الٓمٓ

আলিফ লাম মীম।

আলিফ, লাম, মীম।

غُلِبَتِ ٱلرُّومُ

গুলিবাতির রূম।

রোমানজাতি পরাজিত হয়েছে --

فِيٓ أَدۡنَى ٱلۡأَرۡضِ وَهُم مِّنۢ بَعۡدِ غَلَبِهِمۡ سَيَغۡلِبُونَ

ফীআদনাল আরদিওয়াহুম মিম বা‘দি গালাবিহিম ছাইয়াগলিবূন।

নিকটবর্তী দেশে, কিন্তু তাদের এ পরাজয়ের পরে তারা শীঘ্রই বিজয়লাভ করবে, --

فِي بِضۡعِ سِنِينَۗ لِلَّهِ ٱلۡأَمۡرُ مِن قَبۡلُ وَمِنۢ بَعۡدُۚ وَيَوۡمَئِذٖ يَفۡرَحُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ

ফী বিদ‘ই ছিনীনা লিল্লা-হিল আমরু মিন কাবলুওয়া মিম বা‘দু ওয়া ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াফরহুল মু’মিনূন।

বছর কয়েকের মধ্যেই। বিধান হচ্ছে আল্লাহ্‌রই -- আগেরবারে এবং পরেরবারে। আর সেইদিন মুমিনরা হর্ষোল্লাস করবে --

بِنَصۡرِ ٱللَّهِۚ يَنصُرُ مَن يَشَآءُۖ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ

বিনাসরিল্লা-হি ইয়ানসুরু মাইঁ ইয়াশা-উ ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুর রহীম।

আল্লাহ্‌র সাহায্যের ফলে। তিনি সাহায্য করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। আর তিনি মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

وَعۡدَ ٱللَّهِۖ لَا يُخۡلِفُ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ

ওয়া‘দাল্লা-হি লা-ইউখলিফুল্লা-হু ওয়া‘দাহূওয়া লা-কিন্না আকছারন্না-ছি লাইয়া‘লামূন।

এ আল্লাহ্‌র প্রতি‌শ্রুতি। আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদার খেলাপ করেন না, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

يَعۡلَمُونَ ظَٰهِرٗا مِّنَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَهُمۡ عَنِ ٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ غَٰفِلُونَ

ইয়া‘লামূনা জা-হিরম মিনাল হায়া-তিদ দুনইয়া- ওয়া হুম ‘আনিল আ-খিরতি হুম গাফিলূন।

তারা দুনিয়ার জীবনের বাহিরটাই জানে, কিন্তু আখেরাত সন্বন্ধে তারা নিজেরাই সম্পূর্ণ বেখেয়াল রয়েছে।

أَوَلَمۡ يَتَفَكَّرُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۗ مَّا خَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَآ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَأَجَلٖ مُّسَمّٗىۗ وَإِنَّ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِ بِلِقَآيِٕ رَبِّهِمۡ لَكَٰفِرُونَ

আওয়া লাম ইয়াতাফাক্কারূফীআনফুছিহিম মা-খালাকাল্লা-হুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমাইল্লা-বিলহাক্কিওয়া আজালিম মুছাম্মাওঁ ওয়া ইন্না কাছীরম মিনান্না-ছি বিলিকাই রব্বিহিম লাক-ফিরূন।

তারা কি তবু নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না -- আল্লাহ্ মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা সৃষ্টি করেন নি বাস্তবতা ব্যতীত আর একটি নির্ধারিত কালের জন্য। আর বস্তুত লোকেদের মধ্যে অনেকেই তাদের প্রভুর সাথে মোলাকাত সন্বন্ধে সত্যিই অবিশ্বাসী।

أَوَلَمۡ يَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَيَنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ كَانُوٓاْ أَشَدَّ مِنۡهُمۡ قُوَّةٗ وَأَثَارُواْ ٱلۡأَرۡضَ وَعَمَرُوهَآ أَكۡثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِۖ فَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيَظۡلِمَهُمۡ وَلَٰكِن كَانُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ

আওয়া লাম ইয়াছীরূ ফিলআরদিফাইয়ানজুরূ কাইফা ক-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ক-নূআশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাওঁ ওয়া আছা-রুল আরদা ওয়া ‘আমারূহা আকছার মিম্মা-‘আমারূহা-ওয়া জাআতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফামা-ক-নাল্লা-হু লিইয়াজলিমাহুম ওয়া লা-কিন ক-নূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।

