فَـَٔاتِ ذَا ٱلۡقُرۡبَىٰ حَقَّهُۥ وَٱلۡمِسۡكِينَ وَٱبۡنَ ٱلسَّبِيلِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ لِّلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجۡهَ ٱللَّهِۖ وَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

ফাআ-তি যাল কুরবা-হাক্কাহূওয়াল মিছকীনা ওয়াবনাছছাবীল যা-লিকা খাইরুল লিল্লাযীনা ইউরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।উচ্চারণ

কাজেই (হে মুমিন!) আত্মীয়দেরকে তাদের অধিকার দাও এবং মিসকীন ও মুসাফির কে (দাও তাদের অধিকার) । ৫৭ এ পদ্ধতি এমন লোকদের জন্য ভালো যারা চায় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তারাই সফলকাম হবে। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্তকে ও মুসাফিরকেও। #%২০%# যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।মুফতী তাকী উসমানী

অতএব আত্মীয়কে দিয়ে দাও তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।মুজিবুর রহমান

আত্নীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দিন এবং মিসকীন ও মুসাফিরদেরও। এটা তাদের জন্যে উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। তারাই সফলকাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব আত্মীয়কে দিবে তার হক এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। যারা আল্লাহ্ র সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্যে এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।আল-বায়ান

কাজেই আত্মীয়দেরকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য দিয়ে দাও আর অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরদেরকেও। যারা আল্লাহর চেহারা (দর্শন) কামনা করে, এটা তাদের জন্য উত্তম, আর তারাই সফলকাম।তাইসিরুল

কাজেই নিকট আ‌ত্মীয়কে তার প্রাপ্য প্রদান করো, আর নিঃস্বকে ও পথচারীকেও। এটি তাদের জন্য শ্রেয় যারা আল্লাহ্‌র চেহারা কামনা করে, আর এরাই স্বয়ং হচ্ছে সফলকাম।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন ও মুসাফিরদেরকে দান করার কথা বলা হয়নি। বরং বলা হচ্ছে, এ তাঁর অধিকার এবং অধিকার মনে করেই তোমাদের এটা দেয়া উচিত। এ অধিকার দিতে গিয়ে তোমার মনে এ ধারণা না জন্মে যে, তাঁর প্রতি তুমি অনুগ্রহ করছো এবং তুমি কোনো মহান দানশীল সত্ত্বা আর সে কোন একটি সামান্য ও নগণ্য সৃষ্টি, তোমার অনুগ্রহের কণা ভক্ষণ করেই সে জীবিকা নির্বাহ করে। বরং একথা ভালোভাবে তোমার মনে গেঁথে যাওয়া উচিত যে, সম্পদের আসল মালিক যদি তোমাকে বেশি এবং অন্য বান্দাদেরকে কম দিয়ে থাকেন, তাহলে এ বর্ধিত সম্পদ হচ্ছে এমন সব লোকের অধিকার যাদেরকে তোমার আওতাধীনে তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়েছে। তুমি তাদেরকে এ অধিকার দান করছো কি করছো না এটা তোমার মালিক দেখতে চান।

আল্লাহর এ ভাষণ এবং এর আসল প্রাণসত্ত্বা সম্পর্কে যে ব্যক্তিই চিন্তা-ভাবনা করবে সে একথা অনুভব না করে থাকতে পারে না যে, কুরআন মজীদ মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির যে পথ নির্ধারণ করে সেজন্য একটি মুক্ত সমাজ ও মুক্ত অর্থনীতি যেখানে মানুষের মালিকানা অধিকার খতম করে দেয়া হয়, রাষ্ট্র সমস্ত উৎপাদন ও উপকরণের একচ্ছত্র মালিক হয়ে যায় এবং ব্যক্তিবর্গের মধ্যে জীবিকা বণ্টনের যাবতীয় ব্যবস্থা সরকারী কর্মকর্তাদের করায়ত্ত থাকে। এমন কিকোন ব্যক্তি অধিকার চিহ্নিত করার পরও তা তাকে দিতে পারে না এবং অন্য ব্যক্তি কারো থেকে কিছু গ্রহণ করে তাঁর জন্য নিজের মনের মধ্যে কোনো শুভেচ্ছার অনুভূতি লালন করতে পারে না। এভাবে নির্ভেজাল কমিউনিস্ট সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আজকাল আমাদের দেশে “কুরআনী রবুবীয়াত ব্যবস্থা”র গালভরা নাম দিয়ে জবরদস্তি কুরআনের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এটা কুরআনের নিজস্ব পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ এর মধ্যে ব্যক্তিগত নৈতিক বৃত্তির বিকাশ ও উন্মেষ এবং ব্যক্তি চরিত্র গঠন ও উন্নয়নের দুয়ার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কুরআনের পরিকল্পনা এমন জায়গায় কার্যকর হতে পারে যেখানে ব্যক্তিরা সম্পদের কিছু উপায়-উপকরণের মালিক হয়, সেগুলো স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা রাখে এবং এরপর স্বেচ্ছায় ও স্বাগ্রহে আল্লাহ‌ ও তাঁর বান্দাদের অধিকার আন্তরিকতা সহকারে প্রদান করে। এ ধরনের সমাজে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি লোকের মধ্যে একদিকে সহানুভূতি, দয়া-মায়া, মমতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সত্যনিষ্ঠ ও সত্য পালন করার উন্নতর গুণাবলী সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং অন্যদিকে যেসব লোকের সাথে সদাচার করা হয় তাদের মনে সদাচারীদের জন্য শুভেচ্ছা ও অনুগৃহীত হবার মনোভাব এবং অনুগ্রহের বিনিময়ে অনুগ্রহ করার পবিত্র অনুভূতি বিকাশ লাভ করে। শেষ পর্যন্ত এমন একটি আদর্শ ও মহৎ পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে যায় যেখানে অন্যায়ের পথ রুদ্ধ হওয়া এবং ন্যায়ের পথ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া কোনো স্বৈরাচারী শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয় না বরং লোকেরা নিজেদের আত্মিক শুদ্ধতা ও সদিচ্ছাবশেই এ দায়িত্ব মাথা পেতে নেয়।

