هَلۡ أَتَىٰ عَلَى ٱلۡإِنسَٰنِ حِينٞ مِّنَ ٱلدَّهۡرِ لَمۡ يَكُن شَيۡـٔٗا مَّذۡكُورًا

হাল আতা- ‘আলাল ইনছা-নি হীনুম মিনাদ্দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাযকূর- ।

মানুষের উপরে কি দীর্ঘ সময়ের অবকাশ অতিবাহিত হয় নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?

إِنَّا خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ مِن نُّطۡفَةٍ أَمۡشَاجٖ نَّبۡتَلِيهِ فَجَعَلۡنَٰهُ سَمِيعَۢا بَصِيرًا

ইন্না-খালাকানাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু ছামী‘আম বাসীর- ।

নিঃসন্দেহ আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংযুক্ত এক শুক্রকীট থেকে, আমরা তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছি, সেজন্য আমরা তা কে বানিয়েছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।

إِنَّا هَدَيۡنَٰهُ ٱلسَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرٗا وَإِمَّا كَفُورًا

ইন্না-হাদাইনা- হুছছাবীলা ইম্মা- শা- কিরওঁ ওয়া ইম্মা- কাফূর- ।

নিঃসন্দেহ আমরা তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি, -- হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।

إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ سَلَٰسِلَاْ وَأَغۡلَٰلٗا وَسَعِيرًا

ইন্নাআ‘তাদনা- লিলক-ফিরীনা ছালা-ছিলা ওয়া আগলা-লাওঁ ওয়া ছা‘ঈর- ।

আমরা অবশ্য অকৃতজ্ঞদের জন্য তৈরি করেছি শিকল ও বেড়ি, আর জ্বলন্ত আগুন।

إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ يَشۡرَبُونَ مِن كَأۡسٖ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا

ইন্নাল আবর-র ইয়াশরবূনা মিন কা’ছিন ক-না মিঝা-জুহা- ক-ফূর-

নিঃসন্দেহ পুণ্যা‌ত্মারা পান করবে এমন একটি পাত্র থেকে যার মেজাজ হবে কর্পূরের --

عَيۡنٗا يَشۡرَبُ بِهَا عِبَادُ ٱللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفۡجِيرٗا

আইনাইঁ ইয়াশরবুবিহা- ‘ইবা-দুল্লা-হি ইউফাজ্জিরূনাহা- তাফজীর- ।

একটি ফোয়ারা -- যা থেকে আল্লাহ্‌র বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে প্রবাহিত করবে অবিরাম ধারায়।

يُوفُونَ بِٱلنَّذۡرِ وَيَخَافُونَ يَوۡمٗا كَانَ شَرُّهُۥ مُسۡتَطِيرٗا

ইঊফূনা বিন্নাযরি ওয়া ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান ক-না শাররুহূমুছতাতীর- ।

তারা মানত পালন করে, এবং ভয় করে সেই দিনটির যার ধ্বংসলীলা হবে সুদূরপ্রসারী।

وَيُطۡعِمُونَ ٱلطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ مِسۡكِينٗا وَيَتِيمٗا وَأَسِيرًا

ওয়া ইউত‘ইমূনাত্তা‘আ-মা ‘আলা- হুব্বিহী মিছকীনাওঁ ওয়া ইয়াতীমাওঁ ওয়া আছীর-।

আর তারা তাঁর প্রতি প্রেমবশতঃ খাবার খেতে দেয় অভাবগ্রস্তকে ও এতিমকে ও বন্দীকে --

إِنَّمَا نُطۡعِمُكُمۡ لِوَجۡهِ ٱللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمۡ جَزَآءٗ وَلَا شُكُورًا

ইন্নামা- নুত‘ইমুকুম লিওয়াজহিল্লা-হি লা-নুরীদুমিনকুম জাঝাআওঁ ওয়ালা- শুকূর- ।

"আমরা তোমাদের খেতে দিচ্ছি শুধু আল্লাহ্‌র সন্তষ্টিলাভের জন্য, তোমাদের থেকে আমরা কোনো প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।

إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوۡمًا عَبُوسٗا قَمۡطَرِيرٗا

ইন্না- নাখা-ফুমির রব্বিনা- ইয়াওমান ‘আবূছান কামতারীর- ।

আমরা আলবৎ আমাদের প্রভুর নিকট থেকে এক ভীতিপ্রদ বিপদসংকুল দিনের ভয় করি।

فَوَقَىٰهُمُ ٱللَّهُ شَرَّ ذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمِ وَلَقَّىٰهُمۡ نَضۡرَةٗ وَسُرُورٗا