তারা কি তবে পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে না, তাহলে তারা দেখতে পেতো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা তাদের আগেকার ছিল? তারা এদের চাইতেও শক্তিতে প্রবল ছিল, আর মাটি খুড়ঁতো, আর তারা এতে এমারত গড়তো যা এরা এতে গড়েছিল তার চাইতেও বেশি, আর তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে। কাজেই এটি আল্লাহ্‌র কাজ নয় যে তিনি তাদের প্রতি অন্যায় করবেন, কিন্তু তারা তাদের নিজেদেরই প্রতি অন্যায় করে যাচ্ছিল।

ثُمَّ كَانَ عَٰقِبَةَ ٱلَّذِينَ أَسَـٰٓـُٔواْ ٱلسُّوٓأَىٰٓ أَن كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَكَانُواْ بِهَا يَسۡتَهۡزِءُونَ

ছু ম্মা ক-না ‘আ-কিবাতাল্লাযীনা আছাউছছূআআন কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া ক-নূবিহা-ইয়াছতাহঝিঊন।

অতঃপর তাদের পরিণাম হয়েছিল মন্দ যারা মন্দ কাজ করেছিল, যেহেতু তারা আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তা নিয়ে তারা হাসাহাসি করত।

ٱللَّهُ يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ

আল্লা-হু ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূছুম্মা ইলাইহি তুরজা‘ঊন।

আল্লাহ্ সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তা পুনঃসৃষ্টি করেন, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُبۡلِسُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতুইউবলিছুল মুজরিমূন।

আর সেইদিন যখন ঘড়িঘন্টা এসে দাঁড়াবে তখন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।

وَلَمۡ يَكُن لَّهُم مِّن شُرَكَآئِهِمۡ شُفَعَـٰٓؤُاْ وَكَانُواْ بِشُرَكَآئِهِمۡ كَٰفِرِينَ

ওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম মিন শুরকাইহিম শুফা‘আউওয়াক-নূবিশুরকাইহিম কাফিরীন।

আর তাদের জন্য তাদের অংশী-দেবতাদের থেকে কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, আর তাদের অংশীদেবতাদের সন্বন্ধে তারা অস্বীকারকারী হবে।

وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوۡمَئِذٖ يَتَفَرَّقُونَ

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতুইয়াওমাইযিইঁ ইয়াতাফাররকূন।

আর সেদিন যখন ঘড়ি-ঘন্টা এসে দাঁড়াবে তখনকার দিনে তারা আলাদা হয়ে যাবে।

فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ فَهُمۡ فِي رَوۡضَةٖ يُحۡبَرُونَ

ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাহুম ফী রওদাতিইঁ ইউহবারূন।

সুতরাং যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তারা তবে তৃণভূমিতে পরমানন্দ ভোগ করবে।

وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآيِٕ ٱلۡأٓخِرَةِ فَأُوْلَـٰٓئِكَ فِي ٱلۡعَذَابِ مُحۡضَرُونَ

ওয়া আম্মাল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ওয়া লিকাইল আ-খিরতি ফাউলাইকা ফিল ‘আযা-বি মুহদারূন।

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল এবং আমাদের নির্দেশাবলীতে মিথ্যারোপ করেছিল ও পরকালের মোলাকাতকেও, তাদেরই তবে শাস্তির মাঝে হাজির করা হবে।

فَسُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ حِينَ تُمۡسُونَ وَحِينَ تُصۡبِحُونَ

ফাছুবহা-নাল্লা-হি হীনা তুমছূনা ওয়া হীনা তুসবিহূন।

সেজন্য আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষিত হোক যখন তোমরা বিকেল প্রাপ্ত হও এবং যখন তোমরা ভোরে পৌঁছাও।

وَلَهُ ٱلۡحَمۡدُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَعَشِيّٗا وَحِينَ تُظۡهِرُونَ

ওয়া লাহুল হামদুফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া‘আশিইইয়াওঁ ওয়া হীনা তুজহিরূন।

আর তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে, আর নিশাকালে এবং যখন তোমরা মধ্যাহ্নে পৌঁছো।

يُخۡرِجُ ٱلۡحَيَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَيِّ وَيُحۡيِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَاۚ وَكَذَٰلِكَ تُخۡرَجُونَ

ইউখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়া ইউখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়া ইউহইল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ওয়া কাযা-লিকা তুখরজূন।

