাশইয়াতাল ইনফা-কি ওয়া ক-নাল ইনছা-নুকাতূর-।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলে দাও, যদি আমার রবের রহমতের ভাণ্ডার তোমাদের অধীনে থাকতো তাহলে তোমরা ব্যয় হয়ে যাবার আশঙ্কায় নিশ্চিতভাবেই তা ধরে রাখতে। সত্যিই মানুষ বড়ই সংকীর্ণমনা। ১১২ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী! কাফেরদেরকে) বলে দাও, আমার প্রতিপালকের রহমতের ভাণ্ডার যদি তোমাদের এখতিয়ারাধীন থাকত, তবে খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তোমরা অবশ্যই হাত বন্ধ করে রাখতে। #%৬২%# মানুষ বড়ই সংকীর্ণমনা।মুফতী তাকী উসমানী

বলঃ যদি তোমরা আমার রবের দয়ার ভান্ডারের অধিকারী হতে তবুও ‘ব্যয় হয়ে যাবে’ এই আশংকায় তোমরা ওটা ধরে রাখতে, মানুষতো অতিশয় কৃপণ।মুজিবুর রহমান

বলুনঃ যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভান্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে ব্যয়িত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশ্যই তা ধরে রাখতে। মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের দয়ার ভাণ্ডারের অধিকারী হতে, তবুও ‘ব্যয় হয়ে যাবে’ এই আশংকায় তোমরা তা ধরে রাখতে; মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘যদি তোমরা আমার রবের রহমতের ভান্ডারসমূহের মালিক হতে, তবুও খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তোমরা তা আটকে রাখতে; আর মানুষ তো অতি কৃপণ’।আল-বায়ান

বল, ‘তোমরা যদি আমার প্রতিপালকের রাহমাতের ভান্ডারের মালিক হয়ে যেতে, তবুও খরচ হয়ে যাবার ভয়ে তোমরা তা অবশ্যই ধরে রাখতে।’ বাস্তবিকই মানুষ বড়ই সংকীর্ণ-চিত্ত।তাইসিরুল

বলো -- "যদি তোমরা আমার প্রভুর করুণা-ভান্ডারের উপরে কর্তৃত্ব করতে তাহলে তোমরা নিশ্চয়ই তা ধরে রাখতে খরচ করার ভয়ে।" আর মানুষ বড় কৃপণ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১২

ইতিপূর্বে ৬ রুকূ’র (আরবী-------------) আয়াতে যে বিষয়বস্তুর অবতারণা করা হয়েছিল এখানে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মক্কার মুশরিকরা যেসব মনস্তাত্বিক কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত অস্বীকার করতো তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ ছিল যে, এভাবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব তাদের মেনে নিতে হতো। আর সাধারণত মানুষ সমকালীন ও কোন পরিচিত-সহযোগীর শ্রেষ্ঠত্ব খুব কমই মেনে নিতে প্রস্তুত হয়। এ প্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, যাদের কৃপণতার অবস্থা হচ্ছে এই যে, কারো যথার্থ মর্যাদার স্বীকৃতি দিতেও যারা মনে ব্যথা পায়, তাদের হাতে যদি আল্লাহ নিজের রহমতের চাবিগুলো দিয়ে দেন তাহলে তারা কাউকে একটি কানাকড়িও দেবে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখানে রহমতের ভাণ্ডার দ্বারা নবুওয়াত দানের এখতিয়ার বোঝানো হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতকে অস্বীকার করে মক্কার কাফেরগণ বলত, এটা মক্কা ও তায়েফের বড় কোন ব্যক্তিকে কেন দেওয়া হল না। যেন তারা বলতে চাচ্ছিল, কাউকে নবুওয়াত দিলে সেটা আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দেওয়া উচিত ছিল। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে বলছেন, নবুওয়াত দেওয়ার ক্ষমতা যদি তোমাদের হাতে ছাড়া হত, তবে তোমরা অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন কার্পণ্য কর, এক্ষেত্রেও তেমনি কার্পণ্য করতে। ফলে খরচ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তা কাউকে দিতে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০০. বলুন, যদি তোমরা আমার রবের দয়ার ভাণ্ডারের অধিকারী হতে, তবুও ‘ব্যয় হয়ে যাবে’ এ আশংকায় তোমরা তা ধরে রাখতে; আর মানুষ তো খুবই কৃপণ।(১)

(১) আয়াতে বলা হয়েছে; যদি তোমরা আল্লাহ্‌র রহমতের ভান্ডারের মালিক হয়ে যাও, তবে তাতেও কৃপণতা করবে। কাউকে দেবে না। এ আশঙ্কায় যে, এভাবে দিতে থাকলে ভান্ডারই নিঃশেষ হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহর রহমতের ভান্ডার কখনও নিঃশেষ হয় না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ, খরচে তা কমেনা, দিন রাতে প্রচুর প্রদানকারী, তোমরা কি দেখ না যে, আসমান ও যমীনের সৃষ্টির সময় থেকে এ পর্যন্ত যা কিছু তিনি খরচ করেছেন তাতে তার ডান হাতের মধ্যস্থিত কিছুই কমেনি।” (বুখারীঃ ৭৪১৯, মুসলিমঃ ৯৯৩) কিন্তু মানুষ স্বভাবগতভাবে ছোটমানা ও কম সাহসী। (দেখুন, সূরা আল-মা'আরিজঃ ১৯–২২) অকাতরে দান করার সাহস তার নেই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০০) বল, ‘যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের দয়ার ভান্ডারের অধিকারী হতে, তবুও তোমরা ব্যয় করে (নিঃস্ব) হয়ে যাবে এই আশংকায় তা ধরে রাখতে। আসলে মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।’ (1)

(1) خَشْيَةَ الإِنْفَاقِ এর অর্থ, خَشْيَةَ أَنْ يُنْفِقُوْا فَيَفْتَقِرُوْا ‘‘এই ভয়ে যে, দান করলে ধন শেষ হয়ে যাবে এবং পরিশেষে নিঃস্ব হয়ে যাবে।’’ অথচ, এটা আল্লাহর ধন-ভান্ডার যা শেষ হওয়ার নয়। কিন্তু মানুষ সংকীর্ণ চিত্তের অধিকারী হওয়ায় কার্পণ্য করে। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌ مِنَ الْمُلْكِ فَإِذًا لا يُؤْتُونَ النَّاسَ نَقِيرًا অর্থাৎ, ‘‘এরা যদি আল্লাহর রাজত্বের কিছু অংশ পেয়ে যায়, তবে এরা মানুষদেরকে একটি তিল পরিমাণও কিছু দেবে না।’’ (সূরা নিসা ৫৩ আয়াত) খেজুরের আঁটির পিঠে যে বিন্দু থাকে সেটাকে ‘নাক্বীর’ বলা হয়। অর্থাৎ, সামান্য পরিমাণও কিছুই দেবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া যে, তিনি তাঁর ধন-ভান্ডারের মুখ মানুষের জন্য খুলে রেখেছেন। যেমন, হাদীসে আছে, ‘‘আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ। তিনি রাত-দিন ব্যয় করেন, তবুও তা থেকে কিছুই কমে না। লক্ষ্য কর, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে তিনি কতই না ব্যয় করেই যাচ্ছেন, তা সত্ত্বেও তাঁর হাতে যা কিছু আছে তা থেকে কিছুই কমে যায়নি।’’

(বুখারীঃ কিতাবুত্ তাওহীদ, মুসলিমঃ কিতাবুয্ যাকাত)