مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَكَانُواْ شِيَعٗاۖ كُلُّ حِزۡبِۭ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُونَ

মিনাল্লাযীনা ফাররকূদীনাহুম ওয়া ক-নূশিয়া‘আন কুল্লুহিঝবিম বিমা-লাদাইহিম ফারিহুন।উচ্চারণ

যারা নিজেদের আলাদা আলাদা দ্বীন তৈরি করে নিয়েছে আর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। প্রত্যেক দলের কাছে যা আছে তাতেই তারা মশগুল হয়ে আছে। ৫১ তাফহীমুল কুরআন

যারা নিজেদের দীনকে খণ্ড-খণ্ড করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিটি দল আপন-আপন পন্থা নিয়ে উৎফুল্ল। #%১৮%#মুফতী তাকী উসমানী

যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।মুজিবুর রহমান

যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা নিজদের দীনকে বিভক্ত করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে (তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)। প্রত্যেক দলই নিজদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।আল-বায়ান

যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে। প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে উল্লসিত।তাইসিরুল

তাদের দলের যারা তাদের ধর্মকে বিভক্ত করেছে আর তারা হয়ে গেছে নানা দলীয়। প্রত্যেক দলই যা তাদের কাছে রয়েছে তাতেই উল্লসিত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫১

ওপরে যে প্রাকৃতিক দ্বীনের কথা বলা হয়েছে মানব জাতির আসল দ্বীনই হচ্ছে সেই প্রাকৃতিক দ্বীন, এখানে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে। এ দ্বীন মুশরিকী ধর্ম থেকে ক্রম-বিবর্তনের মাধ্যমে তাওহীদ পর্যন্ত পৌঁছে নি। যেমন আন্দাজ অনুমানের মাধ্যমে একটি ধর্মীয় দর্শন রচনাকারীরা মনে করে থাকেন। বরং দুনিয়ায় যতগুলো ধর্ম পাওয়া যায় এ সবেরই উৎপত্তি হয়েছে এ আসল দ্বীনের মধ্যে বিকৃতি সাধনের মাধ্যমে। এ বিকৃতি আসার কারণ হলো এই যে, বিভিন্ন ব্যক্তি প্রাকৃতিক সত্যের ওপর নিজেদের নতুন নতুন কথা বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের জন্য এক একটি আলাদা ধর্ম বানিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই মূল সত্যের পরিবর্তে এ বর্ধিত জিনিসেরই ভক্ত অনুরক্ত হয়ে গেছে। যার ফলে তারা অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে একটি স্বতন্ত্র ফিরকায় পরিণত হয়েছে। এখন সঠিক পথনির্দেশনা লাভ করতে চাইলে যে প্রকৃত সত্য ছিল দ্বীনের মূল ভিত্তি, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই সেদিকে ফিরে যেতে হবে। পরবর্তীকালের যাবতীয় বর্ধিত অংশ থেকে এবং তাদের ভক্ত-অনুরক্তদের দল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে একেবারেই আলাদা হয়ে যেতে হবে। তাদের সাথে তারা যে সম্পর্ক সূত্রই কায়েম রাখবে সেটিই তাদের দ্বীনের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সর্বপ্রথম পৃথিবীতে যখন মানুষের আগমন ঘটে, তখন সে তার এই মজ্জাগত যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সত্য দীনই অবলম্বন করেছিল। কিন্তু মানুষ কালক্রমে আলাদা-আলাদা পথ সৃষ্টি করে নেয় এবং নিজেদেরকে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মে বিভক্ত করে ফেলে। তাদের এ আচরণকেই কুরআন মাজীদ ‘দীনকে খণ্ড-খণ্ড করা’ ও ‘বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া’ শব্দমালায় ব্যক্ত করেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩২. যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে।(১) প্ৰত্যেক দলই যা তাদের কাছে আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল।

(১) কাতাদাহ বলেন, তারা হচ্ছে ইয়াহুদী ও নাসারা। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩২) যারা ধর্ম সম্বন্ধে নানা মত সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে;(1) প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত।(2)

(1) অর্থাৎ, সত্য ধর্ম পরিত্যাগ করে অথবা তাতে নিজেদের মনমত পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধন করে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যেমন কেউ ইয়াহুদী, কেউ খ্রিষ্টান, কেউ অগ্নিপূজক ইত্যাদি।

(2) অর্থাৎ, প্রত্যেক দল ধারণা করে যে, তারাই সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত আছে, আর অন্যেরা আছে ভ্রান্ত পথে। আর যে যুক্তি তারা খাড়া করে রেখেছে এবং যাকে তারা প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করে, তা নিয়ে তারা হর্ষোৎফুল্ল ও সন্তুষ্ট আছে। দুঃখের বিষয় যে, বর্তমানে মুসলিমদের অবস্থাও অনুরূপ হয়ে পড়েছে। তারাও বিভিন্ন মযহাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রত্যেক মযহাব ঐ বাতিল ধারণা অনুযায়ী নিজেকে হকপন্থী মনে করে খোশ আছে। অথচ হকপন্থী শুধুমাত্র একটি দলই আছে; যার পরিচয় দিয়ে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘তারা আমার ও আমার সাহাবার তরীকার অনুসারী হবে।’’ (তিরমিযী প্রমুখ)