তিনি জীবন্তদের বের করে আনেন মৃতদের থেকে আর মৃতদের বের করে আনেন জীবন্তদের থেকে, আর পৃথিবীকে তিনি সঞ্জীবিত করেন তার মৃত্যুর পরে। আর এইভাবেই তোমাদের বের করে আনা হবে।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنۡ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٖ ثُمَّ إِذَآ أَنتُم بَشَرٞ تَنتَشِرُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআন খালাকাকুমমিনতুর-বিন ছু ম্মা ইযা- আনতুম বাশারুন তানতাশিরূন।

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর দেখো! তোমরা হয়ে গেলে মানুষ -- ছড়িয়ে রয়েছ।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنۡ خَلَقَ لَكُم مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ أَزۡوَٰجٗا لِّتَسۡكُنُوٓاْ إِلَيۡهَا وَجَعَلَ بَيۡنَكُم مَّوَدَّةٗ وَرَحۡمَةًۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী আন খালাকা লাকুম মিন আনফুছিকুম আঝওয়া-জাল লিতাছকুনূ ইলাইহা ওয়াজা‘আলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতাওঁ ওয়া রহমাতান ইন্না ফী যা-লিকা লাআয়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যুগলদের, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦ خَلۡقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفُ أَلۡسِنَتِكُمۡ وَأَلۡوَٰنِكُمۡۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّلۡعَٰلِمِينَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী খালকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াখতিলা-ফুআলছিনাতিকুম ওয়া আলওয়া-নিকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিল‘আ-লিমীন।

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি, আর তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের বৈচিত্র। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে জ্ঞানী লোকদের জন্য।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦ مَنَامُكُم بِٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱبۡتِغَآؤُكُم مِّن فَضۡلِهِۦٓۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَسۡمَعُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী মানা-মুকুম বিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়াবতিগাউকুম মিন ফাদলিহী ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াছমা‘উন।

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে রাতে ও দিনে তোমাদের ঘুম, আর তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তোমাদের অন্বেষণ। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা শোনে।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦ يُرِيكُمُ ٱلۡبَرۡقَ خَوۡفٗا وَطَمَعٗا وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَيُحۡيِۦ بِهِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَآۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী ইউরীকুমুল বারকা খাওফাওঁ ওয়া তামা‘আওঁ ওয়া ইউনাঝঝিলু মিনাছছামাই মাআন ফাইউহয়ী বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে -- তিনি তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান ভয় ও আশারূপে, আর তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর তা দিয়ে পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পরে সঞ্জীবিত করেন। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن تَقُومَ ٱلسَّمَآءُ وَٱلۡأَرۡضُ بِأَمۡرِهِۦۚ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمۡ دَعۡوَةٗ مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ إِذَآ أَنتُمۡ تَخۡرُجُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী আন তাকুমাছছামাউ ওয়াল আরদুবিআমরিহী ছু ম্মা ইযা-দা‘আ-কুম দা‘ওয়াতাম মিনাল আরদি ইযা আনতুম তাখরুজূন।

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে আকাশ ও পৃথিবী অটুট রয়েছে তাঁরই আদেশে। তারপর তিনি যখন তোমাদের এক ডাক দিয়ে ডাকেন, মাটি থেকে, তখন তোমরা বেরিয়ে আসছ।

وَلَهُۥ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ كُلّٞ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ

ওয়া লাহূমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লুল লাহূক-নিতূন।

আর যারা রয়েছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে তারা তাঁরই। সবাই তাঁর প্রতি আজ্ঞাবহ।

وَهُوَ ٱلَّذِي يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَهُوَ أَهۡوَنُ عَلَيۡهِۚ وَلَهُ ٱلۡمَثَلُ ٱلۡأَعۡلَىٰ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ

ওয়া হুওয়াল্লাযী ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূওয়া হুওয়া আহওয়ানু‘আলাইহি ওয়া লাহুল মাছালুল আ‘লা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

আর তিনিই সেইজন যিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন, তারপর তিনি তা পুনঃসৃষ্টি করেন, আর এটি তাঁর জন্য অতি সহজ। আর তাঁরই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদর্শ মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে, আর তিনিই হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

ضَرَبَ لَكُم مَّثَلٗا مِّنۡ أَنفُسِكُمۡۖ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُم مِّن شُرَكَآءَ فِي مَا رَزَقۡنَٰكُمۡ فَأَنتُمۡ فِيهِ سَوَآءٞ تَخَافُونَهُمۡ كَخِيفَتِكُمۡ أَنفُسَكُمۡۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ

