ওয়া লাকাদ আরছালনা-মিন কাবলিকা রুছুলান ইলা-কাওমিহিম ফাজাঊহুম বিল বাইয়িনাতি ফানতাকামনা-মিনাল্লাযীনা আজরমূ ওয়া ক-না হাক্কান ‘আলাইনা-নাসরুল মু’মিনীন।উচ্চারণ
আমি তোমার পূর্বে রসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাই এবং তারা তাদের কাছে আসে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী নিয়ে। ৭১ তারপর যারা অপরাধ করে ৭২ তাদের থেকে আমি প্রতিশোধ নিই আর মুমিনদেরকে সাহায্য করা ছিল আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল!) আমি তোমার আগেও বহু রাসূল পাঠিয়েছি তাদের আপন-আপন সম্প্রদায়ের কাছে। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। আর মুমিনদেরকে সাহায্য করার দায়িত্ব আমি নিজের উপর রেখেছি।মুফতী তাকী উসমানী
আমি তোমার পূর্বে রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছিলাম তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট। তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল; অতঃপর আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। মু’মিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।মুজিবুর রহমান
আপনার পূর্বে আমি রসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি তো তোমার পূর্বে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলাম তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট। তারা এদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল ; এরপর আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। মু’মিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে রাসূলগণকে তাদের কওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অপরাধ করেছিল আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। আর মুমিনদেরকে সাহায্য করা তো আমার কর্তব্য।আল-বায়ান
তোমার পূর্বে আমি রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম তাদের নিজ নিজ জাতির নিকট। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অন্যায় করেছিল আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। মু’মিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।তাইসিরুল
আর আমরা তো নিশ্চয়ই তোমার আগে রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম তাঁদের স্বজাতির কাছে, সুতরাং তাঁরা তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, তারপর যারা অপরাধ করেছিল তাদের থেকে আমরা পরিণতি নিয়েছিলাম। আর আমাদের উপরে দায়িত্ব বর্তেছে মুমিনদের সাহায্য করা।মাওলানা জহুরুল হক
৭১
অর্থাৎ এক ধরনের নির্দেশাবলী তো বিশ্ব-প্রকৃতির সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। মানুষের জীবনের দৈনন্দিন কাজে কর্মে প্রায় সর্বত্রই সেগুলোর সাথে মানুষের সংযোগ ঘটে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা। ওপরের আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অন্য এক ধরনের নিদর্শনাবলী আল্লাহর নবীগণ মু’জিযা, আল্লাহর বাণী, নিজেদের অসাধারণ পবিত্র চরিত্র এবং মানব সমাজে নিজেদের জীবনদায়ী প্রভাবের আকারে নিয়ে এসেছেন। এ দু’ধরনের নিদর্শন আসলে একটি সত্যের প্রতিই ইঙ্গিত করে। তা হচ্ছে, নবীগণ যে তাওহীদের যে শিক্ষা দিচ্ছেন তাই সঠিক। তাঁর মধ্যে প্রত্যেকটি নিদর্শনই অন্যটির সমর্থক। বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবলী নবীগণের বর্ণনার সত্যতা প্রমাণ করে এবং নবীগণ যেসব নিদর্শন এনেছেন সেগুলো বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবলী যে সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে সেগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়।
৭২
অর্থাৎ এ দু’টি নিদর্শন থেকে চোখ বন্ধ করে তাওহীদ অস্বীকার করার ওপর অবিচল থাকে এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহই করে যেতে থাকে।
৪৭. আর আমরা তো আপনার আগে রাসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে। অতঃপর তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন; অতঃপর আমরা অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। আর আমাদের দায়িত্ব তো মুমিনদের সাহায্য করা।(১)
(১) অর্থাৎ আমি অপরাধী কাফেরদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব ছিল। এই আয়াত থেকে জানা গেল যে, আল্লাহ তাআলা কৃপাবশতঃ মুমিনের সাহায্য করাকে নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করেছেন। (সা’দী)
(৪৭) আমি তো তোমার পূর্বে রসূলদেরকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম, তারা ওদের নিকট সুস্পষ্ট বহু নিদর্শন এনেছিল; অতঃপর আমি অপরাধীদের শাস্তি দিয়েছিলাম। আর বিশ্বাসীদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।(1)
(1) অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! যেমন আমি তোমাকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট রসূল করে প্রেরণ করেছি, অনুরূপ তোমার পূর্বের রসূলগণকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। তাদের সাথে যথাযথ প্রমাণ ও অলৌকিক নিদর্শনাবলী ছিল। কিন্তু তাদের সম্প্রদায়রা তাদেরকে মিথ্যা মনে করেছিল এবং তাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করেনি। অবশেষে তাদের মিথ্যাজ্ঞান ও অবাধ্যতার পাপের ফলে আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি এবং আমার কর্তব্য হিসাবে মু’মিনদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছি। এটা আসলে নবী (সাঃ) ও তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী মুসলিমদের জন্য সান্ত্বনা যে, কাফের ও মুশরিকদের মিথ্যাজ্ঞান করাতে ভয়ের কোন কারণ নেই। যেহেতু এটা কোন নতুন কথা নয়; বরং প্রত্যেক নবীর সাথে তাঁর জাতি একই রকম ব্যবহার প্রদর্শন করেছে। অনুরূপ এটা কাফেরদের জন্য সতর্কবাণী যে, যদি তারা ঈমান আনয়ন না করে, তাহলে তাদেরও শেষ ফল তাই হবে, যা পূর্ববর্তী জাতিদের হয়েছে। কারণ আল্লাহর সাহায্য তো পরিশেষে মু’মিনদের জন্যই আসে; যাতে পয়গম্বর ও মু’মিনগণ সকলেই শামিল থাকেন। حَقاًّ শব্দটি كان এর খবর হিসেবে ব্যবহার হয়েছে এবং তা তার ইসম (বিশেষ্য)র পূর্বে ব্যবহার হয়েছে, আর তা হল نَصرُ المُؤمِنِين ।