ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতুইউবলিছুল মুজরিমূন।উচ্চারণ
আর যখন সে সময়টি ১৪ সমাগত হবে, সেদিন অপরাধী বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যাবে। ১৫ তাফহীমুল কুরআন
যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন অপরাধীরা নিরাশ হয়ে যাবে।মুফতী তাকী উসমানী
যেদিন কিয়ামাত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।মুজিবুর রহমান
যে দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যেই দিন কিয়ামত হবে সেই দিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।আল-বায়ান
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।তাইসিরুল
আর সেইদিন যখন ঘড়িঘন্টা এসে দাঁড়াবে তখন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।মাওলানা জহুরুল হক
১৪
অর্থাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে যাবার এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হবার সময়।
১৫
মূল শব্দ হচ্ছে اِبْلَاس এর অর্থ হচ্ছে চরম হতাশা ও দুঃখ-বেদনার কারণেকোন ব্যক্তির একেবারে হতবাক ও স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। আশার সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে দেখে বিস্ময় বিমূঢ় হয়ে যাওয়া এবং কোনো যুক্তি ও সমর্থন না পাওয়ার কারণে রুদ্ধশ্বাস হওয়া। এ শব্দটি যখন অপরাধীর জন্য ব্যবহার করা হয় তখন মনের পাতায় তার যে ছবি ভেসে ওঠে তা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তিকে অপরাধ করার সময় হাতে নাতে পাকড়াও করা হয়েছে। সে পালাবার কোন পথ পাচ্ছে না এবং নিজের সাফাই গাইবার জন্য কোন জিনিস পেশ করে বের হয়ে আসার আশাও রাখে না। তাই তার কণ্ঠরুদ্ধ এবং চরম হতাশা ও মনমরা অবস্থায় সে অবাক বিস্ময়ে থ হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত একথাটাও উপলব্ধি করতে হবে যে, এখানে অপরাধী বলতে কেবল দুনিয়ায় যারা হত্যা, চুরি, ডাকাতি ও এ ধরনের অন্যান্য অপরাধ করে তাদের কথা বলা হয়নি বরং এমন সব লোকের কথা এখানে বলা হয়েছে যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, তাঁর রসূলদের শিক্ষা ও পথনির্দেশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে এবং আখেরাতে জবাবদিহি করার কথা অস্বীকার করে অথবা সে ব্যাপারে নির্বিকার থেকে এবং দুনিয়ায় আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের অথবা নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব করতে থেকেছে। এ মূল ভ্রষ্টতার সাথে সাধারণ্যে অপরাধ বলা হয়ে থাকে এমন কাজ তারা করলেও বা না করলেও কিছু আসে যায় না। এছাড়াও এমনসব লোকও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে যারা আল্লাহকে মেনে নিয়ে তাঁর রসূলদের প্রতি ঈমান এনে আখেরাতকে স্বীকার করে নিয়ে তারপর আবার জেনে বুঝে নিজেদের রবের নাফরমানী করেছে এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের বিদ্রোহী নীতিতে অবিচল থেকেছে। এরা নিজেদের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীতে আখেরাতের জগতে হঠাৎ করে জেগে উঠবে এবং দেখবে, সত্যিই তো এখানে সেই পরবর্তী জীবন শুরু হয়ে গেছে, যা অস্বীকার করে অথবা যাকে উপেক্ষা করে তারা দুনিয়ার কাজ করতো। তখন তাদের বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের ওপর এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়ে যাবে يُبْلِسُ الْمُجْرِمُونَ বাক্যাংশে যার ছবি অংকন করা হয়েছে।
১২. আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সে দিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।
(১২) যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে। (1)
(1) إبلاس -এর অর্থ হল নিজের দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ পেশ করতে না পেরে চুপচাপ হয়রান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। যাকে হতাশ হওয়া বলা যায়। এই অর্থে مُبلِس ঐ ব্যক্তিকে বলা হবে, যে হতাশ হয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে ও নিজের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ খুঁজে পায় না। কিয়ামতের দিন কাফের ও মুশরিকদের এই অবস্থা হবে। অর্থাৎ, আল্লাহর আযাব চাক্ষুষ দেখে তারা সকল ব্যাপারে হতাশ হবে এবং কোন প্রমাণ পেশ করতেও অক্ষম হবে। এখানে مُجرِمُون (অপরাধীরা) বলতে কাফের ও মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। পরের আয়াত দ্বারা তা পরিষ্কার বুঝা যায়।