দারবা লাকুম মাছালাম মিন আনফুছিকুম; হাল লাকুম মিম্মা-মালাকাত আইমা-নুকুম মিন শুরকাআ ফী মা-রঝাকনা-কুম ফাআনতুম ফীহি ছাওয়াউন তাখা-ফূনাহুম কাখীফাতিকুম আনফুছাকুম কাযা-লিকা নুফাসসিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে থেকেই একটি দৃষ্টান্ত ছুড়ঁছেন -- তোমাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে তাদের মধ্যে থেকে কি তোমাদের জন্য অংশীদার রয়েছে আমরা তোমাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তাতে, -- ফলে তোমরা এতে একসমান, আর তাদের ক্ষেত্রে তোমরা ভাবনা-চিন্তা কর তোমার নিজেদের সন্বন্ধে তোমাদের ভাবনা-চিন্তার ন্যায়? এইভাবেই আমরা নির্দেশাবলী ব্যাখ্যা করি সেই লোকদের জন্য যারা বুদ্ধিশুদ্ধি রাখে।

بَلِ ٱتَّبَعَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ أَهۡوَآءَهُم بِغَيۡرِ عِلۡمٖۖ فَمَن يَهۡدِي مَنۡ أَضَلَّ ٱللَّهُۖ وَمَا لَهُم مِّن نَّـٰصِرِينَ

বালিততাবা‘আল্লাযীনা জালামূআহওয়াআহুম বিগাইরি ‘ইলমিন ফামাইঁ ইয়াহদী মান আদাল্লাল্লা-হু ওয়ামা-লাহুম মিন না-সিরীন।

বস্তুত যারা অন্যায়াচরণ করে তারা জ্ঞানহীনতা বশতঃ তাদের কামনার অনুসরণ করে। সেজন্যে যাকে আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট করেন তাকে কে সৎপথে চালিত করবে? আর তাদের জন্য সাহায্যকারীদের কেউ নেই।

فَأَقِمۡ وَجۡهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفٗاۚ فِطۡرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِي فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيۡهَاۚ لَا تَبۡدِيلَ لِخَلۡقِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلۡقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ

ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনি হানীফান ফিতরতাল্লা-হিল্লাতী ফাতারন্না-ছা ‘আলাইহা- লা-তাবদীলা লিখালকিল্লা-হি যা-লিকাদদীনুল কাইয়িমুওয়া লা-কিন্না আকছারন্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

অতএব তোমার মুখ ধর্মের প্রতি একনিষ্ঠভাবে কায়েম করো। আল্লাহ্‌র প্রকৃতি -- যার উপরে তিনি মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ্‌র সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

۞مُنِيبِينَ إِلَيۡهِ وَٱتَّقُوهُ وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَلَا تَكُونُواْ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ

মুনীবীনা ইলাইহি ওয়াত্তাকূহু ওয়াআকীমুসসালা-তা ওয়ালা-তাকূনূমিনাল মুশরিকীন।

তাঁরই দিকে একান্ত মনোযোগী হও, আর তাঁকেই ভয়ভক্তি করো, আর নামায কায়েম করো, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না --

مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَكَانُواْ شِيَعٗاۖ كُلُّ حِزۡبِۭ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُونَ

মিনাল্লাযীনা ফাররকূদীনাহুম ওয়া ক-নূশিয়া‘আন কুল্লুহিঝবিম বিমা-লাদাইহিম ফারিহুন।

তাদের দলের যারা তাদের ধর্মকে বিভক্ত করেছে আর তারা হয়ে গেছে নানা দলীয়। প্রত্যেক দলই যা তাদের কাছে রয়েছে তাতেই উল্লসিত।

وَإِذَا مَسَّ ٱلنَّاسَ ضُرّٞ دَعَوۡاْ رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيۡهِ ثُمَّ إِذَآ أَذَاقَهُم مِّنۡهُ رَحۡمَةً إِذَا فَرِيقٞ مِّنۡهُم بِرَبِّهِمۡ يُشۡرِكُونَ

ওয়া ইযা-মাছছান্না-ছা দু ররুন দা‘আও রব্বাহুম মুনীবীনা ইলাইহি ছু ম্মা ইযাআযা-কাহুম মিনহু রহামাতান ইযা-ফারীকুম মিনহুম বিরব্বিহিম ইউশরিকূন।

আর মানুষকে যখন দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের প্রভুকে আহ্বান করে তাঁর প্রতি একান্ত মনোযোগী হয়ে, তারপর যখন তিনি তাদের তাঁর তরফ থেকে অনুগ্রহ আস্বাদন করান তখন দেখো! তাদের মধ্যের একদল তাদের প্রভুর সঙ্গে অংশী দাঁড় করায়, --

لِيَكۡفُرُواْ بِمَآ ءَاتَيۡنَٰهُمۡۚ فَتَمَتَّعُواْ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُونَ

