কাওয়া-রীর মিন ফিদ্দাতিন কাদ্দারূহা-তাকদীর- ।উচ্চারণ
যা (জান্নাতের ব্যবস্থাপকরা) যথাযথ পরিমাণে পূর্ণ করে রাখবে। ১৯ তাফহীমুল কুরআন
স্ফটিকও রুপার, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে ভরে দেবে।মুফতী তাকী উসমানী
রূপালী স্ফটিক পাত্রে পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে উহা পূর্ণ করবে।মুজিবুর রহমান
রূপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
রজতশুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রূপার ন্যায় শুভ্র স্ফটিক পাত্র; যার পরিমাপ তারা নির্ধারণ করবে।আল-বায়ান
সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরী। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে।তাইসিরুল
চাঁদির তৈরি চক্মকে কাচের মতো, -- তারা তা মেপে নেবে একটি পরিমাপে।মাওলানা জহুরুল হক
১৯
অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার চাহিদা অনুপাতে পানপাত্র ভরে ভরে দেয়া হবে। তা তাদের চাহিদার চেয়ে কমও হবে না আবার বেশীও হবে না। অন্য কথায়, জান্নাতের খাদেমরা এত সতর্ক এবং সুবিবেচক হবে যে, যাকে তারা পানপাত্র পরিবেশন করবে সে কি পরিমাণ শরাব পান করতে চায় সে সম্পর্কে তারা পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারবে। (জান্নাতের শরাবের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হলে দেখুন, তাফহীমুল কোরআন, আস সাফফাত, ৪৫ থেকে ৪৭ আয়াত, টীকা ২৪ থেকে ২৭; সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ১৫, টীকা ২২; আত তূর, আয়াত, ২৩ টীকা ১৮; আল ওয়াকিয়া, আয়াত ১৯, টীকা ১০।)
এটা জান্নাতের এক আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার রুপা সাধারণত স্বচ্ছ হয় না। তাই রুপার পাত্র কাচের পাত্রের মত স্বচ্ছ হতে পারে না। কিন্তু জান্নাতের গ্লাস রুপার হওয়া সত্ত্বেও কাচের মত স্বচ্ছ হবে।
১৬. রূপার স্ফটিক পাত্ৰে(১), তারা তা পরিমাণ করবে সম্পূর্ণ-পরিমিতভাবে।(২)
(১) দুনিয়ার রৌপ্য-পাত্ৰ গাঢ় ও মোটা হয়ে থাকে-আয়নার মত স্বচ্ছ হয় না। পক্ষান্তরে কাঁচ নির্মিত পাত্র রৌপ্যের মত শুভ্ৰ হয় না। উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য আছে, কিন্তু জান্নাতের বৈশিষ্ট্য এই যে, সেখানকার রৌপ্য আয়নার মত স্বচ্ছ হবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেনঃ জান্নাতের সব বস্তুর নজীর দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। তবে দুনিয়ার রৌপ্য নির্মিত গ্রাস ও পাত্র: জান্নাতের পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ নয়। (ইবন কাসীর)
(২) অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার চাহিদা অনুপাতে পানপত্র ভরে ভরে দেয়া হবে। তা তাদের চাহিদার চেয়ে কম হবে না আবার বেশীও হবে না। অন্য কথায়, জান্নাতের খাদেমরা এত সতর্ক এবং সুবিবেচক হবে যে, যাকে তারা পানিপাত্র পরিবেশন করবে: সে কি পরিমাণ শরাব পান করতে চায় সে সম্পর্কে তারা পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারবে। এর আরেক অর্থ হতে পারে, জান্নাতীরা নিজেরাই তাদের ইচ্ছানুসারে যথাযথ পরিমাণ নির্ধারণ করে নিবে। (সা’দী)
(১৬) রূপালী স্ফটিক-পাত্র, (1) পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে তা পূর্ণ করবে। (2)
(1) অর্থাৎ, এই পানপাত্রগুলো রূপা ও কাঁচের তৈরী হবে। বড় মূল্যবান ও সুন্দর হবে। এমন বিচিত্র ধরনের গঠন হবে; দুনিয়াতে যার কোন নযীর নেই।
(2) অর্থাৎ, এতে পানীয় এমন পরিমাপে রাখা থাকবে যে, এতে জান্নাতী পরিতৃপ্ত হয়ে যাবে, পিপাসা অনুভব করবে না এবং আবখোরা ও পানপাত্রে অবশিষ্টও থাকবে না। মেহমানের খাতিরে এই পদ্ধতিও মেহমানের সম্মান অধিক বৃদ্ধি করে।