أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقۡدِرُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

আওয়া লাম ইয়ারও আন্নাল্লা-হা ইয়াবছুতুর রিঝকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।উচ্চারণ

এরা কি দেখে না আল্লাহই যাকে চান তার রিযিক সম্প্রসারিত করেন এবং সংকীর্ণ করেন (যাকে চান?) অবশ্যই এর মধ্যে রয়েছে বহু নিদর্শনাবলী এমন লোকদের জন্য যারা ঈমান আনে। ৫৬ তাফহীমুল কুরআন

তারা কি দেখেনি আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন? #%১৯%# নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা ঈমান আনে।মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা তার রিয্ক প্রশস্ত করেন অথবা তা সীমিত করেন? এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।মুজিবুর রহমান

তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন এবং হ্রাস করেন। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা কি লক্ষ্য করে না, আল্লাহ্ যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সীমিত করেন ? এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্যে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি দেখেনি, নিশ্চয় আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিয্ক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য, যারা ঈমান আনে।আল-বায়ান

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছে করেন রিযক প্রশস্ত করেন আর (যার জন্য ইচ্ছে) সীমাবদ্ধ করেন? বিশ্বাসী লোকেদের জন্য অবশ্যই এতে বহু নিদর্শন আছে।তাইসিরুল

তারা কি তবে দেখে না যে আল্লাহ্ রিযেক প্রসারিত করেন যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং সঙ্কুচিতও করেন। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৬

অর্থাৎ মানুষের নৈতিক চরিত্রের ওপর কুফর ও শিরক কি প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং এর বিপরীত পক্ষে আল্লাহর প্রতি ঈমানের নৈতিক পরিণাম কি, মু’মিনরা এ থেকে সে শিক্ষা লাভ করতে পারে। যে ব্যক্তিই নিষ্ঠা সহকারে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তাকেই রিযিকের সমুদয় ভাণ্ডারের মালিক মনে করে, সে কখনো আল্লাহকে ভুলে থাকা লোকদের মতো সংকীর্ণ হৃদয়বৃত্তির পরিচয় দিতে পারে না। সে প্রসারিত রিযিক লাভ করলে অহংকারে মত্ত হয় না। বরং আল্লাহর শোকর আদায় করে, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মমতা ও ঔদার্যপূণ্য ব্যবহার করে এবং আল্লাহর সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করে না। সংকীর্ণ জীবিকা লাভ করুক বা অনাহারে থাকুক সর্বাবস্থায় সে সবর করে, কখনো বিশ্বস্ততা, আমানতদারী ও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেয় না এবং শেষ সময় পর্যন্ত আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের আশায় বসে থাকে। কোনো নাস্তিক বা মুশরিক এ নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

যারা দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হলে হতাশাগ্রস্ত হয়, তাদেরকে বলা হচ্ছে, দুঃখ-কষ্টের সময় না-শোকরীতে লিপ্ত না হয়ে চিন্তা করা উচিত সম্পদের প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। তিনি মানুষের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রেখে নিজ হেকমত অনুসারে স্থির করে থাকেন কাকে কখন প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা দান করবেন। এমন কোন কথা নেই যে, এটা স্থির হবে প্রত্যেকের আপন-আপন চাহিদা অনুসারে। আবার এটাও জরুরি নয় যে, এ ব্যাপারে তিনি যা করেন তা সকলের বুঝেও এসে যাবে। কাজেই এসবের পিছনে না পড়ে বরং প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা যখন আল্লাহ তাআলারই হাতে তখন প্রত্যেকের উচিত জীবন-যাত্রায় কোন সংকট দেখা দিলে তাঁরই শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁরই কাছে সাহায্য চাওয়া।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৭. তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ্ যার জন্য ইচ্ছে রিযিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন? এতে তো অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ঈমান আনে।(১)

(১) অনুরূপ আয়াত আরও এসেছে, সূরা আর-রাদ: ২৬; সূরা আল-ইসরা: ৩০।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৭) ওরা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা তার রুযী বর্ধিত করেন অথবা তা হ্রাস করেন। (1) এতে অবশ্যই বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে ।

(1) অর্থাৎ, আল্লাহ নিজ হিকমত ও সুকৌশল অনুযায়ী ধন-সম্পদ কাউকে বেশি এবং কাউকে কম দিয়ে থাকেন। এমনকি অনেক সময় জ্ঞান-বুদ্ধি ও বাহ্যিক উপায়-উপকরণে দুই ব্যক্তিকে একই রকম মনে হয়, একই ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য আরম্ভ করে। কিন্তু একজন ব্যবসায় বড় উন্নতি লাভ করে এবং অনেক ধন-সম্পদের মালিক হয়। আর দ্বিতীয়জনের ব্যবসা-বাণিজ্য সীমাবদ্ধ অবস্থাতেই থেকে যায় এবং তার আয়-উন্নতি বেশী হয় না। তাহলে এমন কোন সত্তা আছে, যার হাতে সকল এখতিয়ার রয়েছে এবং যিনি এই রকম পৃথক পৃথক ব্যবস্থা করে থাকেন? এ ছাড়া তিনি কখনো অনেক ধন-সম্পদের মালিককে ভিখারী, আর ভিখারীকে ধনী করেন। এ সব সেই মহান আল্লাহর হাতে আছে, যাঁর কোন অংশীদার নেই।