লিয়াকফুরূ বিমাআ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাছাওফা তা‘লামূন।

যেন তারা অস্বীকার করতে পারে যা আমরা তাদের প্রদান করেছিলাম। সুতরাং "ভোগ করে নাও, কেননা শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।"

أَمۡ أَنزَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ سُلۡطَٰنٗا فَهُوَ يَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُواْ بِهِۦ يُشۡرِكُونَ

আম আনঝালনা-‘আলাইহিম ছুলতা-নান ফাহুওয়া ইয়াতাকাল্লামুবিমা-ক-নূবিহী ইউশরিকূন।

অথবা, আমরা কি তাদের কাছে কোনো দলিল পাঠিয়েছি যাতে সেটি ওরা তাঁর সঙ্গে যে অংশী দাঁড় করায় সে সন্বন্ধে কথা বলে?

وَإِذَآ أَذَقۡنَا ٱلنَّاسَ رَحۡمَةٗ فَرِحُواْ بِهَاۖ وَإِن تُصِبۡهُمۡ سَيِّئَةُۢ بِمَا قَدَّمَتۡ أَيۡدِيهِمۡ إِذَا هُمۡ يَقۡنَطُونَ

ওয়া ইযা-আযাকনান্না-ছা রহমাতান ফারিহূবিহা- ওয়া ইন তুসিবহুম ছাইয়িআতুম বিমা-কাদ্দামাত আইদীহিম ইযা-হুম ইয়াকনাতূন।

আর যখন আমরা মানুষকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তারা তাতে আনন্দ করে, কিন্তু তাদের উপরে যদি এসে পড়ে কোনো দুর্দশা যা তাদের হাত আগবাড়িয়েছে, দেখো! তারা হতাশ হয়ে পড়ে।

أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقۡدِرُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

আওয়া লাম ইয়ারও আন্নাল্লা-হা ইয়াবছুতুর রিঝকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

তারা কি তবে দেখে না যে আল্লাহ্ রিযেক প্রসারিত করেন যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং সঙ্কুচিতও করেন। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।

فَـَٔاتِ ذَا ٱلۡقُرۡبَىٰ حَقَّهُۥ وَٱلۡمِسۡكِينَ وَٱبۡنَ ٱلسَّبِيلِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ لِّلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجۡهَ ٱللَّهِۖ وَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

ফাআ-তি যাল কুরবা-হাক্কাহূওয়াল মিছকীনা ওয়াবনাছছাবীল যা-লিকা খাইরুল লিল্লাযীনা ইউরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

কাজেই নিকট আ‌ত্মীয়কে তার প্রাপ্য প্রদান করো, আর নিঃস্বকে ও পথচারীকেও। এটি তাদের জন্য শ্রেয় যারা আল্লাহ্‌র চেহারা কামনা করে, আর এরাই স্বয়ং হচ্ছে সফলকাম।

وَمَآ ءَاتَيۡتُم مِّن رِّبٗا لِّيَرۡبُوَاْ فِيٓ أَمۡوَٰلِ ٱلنَّاسِ فَلَا يَرۡبُواْ عِندَ ٱللَّهِۖ وَمَآ ءَاتَيۡتُم مِّن زَكَوٰةٖ تُرِيدُونَ وَجۡهَ ٱللَّهِ فَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُضۡعِفُونَ

ওয়ামাআ-তাইতুম মির রিবাল লিয়ারবুওয়া ফীআমওয়া-লিন্না-ছি ফালা-ইয়ারবূ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ামাআ-তাইতুম মিন ঝাক-তিন তুরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ফাউলাইকা হুমুল মু দ‘ইফূন।

আর যা-কিছু তোমরা সুদে দিয়ে থাক যেন এটি বাড়তে পারে, -- তা কিন্তু আল্লাহ্‌র সমক্ষে বাড়বে না। আর যা তোমরা দিয়ে থাক যাকাতে আল্লাহ্‌র চেহারা কামনা করে, তাহলে এরাই স্বয়ং বহুগুণিত লাভবান হবে।

ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ ثُمَّ رَزَقَكُمۡ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يُحۡيِيكُمۡۖ هَلۡ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَفۡعَلُ مِن ذَٰلِكُم مِّن شَيۡءٖۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাকুম ছুম্মা রঝাকাকুম ছুম্মা ইউমীতুকুম ছুম্মা ইউহঈকুম হাল মিন শুরকাইকুম মাইঁ ইয়াফ‘আলুমিন যা-লিকুম মিন শাইয়িন ছুবহা-নাহূওয়া তা‘আলা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

