فَٱصۡبِرۡ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞۖ وَلَا يَسۡتَخِفَّنَّكَ ٱلَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ

ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাখিফফান্নাকাল্লাযীনা লা-ইঊকিনূন।উচ্চারণ

কাজেই (হে নবী!) সবর করো, অবশ্যই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য ৮৪ এবং যারা বিশ্বাস করে না তারা যেন কখনোই তোমাকে গুরুত্বহীন মনে না করে। ৮৫ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা ইয়াকীন করে না, তারা যেন কিছুতেই তোমাকে দিয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করাতে না পারে। #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী

অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।মুজিবুর রহমান

অতএব, আপনি সবর করুন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে ।আল-বায়ান

কাজেই তুমি ধৈর্য ধর, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না, তারা যেন তোমাকে উত্তেজিত না করতে পারে।তাইসিরুল

অতএব তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র ওয়াদা ধ্রুব-সত্য। আর যারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৪

ওপরের ৪৭ নং আয়াতে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে মহান আল্লাহ‌ নিজের এ নিয়ম বর্ণনা করেছেন যে, যারাই আল্লাহর রসূলদের নিয়ে আসা এসব সুস্পষ্ট নিদর্শনের মোকাবিলা করেছে মিথ্যাচার, হাসি-তামাসা ও হঠকারিতার মাধ্যমে আল্লাহ‌ অবশ্যই এ ধরনের অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন।فَانْتَقَمْنَا مِنَ الَّذِينَ أَجْرَمُوا আর আল্লাহ‌ মু’মিনদের সাহায্য করবেন এটা তাঁর ওপর মু’মিনদের অধিকার وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ

৮৫

অর্থাৎ শত্রুরা যেন তোমাদের এতই দুর্বল না পায় যে, তাদের হৈ চৈ ও শোরগোলে তোমরা দমিত হবে অথবা তাদের মিথ্যাচার ও দোষারোপ করার অভিযান দেখে তোমরা ভীত হয়ে যাও কিংবা হাসি-তামাসা ও ঠাট্টা-বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ হয়ে তোমরা হিম্মত হারিয়ে ফেলো অথবা তাদের হুমকি-ধমকি ও শক্তির প্রকাশে এবং জুলুম নির্যাতনে তোমরা ভীত হয়ে যাও কিংবা তাদের ফেলা লালসার টোপে তোমরা আটকা পড়ে যাও অথবা জাতীয় স্বার্থের নামে তারা তোমাদের কাছে যে আবেদন জানাচ্ছে তাঁর ভিত্তিতে তোমরা তাদের সাথে সমঝোতা করে নিতে উদ্যত হও। এর পরিবর্তে তারা তোমাকে নিজেদের উদ্দেশ্য সচেতনতায় এত বেশি সতর্ক এবং নিজেদের বিশ্বাস ও ঈমানে এত বেশি পাকাপোক্ত এবং এ সংকল্পে এত বেশি দৃঢ়চেতা এবং নিজেদের চরিত্রে এত বেশি মজবুত পাবে যে, কোনো ভয়ে তোমাদের ভীত করা যাবে না, কোনো মূল্যে তোমাদের কেনা যাবে না, কোনো প্রতারণার জালে তোমাদের আবদ্ধ করা যাবে না, কোনো ক্ষতি, কষ্ট বা বিপদে ফেলে তোমাদেরকে পথ থেকে সরানো যাবে না এবং দ্বীনের ব্যাপারে কোনো প্রকার আপোষ বা লেনদেনের কারবারও তোমাদের সাথে করা যেতে পারে না। “অবিশ্বাসীরা যেন তোমাকে গুরুত্বহীন মনে না করে”-আল্লাহর এ ছোট্ট একটি বাণীর আলঙ্কারিক বাক্য-বিন্যাসের মধ্যেই এ সমস্ত বিষয়বস্তু লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আল্লাহ‌ তাঁর শেষ নবীকে যেমন শক্তিশালী ও গুরুত্ববহ দেখতে চাচ্ছিলেন তিনি ঠিক তেমনটি হতে পেরেছিলেন কিনা এখন ইতিহাসই তা প্রমাণ করবে। তাঁর সাথে যে ব্যক্তিই যে ময়দানে শক্তি পরীক্ষা করেছে সেই ময়দানেই সে হেরে গেছে। শেষ পর্যন্ত এ মহান ব্যক্তিত্ব এমন বিপ্লব সৃষ্টি করেন যার পথরোধ করার জন্য আরবের কাফের ও মুশরিক সমাজ তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ ও সমস্ত কলা-কৌশল প্রয়োগ করেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ কাফেরদের হঠকারিতাপূর্ণ কথাবার্তা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে হতোদ্যম না হয়ে আপনি নবীসুলভ ধৈর্য-স্থৈর্যের সাথে আপন দায়িত্ব-পালনে রত থাকুন। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যে বিজয় ও কৃতকার্যতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সত্য। তা অবশ্যই পূরণ হবে। সুতরাং তাদের প্রতি মনঃকষ্টে দাওয়াতী কার্যক্রমে যেন বিন্দুমাত্র শিথিলতা প্রদর্শন না করেন। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৬০. অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।(১) আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়। তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।(২)