ফাওয়াক- হুমুল্লা-হু শারর যা-লিকাল ইয়াওমি ওয়া লাক্ক-হুম নাদরতাওঁ ওয়া ছুরূর- ।

কাজেই আল্লাহ্ তাদের রক্ষা করবেন সেইদিনের অকল্যাণ থেকে এবং তাদের সাক্ষাৎ করাবেন প্রফুল্লতার ও প্রশান্তির সাথে,

وَجَزَىٰهُم بِمَا صَبَرُواْ جَنَّةٗ وَحَرِيرٗا

ওয়া জাঝা-হুম বিমা-সাবারূ জান্নাতাওঁ ওয়া হারীর- ।

আর যেহেতু তারা অধ্যবসায় চালিয়েছিল সেজন্য প্রতিদানে তাদের দেবেন বাগান ও রেশমী পোশাক,

مُّتَّكِـِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِۖ لَا يَرَوۡنَ فِيهَا شَمۡسٗا وَلَا زَمۡهَرِيرٗا

মুত্তাকিঈনা ফীহা- ‘আলাল আরইকি লা- ইয়ারওনা ফীহা- শামছাওঁ ওয়ালাঝামহারীর- ।

তারা সেখানে সমাসীন থাকবে রাজকীয় আসনে, তারা সেখানে দেখতে পাবে না সূর্যোত্তাপ, না কোনো কনকনে ঠান্ডা,

وَدَانِيَةً عَلَيۡهِمۡ ظِلَٰلُهَا وَذُلِّلَتۡ قُطُوفُهَا تَذۡلِيلٗا

ওয়া দা- নিয়াতান ‘আলাইহিম জিলা- লুহা- ওয়া যুলিল্লাত কুতূফুহা- তাযলীলা- ।

আর তাদের সন্নিকটে থাকবে তাদের গাছের ছায়া, আর তাদের থোকা-থোকা ফল থাকবে নত হয়ে নাগালের মধ্যে।

وَيُطَافُ عَلَيۡهِم بِـَٔانِيَةٖ مِّن فِضَّةٖ وَأَكۡوَابٖ كَانَتۡ قَوَارِيرَا۠

ওয়া ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিআ-নিয়াতিম মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া আকওয়া-বিন ক-নাত কাওয়া-রীর-।

আর তাদের সামনে পরিবেশন করা হবে রূপোর পেয়ালা ও ঝলমলে কাচের পানপাত্র, --

قَوَارِيرَاْ مِن فِضَّةٖ قَدَّرُوهَا تَقۡدِيرٗا

কাওয়া-রীর মিন ফিদ্দাতিন কাদ্দারূহা-তাকদীর- ।

চাঁদির তৈরি চক্‌মকে কাচের মতো, -- তারা তা মেপে নেবে একটি পরিমাপে।

وَيُسۡقَوۡنَ فِيهَا كَأۡسٗا كَانَ مِزَاجُهَا زَنجَبِيلًا

ওয়া ইউছকাওনা ফীহা- কা’ছান ক-না মিঝা-জুহা- ঝানজাবীলা- ।

আর তাদের তাতে পান করানো হবে এমন একটি পাত্র যার মেজাজ হবে আদ্রকের, --

عَيۡنٗا فِيهَا تُسَمَّىٰ سَلۡسَبِيلٗا

‘আইনান ফীহা- তুছাম্মা- ছালছাবীলা- ।

তার মধ্যের একটি ফোয়ারাতে যার নাম দেয়া হয়েছে সাল্‌সাবীল।

۞وَيَطُوفُ عَلَيۡهِمۡ وِلۡدَٰنٞ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيۡتَهُمۡ حَسِبۡتَهُمۡ لُؤۡلُؤٗا مَّنثُورٗا

ওয়া ইয়াতূফু‘আলাইহিম বিলদা-নুম মুখাল্লাদূ না ইযা-রআইতাহুম হাছিবতাহুম ল’লুআম মানছূর- ।

আর তাদের প্রদক্ষিণ করবে চিরস্ফুটিত কিশোরগণ, -- তোমরা যখন তাদের দেখবে তাদের তোমরা ভাববে ছড়ানো মুক্তো!

