ইয়া‘লামূনা জা-হিরম মিনাল হায়া-তিদ দুনইয়া- ওয়া হুম ‘আনিল আ-খিরতি হুম গাফিলূন।উচ্চারণ
লোকেরা দুনিয়ায় কেবল বাহ্যিক দিকটাই জানে এবং আখেরাত থেকে তারা নিজেরাই গাফেল। ৪ তাফহীমুল কুরআন
তারা পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে আর আখেরাত সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ গাফেল।মুফতী তাকী উসমানী
তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক সম্বন্ধে অবগত, আর আখিরাত সম্বন্ধে তারা গাফিল।মুজিবুর রহমান
তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে এবং তারা পরকালের খবর রাখে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা পার্থিব জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, আর আখিরাত সম্বন্ধে এরা গাফিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, আর আখিরাত সম্পর্কে তারা গাফিল।আল-বায়ান
তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে, আর তারা পরকালের খবর রাখে না।তাইসিরুল
তারা দুনিয়ার জীবনের বাহিরটাই জানে, কিন্তু আখেরাত সন্বন্ধে তারা নিজেরাই সম্পূর্ণ বেখেয়াল রয়েছে।মাওলানা জহুরুল হক
৪
অর্থাৎ যদিও আখেরাতের প্রমাণ পেশ করার মত বহু সাক্ষ্য ও নিদর্শন রয়েছে এবং সেগুলো থেকে গাফিল হবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তবুও এরা নিজেরাই গাফিল থেকেছে। অন্য কথায় এটা তাদের নিজেদের ত্রুটি। দুনিয়ার জীবনের এই বাহ্যিক পর্দার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তারা বসে রয়েছে। এর পিছনে যা কিছু আসছে সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। নয় তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে জানাবার ব্যাপারে কোনো প্রকার ত্রুটি করা হয়নি।
‘তারা পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে’ অর্থাৎ পার্থিব জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার জন্য যা কিছু দরকার, যথা কৃষি কার্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, গৃহ-নির্মাণ, রান্না-বান্না, পোশাক তৈরি, ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এসব কিছুর আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তিকরণ এবং সেই লক্ষ্যে কল-কারখানা তৈরি ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ইত্যাদি বিষয়গুলো তারা জানে এবং নিজেদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকে এসবই আঞ্জাম দিতে পারে। কিন্তু বলা বাহুল্য এসবই ইহজীবনের প্রকাশ্য দিক তথা খোলস মাত্র; সারবস্তু নয়। সারবস্তু হল এর ভেতর দিয়ে সৃষ্টিকর্তার পরিচয় লাভ করা এবং তিনি কী উদ্দেশ্যে মানুষসহ গোটা মহাজগত সৃষ্টি করেছেন তা উপলব্ধি করা। সৃষ্টি নিচয়ের মধ্যে লক্ষ্য করলে উপলব্ধি করা যায় জগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং এ জগত চিরস্থায়ী নয়। এর একটা পরিণতি আছে। ইহজগতে মানুষ প্রেরণ দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে পরীক্ষা করা, সে জগতের বস্তুনিচয়ের মাঝে নিজ জীবনকে কিভাবে পরিচালনা করে। সে কি এই ইহজীবনকেই প্রকৃত জীবন মনে করে তার ভোগ-উপভোগেই নিমজ্জিত থাকে, না এর পরিণতি তথা আখিরাতের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সেই অনুযায়ী ইহজীবন নির্বাহ করে। আয়াতের শেষবাক্যে জানানো হয়েছে যে, অবিশ্বাসীগণ পরিণামদর্শী নয়। তারা ইহজীবনে মত্ত থেকে আখিরাত সম্পর্কে গাফিল হয়ে আছে। অর্থাৎ শাঁসের বদলে খোসাতেই তারা সন্তুষ্ট। -অনুবাদক
৭. তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, আর তারা আখিরাত সম্বন্ধে গাফিল।(১)
(১) অর্থাৎ পার্থিব জীবনের এক পিঠ তাদের নখদর্পণে। ব্যবসা কিরূপে করবে, কিসের ব্যবসা করবে, কোথা থেকে কিনবে, কোথায় বেচবে, কৃষিকাজ কিভাবে করবে, কবে বীজ বপন করবে, কবে শস্য কাটবে, দালান-কোঠা কিভাবে নির্মাণ করবে, বিলাস-ব্যসনের উপকরণ কিভাবে আহরণ করবে-এসব বিষয় তারা সম্যক অবগত। (কুরতুবী; আরও দেখুন: আত-তাফসীরুস সহীহ)
(৭) ওরা পার্থিব জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, অথচ পারলৌকিক জীবন সম্বন্ধে ওরা উদাসীন।(1)
(1) অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষেরই পার্থিব বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান আছে। সুতরাং মানুষ পার্থিব বিষয় অর্জনে চাতুর্য ও দক্ষতার প্রদর্শন করে থাকে; যা কিছু দিনের জন্য উপকারী। কিন্তু তারা আখেরাতের বিষয়ে একেবারে উদাসীন। অথচ আখেরাতের উপকারই হচ্ছে চিরস্থায়ী। অর্থাৎ, ইহলৌকিক (সংসার) বিষয়ে তারা সম্যক অবগত, আর পারলৌকিক (দ্বীন) বিষয়ে একেবারে উদাসীন।