৫৮

এর দ্বারা একথা বুঝানো হচ্ছে না যে, কেবলমাত্র মিসকীন, মুসাফির ও আত্মীয়-স্বজনদের অধিকার দিয়ে দিলেই সাফল্য লাভ করা যাবে এবং এছাড়া সাফল্য লাভ করার জন্য আর কোন জিনিসের প্রয়োজন নেই। বরং এর অর্থ হচ্ছে, যেসব লোক এ অধিকারগুলো জানে না এবং এ অধিকারগুলো প্রদান করে না তারা সাফল্য লাভ করবে না। বরং সাফল্য লাভ করবে এমনসব লোক যারা একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টিঅর্জনের জন্য অধিকারগুলো জানে এবং এগুলো প্রদান করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে বলা হয়েছে রিযক ও অর্থ-সম্পদ আল্লাহ তাআলারই দান। কাজেই তিনি যা-কিছু দান করেন তা তাঁরই হুকুম মোতাবেক ও তাঁরই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। তাতে গরীব-মিসকীন ও আত্মীয়-স্বজনের যে হক আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন তা যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। আদায়কালে যেন অন্তরে এই আশঙ্কা না জাগে যে, এর ফলে সম্পদ কমে যাবে। কেননা পূর্বের আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহ তাআলার হাতে। তোমরা যদি তাঁর হুকুম মোতাবেক তা ব্যয় কর এবং তাঁর আরোপিত হক আদায় কর, তবে এর ফলে তিনি তোমাদের সম্পদ কমিয়ে দেবেন তা কখনওই হতে পারে না। সুতরাং আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি কেউ তার অর্থ-সম্পদ থেকে অন্যের হক আদায় করার কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৮. অতএব আত্মীয়কে দাও তার হক(১) এবং অভাবগ্ৰস্ত ও মুসাফিরকেও(২) যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি(৩) কামনা করে তাদের জন্য এটা উত্তম এবং তারাই তো সফলকাম।

(১) কাতাদাহ বলেন, তোমার যদি কোন নিকটাত্মীয় থাকে, তারপর তুমি তাকে কোন সম্পদ না দাও বা তার কাছে না যাও, তাহলে তুমি তার সাথে সম্পর্ক কর্তন করেছ, সম্পর্ক রক্ষা করনি। (আত-তাফসীরুস সহীহ)

(২) আলোচ্য আয়াতে ধন-সম্পদের কয়েকটি খাত বৰ্ণনা করা হয়েছে। (এক) আত্মীয়-স্বজন, (দুই) মিসকীন, (তিন) মুসাফির। অর্থাৎ, আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ তাদেরকে দান কর এবং তাদের জন্যে ব্যয় কর। সাথে সাথে আরও বলা হয়েছে যে, এটা তাদের প্রাপ্য, যা আল্লাহ তোমাদের ধন-সম্পদে শামিল করে দিয়েছেন। কাজেই দান করার সময় তাদের প্রতি কোন অনুগ্রহ করছ বলে বড়াই করো না। কেননা, প্রাপকের প্রাপ্য পরিশোধ করা ইনসাফের দাবী; কোন অনুগ্রহ নয়। (তাবারী, ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর)

(৩) وَجْهَ اللَّهِ এর মধ্যস্থিত وجه এর এক অর্থ চেহারা। সে হিসেবে এর দ্বারা আল্লাহর চেহারা থাকার গুণ সাব্যস্ত হয়। আবার অন্য অর্থ হচ্ছে, جهة বা দিক। তখন অর্থ হয়; আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। অধিকাংশ মুফাসসির এ অর্থই করেছেন। তাছাড়া এর দ্বারা চেহারা (দর্শন) কামনা করাও উদ্দেশ্য হতে পারে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৮) অতএব আত্মীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরকে তাদের প্রাপ্য দান কর। (1) এ যারা আল্লাহর মুখমন্ডল (দর্শন(2) বা সন্তুষ্টি) কামনা করে, তাদের জন্য শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।

(1) রুযীর ব্যাপারটা যখন সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে এবং তিনি যার জন্য ইচ্ছা রুযী বর্ধিত করেন, তখন ধনীদের উচিত, আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ থেকে ঐ সকল হক আদায় করবে, যা আত্মীয়-স্বজন, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য রাখা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের অধিকার বেশি থাকার কারণে তাদের উল্লেখ প্রথমে করা হয়েছে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘‘গরীব আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে দ্বিগুণ নেকী পাওয়া যায়; এক তো দানের নেকী, দ্বিতীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার নেকী।’’ এ ছাড়া ‘হক, অধিকার বা প্রাপ্য’ বলে এ কথা বুঝানো হয়েছে যে, দান করে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করছ না; বরং প্রাপকের প্রাপ্য অধিকার আদায় করছ মাত্র।

(2) অর্থাৎ, জান্নাতে আল্লাহর চেহারা দর্শন কামনা করে।