আল্লাহ্‌ই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদের জীবিকা দিয়েছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর তিনি তোমাদের জীবনদান করবেন। তোমাদের অংশীদারদের মধ্যে কি কেউ আছে যে করতে পারে এগুলোর মধ্যের কোনো কিছু? সকল মহিমা তাঁরই, আর তারা যে-সব অংশী দাঁড় করায় সে-সব থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَيۡدِي ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِي عَمِلُواْ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ

জাহারল ফাছা-দুফিল বাররি ওয়ালবাহরি বিমা-কাছাবাত আইদিন্না-ছি লিইউযীকাহুম বা‘দাল্লাযী ‘আমিলূলা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল স্থলে ও জলে মানুষের হাত যা অর্জন করেছিল তার ফলে, যেন তিনি তাদের আস্বাদন করাতে পারেন যা তারা করেছিল তার কিছুটা, যাতে তারা হয়তো ফিরে আসতে পারে।

قُلۡ سِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلُۚ كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّشۡرِكِينَ

কুল ছীরূফিল আরদিফানজুরূ কাইফা ক-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলু কানা আকছারুহুম মুশরিকীন।

বলো -- "তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা পূর্বে অধিষ্ঠিত ছিল। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।"

فَأَقِمۡ وَجۡهَكَ لِلدِّينِ ٱلۡقَيِّمِ مِن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَ يَوۡمٞ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِۖ يَوۡمَئِذٖ يَصَّدَّعُونَ

ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনিল কাইয়িমি মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল লা-মারদ্দা লাহূমিনাল্লা-হি ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াসসাদ্দা‘ঊন।

অতএব তোমার মুখ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখ শাশ্বত ধর্মের প্রতি, সেইদিন আসার আগে -- আল্লাহ্‌র কাছ থেকে যার কোনো প্রতিরোধ নেই, সেইদিন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

مَن كَفَرَ فَعَلَيۡهِ كُفۡرُهُۥۖ وَمَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِأَنفُسِهِمۡ يَمۡهَدُونَ

মান কাফার ফা‘আলাইহি কুফরুহু ওয়া মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিআনফুছিহিম ইয়ামহাদূ ন।

যে কেউ অবিশ্বাস করে, তার উপরেই তবে তার অবিশ্বাস, আর যে কেউ সৎকর্ম করে, তাহলে তাদের নিজেদের জন্যেই তারা সুখশয্যা পাতে, --

لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ مِن فَضۡلِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡكَٰفِرِينَ

লিয়াজঝিইয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিন ফাদলিহী ইন্নাহূলাইউহিব্বুল ক-ফিরীন।

যেন তিনি তাঁর করুণাভান্ডার থেকে পুরস্কৃত করতে পারেন তাদের যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে। তিনি অবিশ্বাসীদের নিশ্চয়ই ভালবাসেন না।

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن يُرۡسِلَ ٱلرِّيَاحَ مُبَشِّرَٰتٖ وَلِيُذِيقَكُم مِّن رَّحۡمَتِهِۦ وَلِتَجۡرِيَ ٱلۡفُلۡكُ بِأَمۡرِهِۦ وَلِتَبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِهِۦ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআইঁ ইউরছিলার রিয়া-হামুবাশশির-তিওঁ ওয়া লিইউযীকাকুম মিররহমাতিহী ওয়া লিতাজরিয়াল ফুলকুবিআমরিহী ওয়া লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান সুসংবাদদাতারূপে, যেন তিনি তোমাদের আস্বাদন করাতে পারেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে, আর যেন জাহাজগুলি বিচরণ করতে পারে তাঁর বিধানে, আর যেন তোমরা অন্বেষণ করতে পার তাঁর করুণাভান্ডার থেকে, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পার।

وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ رُسُلًا إِلَىٰ قَوۡمِهِمۡ فَجَآءُوهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَٱنتَقَمۡنَا مِنَ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মিন কাবলিকা রুছুলান ইলা-কাওমিহিম ফাজাঊহুম বিল বাইয়িনাতি ফানতাকামনা-মিনাল্লাযীনা আজরমূ ওয়া ক-না হাক্কান ‘আলাইনা-নাসরুল মু’মিনীন।

আর আমরা তো নিশ্চয়ই তোমার আগে রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম তাঁদের স্বজাতির কাছে, সুতরাং তাঁরা তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, তারপর যারা অপরাধ করেছিল তাদের থেকে আমরা পরিণতি নিয়েছিলাম। আর আমাদের উপরে দায়িত্ব বর্তেছে মুমিনদের সাহায্য করা।