(১) সুতরাং আপনাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতেও লেগে থাকুন, তাদের কাছ থেকে বিমুখ হওয়া দেখলেও তা যেন আপনাকে আপনার কাজ থেকে বিমুখ না করে। আর বিশ্বাস করুন যে, আল্লাহর ওয়াদা হক। এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা বিশ্বাস থাকলে আপনার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হবে। কারণ, বান্দা যখন জানতে পারে যে, তার কাজ নষ্ট হচ্ছে না, বরং সে সেটাকে পূর্ণমাত্রায় পাবে, তখন এ পথে যত কষ্টের মুখোমুখিই সে হোক না কেন, সে সেটাকে ভ্ৰক্ষেপ করবে না, কঠিন কাজও তার জন্য সহজ হয়ে যায়, বেশী কাজও তার কাছে অল্প মনে হয়, আর তার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয়ে যায়। (সা’দী)

(২) কারণ, তাদের ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে, তাদের দৃঢ়তা কমে গেছে, তাই তাদের বিবেক হাল্কা হয়ে গেছে, তাদের সবর কমে গেছে। সুতরাং আপনি তাদের থেকে সাবধান থাকুন। আপনি যদি তাদের থেকে সাবধান না থাকেন, তবে তারা আপনাকে বিচলিত করে দিতে পারে, আপনাকে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের উপর থেকে সরিয়ে দিতে পারে। কারণ, সাধারণত মন চায় তাদের মত হতে। আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, প্রত্যেক মুমিনই দৃঢ়বিশ্বাসী, স্থির বিবেকসম্পন্ন, তাই তার জন্য ধৈর্য ধারণ করা সহজ। পক্ষান্তরে প্রত্যেক দুর্বল বিশ্বাসী, অস্থিরমতি থাকে। (সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬০) অতএব তুমি ধৈর্য ধর,(1) নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন অবশ্যই তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।(2)

(1) অর্থাৎ, তাদের বিরোধিতা ও শত্রুতা এবং তাদের কষ্টদায়ক কথার উপর ধৈর্য ধর। কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাকে যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য এবং তা যেভাবেই হোক পূর্ণ হবে।

(2) অর্থাৎ, তোমাকে ক্রোধান্বিত করে ধৈর্য-সহ্য ত্যাগ করতে অথবা নমনীয়তা অবলম্বন করতে বাধ্য না করে ফেলে। বরং তুমি তোমার নিজ কর্তব্যে অবিচলিত থাকবে এবং তা হতে এতটুকুও বিচ্যুত হবে না।