ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআইঁ ইউরছিলার রিয়া-হামুবাশশির-তিওঁ ওয়া লিইউযীকাকুম মিররহমাতিহী ওয়া লিতাজরিয়াল ফুলকুবিআমরিহী ওয়া লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।উচ্চারণ
তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি হচ্ছে এই যে, তিনি বাতাস পাঠান সুসংবাদ দান করার জন্য ৬৮ এবং তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আপ্লুত করার জন্য। আর এ উদ্দেশ্যে যে যাতে নৌযানগুলো তাঁর হুকুমে চলে ৬৯ এবং তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করো ৭০ আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। তাফহীমুল কুরআন
এবং তাঁর (কুদরতের) একটি নিদর্শন এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে, তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করানোর জন্য এবং যাতে নৌযান তাঁর নির্দেশে (পানিতে) চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান কর #%২৪%# এবং তার শোকর আদায় কর।মুফতী তাকী উসমানী
তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দেয়ার জন্য ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করানোর জন্য, এবং যেন তাঁর বিধানে নৌযানগুলি বিচরণ করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।মুজিবুর রহমান
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের আস্বাদন করান এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জাহাজসমূহ বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দিবার জন্যে ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করাইবার জন্যে ; এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলি বিচরণ করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি বাতাস প্রেরণ করেন [বৃষ্টির] সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলো চলাচল করে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে কিছু সন্ধান করতে পার। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।আল-বায়ান
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দানের জন্য ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করানোর জন্য। তাঁর নির্দেশে নৌযান চলে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।তাইসিরুল
আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান সুসংবাদদাতারূপে, যেন তিনি তোমাদের আস্বাদন করাতে পারেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে, আর যেন জাহাজগুলি বিচরণ করতে পারে তাঁর বিধানে, আর যেন তোমরা অন্বেষণ করতে পার তাঁর করুণাভান্ডার থেকে, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পার।মাওলানা জহুরুল হক
৬৮
অর্থাৎ অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণের সুসংবাদ দেবার জন্য।
৬৯
এটি জাহাজ চলাচলে সহায়তা দানকারী অন্য এক ধরনের বাতাসের আলোচনা। প্রাচীনকালে বাতাসের সহায়তায় চলাচলকারী নৌযান ও জাহাজসমূহের সফর তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুকূল বাতাসের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। প্রতিকূল বাতাস তাদের জন্য ছিল ধ্বংসের সূচনা। তাই বৃষ্টি বহনকারী বাতাসের পর ঐ বাতাসের উল্লেখ করা হয়েছে একটি বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে।
৭০
অর্থাৎ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে সফর করো।
আল্লাহ তাআলা মানুষের বহুবিধ উপকারার্থে বাতাস প্রবাহিত করে থাকেন, যেমন এক উপকার হল, বাতাস বৃষ্টির সুসংবাদ নিয়ে আসে এবং যেখানে বৃষ্টির দরকার সেখানে মেঘমালা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে বাতাস বৃষ্টি বর্ষণের বাহ্যিক কারণ হয়ে থাকে। আরেকটি ফায়দা হল, তা সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচলে সাহায্য করে। পালের জাহাজ তো বায়ু প্রবাহের উপরই সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। যান্ত্রিক নৌযানও কোনও না কোনওভাবে বাতাসের কাছে ঠেকা। আর সাগর-নদীতে নৌযান চালানোর উপকার বলা হয়েছে এই যে, মানুষ তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারে। পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান’ হল কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়- উপার্জনের অন্যান্য উপায় অবলম্বন বোঝানো হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদ ইশারা করছে যে, যদি এই বায়ু প্রবাহ না থাকত, যার সাহায্যে সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচল করে, তবে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ হয়ে যেত। কেননা আন্তর্জাতিক সকল ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধানত নৌপথেই পরিচালিত হয়ে থাকে। আমদানি-রফতানীর সিংহভাগই জাহাজযোগে সম্পন্ন হয়। সুতরাং এ বায়ু প্রবাহ তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার এক মহা করুণা।
৪৬. আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি বায়ু পাঠান সুসংবাদ দেয়ার জন্য(১) এবং তোমাদেরকে তাঁর কিছু রহমত আস্বাদন করাবার জন্য; আর যাতে তার নির্দেশে নৌযানগুলো বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহের কিছু সন্ধান করতে পার, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।(২)
(১) মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(২) এ আয়াতের সমার্থে আরও দেখুন, সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৪; সূরা আল-মুমিনুন: ২২।
(৪৬) আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহীরূপে(1) বায়ু প্রেরণ করেন; যাতে তিনি তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ আস্বাদন করান(2) এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জলযানগুলি বিচরণ করে,(3) আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার(4) এবং তাঁর কৃতজ্ঞ হতে পার।(5)
(1) অর্থাৎ, বৃষ্টির সুসংবাদবাহীরূপে।
(2) অর্থাৎ, বৃষ্টিদানে তোমাদেরকে আনন্দিত করেন এবং ক্ষেতের ফসলও সবুজ হয়ে মেতে ওঠে।
(3) অর্থাৎ, সেই বায়ু দ্বারা নৌকা চলাচল করে; উদ্দেশ্য পাল-তোলা নৌকা। বর্তমানে মানুষ আল্লাহর দেওয়া বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রচালিত জলজাহাজ, নৌকা ইত্যাদি তৈরি করেছে। তারপরেও তার জন্য অনুকূল বায়ুর প্রয়োজন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা তাকে তুফানী ঢেউ দ্বারা সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
(4) অর্থাৎ, তার সাহায্যে বিভিন্ন দেশে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য দ্বারা (তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার)।
(5) ঐ সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অগণিত অনুগ্রহ ও নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে পার। অর্থাৎ, এই সকল অনুগ্রহ আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই জন্য প্রদান করে থাকেন, যাতে তোমরা নিজেদের জীবন-যাত্রায় তার দ্বারা উপকৃত হও এবং আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য কর।