وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنۡ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٖ ثُمَّ إِذَآ أَنتُم بَشَرٞ تَنتَشِرُونَ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআন খালাকাকুমমিনতুর-বিন ছু ম্মা ইযা- আনতুম বাশারুন তানতাশিরূন।উচ্চারণ

তাঁর ২৬ নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে তারপর সহসা তোমরা হলে মানুষ, (পৃথিবীর বুকে) ছড়িয়ে পড়ছো। ২৭ তাফহীমুল কুরআন

তাঁর (কুদরতের) একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা দেখতে না দেখতে মানবরূপে (ভূমিতে) ছড়িয়ে পড়লে। #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী

তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছ।মুজিবুর রহমান

তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছেন। তার পর এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তেছ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমরা মানুষ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছ।আল-বায়ান

তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমরা এখন মানুষ, সবখানে ছড়িয়ে রয়েছ।তাইসিরুল

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর দেখো! তোমরা হয়ে গেলে মানুষ -- ছড়িয়ে রয়েছ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬

মনে রাখতে হবে এখান থেকে রুকুর শেষ অবধি মহান আল্লাহর যেসব নিদর্শন বর্ণনা করা হচ্ছে, সেগুলো তো একদিকে বক্তব্য পরম্পরার সাথে সম্পর্ক রেখে পরকালীন জীবনের সম্ভাবনা ও অস্তিত্বশীলতার কথা প্রমাণ করে এবং অন্যদিকে এ নিদর্শনগুলোই প্রমাণ করে যে, এ বিশ্ব-জাহান ইলাহ বিহীন নয় বরং এর ইলাহও বহু নয় বরং এক ও একক ইলাহই এর স্রষ্টা, পরিচালক, মালিক ও শাসক। তিনি ছাড়া মানুষের আর কোন মাবুদ হওয়া উচিত নয়। অনুরূপভাবে এ রুকুটি বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে পূর্বের ও পরের উভয় ভাষণের সাথে সম্পৃক্ত।

২৭

অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি রহস্য এছাড়া আর কি যে, কয়েকটি নিষ্প্রাণ উপাদানের সমাহার, যেগুলো এ পৃথিবীর বুকে পাওয়া যায়। যেমন কিছু কার্বন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম এবং এ ধরনের আরো কিছু উপাদান। এগুলোর রাসায়নিক সংযোগের মাধ্যমে মানুষ নামক একটি বিস্ময়কর সত্ত্বা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে আবেগ, অনুভূতি, চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তা-কল্পনার এমন সব অদ্ভূত শক্তি যাদের কোন একটির উৎসও তার মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে খূঁজে পাওয়া যেতে পারে না। তারপর শুধু এতটুকুই নয় যে, হঠাৎ একজন মানুষ এমনি ধরনের এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে বরং তার মধ্যে এমন সব অদ্ভুত প্রজনন শক্তিও সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে যার বদৌলতে কোটি কোটি মানুষ সে একই কাঠামো এবং যোগ্যতার অধিকারী হয়ে অসংখ্য উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং সীমাসংখ্যাহীন ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের ধারক হিসেবে বের হয়ে আসছে। তোমার বুদ্ধি কি এ সাক্ষ্য দেয়, এ চূড়ান্ত জ্ঞানময় সৃষ্টি কোনো জ্ঞানী স্রষ্টার সৃষ্টিকর্ম ছাড়াই আপনা আপনিই অস্তিত্বশীল হয়েছে? তুমি কি সজ্ঞানে ও সচেতন অবস্থায় একথা বলতে পারো, মানুষ সৃষ্টির মতো মহত্তম পরিকল্পনা, তাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এবং পৃথিবী ও আকাশের সংখ্যাব্যতীত শক্তিকে মানব জীবন গঠনের উপযোগী করে দেয়া, এগুলো কি বহু ইলাহর চিন্তা ও ব্যবস্থাপনার ফল হতে পারে? আর তোমরা যখন মনে করতে থাকো, যে আল্লাহ‌ মানুষকে নিরেট অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন তিনি সেই মানুষকে মৃত্যু দান করার পর পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না তখন তোমাদের মস্তিষ্ক কি সঠিক অবস্থায় থাকে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে ৩৭ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলার তাওহীদ সম্পর্কে আলোচনা। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বিশ্ব-জগতে বিরাজমান সেই সকল নিদর্শনের প্রতি, যা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদকে প্রমাণ করে। কোন ব্যক্তি যদি সত্য জানার আগ্রহে ন্যায়নিষ্ঠ মন নিয়ে এসব নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তবে সে নিশ্চিত দেখতে পাবে, এর প্রতিটিই আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এর প্রত্যেকটি জানান দেয়, যেই সত্তা এই মহাবিশ্বকে মহা-বিস্ময়কর নিয়ম-শৃঙ্খলার সাথে পরিচালনা করছেন, নিজ প্রভুত্বে তার না কোন অংশীদার আছে আর না তা থাকার দরকার আছে। তাছাড়া এটা কোন যুক্তির কথা নয় যে, যেই মহান সত্তা একা এত বড় জগত সৃষ্টি করেছেন, ছোট-ছোট কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য তার আবার আলাদা-আলাদা শরীকের প্রয়োজন হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে(১) রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছ।(২)

(১)  ২০ থেকে ২৭নং আয়াতসমূহে মহান আল্লাহর যেসব নিদর্শন বর্ণনা করা হচ্ছে, সেগুলো বক্তব্য পরম্পরার সাথে সম্পর্ক রেখে আখেরাতের সম্ভাবনা ও অস্তিত্বশীলতার কথা প্রমাণ করে, কেয়ামতে পুনরুজ্জীবন, হিসাব-নিকাশ এবং শাস্তি ও প্রতিদানকে যেসব বাহ্যদর্শী অবান্তর মনে করতে পারতো, এ আয়াতসমূহে তাদেরকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে জওয়াব দেয়া হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর; আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)।

(২) আল্লাহর কুদরাতের প্রথম নিদর্শন: প্রথম নিদর্শন এই যে, মানব জাতীকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা। মানব সৃষ্টির উপাদান যে মৃত্তিকা, একথা আদিম আলাইহিস সালামের দিক দিয়ে বুঝতে কষ্ট হয় না। তিনি সমগ্ৰ মানব জাতির অস্তিত্বের মূলভিত্তি, তাই অন্যান্য মানুষের সৃষ্টিও পরোক্ষভাবে তাঁরই সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া অবান্তর নয়। (কুরতুবী) এটাও সম্ভবপর যে, সাধারণ মানুষের প্রজনন বীর্যের মাধ্যমে হলেও বীর্য যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত, তন্মধ্যে মৃত্তিকা প্রধান (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর এখন তোমরা মানুষ, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছ।(1)

(1) এখানে إِذَا শব্দটি (হঠাৎ বা সহসা) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এতে ঐ অবস্থাসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা অতিক্রম করে একটি ভ্রূণ পূর্ণ মানুষরূপে গঠিত হয়। যার বিস্তারিত বর্ণনা কুরআন কারীমের অন্য স্থানে করা হয়েছে। (সূরা হাজ্জ ৫, মু’মিনূনঃ ১৪ দ্রঃ) تَنتَشِرُون শব্দটির অর্থ হল জীবিকা অর্জন এবং মানুষের অন্যান্য প্রয়োজনে চলাফেরা করা।