وَلَمۡ يَكُن لَّهُم مِّن شُرَكَآئِهِمۡ شُفَعَـٰٓؤُاْ وَكَانُواْ بِشُرَكَآئِهِمۡ كَٰفِرِينَ

ওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম মিন শুরকাইহিম শুফা‘আউওয়াক-নূবিশুরকাইহিম কাফিরীন।উচ্চারণ

তাদের বানানো শরীকদের মধ্য থেকে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না ১৬ এবং তারা নিজেদের শরীকদের অস্বীকার করবে। ১৭ তাফহীমুল কুরআন

তারা যাদেরকে আল্লাহর শরীক মেনেছিল, তাদের মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশকারী হবে না এবং তারা নিজেরাও তাদের শরীকদের অস্বীকারকারী হয়ে যাবে। মুফতী তাকী উসমানী

তাদের দেব-দেবীগুলো তাদের জন্য সুপারিশ করবেনা এবং তারাই তাদের দেব-দেবীগুলোকে অস্বীকার করবে।মুজিবুর রহমান

তাদের দেবতা গুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের দেব-দেবীগুলি এদের জন্যে সুপারিশকারী হবে না এবং এরা এদের দেব-দেবীগুলিকে প্রত্যাখ্যান করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদের শরীকরা তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে না এবং তারা তাদের শরীকদেরকে অস্বীকার করবে।আল-বায়ান

তারা যাদেরকে শরীক গণ্য করত তাদের মধ্যে কেউ তাদের জন্য সুপারিশকারী সাজবে না এবং তারা তাদের শরীকদেরকে অস্বীকার করবে।তাইসিরুল

আর তাদের জন্য তাদের অংশী-দেবতাদের থেকে কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, আর তাদের অংশীদেবতাদের সন্বন্ধে তারা অস্বীকারকারী হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৬

তিন ধরনের সত্তার ওপর শরীক শব্দটির প্রয়োগ হয়। এক, ফেরেশতা, নবী, আউলিয়া, শহীদ ও পুণ্যবান লোক। মুশরিকরা বিভিন্ন যুগে এদেরকে আল্লাহর গুণাবলী ও ক্ষমতার অধিকারী গণ্য করে এদের সামনে বন্দেগী ও পূজার যাবতীয় অনুষ্ঠান পালন করতো। কিয়ামতের দিন তারা পরিষ্কার বলে দেবে, এসব কিছু করেছো তোমরা আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বরং আমাদের শিক্ষা ও পথনির্দেশের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধাচরণ করে। তাই তোমাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তোমাদের শাফাআতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আমরা কিছু আবেদন নিবেদন করবো, এ আশা আমাদের ব্যাপারে করো না। দুই, এমন সব জিনিস যেগুলোর চেতনা নেই অথবা প্রাণ নেই। যেমনঃ চাঁদ, সূর্য, তারকা, গাছ, পাথর ও পশু ইত্যাদি। মুশরিকরা তাদেরকে খোদায় পরিণত করে, এদের পূজা-উপাসনা করে এবং এদের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করে। কিন্তু এই জড় ও নির্জীব জিনিসগুলো একথা জানতেই পারে না যে, আল্লাহর প্রতিনিধি মানুষ এসব নজরানা তাদের জন্য উৎসর্গ করছে। একথা সুস্পষ্ট যে, এদের মধ্যে একজনও তাদের সুপারিশের জন্য সামনে অগ্রসর হবে না। তিন, এমন সব বড় বড় অপরাধী যারা নিজেরাই চেষ্টা করে, ধোঁকা ও প্রতারণার পথ অবলম্বন করে, মিথ্যার জাল ছড়িয়ে দিয়ে অথবা শক্তি প্রয়োগ করে দুনিয়ায় আল্লাহর বান্দাদের থেকে নিজেদের বন্দেগী ও পূজা আদায় করে নিয়েছে। যেমন শয়তান, ভণ্ড ও ধর্মীয় নেতা এবং জালেম ও স্বৈরাচারী শাসনকর্তা ইত্যাদি। এরা সবাই সেখানে বিপদের শৃঙ্খলে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িতে থাকবে। নিজেদের এ ভক্তবৃন্দের সুপারিশের সামনে অগ্রসর হওয়া তো দূরের কথা বরং তারা নিজেদের আমলনামার বোঝা হালকা করার চেষ্টা করতে থাকবে। হাশরের ময়দানে তারা একথা প্রমাণ করার চেষ্টা করতে থাকবে যে, এদের অপরাধের জন্য এরা নিজেরাই দায়ী এবং এদের পথভ্রষ্টতার জন্য আমাদের দুর্ভোগ পোহানো উচিত নয়। এভাবে মুশরিকরা সেখানে কোনো দিক থেকে কোনো প্রকার শাফাআত লাভ করতে সক্ষম হবে না।

১৭

অর্থাৎ সে সময় মুশরিকরা একথা স্বীকার করবে যে, তাদেরকে আল্লাহর শরীক করে তারা ভুল করেছিল। প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্য থেকে কারো আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বে কোনো অংশ নেই, এ সত্যটি তখন তাদের সামনে উন্মোচিত হয়ে যাবে। তাই দুনিয়ায় আজ তারা যে শিরকের ওপর টিকে থাকার জন্য চাপ দিচ্ছে আখেরাতে তাকেই অস্বীকার করবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, এক পর্যায়ে মুশরিকরা সুস্পষ্ট মিথ্যা বলে দেবে। বলবে, দুনিয়ায় আমরা কখনও কোন শিরক করিনি। সূরা আনআমে আল্লাহ তাআলা তাদের সে উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, وَاللهِ رَبِّنا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ ‘আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, আমরা মুশরিক ছিলাম না (আনআম ৬ : ২৩)।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. আর (আল্লাহর সাথে) শরীককৃত তাদের উপাস্যগুলো তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে না এবং তারা তাদের শরীককৃত উপাস্যগুলোকে অস্বীকারকারী হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) ওদের শরীক (উপাস্য)গুলি ওদের জন্য সুপারিশ করবে না(1) এবং ওরা ওদের শরীক (উপাস্য)গুলিকে অস্বীকার করবে। (2)

(1) শরীক বলতে ঐ সকল বাতিল উপাস্যসমূহকে বুঝানো হয়েছে, মুশরিকরা যাদের এই ভেবে ইবাদত করত যে, তারা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচিয়ে নেবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, আল্লাহর সাথে অংশীস্থাপনকারীদের জন্য আল্লাহর নিকট কোন সুপারিশকারী হবে না।

(2) অর্থাৎ, সেখানে (কিয়ামতের দিন) ওরা তাদের উপাস্যত্বকে অস্বীকার করবে। কারণ, ওরা বুঝতে পারবে যে, (ওদের বাতিল উপাস্য) কারো কোন উপকার করতে পারবে না। (ফাতহুল ক্বাদীর) এর দ্বিতীয় অর্থ হল, ওদের উক্ত উপাস্যগুলো এই কথা অস্বীকার করবে যে, ওরা তাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করে তাদের ইবাদত করেছিল। কারণ, এই সকল উপাস্য তো ওদের ইবাদত থেকেই বেখবর ছিল।