ٱللَّهُ ٱلَّذِي يُرۡسِلُ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابٗا فَيَبۡسُطُهُۥ فِي ٱلسَّمَآءِ كَيۡفَ يَشَآءُ وَيَجۡعَلُهُۥ كِسَفٗا فَتَرَى ٱلۡوَدۡقَ يَخۡرُجُ مِنۡ خِلَٰلِهِۦۖ فَإِذَآ أَصَابَ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ

আল্লা-হুল্লাযী ইউরছিলুর রিয়া-হা ফাতুছীরু ছাহা-বান ফাইয়াবছুতু হূফিছ ছামাই কাইফা ইয়াশা-উ ওয়া ইয়াজ‘আলুহূকিছাফান ফাতারল ওয়াদকা ইয়াখরুজুমিন খিলা-লিহী ফাইযা আসা-বা বিহী মাইঁ ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী ইযা-হুম ইয়াছতাবশিরূন।

আল্লাহ্‌ই তিনি যিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান। তারপর তারা মেঘ সঞ্চার করে, তখন তিনি যেমন ইচ্ছা করেন তা ছড়িয়ে দেন আকাশের মধ্যে, তারপর একে তিনি টুকরো টুকরো করেন, ফলে তোমরা দেখতে পাও তার নিচে থেকে বৃষ্টি বেরিয়ে আসছে, অতঃপর যখন তিনি তা পড়তে দেন তাঁর বান্দাদের যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তার উপরে, দেখো! তারা উল্লাস করে, --

وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيۡهِم مِّن قَبۡلِهِۦ لَمُبۡلِسِينَ

ওয়া ইন ক-নূমিন কাবলি আইঁ ইউনাঝঝালা ‘আলাইহিম মিন কাবলিহী লামুবলিছীন।

যদিও ইতিপূর্বে এটি তাদের উপরে বর্ষণের আগে পর্যন্ত তারা ছিল নিশ্চিত নিরাশ।

فَٱنظُرۡ إِلَىٰٓ ءَاثَٰرِ رَحۡمَتِ ٱللَّهِ كَيۡفَ يُحۡيِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

ফানজু র ইলা আ-ছা-রি রহমাতিল্লা-হি কাইফা ইউহয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না যা-লিকা লামুহয়িল মাওতা- ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

অতএব তাকিয়ে দেখ আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের চিহগুলোর প্রতি -- কেমন ক’রে তিনি পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করেন তার মৃত্যুর পরে। নিঃসন্দেহ এইভাবে তিনি নিশ্চয়ই মৃতের জীবন-দাতা। আর তিনি সব কিছুতেই সর্বশক্তিমান।

وَلَئِنۡ أَرۡسَلۡنَا رِيحٗا فَرَأَوۡهُ مُصۡفَرّٗا لَّظَلُّواْ مِنۢ بَعۡدِهِۦ يَكۡفُرُونَ

ওয়া লাইন আরছালনা-রীহান ফারআওহু মুসফাররল লাজাললূমিম বা‘দিহী ইয়াকফুরূন।

আর যদি আমরা বায়ুপ্রবাহ পাঠাই আর তারা তা দেখে হলদে হয়ে গেছে, তার পরেও তারা অবিশ্বাস করতেই থাকবে।

فَإِنَّكَ لَا تُسۡمِعُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَلَا تُسۡمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوۡاْ مُدۡبِرِينَ

ফাইন্নাকা লা-তুছমি‘উল মাওতা-ওয়ালা-তুছমি‘উস সুম্মাদ দু‘আআ ইযা-ওয়াল্লাও মুদবিরীন।

সুতরাং তুমি নিশ্চয়ই মৃতকে শোনাতে পারবে না, আর বধিরকেও তুমি আহ্বান শোনাতে পারবে না, যখন তারা ফিরে যায় পিছু হটে।

وَمَآ أَنتَ بِهَٰدِ ٱلۡعُمۡيِ عَن ضَلَٰلَتِهِمۡۖ إِن تُسۡمِعُ إِلَّا مَن يُؤۡمِنُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُم مُّسۡلِمُونَ

ওয়া মাআনতা বিহা-দিল ‘উময়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুছমি‘উ ইল্লা-মাইঁ ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনা-ফাহুম মুছলিমূন।

আর তুমি অন্ধদেরও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথপ্রদর্শক হতে পারবে না। তুমি তো শোনাতে পার শুধু তাকে যে আমাদের বাণীসমূহে বিশ্বাস করে, ফলে তারা মুসলিম হয়।