وَإِذَا رَأَيۡتَ ثَمَّ رَأَيۡتَ نَعِيمٗا وَمُلۡكٗا كَبِيرًا

ওয়া ইয়া- রআইতা ছাম্মা রআইতা না‘ঈমাওঁ ওয়া মুলকান কাবীর- ।

আর যখন তুমি সেখানে চেয়ে দেখবে, তুমি দেখতে পাবে অনুগ্রহ-সামগ্রী ও এক বিশাল রাজ্য।

عَٰلِيَهُمۡ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضۡرٞ وَإِسۡتَبۡرَقٞۖ وَحُلُّوٓاْ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٖ وَسَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ شَرَابٗا طَهُورًا

‘আ-লিয়াহুম ছিয়া-বুছুনদুছিন খুদরুওঁ ওয়া ইছতাবরকু ওঁ ওয়া হুললূআছা-বির মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া ছাক-হুম রব্বুহুম শার-বান তাহূর- ।

তাদের পরিধেয় হবে মিহি সবুজ রেশমের ও পুরু জরির পোশাক, আর তাদের অলংকৃত করানো হবে রূপোর কাঁকন দিয়ে, আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন এক পবিত্র পানীয়।

إِنَّ هَٰذَا كَانَ لَكُمۡ جَزَآءٗ وَكَانَ سَعۡيُكُم مَّشۡكُورًا

ইন্না হা-যা- ক-না লাকুম জাঝাআওঁ ওয়া ক-না ছা‘ইউকুম মাশকূর- ।

নিঃসন্দেহ এটি হচ্ছে তোমাদের জন্য পুরস্কার, আর তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃত হয়েছে।

إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ تَنزِيلٗا

ইন্না-নাহনুনাঝঝালনা- ‘আলাইকাল কুরআ-না তানঝীলা- ।

নিঃসন্দেহ আমরা -- আমরা স্বয়ং তোমার কাছে এই কুরআান এক অবতারণে অবতীর্ণ করেছি।

فَٱصۡبِرۡ لِحُكۡمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعۡ مِنۡهُمۡ ءَاثِمًا أَوۡ كَفُورٗا

ফাসবির লিহুকমি রব্বিকা ওয়ালা- তুতি‘ মিনহুম আ-ছিমান আও কাফূর- ।

সুতরাং তোমার প্রভুর নির্দেশের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, আর তাদের মধ্যেকার কোনো পাপিষ্ঠের অথবা সত্যপ্রত্যাখ্যান- কারীর আজ্ঞা পালন করো না।

وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلٗا

ওয়াযকুরিছ মা রব্বিকা বুকরতাওঁ ওয়া আসীলা- ।

আর তোমার প্রভুর নাম কীর্তন করো সকালে ও বিকেলে,

وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَٱسۡجُدۡ لَهُۥ وَسَبِّحۡهُ لَيۡلٗا طَوِيلًا

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছজুদ লাহূওয়া ছাব্বিহহু লাইলান তাবিলা- ।

আর রাতের থেকে তাঁর প্রতি সিজদা করো, আর লন্বা রাত পর্যন্ত তাঁর গুণগান করো।

إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ يُحِبُّونَ ٱلۡعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَآءَهُمۡ يَوۡمٗا ثَقِيلٗا

ইন্না হাউলাই ইউহিববূনাল ‘আ-জিলাতা ওয়া ইয়াযারূনা ওয়ারআহুম ইয়াওমান ছাকীলা- ।

নিঃসন্দেহ এরা ভালবাসে অস্থায়ী জীবন, আর অবহেলা করে এদের সামনের এক কঠিন দিনকে।

نَّحۡنُ خَلَقۡنَٰهُمۡ وَشَدَدۡنَآ أَسۡرَهُمۡۖ وَإِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَآ أَمۡثَٰلَهُمۡ تَبۡدِيلًا

নাহনুখালাকনা-হুম ওয়াশাদাদনাআছরহুম ওয়া ইযা- শি’না- বাদ্দালনাআমছালাহুম তাবদীলা-।

আমরাই তাদের সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন, কাজেই যখন আমরা চাইব তখন তাদের অনুরূপদের আমরা বদলে দেবো আমূল পরিবর্তনে।

إِنَّ هَٰذِهِۦ تَذۡكِرَةٞۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلٗا

ইন্না হা-যিহী তাযকিরতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রব্বিহী ছাবীলা- ।

নিঃসন্দেহ এটি এক স্মরণীয় বার্তা, সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে তার প্রভুর দিকে পথ ধরুক।

وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا

ওয়ামা-তাশাঊনা ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হ; ইন্নাল্লা-হা ক-না ‘আলীমান হাকীমা- ।

আর তোমরা চাও না আল্লাহ্‌র চাওয়া ব্যতিরেকে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

يُدۡخِلُ مَن يَشَآءُ فِي رَحۡمَتِهِۦۚ وَٱلظَّـٰلِمِينَ أَعَدَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمَۢا

ইউদখিলুমাইঁ ইয়াশাউ ফী রহমাতিহী ওয়াজ্জা-লিমীনা আ‘আদ্দা লাহুম ‘আযাবান আলীমা- ।

তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করান। কিন্ত অন্যায়কারীরা -- তাদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।