ঘুমের চাপে আমি পড়তে পারি না। হাঁটাহাঁটি, চা- কফি খেয়েও কোন লাভ হয়নি। অনেক ঘরোয়া থেরাপিও প্রয়োগ করেছি, কাঙ্ক্ষিত সুফল পাই নি। কোন অষুধ বা মেডিসিন আছে, বা কোন উপায় আছে কি যা ঘুম দুর করতে কার্যকর হবে?
2986 views

4 Answers

না ভাই ঘুম দূর করার কোন মেডিসিন নাই।

কিছু উপায় বলতে হবে। 
2986 views

ঘুম দূর করার সবচাইতে সহজ উপায় আপনার যখন ঘুম পাবে তখন আপনি মোবাইল অথবা টেলিভিশন দেখতে পারেন।এছাড়াও আপনার যখন ঘুম পাবে তখন আপনি ভালভাবে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন।এক্ষেত্রে আপনার ঘুম আসতে অনেক সময় লাগবে। 

2986 views

হা, মেডিসিন আছে। যা ডাক্তার ছাড়া এখানে আপনাকে বলা অসম্ভব। আদৌ উক্ত মেডিসিন আপনার লাগবে কিনা তা ডাক্তার বুঝতে পারবেন। তাই, সমস্যা মনে করলে একজন মেডিসিন এর ডাক্তার দেখান।

2986 views

ঘুম মানুষের জন‍্য অত‍্যন্ত উপকারী। ঘুম মানুষকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। অর্থাৎ ঘুমের মাধ‍্যমে মানুষ নতুন জীবন লাভ করে। তাই চোখে ঘুম আসলে, যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে নেয়া উচিত। যাদের লো-প্রেসার রয়েছে, তারা বেশি ঘুমাবেন, দৈনিক কমপক্ষে ৮ ঘন্টা। আর যাদের হাই-প্রেসার রয়েছে, তারা বেশি ঘুমাবেন না, পরিমিত ঘুমাবেন। যাদের প্রেসার স্বাভাবিক, তারা প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘন্টা ঘুমাবেন। এখন কথা হচ্ছে অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়। আপনার যদি অকারণে অতিরিক্ত ঘুম হয় কিংবা যখন-তখন ঘুম চলে আসে, তাহলে যেভাবে আপনি ঘুম দূর করতে পারেন:

১। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঘুমানোর অভ‍্যাস করে তুলুন। এ সময়ে ঘুমে অনিয়ম করলে, দিনের যেকোনো সময় আপনার চোখে ঘুম চলে আসতে পারে।
২। রাত জাগা আপনার চোখ ও শরীর দুটোর জন‍্যই ক্ষতিকর। রাত জাগলে দিনের যেকোনো সময় আপনার চোখে ঘুম চলে আসতে পারে।
৩। অধিক টেনশন করবেন না। কারণ, এতে মাথায় প্রেসার পড়ে ঘুম চলে আসতে পারে।
৪। খালি পেটে কিংবা সন্ধার পর চা-কফি খাবেন না। দিনের অন‍্য যেকোনো সময় আপনি তুলসীপাতা বা আদা দিয়ে শুধু রঙ চা খেতে পারেন। দুধ চা খেলে ঘুম চলে আসবে।
৫। দিনের বেলায় কখনো দুধ খাবেন না, রাতে ঘুমানোর সময় খাবেন। দিনের বেলায় দুধ খেলে আপনার চোখে ঘুম চলে আসবে।
৬। আম খেলে প্রচুর ঘুম হয়। তাই যখন আপনার ঘুমের প্রয়োজন নেই, তখন আম খাবেন না।
৭। পড়ার সময় মাথায় অধিক চাপ নিবেন না, তাহলে ঘুম চলে আসবে। যেমন, পরীক্ষার দিনগুলোতে আমাদের চোখে ঘুম আসে বেশি, কারণ আমরা তখন পরীক্ষা নিয়ে টেনশন করি বা মাথায় পড়ার চাপ নিই বেশী।
৮। একটা বিষয় পড়ে ১০-১৫ মিনিট বিরতি নিয়ে আরেকটি বিষয় পড়বেন, তাহলে মাথার ওপর চাপ পড়বে না।
৯। পড়ার আগে কখনোই সকাল, দুপুর বা রাতের খাবার গ্রহণ করবেন না। তবে পড়ার আগে হালকা নাস্তা গ্রহণ করে নিতে পারেন। পড়া শেষে প্রধান খাবার গ্রহণ করতে পারেন।
১০। পেট ভরে কখনোই খাবেন না। পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং আরেক ভাগ খালি রাখবেন। যদি আপনি পেট ভরে খান, তাহলে আপনার ঘুম চলে আসবে। এমনকি পড়তে পড়তে পড়ার টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। তাই পরিমিত খাবেন।
১১। প্রতিদিন ভোরে বা সকালে গোসল করে ফেলবেন। এটা আপনাকে সারাদিন চাঙ্গা রাখবে, মন ও শরীরকে ফ্রেশ রাখবে। আপনার ঘুম আসবে না।
১২। যখন আপনার ঘুম আসবে, তখন বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। সবার সাথে মজা করুন, ঘুম চলে যাবে।
১৩। যত বেশি খাবেন, তত ঘুম বেশি হবে। তাই পরিমিত খাবার খাবেন।
১৪। কখনো অলস থাকবেন না। অলস মানুষেরা ঘুমায় বেশি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি হালকা কায়িক পরিশ্রম করবেন।
১৫। একটানা কোনো কাজই করবেন না, একটানা বেশিক্ষণ কাজ করলে চোখে ঘুম চলে আসে।
১৬। পড়ার মাঝে মাঝে বাদাম বা চানাচুর জাতীয় হালকা খাবার খেতে পারেন, কিন্তু ভারী কোনো খাবার খাবেন না।
১৭। উচ্চ আওয়াজে টেলিভিশন দেখবেন না কিংবা রেডিও শুনবেন না।
১৮। বেশিক্ষণ ধরে হেডফোন দিয়ে রেডিও শুনলে বা কথা বললে ঘুম চলে আসতে পারে।
১৯। উচ্চ আওয়াজ থেকে দূরে থাকবেন, এটি ঘুমের সৃষ্টি করতে পারে।
২০। যেকোনো কাজ বা পড়াশুনা বেশি আরাম করে করবেন না। বেশি আরামে চোখে ঘুম চলে আসে।
২১। নিজের মধ‍্যে নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলা নিয়ে আসুন, তাহলে ঘুমের সময় ঘুম আসবে, অসময়ে ঘুম আসবে না।
কোনো ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই, এভাবে আপনি অতিরিক্ত ঘুমকে দূর করতে পারেন। ধন‍্যবাদ।
2986 views

Related Questions