عَٰلِيَهُمۡ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضۡرٞ وَإِسۡتَبۡرَقٞۖ وَحُلُّوٓاْ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٖ وَسَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ شَرَابٗا طَهُورًا

‘আ-লিয়াহুম ছিয়া-বুছুনদুছিন খুদরুওঁ ওয়া ইছতাবরকু ওঁ ওয়া হুললূআছা-বির মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া ছাক-হুম রব্বুহুম শার-বান তাহূর- ।উচ্চারণ

তাদের পরিধানে থাকবে মিহি রেশমের সবুজ পোশাক এবং মখমল ও সোনালী কিংখাবের বস্ত্ররাজি। ২৩ আর তাদেরকে রৌপ্যের কঙ্কন পরানো হবে। ২৪ আর তাদের রব তাদেরকে অতি পবিত্র শরাব পান করাবেন। ২৫ তাফহীমুল কুরআন

তাদের উপর থাকবে সবুজ রংয়ের মিহি রেশমী পোশাক ও মোটা রেশমী কাপড়। তাদেরকে রূপার কাঁকন দ্বারা সজ্জিত করা হবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে অতি পবিত্র পানীয় পান করাবেন।মুফতী তাকী উসমানী

তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ণ সবুজ রেশম ও স্থুল রেশম; তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রাব্ব তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়।মুজিবুর রহমান

তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকণ এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন ‘শরাবান-তহুরা’।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের আবরণ হবে সূ² সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের উপর থাকবে সবুজ ও মিহি রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।আল-বায়ান

তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা রেশম, আর তাদেরকে অলংকারে সজ্জিত করা হবে রুপার কঙ্কণ দ্বারা, আর তাদের রবব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পরিচ্ছন্ন পানীয়।তাইসিরুল

তাদের পরিধেয় হবে মিহি সবুজ রেশমের ও পুরু জরির পোশাক, আর তাদের অলংকৃত করানো হবে রূপোর কাঁকন দিয়ে, আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন এক পবিত্র পানীয়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৩

এই একই বিষয় সূরা আল কাহফের ৩১ আয়াতে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ

وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ

"তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীরা) মিহি রেশম এবং মখমল ও কিংখাবের সবুজ পোশাক পরিধান করবে। সুউচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসবে।”

একারণে সেসব মুফাসসিরদের মতামত সঠিক বলে মনে হয় না যারা বলেন, এর অর্থ এমন কাপড় যা তাদের আসন ও পালংকের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে অথবা সেসব কিশোর বালকদের পোশাক-পরিচ্ছদ যারা তাদের সেবা ও খেদমতের জন্য সদা তৎপর থাকবে।

২৪

সূরা আল কাহফের ৩১ আয়াতে বলা হয়েছে, يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ "তাদের সেখানে স্বর্ণের কংকন বা চুড়ি দ্বারা সজ্জিত ও শোভিত করা হবে।” এ একই বিষয় সূরা হজ্জের ২৩ আয়াত এবং সূরা ফাতেরের ৩৩ আয়াতেও বলা হয়েছে। এসব আয়াত একত্রে মিলিয়ে দেখলে তিনটি অবস্থা হওয়া সম্ভব বলে মনে হয়। এক, তারা ইচ্ছা করলে কোন সময় সোনার কংকন পরবে আবার ইচ্ছা করলে কোন সময় রূপার কংকন পরবে। তাদের ইচ্ছা অনুসারে দু’টি জিনিসই প্রস্তুত থাকবে। দুই, তারা সোনা ও রূপার কংকন এক সাথে পরবে। কারণ দু’টি একত্র করলে সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পায়। তিন, যার ইচ্ছা সোনার কংকন পরিধান করবে এবং যার ইচ্ছা রূপার কংকন ব্যবহার করবে। এখানে প্রশ্ন হলো, অলংকার পরিধান করে মেয়েরা, কিন্তু পুরুষের অলংকার পরানোর অর্থ ও তাৎপর্য কি হতে পারে? এর জবাব হলো, প্রাচীনকালে রাজা-বাদশাহ এবং নেতা ও সমাজপতিদের রীতি ছিল তারা হাত, গলা ও মাথার মুকুটে নানা রকমের অলংকার ব্যবহার করতো। আমাদের এ যুগেও বৃটিশ ভারতের রাজা ও নবাবদের মধ্যে পর্যন্ত এ রীতি প্রচলিত ছিল। সূরা যুখরুফে বলা হয়েছে, হযরত মূসা (আ) যখন সাদাসিধে পোশাকে শুধু একখানা লাঠি হাতে নিয়ে ফেরাউনের রাজ দরবারে উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন যে, তিনি বিশ্ব-জাহানের রব আল্লাহর প্রেরিত রসূল তখন ফেরাউন তার সভাসদদের বললোঃ সে এ অবস্থায় আমার সামনে এসেছে। দূত বটে।

فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ

“সে যদি যমীন ও আসমানের বাদশাহর পক্ষ থেকেই প্রেরিত হয়ে থাকতো তাহলে তার সোনার কংকন নাই কেন? কিংবা ফেরেশতাদের একটি বাহিনী অন্তত তার আরদালী হয়ে আসতো।” (আয যুখরুফ, ৫৩)

২৫

ইতিপূর্বে দু’প্রকার শরাবের কথা বলা হয়েছে। এর এক প্রকার শরাবের মধ্যে কর্পূরের সুগন্ধি যুক্ত ঝর্ণার পানি সংমিশ্রণ থাকবে। অন্য প্রকারের শরাবের মধ্যে “যানজাবীল, ঝর্ণার পানির সংমিশ্রণ থাকবে। এ দু’প্রকার শরাবের কথা বলার পর এখানে আবার আর একটি শরাবের উল্লেখ করা এবং সাথে সাথে একথা বলা যে, তাদের বর তাদেরকে অত্যন্ত পবিত্র শরাব পান করাবেন এর অর্থ এই যে, এটা অন্য কোন প্রকার উৎকৃষ্টতর শরাব হবে যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে তাদের পান করানো হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে(১), আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্ৰ পানীয়।

(১) আয়াতে ব্যবহৃত أساور শব্দটি سوار এর বহুবচন অর্থ কংকন যা হাতে পরিধান করার অলংকারবিশেষ। এই আয়াতে রূপার কংকন এবং অন্য কয়েক আয়াতে স্বর্ণের কংকন উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন: সূরা আল-কাহফ: ৩১, আল-হাজ্জ: ২৩, ফাতির: ৩৩) উভয়ের মধ্যে বিরোধ নেই। কেননা কোন সময় রূপার এবং কোন সময় স্বর্ণের কংকন ব্যবহৃত হতে পারে। অথবা মনমতো কেউ রূপার এবং কেউ স্বর্ণের ব্যবহার করতে পারে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) তাদের দেহে হবে মিহি সবুজ এবং মোটা রেশমী কাপড়, (1) তারা অলঙ্কৃত হবে রৌপ্য-নির্মিত কঙ্কনে,(2) আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়।

(1) سُنْدُسٍ পাতলা বা মিহি রেশমী পোশাক। আর إِسْتَبْرَقٍ মোটা রেশমী পোশাক।

(2) যেমন এক কালে বাদশাহ, সরদার এবং উচ্চমানের লোকেরা অলঙ্কার ব্যবহার করত।