وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَٱسۡجُدۡ لَهُۥ وَسَبِّحۡهُ لَيۡلٗا طَوِيلًا

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছজুদ লাহূওয়া ছাব্বিহহু লাইলান তাবিলা- ।উচ্চারণ

রাতের বেলায়ও তার সামনে সিজদায় অবনত হও। রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর তাসবীহ অর্থাৎ পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকো। ৩০ তাফহীমুল কুরআন

এবং রাতের কিছু অংশেও তাঁর সম্মুখে সিজদা কর এবং রাতের দীর্ঘক্ষণ তার তাসবীহতে রত থাক।মুফতী তাকী উসমানী

রাতের কিয়দংশ তাঁর প্রতি সাজদায় নত হও এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।মুজিবুর রহমান

রাত্রির কিছু অংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা করুন এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং রাত্রির কিয়দংশে তাঁর প্রতি সিজ্দাবনত হও আর রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর রাতের একাংশে তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হও এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।আল-বায়ান

আর রাতের কিছু অংশে তাঁর জন্য সেজদা্য় অবনত হও আর রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মহিমা বর্ণনা কর।তাইসিরুল

আর রাতের থেকে তাঁর প্রতি সিজদা করো, আর লন্বা রাত পর্যন্ত তাঁর গুণগান করো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩০

কুরআনের প্রতিষ্ঠিত রীতি হলো যেখানেই কাফেরদের মোকাবিলায় ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখানোর উপদেশ দেয়া হয়েছে সেখানে এর পরপরই আল্লাহকে স্মরণ করার ও নামাযের হুকুম দেয়া হয়েছে। এ থেকে আপনা আপনি প্রকাশ পায় যে, সত্য দ্বীনের পথে সত্যের দুশমনদের বাঁধার মোকাবিলা করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা এভাবেই অর্জিত হয়। সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করাও হতে পারে। তবে সময় নির্দিষ্ট করে যখন আল্লাহকে স্মরণ করার হুকুম দেয়া হয় তখন তার অর্থ হয় নামায। এ আয়াতে আল্লাহ‌ তা’আলা সর্বপ্রথম বলেছেনঃ وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا আরবী ভাষায় بكرة শব্দের অর্থ সকাল। আর আছিলা শব্দটি সূর্য মাথার ওপর থেকে হেলে পড়ার সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় বুঝাতে ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে যোহর এবং আসরের সময়ও শামিল। এরপরে বলেছেনঃ وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ । রাত শুরু হয় সূর্যাস্তের পরে। তাই রাতের বেলা সিজদা করার নির্দেশের মধ্যে মাগরিব এবং “ঈশার দু’ওয়াক্তের নামাযই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এরপরের কথাটি “রাতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাঁর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা কর” তাহাজ্জুদ নামাযের প্রতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, বনী ইসরাঈল, টীকা ৯২ থেকে ৯৭; আল মুযযাম্মিল, টীকা ২।) এ থেকে একথাও জানা গেল যে, ইসলামে প্রথম থেকে এগুলোই ছিল নামাযের সময়। তবে সময় ও রাক’আত নির্দিষ্ট করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে মে’রাজের সময়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬. আর রাতের কিছু অংশে তাঁর প্রতি সিজদাবনত হোন আর রাতের দীর্ঘ সময় তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৬) রাত্রির কিয়দংশে তাঁকে সিজদাহ কর এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। (1)

(1) কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন মাগরিব ও এশার নামায। আর ‘তাসবীহ’ করার অর্থ হল, যে কথাগুলো আল্লাহর জন্য উপযুক্ত নয়, তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা কর। কারো নিকটে এর অর্থ হল, রাতের নফল নামায। অর্থাৎ, তাহাজ্জুদের নামায। আর এখানে ‘আদেশ’ ইস্তিহবাব (যা করলে নেকী হয়, না করলে কোন পাপ হয় না) অর্থে ব্যবহার হয়েছে।