عَيۡنٗا يَشۡرَبُ بِهَا عِبَادُ ٱللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفۡجِيرٗا

আইনাইঁ ইয়াশরবুবিহা- ‘ইবা-দুল্লা-হি ইউফাজ্জিরূনাহা- তাফজীর- ।উচ্চারণ

এটি হবে একটি বহমান ঝর্ণা। আল্লাহর বান্দারা যার পানির সাথে শরাব মিশিয়ে পান করবে এবং যেখানেই ইচ্ছা সহজেই তার শাখা-প্রশাখা বের করে নেবে। তাফহীমুল কুরআন

সে পানীয় হবে এমন প্রস্রবণের, যা থেকে আল্লাহর (নেক) বান্দাগণ পান করবে। তারা তা (যেথা ইচ্ছা) সহজে প্রবাহিত করে নিয়ে যাবে। মুফতী তাকী উসমানী

এমন একটি প্রস্রবণের যা হতে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এই প্রস্রবণকে যেখানে ইচ্ছা প্রবাহিত করতে পারবে।মুজিবুর রহমান

এটা একটা ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে-তারা একে প্রবাহিত করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এমন একটি প্রস্রবণ যা হতে আল্লাহ্ র বান্দাগণ পান করবে, তারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করবে।আল-বায়ান

আল্লাহর বান্দারা একটি ঝর্ণা থেকে পান করবে। তারা এই ঝর্ণাকে (তাদের) ইচ্ছেমত প্রবাহিত করবে।তাইসিরুল

একটি ফোয়ারা -- যা থেকে আল্লাহ্‌র বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে প্রবাহিত করবে অবিরাম ধারায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ তা কর্পূর মিশ্রিত পানি হবে না বরং তা হবে এমন একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণাধারা যার পানি হবে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন এবং শীতল আর তার খোশবু হবে অনেকটা কর্পূরের মত।

الله عباد (আল্লাহর বান্দারা) কিংবা عباد الرحمن (রহমানের বান্দারা) শব্দগুলো আভিধানিক অর্থে সমস্ত মানুষের জন্যই ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ সবাই আল্লাহর বান্দা কিন্তু তা সত্ত্বেও কুরআন মজীদে যেখানেই এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তার দ্বারা আল্লাহর নেককার বান্দাগণকেই বুঝানো হযেছে। অসৎলোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে আল্লাহর বন্দেগী তথা দাসত্বের বাইরে রেখেছে, তারা যেন এর যোগ্য-ই নয় যে, আল্লাহ‌ তা’আলা তাদেরকে নিজের মহান নামের সাথে যুক্ত করে الله عباد অথবা عباد الرحمن এর মত সম্মানিত উপাধিতে ভূষিত করবেন।

এর দ্বারা বুঝায় না যে, তারা সেখানে কোদাল ও খন্তা নিয়ে নালা খনন করবে এবং এভাবে উক্ত ঝর্ণার পানি যেখানেই ইচ্ছা নিয়ে যাবে। বরং এর অর্থ হলো, জান্নাতের মধ্যে যেখানেই তারা চাইবে সেখানেই এ ঝর্ণা বইতে থাকবে। এজন্য তাদের নির্দেশ বা ইঙ্গিতই যথেষ্ট হবে। সহজেই বের করে নেবে কথাটি এ বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদেরকে এই এখতিয়ার দান করবেন যে, তারা সে প্রস্রবণকে যেখানে ইচ্ছা হয় নিয়ে যেতে পারবে। এর এক পদ্ধতি হতে পারে তারা অতি সহজেই বিভিন্ন দিকে তার শাখা-প্রশাখা বের করে নিতে পারবে। এমনও হতে পারে, তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ভূমি থেকে প্রস্রবণ উৎসারিত করতে পারবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. এমন একটি প্রস্রবণ যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ(১) পান করবে, তারা এ প্রস্রবণকে যথেচ্ছা প্রবাহিত করবে।(২)

(১) ‘আল্লাহর বান্দাগণ’ কিংবা ‘রহমানের বান্দাগণ’ শব্দগুলো আভিধানিক অর্থে সমস্ত মানুষের জন্যই ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ সবাই আল্লাহর বান্দা। কিন্তু তা সত্বেও কুরআন মজীদে যেখানেই এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তার দ্বারা আল্লাহর নেককার বান্দাগণকেই বুঝানো হয়েছে। অসৎ লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে আল্লাহর বন্দেগী তথা দাসত্বের বাইরে রেখেছে, তারা যেন এর যোগ্য-ই নয় যে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে নিজের মহান নামের সাথে যুক্ত করে অথবা এর মতো সম্মানিত উপাধিতে ভূষিত করবেন।

(২) অর্থাৎ জান্নাতের মধ্যে যেখানেই তারা চাইবে সেখানেই এ ঝর্ণা বইতে থাকবে। এ জন্য তাদের নির্দেশ বা ইংগিতই যথেষ্ট হবে। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) এমন একটি ঝরণা;(1) যা হতে আল্লাহর দাসরা পান করবে, তারা এ (ঝরনা ইচ্ছামত) প্রবাহিত করবে।(2)

(1) অর্থাৎ, কর্পূর মিশ্রিত এই পানীয় দু’-চার কলসী বা ঘড়া হবে না, বরং তার ঝরণা হবে। অর্থাৎ, তা শেষ হবার নয়।

(2) অর্থাৎ, তাকে যেদিকে চাইবে ঘুরিয়ে নেবে। নিজেদের বাসভবনে, মজলিসে ও বৈঠকে এবং বাইরের ময়দানে ও বিনোদনের জায়গাতেও।