۞ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعۡفٖ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعۡدِ ضَعۡفٖ قُوَّةٗ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعۡدِ قُوَّةٖ ضَعۡفٗا وَشَيۡبَةٗۚ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡقَدِيرُ

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাকুম মিন দু‘ফিন ছু ম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি দু‘ফিন কু ওওয়াতান ছু ম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি কুওওয়াতিন দু‘ফাওঁ ওয়া শাইবাতাইঁ ইয়াখলুকুমা-ইয়াশাউ ওয়া হুওয়াল ‘আলীমুল কাদীর।

আল্লাহ্‌ই তিনি যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন শক্তিহীন দশা থেকে, তার পরে তিনি শক্তিহীনতার পরে দিয়েছেন শক্তি, তার পর শক্তিলাভের পরে তিনি দিয়েছেন শক্তিহীনতা ও পাকাচুল। তিনি যা চান তাই সৃষ্টি করেন, আর তিনিই সর্বজ্ঞাতা, পরম ক্ষমতাবান।

وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُقۡسِمُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ مَا لَبِثُواْ غَيۡرَ سَاعَةٖۚ كَذَٰلِكَ كَانُواْ يُؤۡفَكُونَ

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছ ছা-‘আতুইউকছিমুল মুজরিমূনা মা-লাবিছূগাইর ছা‘আতিন কাযা-লিকা ক-নূইউ’ফাকূন।

আর যেদিন ঘড়িঘন্টা সংস্থাপিত হবে তখন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে এক ঘড়ি ব্যতীত তারা অবস্থান করে নি। এইভাবেই তারা প্রতারিত হয়ে চলেছে।

وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ وَٱلۡإِيمَٰنَ لَقَدۡ لَبِثۡتُمۡ فِي كِتَٰبِ ٱللَّهِ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡبَعۡثِۖ فَهَٰذَا يَوۡمُ ٱلۡبَعۡثِ وَلَٰكِنَّكُمۡ كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

ওয়া ক-লাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ওয়াল ঈমা-না লাকাদ লাবিছতুম ফী কিতা-বিল্লা-হি ইলা-ইয়াওমিল বা‘ছি ফাহা-যা-ইয়াওমুল বা‘ছিওয়ালা-কিন্নাকুম কনতুম লা-তা‘লামূন।

আর যাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস দেওয়া হয়েছে তারা বলবে -- "তোমরা তো আল্লাহ্‌র বিধান অনুসারে অবস্থান করেছিলে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত, -- সেজন্য এই-ই হচ্ছে পুনরুত্থানের দিন, কিন্তু তোমরা না-জানা অবস্থায় রয়েছ।"

فَيَوۡمَئِذٖ لَّا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مَعۡذِرَتُهُمۡ وَلَا هُمۡ يُسۡتَعۡتَبُونَ

ফাইয়াওমাইযিল লা-ইয়ানফা‘উল্লাযীনা জালামূমা‘যিরতুহুম ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।

সুতরাং সেইদিন যারা অন্যায় করেছিল তাদের ওজর আপত্তি কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সদয়ভাবে লওয়াও হবে না।

وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٖۚ وَلَئِن جِئۡتَهُم بِـَٔايَةٖ لَّيَقُولَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِنۡ أَنتُمۡ إِلَّا مُبۡطِلُونَ

ওয়া লাকাদ দারবনা-লিন্না-ছি ফী হা-যাল কুরআ-নি মিন কুল্লি মাছালিওঁ ওয়া লাইন জি’তাহুম বিআ-ইয়াতিল লাইয়াকূলান্নাল্লাযীনা কাফারূইন আনতুম ইল্লা-মুবতিলূন।

আর আমরা নিশ্চয়ই লোকেদের জন্য এই কুরআনে সব রকমের দৃষ্টান্ত থেকেই প্রস্তাবনা করেছি। আর তুমি যদি তাদের কাছে একটি নিদর্শন নিয়েও আস তথাপি যারা অবিশ্বাস করে তারা অবশ্যই বলবে -- "তুমি ঝুটো বৈ তো নও।"

كَذَٰلِكَ يَطۡبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ

কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুলূবিল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।

এইভাবে আল্লাহ্ একটি মোহর মেরে দেন তাদের হৃদয়ে যারা জানে না।

فَٱصۡبِرۡ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞۖ وَلَا يَسۡتَخِفَّنَّكَ ٱلَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ

ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাখিফফান্নাকাল্লাযীনা লা-ইঊকিনূন।

অতএব তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র ওয়াদা ধ্রুব-সত্য। আর যারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।